ReBorn Drug Addiction Treatment & Rehabilitation Service

ReBorn Drug Addiction Treatment & Rehabilitation Service Addiction treatment, Counseling & rehabilitation service
Mirpur,Dhaka.

**১০ মে** জাস্ট ফর টু ডে : আজকের জন্য **আমরা ঈশ্বরকে যেভাবে বুঝি**"আমাদের উচ্চতর শক্তি আমাদের গাইড করার জন্য এবং আমাদের ...
10/05/2026

**১০ মে** জাস্ট ফর টু ডে : আজকের জন্য

**আমরা ঈশ্বরকে যেভাবে বুঝি**

"আমাদের উচ্চতর শক্তি আমাদের গাইড করার জন্য এবং আমাদের প্রয়োজনীয় শক্তি প্রদান করার জন্য সেখানে আছেন।"
(বেসিক টেক্সট, পৃষ্ঠা ২৫)

নারকোটিক্স অ্যানোনিমাস-এ আমাদের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় দিক হলো আমাদের নিজস্ব ধারণা অনুযায়ী ঈশ্বরকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদ বা কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একটি শক্তির সন্ধান করা যা আমাদের নিজের চেয়ে শক্তিশালী এবং যা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে।

অনেকে হয়তো শুরুতে উচ্চতর শক্তি বলতে এনএ গ্রুপকে বোঝেন, আবার কেউ হয়তো আধ্যাত্মিক কোনো সত্তাকে। আমাদের বোঝার ধরন যেমনই হোক না কেন, মূল কাজ হলো সেই শক্তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করা।

যখন আমরা আমাদের একগুঁয়েমি এবং নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতা ছেড়ে দিই, তখনই আমরা প্রকৃত শান্তি ও শক্তি পেতে শুরু করি।

আজকের দিনে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সেই শক্তির ওপর আস্থা রাখা যা আমাদের সুস্থতার পথে টিকিয়ে রেখেছে।

**আজকের জন্য অঙ্গীকার:**

আজকের দিনে আমি আমার নিজস্ব ধারণা অনুযায়ী উচ্চতর শক্তির ওপর ভরসা রাখব। আমি বিশ্বাস করি যে আমার উচ্চতর শক্তি আমাকে সুস্থতার পথে গাইড করার জন্য সবসময় পাশে আছেন।

​ ে #আজকের_জন্য_অঙ্গীকার #নারকোটিক্স_অ্যানোনিমাস #সুস্থতার_পথ #আধ্যাত্মিক_চেতনা #উচ্চতর_শক্তি #রিকভারি #নেশামুক্তি #নতুন_জীবন #সমর্পণ #শান্তি

Integrating Healing Principles in Substance Abuse Treatment
23/03/2026

Integrating Healing
Principles in Substance Abuse Treatment

🚀 Coming Soon: আসক্তি নিরাময়ে এক নতুন বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লব! মাদকাসক্তি চিকিৎসায় যারা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করছে...

শূন্য কলসি ও অবহেলার ক্ষত:আমাদের সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রাটা অনেকটা ছিদ্রযুক্ত মাটির কলসির মতো। আপনি যতই শুদ্ধতার জল তাতে ঢা...
12/03/2026

শূন্য কলসি ও অবহেলার ক্ষত:

আমাদের সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রাটা অনেকটা ছিদ্রযুক্ত মাটির কলসির মতো।

আপনি যতই শুদ্ধতার জল তাতে ঢালুন না কেন, যদি ভেতরে লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো বন্ধ না করেন—তবে পূর্ণতা কেবলই এক মরিচিকা।

একবার চুইয়ে পড়া শুরু হলে, সেই শূন্যতা আর কোনোদিন ভরে ওঠে না।

ক্ষয়ের নেপথ্য কারণ

এই ক্ষয়ের শুরুটা বাইরের কোনো আঘাতে হয় না; বরং এর সূচনা হয় আমাদের ভেতরের অস্বীকার (Denial) থেকে। যখন আমরা:

* নিজেদের মন-মানসিকতার পরিবর্তনকে মেনে নিতে ভয় পাই।

* পুরানো অভ্যাস আর নতুন জীবনের দ্বন্দ্বকে এড়িয়ে যাই।

* ভেতরের ক্ষতগুলোকে মেরামত না করে কেবল ওপর দিয়ে প্রলেপ দিই।

পতনের চোরাবালি

এই অবহেলাই একসময় একজন সুস্থতা-যাত্রীকে ঠেলে দেয় পুনঃপতনের (Relapse) অন্ধকারে। যে সত্যকে আমরা আজ অস্বীকার করছি, কাল তা-ই আমাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।

মুক্তির পথ: এনএ (NA)-র আলোকবর্তিকা
পরিবর্তন প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম।

একে অস্বীকার না করে বরং আলিঙ্গন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নার্কোটিকস অ্যানোনিমাস (NA)-এর আদর্শ ও বারোটি ধাপের আলোয় যখন আপনি নিজেকে শুদ্ধ করবেন, তখনই সেই ছিদ্রগুলো একে একে বন্ধ হতে শুরু করবে।

পরিবর্তনকে স্বীকার করুন, নিজেকে পরিশুদ্ধ করুন; তবেই আপনার রিকভারির পথ হবে মসৃণ, আর কলসি হবে টলটলে শান্ত জলে পূর্ণ।

জাতীয় বিপর্যয় ও ২০৩০-এর হাতছানি: মাদকাসক্তি কি অপ্রতিরোধ্য?পর্ব-১একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকার প্রধান স্ত...
09/03/2026

জাতীয় বিপর্যয় ও ২০৩০-এর হাতছানি: মাদকাসক্তি কি অপ্রতিরোধ্য?

পর্ব-১

একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের টিকে থাকার প্রধান স্তম্ভ হলো জনশক্তি।

কিন্তু সেই জনশক্তি যদি ভেতর থেকে ক্ষয়ে যায়, তবে কোনো উন্নয়নই স্থায়ী হয় না।

মাদকাসক্তি আজ কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি। কোনো দেশের বিপর্যয় নির্মূলে প্রথম শর্ত হলো—

সমস্যার গভীরতা বা 'সংখ্যা' নির্ণয় করা।

কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাদকের এই সংখ্যাতত্ত্ব এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রেসক্রিপশন ও আমাদের বাস্তবতা
জাতিসংঘের গবেষণামতে, মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে ৩টি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

১. সরবরাহ হ্রাস (Supply Reduction): সীমান্ত ও চোরাচালান বন্ধ করা।

২. চাহিদা হ্রাস (Demand Reduction): সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন।

৩. ক্ষতি হ্রাস (Harm Reduction): আসক্তদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।

এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষতি হ্রাস, যা নির্ভর করে আসক্তদের সঠিক সংখ্যার ওপর। কারণ সংখ্যা না জানলে কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা সম্ভব নয়।
সংখ্যাতত্ত্বের গোলকধাঁধা: আমরা আসলে কোথায়?
মাদকাসক্তদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা পরিকল্পনাকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ:

* চিকিৎসকদের মতে: কমপক্ষে ৭০ লাখ।

* সরকারি তথ্য (২০১৮): প্রায় ৭৩ লাখ।

* ইউএনডিপি (UNDP): বাংলাদেশে মাদকাসক্ত বৃদ্ধির হার বার্ষিক ৩.৮%, যা বিশ্বগড় (২%) থেকে প্রায় দ্বিগুণ।

* মানস (২০১৫): মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে সংখ্যাটি অন্তত দেড় কোটি।

২০৩০ সালের গাণিতিক মহাবিপর্যয়

আসুন একজন বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে অংকের হিসাব দেখি।

যদি আমরা ২০১৫ সালের দেড় কোটি (P = ১,৫০,০০,০০০) সংখ্যাটিকে ভিত্তি ধরি এবং বার্ষিক ৩.৮% চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করি, তবে ২০৩০ সাল নাগাদ চিত্রটি কী দাঁড়াবে?

১৫ বছরের (n = ১৫) চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সূত্র (A = P(1 + R/100)^n) অনুযায়ী:

২০৩০ সাল নাগাদ মাদকাসক্তের সম্ভাব্য সংখ্যা হবে প্রায় ২,৬২,৩৬,০০০ (দুই কোটি বাষট্টি লাখ) এরও বেশি!

ভয়াবহতার তুলনা:

২০১৭ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%। অথচ মাদকাসক্ত বাড়ছে ৩.৮% হারে। অর্থাৎ, সুস্থ মানুষের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে আসক্তের সংখ্যা।

চিকিৎসা সক্ষমতা বনাম বাস্তব সংকট
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে বছরে সর্বোচ্চ ৪০,০০০ জনকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

এখন সাধারণ গাণিতিক প্রশ্ন হলো—

যদি ২০৩০ সালে আসক্তের সংখ্যা ২.৬ কোটি হয়, তবে বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে তাদের চিকিৎসা শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় ৬৫৪ বছর!

একই সাথে মনে রাখতে হবে, আসক্তি থেকে প্রথমবার চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার হার মাত্র ১০-১৫%।

অর্থাৎ, একদিকে চিকিৎসার কচ্ছপ গতি, অন্যদিকে আসক্তের সংখ্যার রকেট গতি—

এই অসম লড়াইয়ে আমরা কি হারতে বসেছি?
অস্তিত্বের সংকট
যারা অংকে দক্ষ বা সমাজ নিয়ে ভাবেন, তারা একটু হিসাব করে দেখুন—

ঠিক কত বছর পর এদেশের সাধারণ জনসংখ্যা আর মাদকাসক্তের সংখ্যা সমান হয়ে যাবে?

আমরা কি একটি মেধাহীন, পঙ্গু প্রজন্মের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি না?

২০৩০ সালের এই প্রক্ষেপণ আমাদের এখনই কঠোর হওয়ার এবং জাতিসংঘের সেই ৩টি পরামর্শ কার্যকর করার তাগিদ দিচ্ছে।

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।
(চলবে...)

লেখক ও বিশ্লেষক: এসএইচ আহাম্মেদ সুমন প্রতিষ্ঠাতা, ReBorn Addiction Treatment Counseling & Rehabilitation Service

09/03/2026

পরিবর্তনের শুরু এখানেই।

মাদক সম্পর্কে ও মাদকাসক্তি চিকিৎসা পুনর্বাসন দুইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ৩৬ বছর এর বেশী।দীর্ঘ এই সময়টার অভিজ্ঞতায় কাউন্সিলি...
20/10/2025

মাদক সম্পর্কে ও মাদকাসক্তি চিকিৎসা পুনর্বাসন
দুইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ৩৬ বছর এর বেশী।

দীর্ঘ এই সময়টার অভিজ্ঞতায় কাউন্সিলিং ও চিকিৎসাসেবায় জরিত ২০ বছরের অধিক সময়ে।

বিভিন্ন কেস স্টাডি দেখেছি অধিকাংশ ঘটনায় আমি দেখেছি যেসব বাচ্চারা, টিনএজরা ড্রাগ নিতে শুরু করেছে তারা এই প্রক্রিয়ার ভেতর ঢুকেছে তার বহু আগে।
একটা বিষয় অত্যন্ত পরিস্কার বিভিন্ন মাদকাসক্তি চিকিৎসার উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধ
মাদক গ্রহণের বহু আগে থেকেই একজন বাচ্চার মাঝে আসক্তিমূলক আচরণ তা থেকে আসক্তিমূলক ব্যাক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

পরিবারে কোন সন্তান অতিগুরুত্ব পাওয়া এবং একদম গুরুত্বহীন হয়ে পড়া - দুই ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের অজান্তে বা জানাশোনার মধ্যে একজন মা কেন সন্তানকে অতি গুরুত্ব দেন বা তার ইতরামি-বদমায়েশিকে নিরব এপ্রুভাল দেন তা কেস বাই কেস এনালাইসিস করে, ডাটা সংগ্রহ করার মাধ্যমে আলাদা সাইকোলজিক্যাল গবেষণা হলে হয়তো কোন কমন পয়েন্ট বের হবে। তবে আমি ৬/৭ টা ঘটনা জানি - আহ্লাদপূর্ন প্রশ্রয়, লোকজনের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরন, বেয়াদবি এবং বাঁদরামির সামাজিক এপ্রুভাল মা'ই দেন এবং দিয়ে যাচ্ছেন।

এটাও সত্য মায়েরা সন্তানদের বহু কিছু লুকায়, তারা এগুলা নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন, কি করবেন বুঝে উঠতে না পেরে অসহায় সময় পার করেন। যা হোক আমি সংক্ষেপে ইয়াবা আর আইস নিয়ে কয়েকটা কথা বলি -
---------------------------------

ইয়াবা: সাধারণত ছোট লাল/গোলাপি ট্যাবলেট। এর রাসায়নিক উপাদান হলো মেথামফেটামিন (methamphetamine) হাইড্রোক্লোরাইড+ক্যাফেইন। এটা শুরুতে শক্তি বাড়ায়, ঘুম কমিয়ে দেয়, ও মস্তিষ্ককে বিভিন্ন কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে ডার্ক রাখে, বুঝতে দেয়না।

আইস / ক্রিস্টাল মেথ: এটা মেথামফেটামাইনই। তবে ক্রিস্টাল ফর্মে থাকে। স্ফটিক বা কাঁচের মত দেখতে। নরমাল ইয়াবার মেথামফেটামাইন এর পিউরিটি ৩০/৩৫%। কিন্তু আইসের ক্ষেত্রে ৮০–৯৫%+। প্রভাব খুব দ্রুত ও ভয়ংকর।

দুইটার মূল কেমিকেল একই। মেথঅ্যামফেটামিন। এটা আমাদের শরীর-মনকে খুব দ্রুত ‘হাইজ্যাক’ করে ফেলে।

এই ড্রাগের কারনে আমাদের মস্তিষ্কের ‘হরমোন সার্কিট’ (নিউরোট্রান্সমিটার)-এ কী হয়
---------------------------------

মেথ বা ইয়াবা বা আইস তিনটি বড় হরমোন সিস্টেমকে আঘাত করে -

(১) ডোপামিন (Dopamine)। ডোপামিনের কাজ হলো আমাদের শরীরে মনে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করা, রেওয়ার্ড সিস্টেম চালানো অর্থাৎ কোন কাজ করলে তার বিনিময়ে আমরা ভাল কিছু পাই, অর্জন করি বা করলে এই হরমোন আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। মোটকথা পুরস্কার ব্যবস্থা। আমাদের মোটিভেশন ধরে রাখা, নতুন বিষয় শিখতে সাহায্য করা।

মেথের প্রভাব: একবারেই অস্বাভাবিক মাত্রায় মস্তিষ্কে “ডোপামিন সুনামি” ঘটায়। মস্তিষ্ক তখন ভাবে এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। ফলে স্বাভাবিক আনন্দ (পরিবার, পড়াশোনা, কাজ) বেহাল/নিষ্প্রভ লাগে। পর্দা–গেম–ড্রাগ ছাড়া কিছুতেই আর মজা লাগে না। লালসা বাড়ে→টলারেন্স কমে→ডিপ্রেশন বাড়ে। একটা আরেকটার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

(২) সেরোটোনিন (Serotonin)। এর কাজ হলো মুড ঠিক রাখা, শান্তি-শান্তি কুল-কুল একটা ফিলিংএ থাকা, ঘুম, উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা।

মেথ বা ইয়াবা বা আইসের প্রভাবে এই সেরোটোনিন সার্কিট খুব দ্রুত ক্ষয় হয়, ডিসরেগুলেশন হয়। উদ্বেগ বাড়ে, খিটখিটে মেজাজ হয়, প্যানিক এটাক আসে, ঘুম ভেঙ্গে যায়, সন্দেহবাতিক হয়, আত্মহত্যাচিন্তা বাড়ে; দীর্ঘমেয়াদে ইমোশনালি ফাঁপা হয়ে যায়।

(৩) অক্সিটোসিন (Oxytocin)। এর কাজ হলো সহমর্মিতা, সম্পর্কের উষ্ণতা, ‘বন্ডিং’ তৈরি করা। অনেকে একে লাভ (Love) হরমোন বলেন।

মেথের প্রভাব: সম্পর্কের আনন্দ-আস্থার অনুভূতিগুলো খুব বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমপ্যাথি/সিমপ্যাথি সহানুভূতি, ভালবাসা, সহমর্মিতা নিভে গিয়ে মানুষটা হৃদয়হীন ঠান্ডা, স্বার্থপর, রূক্ষ ও বদমেজাজী হয়ে ওঠে।

এর সঙ্গে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে (prefrontal cortex) কিছু পরিবর্তনের কারনে বিবেক, বিচার, বিবেচনাহীন হয়ে উঠে। এই ড্রাগ আসক্তদের নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, যত্রতত্র ক্ষমতা প্রদর্শন করা একটা সাধারন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (amygdala) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আমাদের ভয় পাওয়া, রাগ উঠার সিস্টেমগুলো অতিসক্রিয় হয়ে যায়। প্যারানয়েড হয়ে থাকে সবসময়। এখান থেকেই এই ড্রাগ গ্রহীতারা হয় প্রচন্ড আক্রমণাত্মক, হিংস্র। এবং কাউকে বা কিছুকেই কেয়ার করেনা।

স্বল্পমেয়াদি–দীর্ঘমেয়াদি শারিরীক ও মানসিক লক্ষণ যা দেখে বুঝবেন আপনার সন্তান ড্রাগে আছে কিনা -
------------------------------------------------------------------

তৎক্ষণাৎ বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষনগুলো - ঘুম না আসা, ক্ষুধা ভীষন কমে যাওয়া, দ্রুত কথা বলা, চোখ বড় বড় করে তাকানো, বুক ধড়ফড় করা, সবকিছুতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, কোন কিছুর ঝুঁকি না বোঝা। পরে প্রায় সব কাজে আক্ষরিক অর্থেই “ক্র্যাশ” খাওয়া, তীব্র ক্লান্তি আসা, দুঃখ পাওয়া, খালি-খালি লাগা, প্রচন্ড উত্তেজনা ও সন্দেহবাতিক হয়ে উঠা।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষন: এমপ্যাথি, ভালবাসা-সহানুভূতি-সহমর্মিতা চলে যাওয়া, পরিবার থেকে দূরত্ব তৈরি হওয়া, হিংস্রতা, আইনি ঝামেলা তৈরি করা। সাইকোসিস (শব্দ/দৃশ্য ভ্রম) হয়, স্মৃতি কমে যায়, কাজে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। ফোকাস করতে পারেনা আর, রেজাল্ট ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকে। হার্টে ইস্যু তৈরি হয়, রক্তচাপ বাড়ে, দাঁত–ত্বক নষ্ট হয়, সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। সর্বপরি কাজ,পড়া, সম্পর্ক ধ্বংস হয়ে পুরা ব্যক্তিত্বই বদলে যায়।

কেন তরুণরা সবচেয়ে বিপদে
---------------------------------

১৫–২৫ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) নির্মান হতেই থাকে।

এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। মেথ নির্মানের এই প্রক্রিয়া ও ‘ওয়্যারিংকে (wiring) ভুলপথে পরিচালনা করে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করে দেয়। অনেকে ভাবেন সামান্য একটু ট্রাই দেই। এই “একটু ট্রাই”ও বড় ধরনের ট্রিগার হতে পারে।

কি করলে বাঁচানো যাবে তার একটা ব্যবহারিক রূপরেখা -
------------------------------------------------------------------

(১) পরিবারে আগেভাগে কথাবার্তা, ও আলোচনা করা। কোন ভয় দেখানো নয়, বরং তথ্যভিত্তিক গল্প, মস্তিষ্কের ছবি/চিত্রকল্পে বোঝানো যে ড্রাগের কারনে মস্তিস্কে ‘ডোপামিন সুনামি’ হলে স্বাভাবিক আনন্দ মরে যায়।

ইয়াবা বা আইসে আসক্তদের কমন কিছু আচরন - ঘুম উধাও, হঠাৎ রেগে যাওয়া, প্রায়সই টাকা হারানো, আননেসেসারি গোপনীয়তা, নিত্য নতুন গ্রুপ বানানো, পরীক্ষায় খারাপ করা।

(২) স্কুল/কলেজে স্কিল-ট্রেনিং দিতে হবে। কথায় কথায় "না" বলা যাবেনা। ড্রাগ-রিফিউজাল স্ক্রিপ্ট অনুশীলন করানো, মেডিটেশান, স্ট্রেস-ম্যানেজমেন্ট, পরীক্ষার চাপ সামলানো কৌশল শিখিয়ে দেয়া, ঘুম-পুষ্টি সম্পর্কে ব্যবহারিক কাজ শিক্ষাতে জড়িত করা। অনেক জায়গায় পিয়ার-লিড ক্লাব থাকে। এসব জায়গায় “ব্রেইন-হেলথ অ্যান্ড পারপাস” সেশনে অংশ নেয়া, খেলাধুলা, মেকার-ল্যাব, মিউজিক, আর্ট ওয়ার্কে যুক্ত থাকা

(৩) অনলাইন–অফলাইন নজরদারি ও বিকল্প আনন্দের ব্যবস্থা করা। একটা ডোপামিন-স্মার্ট রুটিন করে দেয়া। এমনভাবে টাইম প্ল্যান বানাতে হবে যেন: ঘুম ৭–৯ ঘন্টা, নিয়মিত খাবার, ব্যায়াম, পরিবেশ-প্রকৃতি, মেন্টাল এক্সারসাইজ, স্ক্রিন-ডিটক্স এ বিষয়গুলো থাকে। এছাড়া মিশন বা পারপাস-বেইজড কাজে যুক্ত করে দিতে হবে। যেমন - ভলান্টিয়ারিং, উদ্যোক্তা-প্রজেক্ট। এগুলাতে আগের স্বাভাবিক ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেম ফিরে আসে।

(৪) সন্দেহ হলে দ্রুত এক্সপার্ট ডাক্তার বা সাইকোলজিস্ট দেখাতে হবে। নন-শেমিং কথোপকথন চালাতে হবে যেমন - “তোমার সাথে খারাপ কিছু ঘটছে, আমরা তোমার সাথে আছি সবসময়।" অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধে যাবেন না।

এক্ষেত্রে রিহ্যাবিলিটেশন সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা আমাদের দেশে বহু রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার রয়েছে
দেখে শুনে ভালো একটা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা চিকিৎসা পরবর্তীতে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কাউন্সিলর এর পরামর্শ অনুযায়ী বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া।

(৫) কমিউনিটি-অ্যাকশন - মসজিদ–মন্দির–স্কুল–ক্লাব, বিভিন্ন গ্রুপে মাসিক সচেতনতামূলক টক দেওয়ান সন্তানকে। তাকে কথা বলান। রোল-মডেলদের গল্প জানুক ও বলুক। স্পোর্টস/কালচারাল লীগে যুক্ত থাকুক, নাইট-টাইমে নিরাপদ আড্ডা-স্পেস তৈরি করুক। আপনারাও হেল্প করবেন। এই সময়গুলোতে ড্রাগের সরবরাহ কমাতে আইন প্রয়োগ + পুনর্বাসন দুইটাই ব্যবহার করতে হবে।

(৬) রিকভারি-পথ অনেক লম্বা, কিন্তু সম্ভব। সম্পূর্ণ বিরতি + ঘুম, পুষ্টি + থেরাপি লাগাতার চলবে। প্রথম ৩–৬ মাসে মুড ওঠানামা করবে হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে। ৬–১২ মাসে ধীরে ধীরে তার মধ্যে সহানুভূতি, আনন্দের অনুভূতি গুলো ফিরে আসবে। তাকে সুনির্দিষ্ট একজন বিশ্বস্ত লিডার বা গুরুজন দিতে হবে। যাকে সে মানবে, বিশ্বাস করবে। পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ একজন হতে পারেন।

শুধু পরিবারের নির্দিষ্ট সন্তানটি নয়। সবার জন্য আজই ঠিক করি যে - ঘুম, ব্যায়াম, প্রকৃতি-পরিবেশ, ভালো সঙ্গ, ভাল কাজ এগুলা ম্যান্ডেটরি। আর সমস্যায় পড়লে সাহায্য চাই, সাহায্য চাইতে যেন কেউ দেরী না করে, সংকোচ না আসে। আমরা একা নয়, সবাই একসাথে জিতব।

ড্রাগ নয়, জীবন জিতুক।

একটা কথা কিন্ত মাথায় রাখা হবে মাদকাসক্তি একটি পুনপতনমূখী রোগ।

একবার আসক্ত হয়ে পড়লে চিকিৎসা পরবর্তীতে মাদক ছাড়া জীবন পরিচালনা অত্যন্ত ধৈর্যপূর্ণ কাজ।

মাদকাসক্তি চিকিৎসায় অত্যন্ত ধৈর্যের
পরিচয় দিতে হয়
৩/৬/৯ মাস এরকম চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু থাকলেও

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে মাদকের ক্ষতি সামলে উঠে ব্রেনের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে ৩ বছর সময় লাগে।

ততদিন পর্যন্ত চিকিৎসক কাউন্সিলর অধিনে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার মনে রাখা দরকার
একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি চিকিৎসার পরে ২০ বছর সুস্থ থাকার পড়েও যদি একবার মাদক গ্রহন করে তার
মস্তিষ্কের কন্ডিশন আবার ২০ বছর আগের মাদকাসক্ত পর্যায়ে ফিরে যায়।

সুতরাং চিকিৎসা পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত যেকোন মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

ছিদ্রযুক্ত কলসির মতো পুনরুদ্ধার যাত্রায় —একবার ক্ষয় শুরু হলে পূর্ণতা ফিরে পায় না,যদি না সে ছিদ্র বন্ধ করে ।এই ক্ষয়ের সূচ...
08/09/2025

ছিদ্রযুক্ত কলসির মতো পুনরুদ্ধার যাত্রায় —
একবার ক্ষয় শুরু হলে পূর্ণতা ফিরে পায় না,
যদি না সে ছিদ্র বন্ধ করে ।

এই ক্ষয়ের সূচনা ঘটে মন-মানসিকতার পরিবর্তনকে অস্বীকার করার মাধ্যমে

এই অস্বীকার একসময় একজন রিকোভারী যাত্রাকে পুন:পতনের দিকে ধাবিত করে।

পরিবর্তন আসবেই সে পরিবর্তনকে স্বীকার করে এনএর আলোকে নিজেকে শুদ্ধ করলেই আপনার গতিপথ মসৃণ হবে

20/12/2024
আমাদের একজন রিকভারি বন্ধু অনুপ বড়ুয়া পিংকু সে তার  ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছেন। আমরা চাইলে সাব...
11/11/2023

আমাদের একজন রিকভারি বন্ধু অনুপ বড়ুয়া পিংকু
সে তার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছেন।

আমরা চাইলে সাবস্ক্রাইব করে উনার পাশে থাকতে পারি। আমরাই পারি আমাদের এগিয়ে দিতে। ।

Together we can win.

Share your videos with friends, family, and the world

30/05/2023

Address

Mirpur
1216

Telephone

+8801675587244

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ReBorn Drug Addiction Treatment & Rehabilitation Service posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ReBorn Drug Addiction Treatment & Rehabilitation Service:

Share