04/04/2026
ভালুকায় প্রশাসনের ছবি তুলতে কোন অনুুমতি লাগে না!
-------------------------------------------------------------------------
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাইকের জন্য জ্বালানি সংগ্রহের সংগ্রামে ভীষণ বিপাকে ছিলাম ও আছি। ময়মনসিংহ শহর,শম্ভুগন্জ বাজার,ত্রিশাল,ভালুকা ও গফরগাঁও পর্যন্ত ছুটাছুটি করেও কোন ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারি নাই। প্রায়শই " অকটেন / পেট্রোল নাই" প্যানা টানানো দেখে ফিরে আসি কিংবা মাত্র একশত বা দুইশত টাকার রেশনিং তেলের জন্য বাইকের বিশাল বহরের লাইন দেখে সময়ের কথা মাথায় রেখে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি।
মানবসেবায় মাটিরমায়া মেডিকেল পরিচালনার জন্য সপ্তাহে প্রায় দেড়শত কিলো আমাকে রান করতেই হয়।তাই বাধ্য হয়েই কালবাজার থেকে প্রায় তিনগুণ দামে তেল কিনতে হয়। তাও আবার তেলের জন্য অনেক তেল মারতে হয়।
এপ্রিলের ৪ তারিখ শুক্রবার সময় রাত ৮টা। মাহমুদপুর মাটিরমায়া মেডিকেল থেকে শহরে আসার পথে দেখলাম ভালুকা শান্তিগন্জ বাজারে মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনে তেল দিচ্ছে। প্রায় শতাধিক বাইকের সিরিয়াল। আজ হাতে সময় থাকায় সাহস করে লাইনে দাড়িয়ে গেলাম।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পার হয়ে যাচ্ছে, বোধ করি হাত খানেক এগোতে পেরেছি। ওদিকে তেল সংগ্রহ করে বেশিরভাগ বাইকই পুনরায় লাইনে দাড়িয়ে যাচ্ছে যা দেখে মনটা খারাপ হলেও কিছুই করার ছিলনা।
ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে আটটা। অবস্থা বিবেচনায় হিসাব করে দেখলাম রাত এগারোটা নাগাদ হয়তো আমি সিরিয়াল পেতে পারি,তাও আবার মাত্র দুইশত টাকার তেল!
হঠাৎ করেই ভালুকা থেকে মোবাইল কোর্ট এসে হাজির, নেতৃত্ব রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ, ফিরোজ আহমেদ। এসেই হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা ভেসে আসলো,যাদের সাথে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজ নেই তারা স্বেচ্ছায় স্থান ত্যাগ করুন অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ঘোষণার সাথে সাথেই দু'চার মিনিটের মধ্যে নব্বই ভাগ গাড়ী লাইন থেকে উধাও হয়ে গেল।
খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ফুল ট্যাংকি তেল সংগ্রহ করতে পেরে নিজেকে যারপর নাই পরিতৃপ্ত মনে হলো এবং বেশ আবেগ প্রবন হয়ে গেলাম। তাই নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, স্যার আমি কি আপানার এই কার্যক্রমের একটি ছবি তুলতে পারি?
প্রতিত্তোরে উনি একরাশ হতাসা ও রাজ্যের ক্ষেদ নিয়ে শুধু বললেন, " ভালুকাতে প্রশাসনের ছবি তুলতে কোন অনুমতি লাগেনা"।