31/01/2026
বছরের পর বছর ধরে হৃদরোগের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলকে ‘ভিলেন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সত্যটা হলো: মেটাবলিক ডিসফাংশনের জন্য সব থেকে বড় ভিলেন হচ্ছে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। যা শুধু মাত্র হৃদরোগ না পাশাপাশি আরও অনেকগুলো রোগের কারন হতে পারে। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই:
ট্রাইগ্লিসারাইড হলো এক ধরনের চর্বি বা ফ্যাট যা আমাদের রক্তে পাওয়া যায়। খাওয়ার পর আমাদের শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরিগুলো (বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট এবং চিনি থেকে আসা) ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করে জমা রাখে ভবিষ্যতে ব্যাবহার করার জন্য। কিন্তু যখন এর মাত্রা বেশি বেড়ে যায়, তখন বুঝতে হবে আমাদের শরীর ঠিকমতো এই ফ্যাটগুলোকে ব্যাবহার করতে পারছে না—বরং তা জমা করেই যাচ্ছে।
এখন শুধুমাত্র কোলেস্টেরল বিশেষ করে এলডিএল বা LDL -এর দিকে মনোযোগ দিলেই হবে না।
যদি আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড কম থাকে এবং এইচডিএল (HDL) বেশি থাকে, তবে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কম, এমনকি এলডিএল (LDL) কিছুটা বেশি থাকলেও।
কিন্তু যদি আপনার ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি, এইচডিএল কম এবং এলডিএল বেশি থাকে, তখনই বিপদ বাড়ে। এই প্যাটার্নটি দুর্বল মেটাবলিক হেলথ এবং দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশনের দিকে ইঙ্গিত করে।
এখন রক্তে যদি উচ্চ মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে তাহলে যে সমস্যাগুলির সম্মুখীন আমরা হতে পারি
✅ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: দীর্ঘস্থায়ীভাবে ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে থাকা একটি সতর্কবার্তা যে আপনার কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দিচ্ছে না। এটি প্রি-ডায়াবেটিস এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে নিয়ে যায়।
✅প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন: ট্রাইগ্লিসারাইড শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বাড়াতে সাহায্য করে, যা রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে এবং প্লাক (plaque) জমতে সাহায্য করে।
✅হৃদরোগ: উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং লো এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল—এই দুটি একসাথে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া), হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তবে ভালো খবর হলো, ট্রাইগ্লিসারাইড লাইফস্টাইল পরিবর্তনের সাথে খুব দ্রুত কমে আসে:
✅কার্বোহাইড্রেটের পরিমান কমানো: চিনি এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড হু হু করে বেড়ে যায়। তাই ডায়েটে কমপ্লেক্স কার্ব, লো-রিফাইন্ড কার্ব এবং হাই-ফ্যাট রাখা অথবা ড্যাশ (DASH) ডায়েট ফলো করা হতে পারে সমাধান।
✅স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খান: সিড অয়েল (যেমন ক্যানোলা বা সয়াবিন তেল), যা প্রদাহ বাড়ায়, তা বাদ দিয়ে প্রাণিজ চর্বি, মাখন এবং চর্বিযুক্ত খাবারকে প্রাধান্য দিন।
✅ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং: ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আপনার শরীরে জমে থাকা ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে যা ট্রাইগ্লিসারাইড স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।
✅নিয়মিত ব্যায়াম: ভারোত্তোলন বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং এবং অল্প গতির হাঁটাচলা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়, যা শরীরকে ট্রাইগ্লিসারাইড আরও কার্যকরভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।