17/05/2026
আলহামদুলিল্লাহ। SOAIB এর সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত। যাদের কৃতিত্ব এবং যাদের হাত ধরে এই অর্জন করতে পেরেছি তাদের সবাইকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশের সকল শ্রবণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সংগঠন "সোসাইটি অব অডিওলজি ইন বাংলাদেশ- Society of Audiology in Bangladesh - SOAIB " বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করেছে। এটি বাংলাদেশের অডিওলজি-ভিত্তিক প্রথম ও একমাত্র সরকারি নিবন্ধিত পেশাজীবী সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের অডিওলজিস্ট ও অডিওমেট্রিশিয়ানরা যুক্ত আছেন।
বাংলাদেশে অডিওলজি সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালে। সে সময় দেশে অডিওলজি বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না থাকলেও বিদেশে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন (Jahangir Hossain) , জনাব আবু তালেব (Mohammed Abu Taleb) এবং জনাব মীর মোশাররফ হোসাইন (Mir Mosharof Hossain) ও জনাবা কানিজ ফাতেমা (Kaniz Fatema) দেশের শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবার পথিকৃৎ হিসেবে কাজ শুরু করেন।
একই সময়ে আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু কানিজ ফাতেমা ম্যাডাম যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অডিওলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রথম কমিশন্ড অডিওলজিস্ট হিসেবে ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস (Jannat Tanvir) ম্যাডাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকায় যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ দেশের অসংখ্য শিশু ও বয়স্ক শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিয়ে আসছেন।
গত প্রায় ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৪০০টিরও বেশি হিয়ারিং কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে টেকনিশিয়ান, অডিওমেট্রিশিয়ান এবং পরবর্তীতে সার্টিফায়েড অডিওলজিস্টরা শিশু ও বয়স্কদের শ্রবণসেবা প্রদান করে আসছেন।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের অধিভুক্ত প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পাইজার)-এ “অডিওলজি অ্যান্ড স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি” বিষয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি কার্যক্রম চালু হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষাক্রম এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫০ জনেরও বেশি সার্টিফায়েড ও স্নাতক অডিওলজিস্ট এবং স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট রয়েছেন। পাশাপাশি দেশে ৬০০ জনেরও বেশি অডিওমেট্রি টেকনিশিয়ান কর্মরত আছেন।
বাংলাদেশের শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে অডিওলজিস্ট ও অডিওমেট্রিশিয়ানদের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে জন্মগতভাবে বধির বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে একজন অডিওলজিস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও বাংলাদেশে জন্মগতভাবে ও জন্ম পরবর্তী সময়ে ত্রুটির কারণে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারী ও পূর্নবাসন চিকিৎসায় বিগত দশ বছরের অধিক সময় ধরে অডিওলজিস্ট গণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একজন অডিওলজিস্ট হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো অডিওলজি, অডিওলজি ও স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি, অথবা স্পিচ অ্যান্ড হিয়ারিং সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি।
অন্যদিকে একজন অডিওমেট্রিশিয়ান হওয়ার জন্য সাধারণত ১ বা ২ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন হিয়ারিং, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ অথবা অডিওমেট্রি টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে অডিওলজিস্ট ও অডিওমেট্রিশিয়ানদের নিজ নিজ পেশাগত মর্যাদা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উভয় পেশার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
বাংলাদেশ থেকে অডিওলজি ও স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে অনেকেই বর্তমানে আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অন্যদিকে, ইউরোপ ও আমেরিকাভিত্তিক হিয়ারিং এইড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ হিয়ারিং এইড সরবরাহ করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে দেশে হিয়ারিং এইড উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠলে রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে “কলেজ অব অডিওলজি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন হেলথ সায়েন্সেস” প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
বাংলাদেশের দক্ষ ও সার্টিফায়েড অডিওলজিস্ট এবং অডিওমেট্রিশিয়ানদের যথাযথ পেশাগত স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।
আমাদের বিনীত ও যৌক্তিক দাবিসমূহ:
১. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলে অডিওলজিস্ট পেশা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করা।
২. অন্যথায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র “হিয়ারিং হেলথ প্রফেশনাল কাউন্সিল” প্রতিষ্ঠা করা।
৩. দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অডিওলজিস্ট ও অডিওমেট্রি টেকনিশিয়ান পদ সৃষ্টি করা।
৪. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ও মানসম্মত শ্রবণসেবা নিশ্চিত করা।
গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করার পরও কিছু মহলের উদাসীনতার কারণে এসব দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা আশা করি, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগে অতি শীঘ্রই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশের সকল শ্রবণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা পেশাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সুযোগ প্রদান করা হলে দেশের লাখো শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু ও বয়স্ক মানুষ উপকৃত হবেন।
আসুন, আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের শ্রবণ স্বাস্থ্যসেবাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই।
সবার আগে বাংলাদেশ। 🇧🇩
PMO Bangladesh - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, Tarique Rahman,
Ministry of Health and Family Welfare, Dr. M A Muhit
Ministry of Social Welfare, Bangladesh/ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ, DR. A Z M Zahid Hossain MP