16/05/2026
বহুল আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে হেপাটাইটিস এ আর ই দিয়ে একিউট লিভার ফেইলিউর হওয়া।
অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর (Acute Liver Failure) হলো একটি গুরুতর অবস্থা, যেখানে লিভার হঠাৎ করে খুব দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা হারায়—সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে। লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ফিল্টার করে। লিভার নষ্ট হলে তা কিডনি ও মস্তিষ্কসহ অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউরের অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের দেশের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ হল বিভিন্ন ভাইরাল ইনফেকশন যেমন হেপাটাইটিস A, B, E। এসব কারণে লিভারের কোষ ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং দ্রুত লিভার ফেইলিউর তৈরি হয়।হেপাটাইটিস এ আর ই ভাইরাস থেকে একিউট লিভার ফেইলিউর হওয়া অনেক Rare বা বিরল একটা ঘটনা।
হেপাটাইটিস A সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে প্রায় ০.৩৫% ক্ষেত্রে অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর হতে পারে। হেপাটাইটিস B-এর ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ০.১% থেকে ০.৫% পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস E ভাইরাস যেসব দেশে বেশি দেখা যায়—যেমন পাকিস্তান, ভারত, রাশিয়া, মেক্সিকো—সেখানে এটি লিভার ফেইলিউরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাধারণভাবে হেপাটাইটিস E-এর মৃত্যুহার প্রায় ০.৫% থেকে ৩%, তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে ১৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত হতে পারে।
এই রোগের লক্ষণগুলো হলো ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, পেটের উপরের অংশে ব্যথা, চুলকানি এবং জন্ডিস। গুরুতর অবস্থায় বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, ঘুম ঘুম ভাব এবং কোমা পর্যন্ত হতে পারে। অনেক রোগীর কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে লিভার নিজে নিজেই ভালো হয়ে যেতে পারে, তবে গুরুতর হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট লাগতে পারে। সার্বিকভাবে এই রোগে বেঁচে থাকার হার ৬০% এর বেশি এবং প্রায় ৫৫% রোগী ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়াই সুস্থ হন।অর্থাৎ ৪০% রোগী State of art চিকিৎসা বা সর্বোচ্চ চিকিৎসা পেয়েও মারা যেতে পারেন!
হেপাটাইটিস A ও E থেকে বাঁচতে করণীয়
হেপাটাইটিস A ও E মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
✔️ আসবসময় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করতে হবে (ফুটানো/ফিল্টার করা পানি)
✔️ খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া
✔️ কাঁচা বা অপরিষ্কার খাবার (বিশেষ করে সালাদ, কাঁচা শাকসবজি) এড়িয়ে চলা
✔️ রাস্তার অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা
✔️ ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া
✔️ ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত স্যানিটেশন বজায় রাখা
✔️ হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন (যেখানে পাওয়া যায়) গ্রহণ করা
✔️ গর্ভবতী নারীদের বিশেষভাবে নিরাপদ পানি ও খাবার নিশ্চিত করা (HEV ঝুঁকি বেশি)
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারই হেপাটাইটিস A ও E প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তাই, আসুন আমরা সচেতন হই। যত্রতত্র ব্যাং এর ছাতার মত গড়ে ওঠা খাবার দোকান থেকে খাবার না খাই। স্ট্রিট ফুড এড়িয়ে চলি।
ডা. সায়্যিদুল আবরার
এমবিবিএস,বিসিএস(স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস ট্রেইনি (মেডিসিন-গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি)
মেডিকেল অফিসার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পেকুয়া
কক্সবাজার।
Reference:uptodate.