12/07/2026
***আপনার স্বাস্থ্য, আপনার হাতে***
শরীর সুস্থ রাখার নামই স্বাস্থ্য। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম জীবন গড়তে নিচের স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন।
১। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। সকালে বা সন্ধ্যায় খোলা ও নির্মল পরিবেশে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। অতিরিক্ত বা খুব কম ঘুম—দুটিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
২। বসবাসের ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখুন। বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। স্যাঁতসেঁতে ও বদ্ধ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। পোশাক, বিছানাপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
৩। দুপুরে খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। রাতে খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না পড়ে ১৫–৩০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪। প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য স্নান করুন। তবে জ্বর বা বিশেষ অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।
৫। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম শরীরের জন্য উপকারী। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করুন। হাঁটা, সাঁতার, হালকা দৌড় বা অন্যান্য ব্যায়াম নিয়মিত করলে শরীর সুস্থ থাকে।
৬। ধূমপান, তামাক, জর্দা, মাদকদ্রব্য, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন।
৭। প্রতিদিন নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত জোলাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।
৮। সব সময় বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করুন। পানির পাত্র পরিষ্কার রাখুন এবং ঢেকে রাখুন।
৯। মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন। পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, খেলাধুলা করুন বা নিজের পছন্দের সৃজনশীল কাজে অংশ নিন।
১০। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার গ্রহণ করুন। অতিভোজন ও অনিয়মিত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ খাদ্যাভ্যাস বা উপবাসের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১১। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করুন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন।
আয়ুর্বেদ চিকিৎসক
মোঃ আবু হানিফ লিটন
DMF, DAMS