Dr.md.saiful Islam

Dr.md.saiful Islam Homeopathy Consultant Dr. MD. Saiful Islam DHMS Dhaka, MCH Dhaka.

25/05/2026

IGNATIA AMARA.

Memorizing Tips of Remedy Profile of IGNATIA AMARA - ইগ্নেসিয়া এমারা ঔষধ মনে রাখার কৌশল

I = Involuntary sighing - সাড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ।
G = Great contradictions - মারাত্মক অসংগতি।
N= Nux- mos Like moody - নাক্স মস্কেটার ন্যায় মনোভাব ( পরিবর্তনশীল মেজাজ , এবং খুব আহলাদপূর্ণ আবার পরক্ষণেই বিষাদ পূর্ণ অথবা শোকাহত , পরক্ষণেই আমোদিত)
A = Amiable in disposition , easily offended - অমায়িক / বন্ধুভাবাপন্ন মেজাজ, সহজে অসন্তুষ্ট হয় ।
T= To***co unbearable - তামাক অসহ্য ।
I = Impatient and inconstant - অসহিষ্ণু এবং অস্থির ।
A = Alcohol upset - মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা।

Characteristics ঃ

1. Widely used in all cases where there is history of prolonged silent grief from loss of close relative or from disappointment of affection , mis- behavior from one whom she loves much.

2. In IGNATIA silent grief is manifested by involuntary signing which passes unconsciously and this involuntary signing gives relief to the patient in all aspects .

3. IGNATIA is a drug full of great contradictory symptoms e g. empty feeling in stomach not ameliorated by eating pain throat aggravate by empty swallowing or swallowing liquids but amel from swallowing hard things etc

4. Prefers to be isolated , does not want to be talked , is full of sad , morose ,. Face is depicted with great sadness .

5. IGNATIA patient is very much moody , at one time she is joyful, gay , happy , at other time sad , morose , sobbing .

6. Extreme emotional and sentimental . Who cry easily on detailing .

,7. Bad effects of sudden mental shock , grief , disappointed love , mortification , chagrin etc.

8. For oversensitive hysteric girls where well indicated medicinefails.

9. Chilly patient.

10. Sweat on face on a small spot , on tip of nose only while eating .

11. Desires cold food , sour things , bread, aversion to warm food , meat , alcohol.

12. Oversensitive to pain . Pain is in small circumscribed spots . Pain shooting up into abdomen from a**l office or uterus.

13. Stool difficult hard incomplete with excessive urging or discomfort felt more in upper abdomen.

14. Complaints aggravate from mental shock, slight touch , in to***co smoke , excessive intake of coffee, amel from hot application, hard pressure.



Particulars ঃ

1. Any physical symptoms in any organs of body which appear after sudden mental shock , from long standing silent grief .

2 . Headache : from long continued grief with sensation as if something sharp thing piercing through parietal region aggravate in to***co smoke amel by lying on that side , after profuse urination .

3. Long standing pain throat aggravate from empty swallowing or swallowing liquid but not from solid food. Pain relief from hot application.

4. Sensation of a lump in throat when not swallowing .

5. Peculiar sensation of weakness in upper abdomen and pit of stomach .

6. Piles aggravates during me**es sharp stitching pain shooting upwards. Protrudes after soft stool.

7. Constipation - urging felt more in upper abdomen from carriage riding , excessive intake of coffee.

8. Re**al prolapse after soft stool .

9. Male - contraction of p***s , it becomes quite small.

10. Female - all types of menstrual irregularities which are caused by sudden mental shock or from silent grief . Severe painful me**es , more the flow more the pain .

11. Cough - there is no cough but as soon as he started coughing it is going to aggravate and difficult to stop coughing untill deep sighing . Hysteric cough relief by deep sighing .

12. Fever - chill with thirst heat and sweat stage without thirst , there is red face during chill only , caused by sudden mental shock . Long standing fever in persons. having prolonged in a state of worry, grief.



RELATIONS ঃ

1. Many drugs have silent grief e.g . Causticum , Natrum mur , Acid Phos , Sepia , Staph etc, but no drug has like the typical manifestation of IGNATIA . In IGNATIA silent grief is manifested by involuntary sighing passes without notice of herself . Herring said Cal Phos has such involuntary sighing but the drug is not as effective as Ignatia . Causticum has silent grief which effects the nervous system first and announced by paralysis of single part e g.urine passes involuntarily when coughing , sneezing etc , and cannot hold urge of urine. Silent grief makes Natrum mur more emotional and more aversion from the sympathy of others . Silent grief makes Sepia more indifferent to everything . Silent grief makes Staph more introvert.

2. Natrum mur is the most important complementary of IGNATIA . IGNATIA , Natrum mur and Sepia is a good chain when symptoms come in the mental plain. Apis Mel , Natrum mur and Sepia is a good chain when symptoms come in the physical plain.

3. Pulsatilla is said to be the intidote of IGNATIA removes bad effects of it but I do not know why ? My repeated observations are after IGNATIA . Pulsatilla often come because both of them have weeping mood , oversensitiveness and changeability of symptoms . In IGNATIA changeability is more in mental plane where as in Pulsatilla changeability is more in physical plane but there may be vice versa .

4. IGNATIA is the very effective medicine for both male and female .

5. Staph often comes after IGNATIA when patient becomes more suppressive.

6. Causticum often comes after IGNATIA specially persons of old aged where there are prolonged silent grieves have come from multiple directions .

7. Sobbing cry of IGNATIA changed into silent cry of Natum mur changed into dried up tear of Sepia.

8. Compare with Lachesis where empty or liquid swallowing are more painful than swallowing solid but in Lachesis pain is relief from cold and it is on left side or from left to right .

9. Compare with Apis in fever where chill with thirst only , but Apis has typical 3 p.m.aggravation .

10. Compare with Lyco , Lach , Cina and Sepia in plug sensation in throat. In Lach it is relief by swallowing where as in IGNATIA it is hysteric not relief by swallowing , in Lyco it is coming from gastric ailments , Cina from worm troubles , in Sepia most probably from oesophagesl reflux.


Ignatia Amara - বাংলা অনুবাদ


বৈশিষ্ট্যসমূহ ঃ

1. প্রধান ব্যবহার: দীর্ঘদিনের নীরব শোকের ইতিহাস থাকলে এটি বহুল ব্যবহৃত। যেমন - কাছের আত্মীয়ের মৃত্যু বা ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আঘাত, দুর্ব্যবহার, প্রেমে ব্যর্থতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

2. নীরব শোকের লক্ষণ: ইগ্নেশিয়ার নীরব শোক প্রকাশ পায় অনৈচ্ছিক দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে, যা রোগী নিজের অজান্তেই ফেলে। এই অনৈচ্ছিক দীর্ঘশ্বাস রোগীকে সব দিক থেকে আরাম দেয়।

3. পরস্পরবিরোধী লক্ষণে ভরা: ইগ্নেশিয়া বহু পরস্পরবিরোধী লক্ষণযুক্ত ওষুধ। যেমন - পেটে খালি খালি ভাব খেলে কমে না। গলাব্যথা ঢোক গিললে বা তরল খাবার গিললে বাড়ে, কিন্তু শক্ত জিনিস গিললে উপশম হয়।

4. নির্জনতাপ্রিয়: একা থাকতে পছন্দ করে, কথা বলতে চায় না। দুঃখী, বিষণ্ণ থাকে। মুখমণ্ডলে গভীর দুঃখের ছাপ ফুটে ওঠে।

5. খামখেয়ালি মেজাজ: ইগ্নেশিয়ার রোগী খুবই মুডি। একসময় আনন্দিত, প্রফুল্ল, খুশি, আবার অন্যসময় দুঃখী, বিষণ্ণ, কান্নাকাটি করে।

6. অতি আবেগপ্রবণ ও স্পর্শকাতর: খুব সহজেই কেঁদে ফেলে। কোনো কিছু বর্ণনা করতে গেলেই কান্না পায়।

7. মানসিক আঘাতের কুফল: হঠাৎ মানসিক আঘাত, শোক, প্রেমে ব্যর্থতা, অপমান, মনোকষ্ট ইত্যাদির খারাপ প্রভাব।

8. অতিসংবেদনশীল হিস্টিরিয়াগ্রস্ত মেয়েদের জন্য: যেখানে সু-নির্বাচিত ওষুধও ব্যর্থ হয়।

9. **শীতকাতর রোগী**।

10. ঘামের বিশেষত্ব: খাওয়ার সময় শুধু মুখের ছোট জায়গায়, নাকের ডগায় ঘাম হয়।

11. খাদ্যে ইচ্ছা-অনিচ্ছা: ঠান্ডা খাবার, টক জিনিস, রুটি খেতে চায়। গরম খাবার, মাংস, অ্যালকোহলে অনীহা।

12. ব্যথার প্রতি অতি সংবেদনশীল: ব্যথা ছোট নির্দিষ্ট জায়গায় হয়। পায়ুপথ বা জরায়ু থেকে ব্যথা তলপেটের দিকে ছুটে যায়।

13. মল: কঠিন, অসম্পূর্ণ মল, অতিরিক্ত কোঁথানি। অস্বস্তি তলপেটের চেয়ে উপরের পেটে বেশি অনুভূত হয়।

14. বৃদ্ধি ও উপশম: মানসিক আঘাত, হালকা স্পর্শ, তামাকের ধোঁয়া, অতিরিক্ত কফি পানে বৃদ্ধি। গরম সেঁক, জোরে চাপ দিলে উপশম।

বিশেষ লক্ষণসমূহ ঃ

1. কারণ: হঠাৎ মানসিক আঘাত বা দীর্ঘস্থায়ী নীরব শোকের পর শরীরের যেকোনো অঙ্গে যেকোনো শারীরিক লক্ষণ দেখা দিলে।

2. মাথাব্যথা: দীর্ঘদিনের শোক থেকে। মনে হয় মাথার তালু দিয়ে যেন ধারালো কিছু ফুঁড়ছে। তামাকের ধোঁয়ায় বৃদ্ধি, ব্যথার পাশে শুলে বা প্রচুর প্রস্রাবের পর উপশম।

3. দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথা: খালি ঢোক গিললে বা তরল গিললে বাড়ে, কিন্তু কঠিন খাবারে বাড়ে না। গরম সেঁকে আরাম।

4. গলায় ঢেলা বোধ: না গিললেও গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূতি।

5. পেটের উপরের অংশে দুর্বলতার অদ্ভুত অনুভূতি এবং পাকস্থলীর গর্তে দুর্বলতা।

6. অর্শ: মাসিকের সময় বাড়ে। সূঁচ ফোটানোর মতো তীক্ষ্ণ ব্যথা উপর দিকে ছুটে যায়। নরম মলের পরও অর্শ বের হয়ে আসে।

7. কোষ্ঠকাঠিন্য: গাড়িতে চড়লে, অতিরিক্ত কফি খেলে হয়। মলবেগ উপরের পেটে বেশি অনুভূত হয়।

8. মলদ্বার বের হয়ে আসা: নরম মলের পরও হয়।

9. পুরুষ: লিঙ্গ সংকুচিত হয়ে খুব ছোট হয়ে যায়।

10. নারী: হঠাৎ মানসিক আঘাত বা নীরব শোক থেকে সৃষ্ট সব ধরনের মাসিকের গোলমাল। অত্যন্ত বেদনাদায়ক মাসিক, রক্তস্রাব যত বেশি ব্যথা তত বেশি।

11. কাশি: কাশি থাকে না, কিন্তু একবার কাশি শুরু হলে বাড়তেই থাকে, থামানো কঠিন। গভীর দীর্ঘশ্বাস না ফেলা পর্যন্ত থামে না। হিস্টিরিয়াজনিত কাশি গভীর দীর্ঘশ্বাসে উপশম।

12. জ্বর: শীতাবস্থায় পিপাসা থাকে, উত্তাপ ও ঘাম অবস্থায় পিপাসা থাকে না। শুধু শীতাবস্থায় মুখ লাল হয়। হঠাৎ মানসিক আঘাত থেকে হয়। দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তা, শোকে থাকা ব্যক্তির দীর্ঘস্থায়ী জ্বর।

সম্বন্ধ ঃ

1. অন্যান্য ওষুধের সাথে তুলনা: অনেক ওষুধেই নীরব শোক আছে যেমন - Causticum, Natrum mur, Acid Phos, Sepia, Staph ইত্যাদি, কিন্তু ইগ্নেশিয়ার মতো বিশেষ প্রকাশ কারো নেই। ইগ্নেশিয়ায় নীরব শোক অনৈচ্ছিক দীর্ঘশ্বাস দিয়ে প্রকাশ পায় যা রোগীর অজান্তেই হয়। হেরিং বলেছেন Cal Phos-এরও এমন দীর্ঘশ্বাস আছে, কিন্তু ওষুধটি ইগ্নেশিয়ার মতো কার্যকর নয়।

Causticum-এর নীরব শোক প্রথমে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং একক অঙ্গের পক্ষাঘাত দিয়ে প্রকাশ পায়। যেমন - কাশি, হাঁচিতে অনৈচ্ছিক প্রস্রাব, প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখতে পারে না।

নীরব শোক Natrum mur-কে আরও আবেগপ্রবণ করে এবং অন্যের সহানুভূতি থেকে আরও বিরূপ করে তোলে।

নীরব শোক Sepia-কে সবকিছুর প্রতি আরও উদাসীন করে তোলে।

নীরব শোক Staph-কে আরও অন্তর্মুখী করে তোলে।

2. পরিপূরক ওষুধ: Natrum mur হলো ইগ্নেশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক ওষুধ। লক্ষণ মানসিক স্তরে এলে
Ignatia → Natrum mur → Sepia একটি ভালো চেইন।

লক্ষণ শারীরিক স্তরে এলে Apis Mel → Natrum mur → Sepia একটি ভালো চেইন।

3. প্রতিষেধক: Pulsatilla-কে ইগ্নেশিয়ার প্রতিষেধক বলা হয়, এর খারাপ প্রভাব দূর করে, কিন্তু কেন তা জানি না। আমার বারবার পর্যবেক্ষণে ইগ্নেশিয়ার পর প্রায়ই Pulsatilla আসে, কারণ দুটিরই কান্নার ভাব, অতি সংবেদনশীলতা এবং লক্ষণের পরিবর্তনশীলতা আছে। ইগ্নেশিয়ায় পরিবর্তনশীলতা মানসিক স্তরে বেশি, আর Pulsatilla-য় শারীরিক স্তরে বেশি, তবে এর উল্টোটাও হতে পারে।

4. ইগ্নেশিয়া পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই খুব কার্যকর ওষুধ।

5. রোগী যখন আরও অবদমিত হয়ে পড়ে তখন ইগ্নেশিয়ার পর প্রায়ই Staph আসে।

6. ইগ্নেশিয়ার পর প্রায়ই Causticum আসে, বিশেষ করে বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে যাদের দীর্ঘস্থায়ী নীরব শোক একাধিক দিক থেকে এসেছে।

7. কান্নার রূপান্তর: ইগ্নেশিয়ার ফোঁপানো কান্না → Natrum mur-এর নীরব কান্না → Sepia-র শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলে পরিণত হয়।

8. Lachesis-এর সাথে তুলনা: যেখানে খালি ঢোক বা তরল গিলা কঠিন খাবার গেলার চেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু Lachesis-এ ঠান্ডায় আরাম হয় এবং ব্যথা বাম দিকে বা বাম থেকে ডানে যায়।

9. Apis-এর সাথে তুলনা: জ্বরে শুধু শীতাবস্থায় পিপাসা, কিন্তু Apis-এর বিশেষ 3 p.m. বৃদ্ধি আছে।

10. গলায় ঢেলা বোধের তুলনা: Lyco, Lach, Cina এবং Sepia-র সাথে তুলনা করুন। Lach-এ গিললে উপশম, কিন্তু ইগ্নেশিয়ায় এটি হিস্টিরিয়াজনিত, গিললে কমে না। Lyco-তে পেটের গোলমাল থেকে, Cina-তে কৃমির সমস্যা থেকে, Sepia তে সম্ভবত খাদ্য নালীর রিফ্লেক্স হতে।

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম ডি এইচ এম এস ঢাকা।
চেম্বার ঃ সিফাত হোমিও হল , শালবন মিস্ত্রিপাড়া, রংপুর । ০১৫৭৫৩৬০৬৮৮.

24/05/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

সুখবর সুখবর

রংপুর হোমিওপ্যাথিক ডিপ্লভমেন্ট ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে অনলাইন ক্লাস

তারিখ - ২৫ ০৫-২০২৬ সোমবার ।

➡️ বিষয় : প্রাকটিস অফ মেডিসিন ভারটিগো ।
➡️ আলোচনা করবেন ঃ ডাঃ মোঃ আব্দুল হাকিম, ডি এইচ এম এস ঢাকা ।

🕤 বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ৯.১৫ টা থেকে কার্যক্রম শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। যথাসময়ে যোগ দিন।

🎤 হোমিওপ্যাথির প্রচার-প্রসার ও উন্নয়নের স্বার্থে তথা নিজেদেরকে আদর্শ হোমিওপ্যাথ হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের সদয় উপস্থিতি একান্ত কাম্য ।

➡️ লিংক যথা সময়ে দেওয়া হবে।

➡️ সঞ্চালনায় ও পরিচালনায়, ‌
মোঃ শাহাবুল ইসলাম
ডি এইচ এম এস

মোবাঃ 01893494407
সবাইকে আমন্ত্রণ, ধন্যবাদ ।

17/05/2026

To join the meeting on Google Meet, click this link:

16/05/2026
13/05/2026

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে যা হয়

বিয়ের আগে পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ খবর নিয়ে থাকি আমরা, কিন্তু ভুলে যাই সব চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাপার স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত ব্যাপারটি। আসলে স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কোনো সমস্যা হয় কি?

বেশির ভাগ দম্পতিই তা জানতে চান স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ একই হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে বাচ্চার জন্মগত কোনো সমস্যা হয় কিনা। এ ধরনের প্রশ্নটা অহরহ শুনেন চিকিৎসকরা। উভয়ের রক্তের গ্রুপ এক হলে কোনো সমস্যা হয় না। তবে কিছু বিষয় রয়েই যায়।

রক্তের গ্রুপ
প্রথমেই রক্তের গ্রুপগুলো সম্পর্কে জেনে নিন। রক্তের গ্রুপের প্রধানত দুটি ভাগ। একটা হলো এবিও পদ্ধতি (এ, বি, এবি এবং ও) অন্যটা আরএইচ ফ্যাক্টর (আরএইচ পজেটিভ এবং আরএইচ নেগেটিভ)। এ রেসাস ফ্যাক্টরই ঠিক করে দেয় ব্লাড গ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে।

ব্লাড গ্রুপগুলো হলো
এ পজেটিভ, এ নেগেটিভ, বি পজেটিভ, বি নেগেটিভ, এবি পজেটিভ, এবি নেগেটিভ, ও পজেটিভ এবং ও নেগেটিভ।

রক্ত গ্রহণে সচেতনতা
যখন কোনো নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে পজেটিভ গ্রুপের রক্ত দেয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হয় না। তবে এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে একটি এন্টিবডি তৈরি করে। যার ফলে রোগী আবার কখনও যদি পজেটিভ গ্রুপের রক্ত নেয়, তবে তার রক্তের কোষগুলো ভাঙতে শুরু করে। এ কারণে কাঁপুনি, জ্বর কিংবা কিডনি অকেজো থেকে শুরু করে মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিদ্যায় বলা হয় এবিও ইনকমপ্যাটিবিলিটি।

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ
স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর পজেটিভ হতে হবে। আর যদি স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর গ্রুপ যদি পজেটিভ হয় তাহলে কোনোভাবেই স্ত্রীর রক্তের নেগেটিভ হওয়া চলবে না। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় তাহলে তার স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে অনেক সমস্যা এড়ানো যাবে।

স্বামীর রক্তের গ্রুপ স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ সন্তানের অবস্থান
পজিটিভ(+) পজেটিভ(+) সুস্থ সন্তান
নেগেটিভ (-) নেগেটিভ (-) সুস্থ সন্তান
নেগেটিভ (-) পজেটিভ (+) সুস্থ সন্তান
পজিটিভ (+) নেগেটিভ (-) প্রথম সন্তান সুস্থ, দ্বিতীয় থেকে সমস্যা

স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজেটিভ এবং স্ত্রীর নেগেটিভ হলে কী হতে পারে তা জেনে নিন:

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোনো সমস্যা হয় না। তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজেটিভ হয় তাহলে ‘লিথান জিন’ বা ‘মারণ জিন’ নাকে একটি জিন তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সেক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হতে পারে। বাচ্চা হতে পারে জন্মান্ধ। এছাড়া যখন কোনো নেগেটিভ গ্রুপের মা পজেটিভ ফিটাস (ভ্রুণ) ধারণ করে তখন সাধারণত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু ডেলিভারির সময় পজেটিভ ভ্রুণের রক্ত, প্লাসেন্টারের (গর্ভফুল) বাধা ভেদ করে মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরেও প্রসবের সময় যে রক্ত প্রবেশ করবে, তা প্রসবের কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে আরএইচ এন্টিবডি তৈরি করবে।

যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবেন, তখন যদি তার ভ্রণের ব্লাডগ্রুপ আবার পজেটিভ হয়, তাহলে মায়ের শরীরে আগে যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছিল সেটা প্লাসেন্টার বাধা ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। আর যখন এটি ভ্রূণের শরীরে ঢুকবে তখন ভ্রূণের লোহিত রক্ত কনিকার সেল ভেঙে যাবে। এ সমস্যাকে চিকিৎসা বিদ্যায় বলা হয় আরএইচ ইনকমপ্যাটিবিলিট।

আগে কখনো অপারেশন না হয়ে থাকলে অনেক সমস্যা এড়ানো যাবে। শুধু সচেতন থাকতে হবে। স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হলে, বাচ্চা জন্মের পরপরই বাচ্চার ব্লাডগ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। যদি নেগেটিভ হয় মায়ের মতো, তবে কিছু করার দরকার হয় না। আর পজেটিভ হলে এন্টি ডি ইনজেকশন নিতে হবে ডেলিভারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। আরও বিস্তারিত জানতে এবং বাচ্চা ধারণের আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম ডি এইচ এম এস ঢাকা
চেম্বার ঃ সিফাত হোমিও হল, শালবন মিস্ত্রীপাড়া, হারাগাছ রোড, রংপুর।০১৫৭৫৩৬০৬৮৮

With Skin Specialist Dr. Kaneez Fatema – I'm on a streak! I've been a top fan for 20 months in a row. 🎉
13/05/2026

With Skin Specialist Dr. Kaneez Fatema – I'm on a streak! I've been a top fan for 20 months in a row. 🎉

13/05/2026

হোমিওপ্যাথির মূল নীতি সমূহ ঃ

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার নীতিমালা স্মরণ করিয়ে দেওয়া দিয়ে শুরু করা আবশ্যক, যেটি হোমিওপ্যাথির প্রতিষ্ঠাতা ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৮শ শতকের শেষভাগে (১৭৯৬ সালে) অর্গানন গ্রন্থে প্রণয়ন করেছিলেন।

ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান পরীক্ষণ-নির্ভর এক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেন, যা হিপোক্রেটিসের সময় থেকেই পরিচিত "সমঃ সমং শময়তি" অর্থাৎ "like cure like" — এই চিকিৎসা সূত্রকে কাজে লাগায়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষণ, যাকে 'প্রুভিং' বলা হয়, সেখানে সুস্থ ব্যক্তিকে ওষুধ দেওয়া হয়। এর ফলে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়, সেগুলো সংগ্রহ করে একটি মেটেরিয়া মেডিকা তৈরি করা হয় — এই মেটেরিয়া মেডিকাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূল ভিত্তি ও কর্ম-উপকরণ। হ্যানিম্যানের উদ্ভাবনী ধারণা হোমিওপ্যাথিতে দুটি প্রধান ধারণা এনেছে: সদৃশ বিধান এবং **সূক্ষ্ম মাত্রা**।

সদৃশ বিধান (The Law of Similars) ঃ

সদৃশ বিধান হলো হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতির মৌলিক নীতি এবং কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা-ফল পেতে হলে এটি কঠোরভাবে মানতে হবে। এটি চিকিৎসা-অভিজ্ঞতার ফল,

হিপোক্রেটিসের মতবাদ 'Similia similibus curentur'-এর পুনরাবিষ্কার। সদৃশ বিধানকে এভাবে প্রকাশ করা যায়: "যে পদার্থ একজন সুস্থ দেহে রোগলক্ষণ সৃষ্টি করতে সক্ষম, সেই একই লক্ষণসমষ্টি অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে সে নিরাময় করতে সক্ষম"।

সদৃশ বিধান অনুসারে নিচের ধারণাগুলো আসে:

১. যে পদার্থ সুস্থ ব্যক্তির উপর 'প্রুভ' করা হয়নি, তাকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বলা যায় না।

২. সিমিলিমাম প্রয়োগের জন্য মেটেরিয়া মেডিকার জ্ঞান প্রয়োজন, যেখানে লক্ষণসমূহ সংগৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি রোগীর সুনির্দিষ্ট সাক্ষাৎকার ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দরকার, যাতে রোগ ও রোগীর সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

৩. এর ফলে প্রতিটি হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপত্র অবশ্যই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যভিত্তিক হতে হয়।

৪. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার লক্ষ্য কেবল ক্লিনিক্যাল রোগনির্ণয় নয়, বরং চিকিৎসা-সংক্রান্ত রোগনির্ণয়ও — যার উদ্দেশ্য রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খুঁজে বের করা।

সূক্ষ্ম মাত্রা (The Minimum Dose) ঃ

এটি আগের নীতিরই একটি অনুসিদ্ধান্ত। হ্যানিম্যানের সময় বিষাক্ত পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি মাত্রা কমাতে বাধ্য হন, দ্রবণ করে লঘু করেন। তিনি দেখেন, যত বেশি লঘু ও ঝাঁকানো হয়, তত বেশি ও তাৎপর্যপূর্ণ লক্ষণ প্রকাশ পায়। লঘুকরণের অনেক পদ্ধতি আছে, তবে হ্যানিম্যানের পদ্ধতি অপরিবর্তিত রয়েছে। দ্রুত লঘুকরণ ও ঝাঁকানোর ফলে শেষ পর্যন্ত ভৌত পদার্থের অনুপস্থিতি ঘটে — অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার নিচে, 12C শক্তি থেকে শুরু করে। এগুলোকে তাই 'অ-বস্তুগত পদার্থ' বলা যায়।

গত কয়েক বছরে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এত উচ্চ লঘুকরণের ক্রিয়া সম্ভবত দ্রাবকের ভৌত পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত, যদিও এটি এখনও প্রমাণিত হয়নি। হোমিওপ্যাথি তাই প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসার ক্ষেত্রের বাইরে অবস্থান করছে।

চিকিৎসা-ফল পেতে হলে নিচের নিয়মগুলো মানা অত্যন্ত জরুরি:

• সদৃশ বিধান পালন করা, রোগীর 'চিত্র'-এর সাথে একই চিত্রযুক্ত ওষুধের তুলনা করা।

• **ওষুধ অতি সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করা**। সিমিলিমাম যত নিখুঁত হবে, গভীর ও স্থায়ী আরোগ্যের জন্য তত উচ্চ শক্তিতে ওষুধ প্রয়োগ করা ভালো।

হোমিও কিডস বইয়ে সিমিলিয়া নীতির প্রয়োগই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের হোমিওপ্যাথিক প্রতিকৃতি বর্ণনা করার মাধ্যমে মেটেরিয়া মেডিকার সব উপাদানকে শিশুরোগ প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা যায়।

আমরা পালসেটিলা শিশু বা ল্যাকেসিস শিশুর কথা বলতে পছন্দ করি, যদিও তাদের চিত্র প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো হয় না। এখানে লক্ষণগুলো প্রায়ই প্রাক-মৌখিক স্তরে, খেলাধুলার মাধ্যমে, আচরণের মাধ্যমে এবং পরে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

বাড়িতে ও ক্লিনিকে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে শিশু ও বাচ্চাদের হোমিওপ্যাথিক প্রোফাইল বর্ণনা করা হয়েছে।

অনুবাদকের নোট: সরলতার জন্য, বেশিরভাগ ওষুধের প্রতিকৃতিতে "সে" বা "তাকে" পুরুষবাচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, "সে/তিনি" এর মতো কষ্টকর শব্দ এড়াতে। তবে স্পষ্টতই, অন্যথা উল্লেখ না থাকলে, ওষুধগুলো উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধের উৎস:

সাধারণভাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে পাওয়া উৎস থেকে তৈরি হয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১. তিনটি জগতের প্রাকৃতিক পদার্থ থেকে তৈরি ওষুধ: খনিজ জগৎ, উদ্ভিজ জগৎ ও প্রাণী জগৎ।

২. কৃত্রিম পদার্থ থেকে লঘু আকারে তৈরি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ।

শিশুরোগে হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপত্র:

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সাধারণত সর্বোত্তম শোষণের জন্য জিহ্বার নিচে দেওয়া হয়।

ওষুধ নিম্নলিখিতভাবে দেওয়া হয়:

• টিউবের দানা: একবারে দুই বা তিনটি বড়ি, দিনে চারবার, আঙুল দিয়ে বড়ি স্পর্শ না করে। • একমাত্রার বড়ি: একবারে পুরোটা; ছোট শিশুদের জন্য পানিতে গুলে, বড় শিশুদের জন্য জিহ্বার নিচে। • নবজাতকদের জন্য পাউডার, সাপোজিটরি এবং আরও বিরল ক্ষেত্রে জলীয় দ্রবণ ড্রপ আকারেও আছে।

রোগীর প্রকারভেদ শ্রেণীবিভাগ ঃ

বিভিন্ন ধরনের শ্রেণীবিভাগ সম্ভব; নিচে সবচেয়ে

প্রচলিতগুলো আলোচনা করা হলো।

দৈহিক গঠন, প্রতিক্রিয়ার ধরন, বা প্রাকৃতিক জগৎ (প্রাণী, উদ্ভিদ বা খনিজ) অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ করা যায়।

দৈহিক গঠন:

• ফসফরিক টাইপ: যারা ছিপছিপে।

• কার্বোনিক টাইপ: যারা মোটাসোটা।

• ফ্লুরিক টাইপ: যাদের গঠন অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অনিয়মিত।

এই শ্রেণীবিভাগগুলো উপকারী এবং অন্যান্য শ্রেণীবিভাগেও পাওয়া যায়।

প্রতিক্রিয়ার ধরন:

এটি এমন একটি শ্রেণীবিভাগ যা শিশুদের তাদের প্রবণতা অনুযায়ী বর্ণনা করে — তারা কোন ধরনের অসুস্থতায় ভুগতে পারে। এই শ্রেণীবিভাগ বেশ পুরনো ও কিছুটা সেকেলে, তবুও এর কিছু মূল্য আছে। এটি মূলত উনিশ শতকের হোমিওপ্যাথিক রোগ-দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে, যেমন সোরা (খোস-পাঁচড়া) ও টিউবারকুলোসিস। এই পদ্ধতিতে আলাদা করা হয়:

১. টিউবারকুলিনিক: যাদের শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা ও বৃদ্ধিজনিত সমস্যার প্রবণতা থাকে।

২. সোরিক: যাদের চর্মরোগ হয়।

৩ . লুয়েটিক বা সিফিলিটিক: সাধারণত অসামঞ্জস্যপূর্ণ গঠনের শিশু, যাদের হাড়ের সমস্যা ও পুঁজযুক্ত ক্ষত হয়।

৪. সাইকোটিক: অতিবৃদ্ধির প্রবণতাসম্পন্ন রোগী, যারা স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, আঁচিল ও দীর্ঘস্থায়ী পুঁজযুক্ত ক্ষতে ভোগে।

জগৎসমূহ:

এই শ্রেণীবিভাগ প্রাণী, উদ্ভিদ বা খনিজ জগতের পরিপ্রেক্ষিতে একটি চিত্র গঠন করতে দেয়। এটি খুবই আকর্ষণীয় কিন্তু এর জন্য মেটেরিয়া মেডিকার চমৎকার জ্ঞান প্রয়োজন। এটি হোমিওপ্যাথিক প্রোফাইল খোঁজার একটি পদ্ধতি, যা সাবধানে ব্যবহার করতে হবে যাতে হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতি 'ডকট্রিন অফ সিগনেচার'-এ পরিণত না হয়।

হোমিও কিডস বইয়ে আমরা শিশুদেরকে সম্পূর্ণ ক্লিনিক্যাল মানদণ্ড অনুযায়ী চারটি দলে ভাগ করেছি: **শীতকাতর, গরমকাতর, ধীর ও অস্থির শিশু**। এই শ্রেণীবিভাগ মূলত বাস্তব চিকিৎসায় যা দেখি তার উপর ভিত্তি করে, বাড়িতে ও ডাক্তারের চেম্বারে তাদের আচরণ লক্ষ্য করে। এটি বোরল্যান্ডের কাজের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার উল্লেখ গ্রন্থপঞ্জিতে আছে।

শীতকাতর বা গরমকাতর শিশুদের প্রথম পরীক্ষাতেই চেনা যায়।

ধীর ও অস্থির শিশুদের পরামর্শের সময় তাদের আচরণ থেকে মুহূর্তেই চেনা যায়।

প্রতিটি ওষুধ শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত হওয়া উচিত: নবজাতক বা বাচ্চা, ০-২ বছর বয়সী, এবং ২-১২ বছর বয়সী।

হোমিও কিডস বইয়ে এভাবে শিশু ও বাচ্চাদের ষাটটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিকৃতি বর্ণনা করা সম্ভব হয়েছে, তাদের প্রধান ক্লিনিক্যাল ইঙ্গিতসহ সম্পূর্ণ করে: শিশুটি কেন পরামর্শের জন্য এসেছে? এটি দৈনন্দিন হোমিওপ্যাথিক চর্চার জন্য একটি প্রকৃত শিশুরোগ-ভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করে।

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম ।
চেম্বার ঃ সিফাত হোমিও হল ,রংপুর ।০১৫৭৫৩৬০৬৮৮.

তথ্যসূত্র - হোমিও কিডস।

12/05/2026

শিশু চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি
১৪তম পর্ব ঃ
সালফার

সালফার বিষযুক্ত শিশু ভীষণ নোংরা। ময়লা জামা কাপড় পরিধান করে, ময়লা বিছানায় বা হাত পা না ধুয়েই শয়ন করে, তাতে তার কোনো ঘৃণা বোধ হয় না। চুলকানির উদ্ভেদ থেকে বা অন্য কোনো কারণে রক্ত ময়লা বের হলে হয়তো তা খেয়ে ফেলে। এমন নোংরা, ছেঁড়া নেকড়া বা শামুকের খোলস ( এই জাতীয় নানা দ্রব্য হতে পারে) বা অন্য কোনো একদম বাজে জিনিসকে মহামূল্যবান মনে করে জমা করে বা তা দ্বারা খেলা করে এবং অন্য কেউ তা নিলে বা ফেলে দিলে ভীষণ কান্নাকাটি করে। গোসল মোটেই করতে চায় না, গোসলের কথা শুনলেই দৌড়ে পালায়। সারা গায়ে স্তরে স্তরে ময়লা জমানো থাকে অথচ গোসলের সময় ঘষে পরিষ্কার করতে দেয় না বা নিজেও করে না।। পিতা মাতা গোসল করার জন্য কোনো রকমে শরীরে একটু পানি ঢেলে দেয়া মাত্র আধা ভেজা অবস্থায় দৌড় দেয়, পালানোর চেষ্টা করে বা পালায়। গোসলকে এতো অপছন্দ করে, কারণ গোসল করলে তার কষ্ট বাড়ে, তাকে গোসল করানো একটা কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।
চর্মপীড়া থাকলে তা গোসলে বৃদ্ধি পায়, তাছাড়া চর্মপীড়া শরীরে না থাকলেও সে গোসল পছন্দ করে না, কারণ পানির স্পর্শে শরীরে খারাপ হয় সে জন্য এমন করে।অথচ এমনিতেই সে গরমকাতর গরম সহ্য করতে পারে না অথচ গোসল পছন্দ করে না , এটি তার একটি অদ্ভুত অসাধারণ লক্ষণ। আমাদের হোমিও রাজ্যে যতটি গরমকাতর ঔষধ আছে তার সবাই গোসল পছন্দ করে, এমনকি অনেক শীতকাতর ঔষধও গোসল পছন্দ করে, অথচ সালফার গরম কাতর হয়েও গোসল পছন্দ করে না। তার এই ব্যাতিক্রম লক্ষণ মনে রাখার বিষয়। আবার গরম কাতর ঔষধ গুলির পিপাসা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এপিস ও পালসেটিলা ঔষধদ্বয় গরমকাতর হয়েও পিপাসাহীন, কথাটা মনে রাখার মতো। এই জাতীয় ব্যাতিক্রম লক্ষণ নির্বাচনের প্রধান সোপান। সালফার বিষযুক্ত শরীরে সকাল দশটায় ক্ষুধা অনুভব হয়। দ্বিপ্রহরে রোগ বৃদ্ধি পায়। চর্মপীড়া হওয়ার প্রবণতা এই শরীরে বরাবরই থাকে,তাই দেখা যায় শিশু জন্ম গ্ৰহণের সাথে সাথে মাসি পিসি নামক এক প্রকার ফুস্কুড়ি ও ফোস্কারমত উদ্ভেদ ( অঞ্চল বিশেষে অন্য নামেও ইহা অবহিত হয়) বা দুধ হাম বা অন্য যে কোনো প্রকার চর্মপীড়ায় আক্রান্ত হয়। আর ঐ সব চর্মপীড়া তৈল রসুন মিশ্রিত মালিশ বা গায়ে দেয়া পাউডার ( যাতে অধিক এসিড থাকে) বা অধিক ঠান্ডায় বা মাতার আহারের ( আমিষ জাতীয় খাদ্য) দোষে বা মলমাদি ব্যবহারে চাপা পড়ে ধনুষ্টংকার জাতীয় খিঁচুনি হয়, শিশুর খাওয়া বন্ধ হয়ে চোয়ালটি শক্ত হয়ে ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আর তখন প্রকৃত চিকিৎসার বদলে ভূত,পেতনী ধরেছে বলে কত ঝাড় ফুঁক, পেতনী যাতে আতুর ঘরে ঢুকতে না পারে তার জন্য কত ধরনের বনজ কাঁটা,ছেড়া জাল,ঝাড়ুর মুটা, ঘরের দরজা- জানালা, বেড়ায় লটকানো হয়। শিশুর গায়ে রসুন তেল মালিশ করে (রসুনের গন্ধ নাকি পেতনীরা সহ্য করতে পারে না) ,কত কাল্পনিক চিন্তাধারা ও বিশ্বাস হতে যে কত ক্রিয়াকলাপ করা হয়, তা ভাবতে যেমন অবাক লাগে আশ্চর্য, তেমনি লাগে আফসোস। মনে হয়, হায়রে বাঙালি, আমরা আসলেই বাঙালি। অথচ এই অবস্থায় সালফার ২০০ শক্তির ১ মাত্রাই যথেষ্ট।

চর্মপীড়া যদি চাপা না পড়ে, তাহলে আর পেতনীও আসতে পারে না।। কিন্তু অধিক মাত্রায় আবার সর্বনাশ ডেকে আনে। আমার ডাক্তারী জীবনের প্রথম দিকে নবজাতকের এই সব রোগে বহু অকৃতকার্য হয়েছি। কত যে লক্ষণ মিলিয়ে কুপ্রাম মেট,সাইকিউটা, মেডোরিনাম, ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহার করেছি এবং অকৃতকার্য হয়েছি তার কোনো হিসাব নেই। অবশেষে অনেক চিন্তার পর যে,প্রত্যেক শিশুই কোনো না কোনো দোষ নিয়ে জন্ম গ্ৰহণ করে এবং প্রত্যেক দোষের ( Miasm ) মূলেই সোরার উপস্থিতি বর্তমান ভেবে এবং ডাঃ গ্যাষ্টিয়ারের মতে সোরা নিবারক চিকিৎসার প্রথম ঔষধ সালফার এবং সালফার এন্টি সোরিকের রাজা বিধায় ঐ জাতীয় মরণাপন্ন এক নবজাতকের পীড়ায় সালফার ২০০ শক্তির ২ মাত্রা ১ ঘন্টা অন্তর প্রয়োগ করি। আল্লাহর রহমতে শিশুটি পরের দিন থেকে সুস্থ হতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করে। তখন থেকে যেখানেই নবজাতকের ঐ অবস্থা প্রাপ্ত হয়, সেখানেই সালফার ব্যবহার করি এবং কৃতকার্য হই। কিন্তু যেখানে হোমিও ঔষধও খাওয়া আবার ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসাও করে সেখানে খুব সুবিধা হয় না। কারণ সালফার শিশুটিকে নির্দোষ করার চেষ্টা করলেও তাদের দেয়া ঔষধে বাহ্য লক্ষণ চাপা পড়ে বা সালফারের ক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায় ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তারা যতই বলুক ঝাড়ফুঁক ছাড়া কিছুই দেয়া হয় না, তথাপি ওর মধ্যেই অনেক কিছু দেয় যা সকল কে জানায় না । আর না হলেও মাতা সরিষার তেল ও রসুন একত্রে মিশিয়ে শিশুর গায়ে মালিশ করে থাকে পেতনী কে তাড়ানোর জন্য। সরিষার তেল ও রসুন মিলে যে যৌগিক হলো তারেই ক্রিয়ায় যে আমাদের ঔষধের ক্রিয়া নষ্ট বা বাহ্য লক্ষণ চাপা পড়ে না, তা কে বলতে পারে? অতএব ঐ সব ক্রিয়াকলাপ বর্জনীয়। সালফার এখানে এন্টিমায়াজমেটিক, রোগ চাপা না দেয়া এবং শরীরের স্বাভাবিক জীবনী প্রবাহ ঠিক রাখে বলে এতো সুন্দর কাজ করে বলে আমার ধারণা।

রোগী তত্ত্ব ঃ ১৯শে এপ্রিল ১৯৭৬ সাল নাম - গন্দী,বয়স - ২মাস। সমস্যা ঃ সর্ব প্রথম জন্ম গ্ৰহণের ৭ দিনের মধ্যে শরীরে মাসি পিসি নামক ফোস্কা জাতীয় উদ্ভেদ উঠে। সেগুলো আপনা আপনি ভালো হয়ে যাওয়ার ৭ দিন পরে হাম উঠে। হামও আপনা আপনি ভালো হয় এবং তার পর থেকে মেয়ে নিস্তেজ হতে থাকে। তারপর খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে।ক্রমে আরো দূর্বল হতে হতে খিঁচুনি শুরু হয়, সেই খিঁচুনি চলতে চলতে এই অবস্থা। এখন নড়েও না চড়েও না, কেবল খিঁচুনির সময় খিচে। চোখ অদ্ধনিমিলিত মনে হয় ঘুমাচ্ছে কিন্তু আসলে ঘুম নয়।। শ্বাস প্রশ্বাস কেমন যেন অস্বাভাবিক। দিন দিন আরো দুর্বল হচ্ছে। প্রথম প্রথম পেতনী যাতে না ধরে তার জন্য দেশীয় আচার আচরণ হিসাবে রসুন ও সরিষার তেল মিশিয়ে মালিশ করে, কিন্তু রক্ষা হলো না, পেতনী ধরেছে। দেখুন না মোচড় দিয়ে দিয়ে কেমন যেন একবার লাল আবার নীল হচ্ছে, বলে মাতা কাদছেন। অবস্থা জটিল দেখে কবিরাজ আনা হয়, সে বহু ঝাড়ফুঁক দিল, কিন্তু ভালো হলো না। শেষ পর্যন্ত হাইচুন্নি ধরেছে,ও ছাড়বার নয়, বলে কবিরাজ পালিয়েছে।যখন হাইচুন্নি বাচ্চকে চিবায় তখন নাকি লাল নীল কালো হয়। খিঁচুনতো আছেই,পরে আনলাম হোমিও ঔষধ। তাতে ও উপকার হলো না। গেলাম এলোপ্যাথির কাছে, তারা আশা দিতে পারলেন। সময় ফুরিয়ে এসেছে বলে হোমিওপ্যাথি করতে বললেন।‌ আমি মা কি করবো বুঝতে পারছি না।বাচেও না মরেও না। রোগীর তো দূরের কথা আমার জীবন বাচে না। কখন সে মরে থাকে চিন্তায় কত রাত আর জেগে থাকা যায় । মরার সময় যদি না জানি সেটাও মায়ের এক দোষ, আমি আর পারছি না। আমি বললাম - চিন্তা করবেন না আমি বাচ্চাকে মহাহাইচুন্নি দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। বলে সালফার ২০০ শক্তির দুই মাত্রা এক ঘন্টা অন্তর সেবন করতে দিই, সাথে প্লাসিবো ১৬ মাত্রা ৪ দিন সেবনের জন্য । পরের দিন খবর দিতে বলি,পরের দিন জানায় খিঁচুনি হয়নি। এখন চোখ তুলে তাকায় এবং কিছু চায়। লাল - নীল আগের তুলনায় কম হয়। প্লাসিবো চলছে,তাই ঔষধ না দিয়ে পরের দিন খবর দিতে বলি। পরদিন- আজ মেয়ে স্বাভাবিক, তবে কি যেন ক্ষত জাতীয় কিছু চামড়ার উপর দেখা যায়। সাবধান করে দিলাম তাতে কোন কিছু যেন মালিশ করা না হয়। শুধু মাথায় যে তেল ব্যবহার করা হয় তা ব্যবহার করতে। আর ঔষধ দিতে হয়নি। মেয়েটি আজও ভালোভাবে বেঁচে আছে।

সোরিনামও এন্টিসোরিক এবং সালফারের চেয়েও গভীর ক্রিয়শীল। তবে সে সোরিক ও সিফিলিটিক উভয়েই প্রধান। তার রোগীতে অত্যাধিক দুর্গন্ধ থাকবে। সালফার শুধুমাত্র সোরিক,তাই নির্ঝনঝাটা ক্রিয়া করে। আমার যতখানি মনে হয়- ডাক্তার গ্যাষ্টিয়ারের মতে সোরাকে প্রথম দমন করে নিয়ে শিশুর উপস্থিত সোরা জনিত উচ্ছাস থেকে শিশুকে রক্ষা করে ক্রমে শিশুটি বড় হলে তার হাবভাব আচার আচরণ স্বভাব প্রকৃতি থেকে পাওয়া লক্ষণাদি নিয়ে যে মায়াজমেটিক দোষ পাওয়া যায় তা পরে চিকিৎসা করা- কারণ কত ছোট বাচ্চাদের মায়াজমেটিক দোষের লক্ষণাবলী সংগ্ৰহ বা আবিষ্কার করা উভয়েই কষ্ট কর। তাই সালফার দিয়ে প্রথম চিকিৎসা শুরু করেছেন। অতঃপর তার মতে নবজাতক শিশুর এন্টিসোরিক প্রফিলেকটিক ট্রিটমেন্ট এর কথায় আসা যাক।

প্যারিস নগরীর ডাক্তার গ্যাষ্টিয়ার শিশু জন্ম নেয়ার ২/১ সপ্তাহের মধ্যে সালফার ২০০ শক্তি এক মাত্রা, তার ৪/৬ সপ্তাহ পরে সালফার ২০০ শক্তি আবার এক মাত্রা, তার ৪/৬ সপ্তাহ পরে ক্যালকেরিয়া কার্ব ২০০ শক্তি এক মাত্রা এবং তার ৪/৬ সপ্তাহ পরে ক্যালকেরিয়া কার্ব ২০০ শক্তি আবার এক মাত্রা প্রয়োগ করতে বলেন। সালফার সোরাকে দমন ও টিস্যুসমূহ দৃঢ় করে। ক্যালকেরিয়া অর্থাৎ ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে। ফলে শিশুর দাঁত উঠার সময় কষ্ট কম হবে বা হবে না (দাঁত ও হাড়ের মধ্যে গন্য) এবং পরবর্তীকালে শিশু অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাবে। ডাঃ গারেন্সী এই মতকে সমর্থন করেন বটে, তবে তিনি ধরা বাধা নিয়মে চিকিৎসা না করে পিতা মাতার দেহ দোষ হতে লক্ষণ সংগ্রহ করে যার যে ঔষধ প্রয়োজন তাকে সেই ঔষধ ব্যবহার করার উপদেশ দেন। আমি মনে করি প্রথমে ডাঃ গ্যাষ্টিয়ারের মতে চিকিৎসা করে শিশু একটু বড় হলে শিশুর দেহ হতে লক্ষণ সংগ্রহ করে চিকিৎসা করা ভালো। কারণ মাতার যদি মেডোরিনাম ও পিতার যদি ফসফরাসের লক্ষণ পাওয়া যায় তবে বাচ্চাকে তো মেডো ফস ব্যবহার করা যাবে না - কারণ ও নামে ঔষধই নেই। আরেক সমস্যা হলো - মেডোরিনাম বিষ ও ফসফরাস বিষ মিলে যে কোনো যৌগিক বিষ হবে তাও জানা নাই। তাই গর্ভাবস্থায় পিতা মাতার দেহ দোষ নিয়ে গর্ভজাত শিশুর চিকিৎসায় মাতাকে ঔষধ সেবন করানো অধিক যুক্তিযুক্ত। এন্টিসোরিক প্রফিলেকটিক চিকিৎসায় শিশুর যাবতীয় দোষ সংশোধন হবে এ কথা বলা যায় না, তবে অনেক খানি নির্দোষ হবে - একথা বলা যায়।

সালফারের বিষমুক্ত শিশু পাতলা ছিপছিপে, লম্বা,কুঁজো, কুৎসিত, নোংরা ও অলস। এক স্থানে অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকতে পারে না। কোথাও কিছুক্ষণ অবস্থান করতে হলে বসে অপেক্ষা করে বা আলোচনার প্রয়োজন হলে বসে আলোচনা করে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলাপ বা অপেক্ষা করা সালফারের স্বভাব নয়। সে খুব উচ্ছৃঙ্খল ও নীতিহীন। যেখানে লাইন দিয়ে কোন জিনিস সংগ্রহ করতে হয় ( টিকিট, স্লীপ,আটা, ময়দা বা অন্য কিছু) সেখানে সে বারবার লাইন ভাঙ্গে বা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। মোট কথা সুশৃঙ্খল ভাবে থাকা তার স্বভাব নয়, তাতে তার ভালো লাগে না। সোরার প্রধান লক্ষণ চঞ্চলতা , সেই জন্য সে এই চরিত্র তৈরি করে। একটা না একটা উচ্ছৃঙ্খলতা তার ভিতরে প্রকাশ পাবেই। তার শরীর যেমন নোংরা - মনও তেমন নোংরা। অন্যের অসুবিধা হয় হোক, তাতে তার সে দিকে খেয়াল থাকে না। নিজের কাজ উদ্ধার হলেই হলো,তাই সে বারবার নিয়মনীতি ভাঙ্গে বা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। ফলে অনর্থক সময় নষ্ট হয় । অন্যের কাজেও ব্যাঘাত ঘটায় - নিজেও কুকার্য্য করতে পারে না। তাতে মনে হয় সে যেমন অন্যের অনিষ্ট চিন্তা করে করে সেই মতো কাজ করে, তেমনই হিংসাপরায়ণও বটে। এই বিষযুক্ত দেহের সমস্ত ছিদ্র পথগুলো লাল বর্ণের বা লালাভ। মলদ্বার,যৌনিদার, নাসিকাদ্বার, কর্ণদ্বার, ঠোঁট সবই লাল বর্ণের । এমনকি তার চর্মপীড়ার উদ্ভেদও লাল। চর্মপীড়া বিছনার গরমে বৃদ্ধি পায়। সমস্ত স্রাব ঝাঁঝালো বা ক্ষতকারী। মাঝে মাঝে কোষ্ঠ্যবদ্ধতা আবার মাঝে মাঝে উদরাময় দেখা যায়। উদরাময় ঘুম থেকে জাগার সাথে সাথে অতিপ্রত্যুসে আরম্ভ হয়ে সকাল ১০/১১ টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। উদরে শূন্যতা ও পূর্ণতা উভয় বিদ অনুভূতি থাকে। সকাল দশটায় শূন্যতা অনুভূতি অনুভূত হয় - তাই ঐ সময় এর শিশু না খেয়ে থাকতে পারে না। হাত পায়ে জালা থাকে পানি ঢাললে উপশম, ঠান্ডা বাতাসে আরাম বোধ করে। মাথার চাদিতে জালা থাকে,মাথা ঘামে। দুধ পছন্দ করে না, কারণ দুধ সহ্য হয় না, দুধ পানে উদরাময় হয় বা বমি করে। বমি টক গন্ধযুক্ত,ঘুম খুব পাতলা, সামান্য কারণেই ঘুম ভেঙ্গে যায়,বগলেও ঘাম হয়।

আগেই আলোচনা হয়েছে সালফারের চর্মপীড়া উৎপাদন করার প্রবৃত্তি অসাধারণ। তার চর্মপীড়ায় অসহ্য চুলকানি এবং চুলকানির পর জালা করে। পানি লাগলে ও বিছনার গরমে বৃদ্ধি পায়। তার চর্মপীড়া চাপা পড়লে উদরাময় দেখা দেয়। তাছাড়াও যে কোন রোগেই আক্রান্ত হওয়ার একটা প্রবনতা শরীরে জন্ম নেয়। শরীরের প্রতিক্রিয়া শক্তি নষ্ট হয়, ফলে মাঝে মাঝেই নানা ধরনের নতুন রোগে আক্রান্ত হয় এবং রোগ সহজে ভালো হয় না। শিশুকালেই বিষটি নষ্ট করতে পারলে সে ভয় আর থাকে না। একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে সালফারের স্রাব ঝাঁঝালো এবং স্রাব লেগে স্থানটি হেজে যায় বা ক্ষত পূর্ণ হয় - কিন্তু শিশুদের শুধু মলদ্বার হেজে যায়,অন্য কোথাও হাজে না।

তুলনা ঃ সালফার মনে ও শরীরে উভয় ভাবে নোংরা, সোরিনাম শারীরিকভাবে নোংরা, কিন্তু মন পরিচ্ছন্নতা চায়। গরমকাতর ঔষধের মধ্যে গোসল পছন্দ করে না একমাত্র সালফারের বিশেষত্ব। সকাল দশটায় ক্ষুধা অনুভব করে মেডো,ন্যাট্রাম মিউর ও জিঙ্কাম মেট । মেডোর বংশে গনোরিয়ার ইতিহাস, সালফারের শরীরের চর্মরোগের ইতিহাস,ন্যাট্রাম মিউরের লবণাক্ত খাদ্যের ইচ্ছা, সালফারের থাকে না। জিঙ্কামের পা নাচানি সালফারের নেই। দুপুরে রোগ বৃদ্ধি আর্সেনিকে আছে, কিন্তু সে শীতকাতর। চর্মরোগের প্রবনতা সোরিনাম,ব্যাসিলিনাম ও গ্ৰাফাইটিসে আছে। সোরিনামের দুর্গন্ধ, সালফারের থাকে না। ব্যাসিলিনামের বংশে ক্ষয়রোগের দরকার। সালফারের নোংরামি ও গোসলে অনীহা। গ্ৰাফাইটিস মোটা সোটা, সালফার শীর্ণ। পাতলা ছিপছিপে গঠন ম্যারাসমাস তৈরি করে প্রায় সব ঔষধেই আছে, তবে তাদের কারো গরমকাতরতার সাথে গোসলে অনীহা নেই। অলসতা এসিড পিক্রক,এসিড ফস,কেলি কার্ব,ইত্যাদি ঔষধে আছে, তবে তাদের চর্মরোগ হওয়ার প্রবণতা কম। দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না টিউবার বোভিতে আছে, কিন্তু চর্মরোগের প্রবনতা নেই। ঠোঁট লাল ক্রিয়োজোটে আছে, তবে তার এক অঙ্গই, কিন্তু সালফারের সমস্ত ছিদ্র পথ লাল। সকালের উদরাময় পডো,নাকস ভোম,ন্যাট্রম সালফ সহ বহু ঔষধে আছে, কিন্তু তারা কেউ নোংরা নয়। হাত পায়ে জালা পালস,মেডো,সানিকিউলা আর্স,ফস ইত্যাদি ঔষধে আছে কিন্তু তারা কেউ নোংরামি পছন্দ করে না। দুধ অপছন্দ ক্যাল কার্বে আছে, কিন্তু সে মোটা সোটা, সালফার শীর্ণ। ঘুম কম সোরিনামে আছে কিন্তু সে দুর্গন্ধযুক্ত।

রোগারোগ্যের সাধারণ নিয়ম হলো ভিতর থেকে বাইরে। সালফার এই নিয়ম বজায় রাখতে অতীব পারদর্শী । প্রমাণ স্বরূপ একটি -
রোগীতত্বঃ ১৯৬০ সালের ৩ই সেপ্টেম্বর। গ্ৰামের টুকু মিয়া নামক এক ব্যক্তি রাস্তার পাশে বসে আছে খুব সঙ্গীন অবস্থায় একমাত্র ছেলেকে কোলে নিয়ে। আমি নিকটে দিয়ে যেতেই ছেলেটিকে দেখিয়ে খুব বিষন্নভাবে বললো দেখুন তো ডাক্তার সাহেব এই ছেলেকে কিছু করতে পারেন কি না। প্রায় এক মাস যাবত উদরাময়,কত ঔষধ খাওয়ানো হলো কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমি লক্ষণাবলী নিয়ে মার্ক সল ৩ শক্তি দিনে ২ মাত্রা করে ৬ মাত্রা ঔষধ দিলাম, কিন্তু কিছুই হলো না। ৪র্থ দিনে ছেলকে আবার দেখি,ঐ দিন তার গায়ে জামা ছিল না। দেখলাম পুরো শরীর মানচিত্রের মতো চিত্রাঙ্কিত। জিজ্ঞেস করলাম এগুলা কি? উত্তরে টুকু মিয়া বললো - এগুলো চুলকানি হয়ে ছিল ২ মাস আগে।
চলবে।

ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম ।
চেম্বার ঃ সিফাত হোমিও হল, শালবন মিস্ত্রিপাড়া, হারাগাছ রোড, রংপুর। ০১৫৭৫৩৬০৬৮৮.

Address

Road No 4/1 , Salban Mistrepata, Hargach Road
Rangpur
5400

Telephone

+8801575360688

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.md.saiful Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.md.saiful Islam:

Share

Category