05/08/2026
কখনো কখনো জিন, যাদু, বদনজর কিংবা হিংসার প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন কষ্টের মধ্যে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মনে হয়, এই কষ্টের হয়তো কোনো শেষ নেই। চারপাশের মানুষও হয়তো তার কষ্ট বুঝতে পারে না। একাকীত্ব, ভয়, দুশ্চিন্তা ও হতাশা তখন হৃদয়কে আরও দুর্বল করে দেয়।
কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার কষ্ট যত দীর্ঘই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত।
একাকী কোনো সময় একটু থেমে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর কথা চিন্তা করুন। আপনি এখনো শ্বাস নিতে পারছেন, খাবার খেতে পারছেন, আল্লাহকে ডাকতে পারছেন, কুরআন পড়তে পারছেন, তাওবা করতে পারছেন এবং নতুন করে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন। হয়তো সবকিছু আপনার মনের মতো নেই, কিন্তু আল্লাহ এখনো আপনাকে অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে রেখেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন দুনিয়ার সফর শেষ করে চলে গেলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম কতটা গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিলেন, তা কল্পনা করুন। যাঁর সান্নিধ্যে তারা ঈমানের প্রশান্তি পেতেন, যাঁর কাছে নিজেদের সব সমস্যা নিয়ে ছুটে যেতেন, যাঁকে তারা নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন, তিনি হঠাৎ তাদের মাঝে আর নেই।
সেদিনও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম ভেঙে পড়েও থেমে যাননি। তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছেন, দ্বীনের পথে অটল থেকেছেন এবং ধৈর্য ও ঈমানের মাধ্যমে সেই কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।” (সূরা আলাম নাশরাহ: ৫-৬)
আপনার বর্তমান কষ্টই আপনার পুরো জীবনের গল্প নয়। আজ যে কষ্ট আপনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে, আল্লাহ চাইলে একদিন সেটিই আপনার ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসাকে আরও শক্তিশালী করে দিতে পারে।
আপনি যদি জিন, যাদু, বদনজর বা হিংসার কষ্টে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে ভয় ও হতাশার কাছে নিজেকে ছেড়ে দেবেন না। নিয়মিত সালাত আদায় করুন, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ান, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন যিকির করুন এবং সঠিক নিয়মে রুকইয়াহ চালিয়ে যান। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শও গ্রহণ করুন।
মনে রাখবেন, শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
রুকইয়াহ হলো আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনার একটি মাধ্যম। আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দার জন্য কল্যাণের ফয়সালা করেন, তখন কোনো জিন, যাদু, বদনজর বা হিংসা তার ক্ষতি করতে পারে না, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া।
তাই হতাশ হবেন না।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।
দোয়া ছাড়বেন না।
আমল ছাড়বেন না।
রুকইয়াহর পথ থেকে সরে যাবেন না।
ধৈর্য ধরে আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
হয়তো আপনার শিফা খুব কাছেই। হয়তো এই কষ্টের পরেই আল্লাহ আপনার জন্য এমন প্রশান্তি রেখেছেন, যা আজ আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। আপনার রব আপনাকে দেখছেন, আপনার কষ্ট জানেন এবং আপনার প্রতিটি অশ্রুর হিসাব রাখেন।
“আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই।” -(সূরা বাকারা: ১৮৬)