01/07/2026
প্রতিবাদলিপি :
আর কত রক্ত ঝরলে নিরাপত্তা মিলবে?
আজ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেঝেতে যে রক্ত ঝরেছে, তা শুধু কয়েকজন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীর নয়—এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার লজ্জা, প্রশাসনিক ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
যারা দিন-রাত মানুষের জীবন বাঁচানোর শপথ নিয়ে হাসপাতালে দাঁড়ায়, আজ তারাই রক্তাক্ত। এই দৃশ্য কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি জঘন্য অপরাধ।
একজন ওয়ার্ড বয় কীভাবে এমন সাহস পায় যে, ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়?
এই সাহস কি হঠাৎ এসেছে, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক নীরবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে?
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—
স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই "সাধারণ ঘটনা" নয়। এটি একটি অপরাধ, এবং অপরাধীর একমাত্র স্থান আইনের কাঠগড়া।
আমাদের ৫ দফা দাবি
🔴 ১. হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 ২. হামলার নেপথ্যে কারও প্রশ্রয়, অবহেলা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
🔴 ৩. হাসপাতালের প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জিরো-টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে।
🔴 ৪. আহত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
🔴 ৫. তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত পদক্ষেপ প্রকাশ্যে জানিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আজ যদি এই ঘটনার বিচার না হয়, তাহলে আগামীকাল আবার কোনো নার্স, কোনো চিকিৎসক কিংবা কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর রক্তে হাসপাতালের মেঝে রঞ্জিত হবে।
আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না।
আমরা আর কোনো দুঃখপ্রকাশ চাই না।
আমরা বিচার চাই—দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
সেবাদানকারীর হাতে রক্ত নয়, সম্মান মানায়।
হাসপাতাল যুদ্ধক্ষেত্র নয়—মানবতার শেষ আশ্রয়।
নীরবতা আজ অপরাধের সহযোগী। তাই আজই প্রতিবাদ করুন। ন্যায়বিচারের দাবিতে কণ্ঠ তুলুন।
#স্ট্যান্ডাবিথনার্সাস