06/06/2025
শয়তানের বয়ান
আল্লাহ তায়ালার জন্য মানুষের সৃষ্টি, ইবাদত মানে ভক্তি সালাম করে প্রসাদ খাওয়া নয়। আবদ (দাস) থেকে আবদিয়াত। মালিকের নিজস্ব এজেন্ডা এক্জিকিউট বা বাস্তবায়ন করার জন্য তাঁর নির্দেশিত করমকান্ড যথাযতভাবে সম্পন্ন করাই দাসের জন্য ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা রহমের দরিয়া--রহীম। রহমকারীদের সর্বশ্রেরষ্ঠ—রহমান। আল্লাহ রহমানুর রাহীম।
الرحمان – علم القران- خلق الانسان- علمه البيان
(রাহমান আল্লাহ কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাকে শিক্ষা দিয়েছেন বয়ান।)
হা অক্ষর দুটি --একটি সাধারন উচ্চারনের গোল হা, অন্যটি শক্তভাবে গলা বা হলক্বের গোড়া থেকে উচ্চারিত 'হা। বাঙালীরা যেভাবে রহমান-রহীম উচ্চারন করে তাতে অর্থ বিগড়ে যায়। সেটা এমন যে যার নিজের কোন ইচ্ছা বা কর্মক্ষমতা নাই –নির্বোধ, প্রতিবন্ধী। (পৃষ্ঠা ৪৩৯, Steingass 1884). jim ha Kha তিনটি অক্ষর হয় নুক্তা নীচে উপরে করে। খায়িন অর্থ খেয়ানতকারী। তুর্কীরা বলে হায়িন, খালিলকে হালিল আর খালিদকে হালিল, খাতুনকে হাতুন। তাতে দেখা যায় দুটি অক্ষর একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ লিখতে জিম ব্যবহার করা হয়, তাতে বানজালা না হয়ে বাংলাই সঠিক উচ্চারন।
রহমান আল্লাহ কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
রাহমান আল্লাহ কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাকে শিক্ষা দিয়েছেন বয়ান। বয়ান (মনের ভাব প্রকাশের জন্য) যার অর্থ হয় কথামালা। কোরআন শিখয়েছেন তাকে যে এর উপযুক্ত ছিল। ঐই কোরআন সেই আলো যা পথ দেখায়। সেই পথ গ্রহন করে শিক্ষা নিতে হবে কোরআনের মত বয়ান, বক্তব্য, নিউজ, কথামালা তৈরী করার জন্য।
তবে মানুষের তৈরী বয়ান আর কোরআনের গুরুতর ভিন্নতা বা পার্থক্য লক্ষনীয়। আল্লাহর আলোর ভিতর থেকে যে কোরআন আসলো তাতে আয়াতে মুহকামাত ও আয়াতে মুতাশাবিহাত (দুর্বোধ্য, অবোধ্য, ভিন্ন ঈশারার) আয়াত বিদ্যামান। আয়াতে মুহকামাত হুকুম বা বিধান সম্বলিত আয়াত যাতে কোন ঘোরপ্যাঁচ বা বক্রতা ছাড়াই করনীয় ও বর্জনীয় বিষয় স্পষ্ট। আর আয়াতে মুতাশাবিহাত শুবহুন বা সন্দেহ বিশিষ্ট আয়াত যার অর্থ আল্লাহ জানেন। এসব নিয়ে বিবাদ না করে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে সবটুকু নিঃসন্দেহে আল্লাহর কালাম হিসাবে বিশ্বাস বাঞ্ছনীয়।
এখানে মানুষের সৃষ্টির পূর্বেই কোরআন শিক্ষা দেবার কথা বলা হয়েছে। সেটাকে আয়াতে মুতাশাবিহাত বলতে চাই এজন্যে যে এখানে কাকে তা শেখঅনো হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়নি। সেই শিক্ষার্থী কারা এর বয়ান বা ব্যাখ্যা কি হতে পারে? হতে পারে যাদেরকে মানুষের আগেই সৃষটি করা হয়েছিল। তারা আল্লাহর নূর, ফেরেশতা, জিন বিশ্বজগতের অন্য সবকিছু। কোরআন শিখিয়ে তাদেরকে মানুষ সৃষ্টির ঘোষণা দেয়া হয় যাতে করে এই কোরআনকে বাস্তব জীবনে প্রাকটিস করার জন্য যারা নিয়োজিত হবে, যারা কোরআনকে নিজের বয়ানে পরিণত করবে তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল নিয়ামত হাজির করবেন। এখানে মানুষের বয়ানে কোরআন আসবে এ বিষয়টির আকাংখা স্পষ্ট। তার মানে মানুষের নিয়ত, কথা, কাজ সবকিছু কোরআন থেকে আসুক ও কোরআন অনুযায়ী হোক এটাই রাহমান চান। মানুষের জীবনে কোরআন প্রতিষ্ঠিত হোক এটা আল্লাহর নির্দেশিত ও কাম্য। যারা এ নির্দেশিত কর্ম করবেন তারা অদৃশ্য- আল গায়েব আল্াহর প্রতি বিশ্বাস রেখে, তাঁকে ঋয় করে পথ নির্দেশনা চাইবেন যা রয়েছে কোরআনের ভুমিকা-মুখবন্ধ সূরা আল ফাতিহায়।
সেই প্রার্থনার উত্তরে রাহমানের বয়ান আসলো পথ দেখাতে। আল বায়ান সেই আল কোরআন যাকে মানব সৃষ্টির বহু আগে সবাইকে শিক্ষা দিয়ে লওহে মাহফুজে রেকর্ড করে রাখঅ হয়েছিল। بل هو قران مجيد- في لوح محفوظ
বাল হুয়া কোরআনুম মাজীদুন ফি লাওহিম মাহফুজ।
এ থেকে কোরআন গোপনীয়ভাবে না বরং সুরক্ষিত রাখঅ হয়েছিল যাতে কারো কোন হেরফের করার সুযোগ রহিত করা হয়েছে। এটা জগৎ সৃষ্টির undeletable program, record, rules এবং যা দ্বারা কিয়ামতের দিন মানুষের কর্ম বা আমলনামাকে তুলনা বা পরীক্ষা করা হবে। মানুষের আমলনামার সম্পূর্ণ বা আংশিক কতটা কোরআন অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে তার বিচার হবে।
বর্তমানের উন্নত প্রোগ্রামে এ আই বা চ্যাট জিপিটি যেভাবে নিরপেক্ষ বিচার করতে পারে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই অনেকটা সেরকমভাবে এ বিচার ব্যাবস্থার টুলনা করা যায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে আল্লাহর জ্ঞান ও বিচার ক্ষমতার সাথে এ আই বা চ্যাট-জিপিটি তুলান করবার মত কিছই নয়। শুধুমাত্র একটা ধারণা করা যায় মাত্র।
মানুষ কি বয়ান তৈরী করে? করে, তবে তা মিথ্যা ও মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য। হিন্দু বৌদ্ধ-ইহুদী খৃষ্টান সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর নিকট তাদের ও তাদের পূর্ব-পুরুষদের তৈরী বয়ান বিদ্যমান। সেগুলি কতটা সত্য, যুক্তি-সংগত ও কোরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তা দেখঅ যাক। প্রায় সব ধর্মেই সত্য কথা বলার নির্দেশ আছ। কিন্তু বাস্তবে তারা যা বে, বিশ্বাস করে, আমল করে তা কি সত্য বা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত? না। হলেও তা অতি সামান্য। তারা নিজেদের বা পূর্বপুরুষদের বানানো বানোয়াট বয়ান বিশ্বাস ও পালন করতে অভ্যস্ত। বর্তমান যুগে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে বেশীদূর যাওয়া বা বেশীক্ষণ লাগে না। তা সত্বেও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কেন এই অসংগতি ও দৈন্য? এর কারণ তাদের মধ্যেকার হাকিম বা বিজ্ঞরা সত্য়কে ঠেকানোর জন্য সত্য গোপন করে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার জাল, মিথ্যা বয়ান ও কনটেন্ঠ তৈরী করে মিডিয়া, ইন্টারনেট ইুটিউবে ছড়াচ্ছে। এগুলি ওসওয়াসা। এগুলি তৈরী করে মানুষের বা নাছের এক খান্নাছ প্রজাতি যাদের সাথে আছে জীনদের মধ্যেকার মহাশয়তান ইবলিস।
সত্যকে ধামাচাপা দেবার চক্রান্ত আজকের না। এরাও জানে আল্লাহ কি করেন, ইসলাম কি জিনিষ, সত্য কি? কিন্তু মুসলিম জাতিকে ইসলাম থেকে সরিয়ে এনে বাঙ্গালী জনগনকে ভারতের হিন্দুত্ববাদের শিকারে পরিণত করার মত কাজ এরা ইসলামের জন্মের প্রথম প্রহর থেকেই করে আসছে। এদের মার দিলেও দেখবেন এদের এই মহাপাপের জন্য কোন অনুশেচনা নেই। তারা কোন অপকর্মকেই অন্যায় মনে করে না। শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবদের মত তারা ইসলাম ও মুসলিম কোপানোকেই তাদের জীবনের ব্রত বলে মনে করে।
বৃটিশরা ভূগর্ভে এদের জন্য মাদ্রাসা বানিয়েছিল যা সাকসেসফুল হবার পরে এখন পরিত্যাক্ত। কারণ তাদের দেয়া শিক্ষাটাকেই এখন আরব বা মুসলিম জাহান সহি ইসলাম ধরে নিয়েছে। তারা এমন হুজুর মওলানা তৈরী করতো যারা নামাজ কালামে পারদর্শী, ওয়াজে ইমাম গাজ্জালী (একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান ছিলেন) এবং কাজে কর্মে সৌদী (এরাও ইহুদী)। এরাই বানিয়েছে বাহাই, আহলে হাদীস, ওয়াহাবী, কাদিয়ানী, তাবলীগ প্রভৃতি কোরআন বিমুখ ও জেহাদ বিরোধী ফেরকা। তাদের তৈরী কোলকাতা আলিয়া বা ঢাকা আলিয়ার মৌলানা-মুফতি-ফকীহরা বের হয়েছিল ইসলাম ও মুসলিম জাতিকে ভিতরে থেকে ঘুনপোকা ও উইপোকা হয়ে খেয়ে শেষ করার জন্য। এরাই শত শত বৎসর ধরে মুসলিম জাতিকে মিথ্যা বয়ান দিয়ে বিভ্ড়ান্ত করে আসছে।
তারাই শিখিয়েছে শিয়ারা কাফের। আজ যখন গাজাবাসী মরছে তখন হুথি-হিজবুল্লাহ-শিয়া ইরান ছাড়া মুসলমানদের পাশে কেউ নেই। বলি হে আরব বা মুসলিম জাহানের সুন্নী নামের মুসলমানেরা, তোমরা কি কোরআন হাদীস থেকে কাফিরদের সহায়তা করা শিখেছ? কই পেলে এই বয়ান? নাকি সেই বয়ান গলছো যা তৈরী করে দিয়েছে আমেরিকা বৃটিশ-ইসরাইলের খান্নাছেরা? তোমাদের আলখাল্লা ও এরাবিয়ান পাগড়ীর নীচে কি খঅন্নাছেরা সেবাদান করছে? এই বয়ান তো সেই আল্লাহর বয়ান নয়। তোমরা কি তারা নও যাদের নিকট সর্বাগ্রে এসেছিল আল্লাহর কোরআন যা রাহমান আল্লাহ সেই মদীনা -মক্কার রাজা হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া আলেহী ওয়া সাল্লামের নিকট প্রকাশ করেছিলেন? আল্লাহ কাদেরকে আগে কোরআন শিখিয়েছিলেন? তোমাদেরকে নয় কি? তারপর সেই কোরআন শিখে কোন বয়ান তোমরা প্রচার করছ?
পবিত্র মক্কা ও মদীনার তথাকথিত খাদেম-হেফাজতকারীরা ইসলামের কেন্দ্রে থাকার সুবাদে ইসলামের নামে, কোরআনের নামে একের পর এক বিভ্রান্তিকর বয়ান প্রচার করেআসছে। এরা যতদিন আছে বা থাকবে ততদিন বয়ান কোরআন থেকে না--আমেরিকা, ইসরাইলের ও বৃটিশ ইহুদী হিন্দু-খৃষ্টান-বৌদ্ধদের নিকট থেকে আসবে, এরা মুসলিমদের তাই গেলাবে যা খান্নাছেরা তৈরী করে।
আমরা জানব কোরআন। আমরা বয়ান নিব কোরআনের কাছ থেকে। জগৎ জানুক তোমরা কিভাবে খান্নাছের ওসওয়াসা দিয়ে মুসলিম জাতিকে বিভ্রানত করে। ও ইসলামকে ধ্বংস করে যাচ্ছ। কথা একটাই – কোরআন শিখে সেটাই বয়ানে পরিণত করাই হলো মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও মানুষের উদ্দিষ্ট কাজ। কারণ, ইনছান মানে মানুষ, কেবল মুসলমান না।সকল ধর্মের সকল জাতির সবাইকেই সত্য বলতে হবে, ইহাই বয়ান। কারণ আল্লাহ, বলেন, ভগবান বলেন, ঈশ্বর, উপরঅলা, গড, খোদা, জিহোবা, জিউস যাই বলেন তিনিই শিখিয়েছেন যা বলার তা সত্য বলো- Always speak the truth and never tell a lie.