20/09/2026
Central Retinal Vein Occlusion (CRVO) বা চোখের সেন্ট্রাল রেটিনাল শিরা ব্লক হওয়া একটি গুরুতর নেত্ররোগ, যাকে সাধারণ ভাষায় "চোখের স্ট্রোক" (Eye Stroke)-ও বলা হয়।
চোখের রেটিনা বা আলোকসংবেদী পর্দা থেকে ব্যবহৃত রক্ত হৃদপিণ্ডে ফেরত নিয়ে যাওয়ার প্রধান নালিকাটির নাম সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন। যখন এই রক্তনালীতে কোনো রক্তজমাট (Thrombus) বা বাধা তৈরি হয়, তখন রেটিনা থেকে রক্ত ঠিকমতো বের হতে পারে না। ফলে রেটিনার ভেতরের প্রেশার বেড়ে রক্ত এবং তরল চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।প্রধান লক্ষণসমূহ (Symptoms)
CRVO-র সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া।
হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া: সাধারণত এক চোখে এই সমস্যা দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দেখতে সমস্যা হতে পারে।
ঝাপসা দৃষ্টি (Blurry Vision): ধীরে ধীরে বা এক নিমেষে পুরো চোখের সামনে ধোঁয়াশা নেমে আসা।
চোখের সামনে কালো দাগ (Floaters): চোখের সামনে ছোপ ছোপ কালো ছায়া ভাসতে থাকা।
দৃষ্টি সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়া: জটিল আকার ধারণ করলে চোখে একেবারেই না দেখা।
২. কেন হয় বা ঝুঁকির কারণ (Risk Factors)
সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। প্রধান কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:ঝুঁকির ক্ষেত্রসম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা
সাধারণ সিস্টেমিক রোগউচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), ডায়াবেটিস (Diabetes), রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল (Atherosclerosis)
চোখের নিজস্ব রোগগ্লুকোমা (Glaucoma/IOP বৃদ্ধি), চোখের রেটিনার অন্যান্য ইনফেকশন
রক্তসংক্রান্ত জটিলতারক্তে অতিরিক্ত থ্রম্বোসিস বা জমাট বাঁধার প্রবণতা (Hypercoagulability), ভাস্কুলাইটিস
জীবনযাত্রাধূমপান, স্থূলতা (Obesity), শারীরিক ব্যায়ামের অভাব. CRVO-র প্রকারভেদ
CRVO মূলত দুই প্রকারের হয়ে থাকে:
Non-Ischemic CRVO (কম মারাত্মক):
এটি প্রায় ৭০-৮০% রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়।
রেটিনায় রক্ত সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
চিকিৎসা করালে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
Ischemic CRVO (অত্যন্ত মারাত্মক):
রেটিনার কৈশিক নালীগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং রেটিনায় অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়।
চোখের ভেতরে ক্ষতিকারক নতুন রক্তনালী (Neovascularization) গজাতে শুরু করে, যা থেকে মারাত্মক গ্লুকোমা (Neovascular Glaucoma) হতে পারে।
৪. পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ডায়াগনোসিস
চোখের ডাক্তার (Retina Specialist) রেটিনা পরীক্ষা করে এটি শনাক্ত করেন:
OCT (Optical Coherence Tomography): রেটিনার ভেতরের ফোলা বা মেকুলার ইডিমা (Macular Edema) কতটা গভীর তা মাপার জন্য।
FFA (Fundus Fluorescein Angiography): রগে বিশেষ রঞ্জক (Dye) ইনজেক্ট করে রেটিনার রক্তনালীর ব্লকেজ ও রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা।
Fundoscopy: চোখের ড্রপ দিয়ে মণি বড় করে রেটিনা সরাসরি পরীক্ষা করা।
৫. আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা (Treatment)
ব্লকেজ সরাসরি দূর করার উপায় না থাকলেও, এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতি রোধে কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে:
Anti-VEGF ইনজেকশন: (যেমন: Lucentis, Avastin, Eylea) এটি রেটিনার ফোলা কমায় এবং ক্ষতিকর নতুন রক্তনালী গজাতে বাধা দেয়। চোখের ভেতরে নি নির্দিষ্ট সময় পরপর দেওয়া হয়।
স্টেরয়েড ইনজেকশন (Steroid Implants): মেকুলার ফোলা ভাব দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডেক্সামেথাসন ইমপ্লান্ট ব্যবহার করা হয়।
লেজার থেরাপি (PRP Laser): Ischemic CRVO-র ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষতিকর রক্তনালী পোড়াতে এবং গ্লুকোমা প্রতিরোধে লেজার ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা: CRVO শনাক্ত হলে কেবল চোখের চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রোগীর রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের পূর্ণাঙ্গ চেকআপ করানো জরুরি, কারণ এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে অপর চোখেও একই সমস্যা হতে পারে।