27/04/2026
بِسْــــــــمِ اٌللَّهِ اٌلرَّحْمَنِ اٌلرَّحِيْـــــــــمِ
إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَـٰٓٮِٕڪَتَهُ ۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِىِّۚ يَـٰٓأَيُّہَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ┈┈••✿•◆❀◆•✿••┈┈
ওলি আউলিয়াগণ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। এক শ্রেণির নাম কামেল এবং অপর শ্রেণির নাম কামেল ও মোকাম্মেল।
কামেল শ্রেণি নিজে আল্লাহর ওলি। কিন্তু অপরকে আল্লাহর ওলি বানাইতে পারেন না।
কিন্তু যাঁহারা কামেল ও মোকাম্মেল, তাহাঁরা নিজেরাও আল্লাহ্র ﷻ ওলি এবং তাহাঁদের সংসর্গ লাভকারীদেরকেও তাহাঁরা আল্লাহ্পাকের ওলি বানাইতে পারেন।
☞ হালাতে মাশায়েখে নখশবন্দিয়া মোজাদ্দেদিয়া (রাঃ) ২য় খন্ড, ১২৮ পৃষ্ঠা।
কামেল পীর সাহেবের নিকট কেন যাওয়া দরকার???
সূফিগণের তরিকায় চললে ফায়দা কি??
*** সূফিগণের তরিকায় চলিলে ইলেম ও আমলের মধ্যে যে ফায়দা লাভ হয়, তা এই যে, বিশ্বাস সম্বন্ধিয় ও অন্যান্য ইলেম যা দলিল কতৃক প্রমানিত ছিলো, তা কাশফ বা আত্মিক বিকাশ দ্বারা উপলব্ধি হয় এবং সমুদয় আমল সহজ সাধ্য ও সরল হয়ে যায়। যেন সে আমল করতে কোনো রকম কস্ট বোধ না করে। শয়তানের দিক থেকে যে অলসতা ইত্তাদি আসিত তাহাও দূর হয়ে যায়।
বিশাল সম্পদসম জানিবে ইহায়
জানিনা কাহাকে ইহা দিবেন খোদায়।।
☞ মকতুবাত শরিফ ১ম খন্ড ১ম ভাগ, ১১৭ পৃষ্ঠা।
কেনো ভন্ড-অপূর্ণ পীরের কাছে যাওয়া যাবে না? কামেল পীরের কাছে গেলে কোনো উপকার পাওয়া যাবে কি?
❝ফায়দা আদান প্রদানের জন্য উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক থাকা আবশ্যক। প্রারম্ভে তালেব (শিক্ষার্থী) যখন মনের পুর্ণ ইতরতা ও কালিমা হেতু আল্লাহ্ তায়ালার সহিত সম্পর্ক রহিত, তখন যিনি উভয়ের সাথে সম্পর্ক রাখেন এমন এক ব্যাক্তি ব্যাতিত উপায় নাই এবং তিনিই কামেল পীর।
আল্লাহ্ অন্বেষণের প্রধান প্রতিবন্ধক অপূর্ণ পীরের নিকট গমন করা। যে ব্যক্তি সুলুক ও জযবা দ্বারা কাজ পূর্ণ না করেই পীরের আসনে বসেছেন, তালেবগণের জন্য তাহার সংসর্গ বিষাক্ত এবং তাহার দিকে ধাবমান হওয়া জীবন নাশক ব্যধি। এমনকি তার সংসর্গে তালেবগনের উচ্চমনঃবৃত্তি ও যোগ্যতা বিনষ্ট হয়ে যায়, যেন শৃংগ হইতে পাতালে পতিত হয়। যেরুপ ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি অজ্ঞ চিকিৎসক এর চিকিৎসা গ্রহন করিলে তার রোগ বৃদ্ধি হয়, বরং তার রোগ নাশকতা শক্তি বিনষ্ট হইয়া যায়। যদিও উহা প্রথমে কিঞ্চিৎ উপকার দর্শায় কিন্তু প্রকৃত পক্ষে উহা অনিষ্টকারী।
উক্ত ব্যাধিগ্রস্থ ব্যক্তি যখন বিজ্ঞ চিকিৎসক এর নিকটে গমন করে, তখন সে প্রথমে রেচকাদি ঔষধ দ্বারা পূর্বের ঔষধের দুষক্রিয়া নষ্ট করতে চেষ্টা করে, তারপর ব্যধির উপযুক্ত ঔষধ প্রদান করে।
পীরের (শিক্ষক) সংসর্গ এর উপরই এই তরিকার ( নখশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার সালেকের উন্নতি ) সম্পূর্ন নির্ভর করে।❞
☞ মকতুবাত শরিফ ১ম খন্ড ১ম ভাগ, ১২০ পৃষ্ঠা।
পীর কে সিজদা করা কঠোর ভাবে নিষেধঃ
হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহঃ) শায়েখ নেজাম থানেশ্বরী (রহঃ) এর নিকট চিঠিতে লিখেছেন, ❝বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তির বাচনিক শুনিতে পাইলাম যে, আপনার খলিফাবৃন্দের মধ্যে অনেক কে তাহার মুরিদ গন সিজদা করিয়া থাকে। জমিন বুছি করিয়াও যথেষ্ট মনে করে না। এই কাজের জঘন্যতা দিবা - দ্বিপ্রহরের ন্যায় সমুজ্জল। তাহাদিগকে বিশেষ তাগিদ করিয়া নিষেধ করিবেন। সকলকেই ইহা বর্জন করা উচিত। বিশেষতঃ যাহারা অগ্রগামী তাহাদের অবশ্য পরিত্যাজ্য, অন্যথায় তাহাদের অনুগামীগন অনুকরন করিবে ও বিপদ গ্রস্ত হইবে।❞
☞ মকতুবাত শরিফ, ১ম খন্ড ১ম ভাগ, ৫৯ পৃষ্ঠা
পীর বর্তমানে অন্য পীরের নিকট যাওয়া যায় কি না?
হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহঃ) বলেছেন,
খোদা প্রাপ্তিই সালেকের উদ্দেশ্য। পীর আল্লাহ্ কে পাওয়ার পথে অসিলা মাত্র।
মুরিদ যদি পীরের হুকুম মান্য করিয়া চলিয়া কোনো ফল না পায়, অপর পক্ষে অন্য পীরের নিকট গিয়া আল্লাহকে পাওয়ার পথে আগাইতে পারে, সবকে অগ্রসর হইতে পারে, এমন হইলে প্রথম পীরের বিনা অনুমতিতেই অন্য পীরের নিকট গিয়া শিক্ষা লাভ করিবে। শিক্ষিত হইবে। প্রথম পীরকে অবহেলা করিবে না।
☞ (মকতুবাত ২য় খন্ড ৬৩ নং পত্র)
পীর শরিয়ত ভ্রষ্ট হইলে কিংবা মারা গেলে, কিংবা বহুদুর হেতু ছবক গ্রহন কঠিন হইলে, নিকটে বসিয়া ফয়েজ লাভ করা এবং তাছাওফের সূক্ষ তত্ত্ব শিক্ষা লাভ করা মুশকিল হইলে, অন্য কামেল পীরের নিকট শিক্ষা লাভ করা সিদ্ধ।
পীর গ্রহন মকছুদ (উদ্দেশ্য) নয়। খোদা প্রাপ্তিই মাকছুদ।
বিনা কারনে কিংবা বিদ্বেষ বশতঃ অন্য পীর গ্রহন সিদ্ধ নয়।
তাছাওয়াফ তত্ত্ব ১৫৫ পৃষ্ঠা
হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রহঃ) এর চিন্তাধারার আলোকে নখশেবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার ফকিরগনের কর্তব্য এবং গুনাবলীঃ
১) সর্বদা অপদস্ত, মুখাপেক্ষী, ভগ্নপ্রায় হইয়া থাকা এবং আল্লাহ্ তায়ালার নিকট কান্দাকাটি করা।
২) দৈনন্দিনের এবাদত ও শরিয়ত প্রতিপালন করা এবং হযরত নবিয়ে করিম (স:) এর অনুসরন করা।
৩) পূন্য লাভার্থে স্বীয় নিয়ত বা উদ্দেশ্য সমুহ দোরস্ত ও অন্তঃকরন বিশুদ্ধ করা ও বাহ্যিক দেহ সমর্পন করা।
৪) সর্বদা নিজের ত্রুটি এবং গুনাহের প্রাবল্য অবলোকন করা। আল্লাহ্ পাকের প্রতিশোধ লওয়ার ভয়ে ভীত হওয়া।
৫) নিজের পূন্য সমুহ অধিক হইলেও তাহাকে সামান্য ধারনা করা।
৬) পাপ সামান্য হইলেও অধিক বলিয়া জানা।
৭) লোক সমাজে প্রচারিত ও গৃহিত হওয়া হইতে সশংকিত ও ভীত থাকা।
☞ মকতুব নং ১৭১, ১ম খন্ড ২য় ভাগ, ৩৯ পৃষ্ঠা
হযরত মুজাদ্দিদ আলফেসানী ( রহঃ) নখশেবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া তরিকার ফকিরগনের কর্তব্য বিষয় নিয়ে একটি চিঠি তে মোল্লা তাহের বদখশীর নিকট লিখেছেন,
❝স্বীয় খলিফাগনকে বিশেষ রুপে তাগিদ করিবেন ও সাবধান করিয়া দিবেন, যেন মুরিদের ধন সম্পদের প্রতি তাহাদের কোনই আকাঙ্ক্ষা না থাকে এবং তাহাদের প্রতি কোন পার্থিব বিষয়ে নির্ভর না থাকে।ইহাতে মুরিদের পথ প্রাপ্তির ব্যাঘাত ও পীরের অনিষ্ট হয়।❞
🏵️اَللّھُمَّ صَلِّ عَلٰی مُحَمَّدٍ وَّ عَلٰی اٰلِ مُحَمَّدٍ وَ بَارِکْ وَسَلِّم🏵️
☞ মকতুবাত নং - ১৭১, ১ম খন্ড ২য় ভাগ, ৪০ পৃষ্ঠা।
সংগৃহীত