15/07/2026
🩹 হঠাৎ পড়ে গিয়ে কবজিতে তীব্র ব্যথা ও বাঁকা ভাব? জেনে নিন 'Colles' Fracture' সম্পর্কে 🩹
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত পা পিছলে বা হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে আমরা নিজেদের বাঁচাতে স্বভাবসুলভভাবেই হাত বাড়িয়ে মাটিতে ভর দেওয়ার চেষ্টা করি। আর ঠিক এই সময়েই কবজির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কবজির এই বিশেষ ধরনের ফ্র্যাকচারকে বলা হয় "Colles' Fracture" (কোলিস ফ্র্যাকচার)।
🍴 এটি দেখতে কেমন হয়? (Dinner Fork Deformity)
এই ফ্র্যাকচারে কবজির ঠিক ওপরে হাতের রেডিয়াস (Radius) নামক হাড়টি ভেঙে পেছনের দিকে সরে যায়। ফলে কবজিটি দেখতে অনেকটা উল্টানো কাটাচামচ বা "Dinner Fork"-এর মতো দেখায়।
👤 কাদের এই ফ্র্যাকচার বেশি হয়?
যেকোনো বয়সী মানুষের এই ফ্র্যাকচার হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে:
বয়স্ক ব্যক্তি: বিশেষ করে যাদের হাড় ক্ষয়ের রোগ বা Osteoporosis রয়েছে।
মেনোপজ-পরবর্তী নারী: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ায় সামান্য আঘাতেই এটি হতে পারে।
তরুণ ও অ্যাথলেট: খেলাধুলা, সাইকেল বা বাইক দুর্ঘটনা অথবা উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে।
⚠️ প্রধান লক্ষণসমূহ কী কী?
পড়ে যাওয়ার পর কবজিতে তীব্র ব্যথা হওয়া।
দ্রুত কবজি ফুলে যাওয়া এবং নীলচে বা কালো হয়ে যাওয়া (Bruising)।
হাত বা কবজি বিকৃত বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।
হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরার শক্তি হারিয়ে ফেলা এবং আঙুল নাড়াতে কষ্ট হওয়া।
🚨 প্রাথমিক অবস্থায় করণীয় (First Aid):
১. স্থির রাখুন: ভাঙা হাতটি বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। একটি স্কার্ফ বা কাপড় দিয়ে হাতটি গলার সাথে ঝুলিয়ে (Sling) রাখতে পারেন।
২. বরফ দিন: ফোলা ও ব্যথা কমাতে কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে আলতো করে ধরুন। সরাসরি বরফ ত্বকে লাগাবেন না।
৩. আংটি বা চুড়ি খুলে ফেলুন: হাত ফুলে যাওয়ার আগেই আঙুলের আংটি বা কবজির চুড়ি খুলে ফেলুন, অন্যথায় রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
৪. দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন: কোনো প্রকার মালিশ বা নিজে টেনে সোজা করার চেষ্টা না করে যত দ্রুত সম্ভব একজন অর্থোপেডিক সার্জনের পরামর্শ নিন।
🩺 চিকিৎসা পদ্ধতি কীভাবে করা হয়?
ব্যথা এবং হাড়ের স্থানচ্যুতির ওপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়:
কনজারভেটিভ চিকিৎসা (প্লাস্টার): হাড় যদি খুব বেশি সরে না যায়, তবে লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া দিয়ে হাত টেনে সোজা করে Plaster Cast (প্লাস্টার) করে দেওয়া হয়। সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ এই প্লাস্টার রাখতে হয়।
সার্জারি (অপারেশন): হাড় যদি অনেক টুকরো হয়ে যায়, জয়েন্টের ভেতরে চলে যায় বা প্লাস্টার দিয়ে সোজা রাখা সম্ভব না হয়, তবে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। এক্ষেত্রে K-wire, Plate ও Screws ব্যবহার করে হাড়টিকে আগের জায়গায় নিখুঁতভাবে বসানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে হাতের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে আসে।
🚫 একটি জরুরি সতর্কবার্তা!
আমাদের দেশে হাত-পা ভাঙলে অনেকেই প্রথমে তথাকথিত কবিরাজ বা হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে জোড়াতালি বা শক্ত মালিশ করান। Colles' Fracture-এর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক! ভুল মালিশ বা অপচিকিৎসার কারণে হাড় বাঁকা হয়ে জোড়া লাগতে পারে (Malunion), যা চিরতরে আপনার হাতের কার্যক্ষমতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে।
হাড়ের যেকোনো চোটে সর্বদা রেজিস্টার্ড অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, সুস্থ ও সচল থাকুন।
📍 পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন:
ডাঃ মোঃ আব্দুর রাউফ
অথ্রোপেডিকস বিশেষজ্ঞ ও সার্জন |
চেম্বার :
মাউন্ট এডোরা হসপিটাল, নয়াসড়ক সিলেট |
(শনি-বৃহস্পতিবার), বিকাল ৩টা-৬টা (মঙ্গলবার বন্ধ)
ডক্টরর্স কর্নার ঢাকাদক্ষিণ
মঙ্গল ও শুক্রবার (বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা)
রবিবার (সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত)
সিরিয়াল : ০১৭৯২-০৫০৮০২।