31/05/2026
গরমে ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতনতা
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নানা ধরনের প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অতিরিক্ত গরম একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা শরীরের পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই গরমের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। পানিশূন্যতার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তৃষ্ণা না পেলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করা উচিত।
গরমের সময় নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমে শারীরিক কার্যকলাপ, খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের কার্যকারিতার পরিবর্তনের কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটরিং করা উচিত।
ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ইনসুলিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অধিক তাপমাত্রায় ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই ইনসুলিন ও অন্যান্য ওষুধ প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী শীতল ও নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।
খাদ্যাভ্যাসে তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা ভালো। তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয় এবং উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
গরমের সময় বাইরে বের হলে হালকা রঙের সুতি কাপড় পরিধান করা, ছাতা ব্যবহার করা এবং প্রখর রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ভারী শারীরিক পরিশ্রম না করাই ভালো। ব্যায়াম করতে হলে সকাল বা সন্ধ্যার অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময় বেছে নেওয়া উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, গরমের সময় ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতনতা ও সতর্কতা জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ ও নিরাপদ থাকা সম্ভব।