04/12/2025
হৃদরোগে অকাল মৃত্যু ও সচেতনতা:
হার্ট অ্যাটাক কি?
হার্টের মাংসপেশিতে রক্ত চলাচল যখন স্বাভাবিক পর্যায়ের চেয়ে কমে যায় তখন বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। রক্ত চলাচল যদি দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে না আসে তখন হার্টের মাংসপেশি মরে যাওয়া শুরু করে। তখন হার্ট অ্যাটাক হয় এবং এটা যেকোনো মানুষকে খুব সহসাই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলে সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি কয়েক মিনিট সময়ের ব্যবধানই কারো জীবন মৃত্যুর ফয়সালা করে দিতে পারে।
হার্টের ব্যথা কোথায় হয়?
হার্টের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে হয়। এর পাশাপাশি ব্যথা বুকের চারপাশে, গলায়, ঘাড়ে, দুই হাতে (বিশেষ করে বাম হাতে), পিঠে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বুকে অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। মনে হবে যেন কিছু একটা বুকে পিঠে চাপ দিয়ে ধরে আছে। এছাড়া শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, প্রচুর ঘাম ঝরতে পারে। বুক ধরফর করতে পারে। মৃত্যুর ভয় মাথায় ঢুকে যেতে পারে।
যেসব কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে:
১. বয়স বাড়ার সাথে সাথে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ৪০ বছরের পর থেকে ঝুঁকি বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে মহিলার থেকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
২.পারিবারিক বা জেনেটিক কারণেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৩. যারা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যারা ধূমপান করেন, বেশি পরিমাণে তেল-চর্বি জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত, কোন ধরনের ব্যায়াম বা শারীরিক কাজের সাথে যুক্ত নন, মদ্যপান করেন তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
৪. যারা হাইপ্রেশার, ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত, ওজন বেশি, খাওয়া দাওয়া বেশি করেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
৫.রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে সেই চর্বি রক্তনালিতে জমে রক্তনালিকে সরু করে দিতে পারে। ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাচার উপায় কি?
১. যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথাকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে করে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না। বুকের ব্যথা হলে দ্রুত রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
২. বয়স ৪০ এর বেশি হলে প্রতি বছর বছরই নূন্যতম কিছু হেলথ চেকআপ করা উচিত।
৩. যাদের হাইপ্রেশার, ডায়াবেটিস আছে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে এবং ফলোআপে থাকতে হবে।
৪. ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সারাজীবনের জন্য পরিহার করতে হবে।
৫. শাক-সবজি, ফলমূল ও শস্য জাতীয় খাবার, সামুদ্রিক মাছ বেশি করে খেতে হবে। লাল মাংস (গরু, খাসি) ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।
৬. পাতে লবণ ও চিনি- মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
৭. প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাটাচলা বা ব্যায়াম করতে হবে।
৮. অত্যধিক মেদ-ভুঁড়ি থাকলে কমিয়ে ফেলতে হবে।
৯. চিন্তামুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করতে হবে
ডা. জাকারিয়া মাসুদ বাপপী
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য -সুপারিশপ্রাপ্ত),
এফসিপিএস ফাইনাল পার্ট (সার্জারী),
এক্স এমএস রেসিডেন্ট (প্লাস্টিক সার্জারি)
চেম্বার: নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মধুপুর