29/03/2026
এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'আকাকি আকাকিয়েভিচ'। তিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের এক অতি সাধারণ ও তুচ্ছ কেরানি। সমাজের চোখে তিনি অদৃশ্য, সহকর্মীদের কাছে উপহাসের পাত্র। মানুষের কাছে আর ১০টা বস্তুর মত সে শুধুই একটা object.
এই মানুষটার জীবনেও একদিন একটা ছোট্ট স্বপ্ন আসে। একটি নতুন ওভারকোটের স্বপ্ন। অনেকদিনের পুরনো পট্টি মারা ওভারকোটটা হঠাৎ একদিন ছিড়ে যায়। রাশিয়ার তীব্র শীত থেকে বাঁচতে তার একটি নতুন ওভারকোটের খুবই দরকার ছিল। এই কোটটি তার কাছে কেবল পোশাকই ছিল না, সমাজের সামনে এটি ছিল তার জন্য সম্মানের প্রতিক।
এরপর অনেক কষ্টে ৮০ রুবেল সঞ্চয় করে আকাকি। চেনা দর্জি পেত্রোভিচের কাছ থেকে সে বানিয়ে নেয় একটা নতুন ওভারকোট। কোটটা কেনার পর সে সব সময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকত। নিজেকে অনেকক্ষণ ধরে অবচেতন মনে আয়নার সামনে দেখত। মানুষজন তাকে লক্ষ্য করা শুরু করে, কথা বলে, এমনকি যে দারোয়ান তাকে কখনো সম্মান দিত না সেও একটু পাত্তা দেয়। কিন্তু সুখটা বেশিক্ষণ থাকে না। এক রাতে পকেটে কোন টাকা না পেয়ে কোটটাই ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারী। সেই মুহূর্তে সে শুধু একটা ওভারকোট হারায় না...হারিয়ে ফেলে নিজের অস্তিত্বও।
সে সাহায্যের জন্য ছুটে যায় পুলিশ, প্রভাবশালী নেতা, অফিসের বস সবার কাছে। কিন্তু কেউ তাকে গুরুত্ব দেয় না বরং সবাই করে অপমান ও অপদস্ত। এই অবজ্ঞা তার শরীরের চেয়ে তার আত্মাকেই বেশি জখম করে। অপমান আর হাড়কাঁপানো জ্বরের ধকল সইতে না পেরে একসময় আকাকি চিরবিদায় নেয়।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ হয় না। মৃত্যুর পর, শহরে একটা অদ্ভুত ঘটনা শুরু হয়। একটা ‘ভূত’ নাকি মানুষের ওভারকোট ছিনিয়ে নিচ্ছে। সেই ভূত যেন আকাকিরই প্রতিচ্ছবি। যে জীবনে কিছুই পায়নি, সে মৃত্যুর পর নিজের মতো করে বিচার নিচ্ছে। শেষে যে প্রভাবশালী নেতা তাকে অপমান করেছিল, তার কাছ থেকেও ভুতটা অনেক দামী একটা কোট কেড়ে নেয়। ভুতটা কিন্তু আকাকির মত দেখতে ছিল না। অন্যকেউ হয়ত আকাকির কষ্টের প্রতিশোধ নিচ্ছিল। ঠিক যেন বাংলাদেশের এক অজ্ঞাতনামার প্রতিশোধের মত। সে ধর্ষকদের খুন করে ডেড বডির পাশে "হারকিউলিস" নাম লিখে যেত।
সমাজে সাধারণ মানুষদের কষ্ট, তাদের স্বপ্ন সবই যেন অদৃশ্য থেকে যায়। মানুষ বেঁচে থাকতে যে বিচার পায় না, মৃত্যুর পর তার হাহাকারই এক অলৌকিক শক্তিতে পরিণত হয়। মৃত্যুই যেন তাকে আরো শক্তিশালী করে। যেমনটি করেছিলো শরিফ ওসমান হাদিকে 😞
তাই......
ভাষ্কর চৌধুরীর মত বলতে ইচ্ছে করে..
মানুষকে এত ক্ষুদ্রার্থে নেবেন না,
মানুষ এত বড় যে,
আপনি যদি ‘মানুষ’ শব্দটি একবার উচ্চারণ করেন
যদি অন্তর থেকে করেন উচ্চারণ
যদি বোঝেন এবং উচ্চারণ করেন ‘মানুষ’
তো আপনি কাঁদবেন।
ডা. মির্জা শামীম
২৮/৩/২৬
আজিমপুর, ঢাকা