24/08/2026
দীর্ঘদিন ধরে ফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটা জিনিস বারবার চোখে পড়ে।
সন্তান না হলে প্রথমেই সবাই তাকিয়ে থাকে স্ত্রীর দিকে। শাশুড়ি, জা, প্রতিবেশী, এমনকি পরিবারের সবাই অনেক সময় ধরেই নেন যে সমস্যাটা মেয়েটির। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, সন্তান না হওয়ার পেছনে প্রায় সমান সমান কারণ থাকতে পারে স্বামীর দিক থেকেও। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় শুধু স্ত্রীকে একের পর এক পরীক্ষা, ওষুধ, ইনজেকশনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, আর স্বামীর একটা সাধারণ সিমেন অ্যানালাইসিসও করানো হয় না।
সাথে যোগ হয় আরেকটা সমস্যা। শুরুতে সঠিক জায়গায়, সঠিক ডাক্তারের কাছে না গিয়ে অনেকে বছরের পর বছর ঘুরতে থাকেন এখানে সেখানে, কখনো কবিরাজের কাছে, কখনো পরিচিতজনের পরামর্শে। ততদিনে বয়স বাড়ে, সময় ফুরিয়ে যায়, আর সমস্যাটাও জটিল হয়ে ওঠে।
এর ফল কী হয়?
সময় নষ্ট হয়, মানসিক কষ্ট বাড়ে, টাকা খরচ হয় ভুল জায়গায়। আর সবচেয়ে দুঃখজনক হলো একজন মেয়ে বছরের পর বছর নিজেকে দোষী ভাবতে থাকেন, এমন একটা সমস্যার জন্য যেটা হয়তো তার শরীরে ছিলোই না।
আমি রোগী দেখতে বসলে এখন প্রথম কথাটাই বলি, দুজনকেই আসতে হবে, দুজনেরই পরীক্ষা লাগবে। এটা কারো "দোষ" খোঁজার বিষয় না, এটা একটা মেডিকেল কন্ডিশন, যার সমাধান তখনই সহজ হয় যখন সঠিক জায়গায়, সঠিক ডাক্তারের কাছে গিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কারণটা খুঁজে বের করা যায়।
তাই যাদের কনসিভ করতে দেরি হচ্ছে, তাদের বলবো, দেরি করবেন না আর একা এই বোঝা বইবেন না। স্বামী স্ত্রী দুজনে একসাথে আসুন, দুজনেই পরীক্ষা করান, আর শুরু থেকেই সঠিক জায়গায় সঠিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিন। এতে অনেক সমস্যার সমাধান অনেক সহজেই সম্ভব হয়।