23/07/2026
একসময় বয়ঃসন্ধি মানেই ছিল কিশোর বয়সের একটি স্বাভাবিক ধাপ। কিন্তু এখন অনেক শিশুর শরীরে সেই পরিবর্তন শুরু হচ্ছে আরও কম বয়সেই। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক আগে স্তনের বৃদ্ধি, এমনকি মাসিকও শুরু হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, গত কয়েক দশকে বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়ার গড় বয়স উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া, পরিবেশে থাকা কিছু হরমোন-বিঘ্নকারী রাসায়নিক, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং শহুরে জীবনযাপন—সব মিলিয়ে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন আগেভাগেই শুরু হতে পারে।
এর প্রভাব শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। অল্প বয়সে শরীরের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে শিশুরা আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে, নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তি অনুভব করতে পারে এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মেয়ের ১১ বছরের আগেই মাসিক শুরু হয়, তাদের পরবর্তী জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য বিপাকজনিত রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখনও অনেক পরিবারে বয়ঃসন্ধি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না। ফলে শরীরের পরিবর্তন শুরু হলে অনেক শিশু ভয় পায় বা লজ্জা অনুভব করে। অভিভাবকদের উচিত শিশুর সঙ্গে সহজ ভাষায় কথা বলা, শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজেদের প্রশ্ন ও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।