12/09/2026
"প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন।"
আলহামদুলিল্লাহ আমি গত ২১ বছর প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থেকে ও গত ১৫ বছর সরকারের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে কনসালটেন্ট হিসেবে চাকরি করে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসায় সরাসরি নিয়োজিত থেকে দেশী-বিদেশী ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে যে সামান্য জ্ঞান অর্জন করেছি,সেটা দিয়ে যদি কারো উপকারে লাগে সেই জন্য এই লেখা।
আসুন আজ আমরা সবাই জানার চেষ্টা করি, প্রতিবন্ধী কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? কারন কি? প্রতিরোধ কিভাবে করা যায় , চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন কিভাবে করা সম্ভব।
প্রতিবন্ধকতার সংজ্ঞা:
প্রতিবন্ধী বলতে সাধারণ ভাবে আমরা যা বুঝি সেটা হচ্ছে কোন শিশু বা ব্যাক্তি জম্মগত বা জম্মের পর কোন ঘটনার বা দূর্ঘটনায় হাত,পা, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে চলাফেরা ,কথাবার্তা, দেখা কিংবা শোনায় সমস্যা হচ্ছে তাদের প্রতিবন্ধী বলে।
বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী সংজ্ঞায় আইন অনুযায়ী:
:
প্রতিবন্ধীতা অর্থ যে কোন কারণে ঘটিত দীর্ঘমেয়াদি বা স্হায়ীভাবে কোন ব্যক্তির শারীরিক, মানুষিক, বুদ্ধিগত,বিকাশগত বা ইন্দ্রিয় গত ক্ষতিগ্রস্ততা বা প্রতিকুলতা এবং উক্ত ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত ও পরিবেশগত বাধার পারস্পরিক প্রভাব,যাহার কারনে উক্ত ব্যক্তি সমতার ভিত্তিতে সমাজে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত হন।
প্রতিবন্ধিতার ধরন বা প্রকারভেদ:-
১/ অটিজম(অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার)
২/ শারীরিক
৩/মানুষিক
৪/দৃষ্টি
৫/বাক
৬/বুদ্ধি
৭/শ্রবণ
৮/শ্রবন ও দৃষ্টি
৯/সেরিব্রাল পালসি
১০/ডাউন সিনড্রোম
১১/বহুমাত্রিক
১২/অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা।
প্রতিটি প্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী মাএা নির্ধারণ করা হয়:- মৃদু, মাঝারি ও তীব্র।
প্রতিবন্ধিতা কারন।
প্রতিবন্ধিতার বিভিন্ন ধরনের কারন রয়েছে। কিছু কারন আছে যা আমরা সচেতন হলেই এড়িয়ে চলতে পারি। প্রতিবন্ধিতার কারন গুলো কে আমরা তিনটি অংশে ভাগ করি।
ক/ শিশুর জম্মের আগে বা গর্ভাবস্থায়
খ/ শিশুর জম্মের সময়,
গ/শিশুর জম্মের পর।
ক/শিশুর জম্মের আগে বা গর্ভাবস্থায় প্রতিবন্ধিতার কারন:
১/গর্ভাবস্থায় মা যদি উপযুক্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবন করে। অথবা ভূল কিছু ঔষধ সেবন করে যেমন কুইনাইন,ট্রেপটোমাইসিন ইত্যাদি ঔষধের কারণে শিশু শারীরিক, শ্রবণ, দৃষ্টি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হতে পারে।
২/গর্ভাবস্থায় মা যদি পুষ্টিকর খাবার না খায়, আয়োডিনের অভাব হয়, ধূমপান, তামাকজাত দ্রব্য ও যে কোন ধরনের মাদক গ্ৰহন করে শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে।
৩/মায়ের বয়স ১৮বছরের কম কিংবা ৩৫বছরের বেশি সাথে যদি গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের রুবেলা, ডায়াবেটিস প্রভৃতি হয়।
৪/গর্ভাবস্থায় মা যদি আঘাত পাই, পিছলে পড়ে যায় অথবা কেউ শারীরিক ভাবে আঘাত করে
৫/, মায়ের যদি সিফিলিস থাকে, অথবা গর্ভাবস্থায় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ভপাতের চেষ্টা করা হয়।
৬/যদি রক্তের গ্রুপের RH factor এর বিপরীত্য থাকে।
খ/ প্রসবকালীন সময়/ শিশুর জম্মের সময়:
১/শিশু নির্ধারিত সময়ের আগেই জম্মগ্ৰহন করলে।
২/প্রসব বেদনা যদি খুব দীর্ঘ হয় এবং ফরসেপ ডেলিভারি করলে শিশু সেরিব্রাল পালসি যে আক্রান্ত হতে পারে।
৩/শিশু মায়ের গর্ভে অস্বাভাবিক অবস্থায় থাকে , গলায় নাড়ি পেঁচিয়ে থাকলে।
৪/ধাএী যদি অদক্ষ হয়, বাড়িতে ডেলিভারি করার সময়ে।
৫/নবজাতকের কিছু রোগ যেমন জন্ডিস,ধনুষ্ঠংকার, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড জ্বর সহ যেকোন কারনে যদি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর আসে।
গ/জম্মের পরে প্রতিবন্ধিতার কারন গুলো:/
১/জম্মের পরে অপুষ্টি প্রতিবন্ধিতার একটি বড় কারণ
।
২/আয়োডিনের অভাবে শিশু বুদ্ধি, বাঁক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী হতে পারে,ভিটামিন "এ" এর অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে,ক্যালসিয়াম এর অভাবে শিশু রিকেট এ আক্রান্ত হতে পারে।
৩/কিছু অসুখ যেমন পোলিও, গ্লুকোমা, ষ্টোক, মস্তিষ্কের আঘাতের জন্য, মস্তিষ্কের টিউমার এর জন্য জম্মের পরে মানুষ প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।
৪/সড়ক দুর্ঘটনায়, কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধের সহিংসতায় অনেক মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যায়।
এই সকল কারন ছাড়া ও অনেক কারন আছে । সেগুলো উদঘাটনে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে।
প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে করণীয়:
প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী, পরিবারের ও সমাজকর্মী দের বিশেষ ভূমিকা আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে যতক্ষণ কোন ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের কেউ প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত বেশির ভাগ মানুষ প্রতিবন্ধিতার প্রতিরোধে তেমন সক্রিয় ভূমিকা রাখে না।
চিকিৎসকদের দায়িত্ব:
গর্ভাবস্থায় খুব সাবধানতার সাথে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।
স্বাস্থ্য কর্মীর দায়িত্ব:
গর্ভাবস্থায় ও শিশুদের সব গুলো টিকা সঠিক ভাবে দেওয়া। কিছু সময় স্বাস্থ্য কর্মীরা গাফিলতি করে পোলিও সহ অন্যান্য টিকা সঠিক ভাবে না দিয়ে ভূয়া প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরিবারের দায়িত্ব:
গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের সময় মায়ের ও শিশুদের সঠিক যত্ন নিতে হবে।
শিশুদের সবুজ সবজি ও হলুদ ফল খাওয়ানোর মাধ্যমে ভিটামিন "এ"র ঘাটতি জনিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী খুব সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।
গর্ভাবস্থায় আয়োডিন যুক্ত লবনের মাধ্যমে শ্রবণ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী প্রতিরোধ করা যায়।
রোগীর দায়িত্ব:
গর্ভাবস্থায় উপযুক্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।এই সময় চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক ব্যবস্থা নিলে কয়েক ধরনের জম্মগত ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সামাজিক দায়িত্ব:
আমরা সবাই চলাফেরায় রাস্তা ঘাটে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে একটু সর্তক ভাবে চললে নানা ধরনের দূর্ঘটনা প্রতিরোধের মাধ্যমে মেরুদন্ডের আঘাত প্রতিরোধ করে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ করতে পারি।
বিপদজনক কর্মস্থলের কারনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। সেই কারণেই কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
চিকিৎসা ও পূণর্বাসন
প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য একটি টিম ওয়ার্ক দরকার। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ দের সম্মিলিত চেষ্টায় একজন প্রতিবন্ধী কে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে মূল স্রোতে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়।
সরকার প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ও পূণর্বাসন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রতিবন্ধীদের পূণর্বাসনের জন্য সরকার সহ আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের যে কোন চিকিৎসা সেবা , চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন।
ডাঃ মোঃ নূর আলম আকাশ
কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি), স্পোর্টস ফিজিওলজিষ্ট + স্পোর্টস মেডিসিন এক্সপার্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, চুয়াডাঙ্গা।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিস্টার্ড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক, রেজিঃ নং পি ২০/০৮
মেম্বার,বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশনের রেজিঃ নং ১০৯
চেম্বার:০১
চুয়াডাঙ্গা ফিজিওথেরাপি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সদর হাসপাতাল রোড, চুয়াডাঙ্গা।
০১৭১২-১৮৬৬৮৭,০১৯৩০১৩১৬০৭
রুগী দেখার সময় :
শুক্রবার শনিবার ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৭টা।
রবি থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৭ টা।
চেম্বার :০২
নিয়াত আলী মেমোরিয়াল মেডিকেল সেন্টার।
গাড়াবাড়িয়া বাগান পাড়া,চুয়াডাঙ্গা।
রোগী দেখারসময় :
প্রতিদিন রাত সাতটা থেকে রাত আটটা।