28/07/2024
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস( WORLD HEPATITIS DAY) প্রতি বছর ২৮ জুলাই গোটা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ৷ যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সারাবিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা। এ বছর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের মন্ত্র হল "একটি জীবন, একটিই লিভার।" দূর্ভাগ্যজনক ভাবে প্রতি বছর গোটা বিশ্বে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান আর আক্রান্তের সংখ্যাটা তারও কয়েক গুন বেশি ;যার প্রধানতম কারণ হলো স্বাস্হ্য সম্পর্কে অসচেতনতা।
⭕লক্ষণগুলি কি?
প্রথমত শরীরের কোনো লক্ষণ ছাড়াই হেপাটাইটিস হতে পারে।
চোখ, শরীর বা প্রস্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া,হঠাৎ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, দুর্বলতা, ক্লান্তি বোধ করা, খাবারে অরুচি, অনীহা কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা।শরীরে চুলকানি, কখনো জ্বরজ্বর ভাবের মাধ্যমেও এটির সূত্রপাত হতে পারে। এমনকি পেটে জল জমার মতো নানাবিধ লক্ষনসমূহ পরবর্তীতে দেখা যেতে পারে।
⭕ কি করণীয়?
হেপাটাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হেপাটাইটিস শনাক্ত করে এর কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করলে লিভারের বিকলতা বা মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।প্রাথমিক অবস্হায় সনাক্ত হেপাটাটিস আক্রান্ত ব্যক্তি সঠিক ডায়েট অ্যান্ড রেজিমেন্ট ও সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে সহজেই সুস্হ হয়ে উঠতে পারেন।
⭕রোগের প্রাদুর্ভাব কি ভাবে আটকানো সম্ভব?
আমাদের মনে রাখা উচিত "PREVENTION IS BETTER THAN CURE".
তাই আমাদের সর্বদা
⚠️ডিসপসেবল সূ্ঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
⚠️হেপাটাইটিস ‘বি’ পজিটিভ মায়ের শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে টিকা ও অ্যান্টিবডি দিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে।
⚠️ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক বা আচরণ পরিহার করতে হবে।
⚠️ব্যক্তিগত ব্যবহার করা জিনিসপত্র ট্রুথব্রাশ, রেজর, নেইল কাটার ইত্যাদি অন্যকে ব্যবহারে নিষেধ করতে হবে।
⚠️সেলুন, বিউটি পার্লারে নাক, কান বেঁধানোর সময় কিংবাবা চুল কাটার সময় জীবাণুমুক্ত জিনিসপত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
⚠️শরীরে ট্যাটু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
⚠️বাচ্চাদের হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসের টিকা দিতে হবে।
⚠️বিশুদ্ধ জল ও খাবার গ্রহণ করতে হবে।
⚠️মদ্যপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করতে হবে।
⚠️শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
⚠️ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
⚠️চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। আর শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে।
এই সমস্ত জিনিসগুলো মেনে চললেই এই কঠিন রোগের হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। আসুন আমরা সকলেই সার্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে হেপাটাইটিস মুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলি।