22/07/2026
আমার পরিচয়... আমার পথচলার গল্প...
অনেকেই আমার কাজের মাধ্যমে আমাকে চেনেন। কেউ আমাকে হস্তরেখা বিচারক হিসেবে জানেন, কেউ পূজা-পাঠের জন্য, কেউ আবার বাস্তুশাস্ত্র বা জেমস স্টোনের পরামর্শের জন্য। কিন্তু আমি আসলে কে? কীভাবে এই পথে আসা? সেই গল্পটা হয়তো অনেকেই জানেন না। তাই আজ নিজের জীবন থেকে কিছু কথা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।
আমি জিনিয়া ঘোষ অধিকারী। আমি হস্তরেখা বিচারক শ্রী তপন কুমার ঘোষ-এর বড় মেয়ে।
আমার বাবা আজ প্রায় ৩৪-৩৫ বছর ধরে হস্তরেখা বিচার করছেন। তাঁর কাছে শুধু আমাদের রাজ্য থেকেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ আসেন। অনলাইনের মাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ তাঁর পরামর্শ নেন। মানুষের জীবনের নানা প্রশ্ন, দুশ্চিন্তা ও সমস্যার কথা শুনে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকারও জানান।
আমি ছোট থেকেই এই পরিবেশের মধ্যেই বড় হয়েছি। যখন অন্য বাচ্চারা গল্পের বই পড়ত, তখন আমি বাবার জ্যোতিষ ও হস্তরেখা সম্পর্কিত বইগুলো নিয়ে বসে থাকতাম। একটি বিষয় না বুঝলে বারবার প্রশ্ন করতাম। আমার স্বভাবটাই এমন ছিল, কোনো বিষয় অজানা থাকলে তার উত্তর না খুঁজে শান্তি পেতাম না।
পড়াশোনা করেছি, গানও শিখেছি। কিন্তু আমার মন সবসময় টানত অন্য এক জগতে। হস্তরেখা বিচার, পূজা-পাঠ, বাস্তুশাস্ত্র, জেমস স্টোন, মানুষের মন, ইতিবাচক চিন্তার শক্তি, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস... এই বিষয়গুলোই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত। আমি জানতে চাইতাম, শিখতে চাইতাম, বুঝতে চাইতাম।
আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করিনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, শুধু ডিগ্রি নয়, দীর্ঘদিনের অনুশীলন, অভিজ্ঞ মানুষের সান্নিধ্য এবং নিজের নিরন্তর শেখার ইচ্ছাও মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। বাবার বহু বছরের অভিজ্ঞতা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতাই আজ আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
বিয়ের আগেও আমি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু বিয়ের পরের চারটি বছর আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝড়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমন সময়ও এসেছে, যখন মনে হয়েছে আমি যেন নিজের পথটাই হারিয়ে ফেলছি।
আজ পিছনে ফিরে তাকালে বুঝতে পারি, সেই কঠিন সময়গুলো আমাকে ভেঙেও দিয়েছে, আবার গড়েও তুলেছে।
আমি আজ কৃতজ্ঞ আমার বাবার প্রতি, যিনি শুধু একজন বাবা নন, আমার প্রথম শিক্ষকও। তাঁর কাছ থেকেই আমি আবার নিজের আসল পথ খুঁজে পেয়েছি।
আমি কৃতজ্ঞ তারা মায়ের কাছেও। তাঁর প্রতি আমার অগাধ ভক্তি ও প্রণাম। আমি বিশ্বাস করি, তাঁর আশীর্বাদ আমাকে বারবার সঠিক পথের দিকে ফিরিয়ে এনেছে। সেই বিশ্বাসই আমাকে আজও শক্তি দেয়, সাহস দেয় এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়।
বর্তমানে আমি হস্তরেখা বিচার করি, বাস্তু পরামর্শ দিই, পূজা-পাঠ করি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জেমস স্টোন ও স্টোন ব্রেসলেটের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কেউ চাইলে তাঁর জন্য উপযুক্ত স্টোন সংগ্রহের ব্যবস্থাও করি।
আমার কাছে এই কাজ শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। যখন কোনো মানুষ দুশ্চিন্তা নিয়ে আমার কাছে আসেন, আমি চেষ্টা করি তাঁকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে, আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যথাসম্ভব সৎ পরামর্শ দিতে। যদি আমার কথা বা আমার কাজ কারও জীবনে একটু হলেও আশা, সাহস বা ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণ হয়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আমি মনে করি, পুঁথিগত শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, কিন্তু জীবনের অভিজ্ঞতা সেই জ্ঞানকে পরিপূর্ণতা দেয়। শেখার কোনো শেষ নেই। তাই আজও আমি প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি, নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করি।
আমার পথচলা এখনও চলছে। আপনাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং আশীর্বাদ নিয়েই আমি মানুষের পাশে থাকার এই চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই।
আপনার জীবনের কোনো বিষয় নিয়ে যদি পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
ভালো থাকুন।
ঈশ্বর আপনাদের সকলের মঙ্গল করুন। 🙏
✍️জিনিয়া ঘোষ অধিকারী🧿
Palmist | Vastu Consultant | Spiritual Guide | Pooja & Gemstone Consultant