30/09/2026
সেদিন এক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আজও মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কতটা ট্যাবু রয়েছে? ⬇️ এই যে এতটা। নীচের লেখাটি তার প্রমাণ।
কেউ ট্রমার কথা বলেছেন, থেরাপির কথা বলেছেন — অতএব, “অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাও, রিহ্যাব সেন্টারে যাও” ……………………… ঠিক এই জায়গায় সমাজের সমস্যা। ঠিক এই জায়গায় মানুষ থেরাপি নিচ্ছে বলতে ভয় পায়, প্রকাশ করতে ভয় পায়। বিয়ের আগে প্রকাশ করে না থেরাপি চলছে। শ্বশুরবাড়িতে ডেন্টিস্ট বা গাইনকোলজিস্ট দেখাতে যাচ্ছে বলে কাউন্সিলরের চেম্বারে যেতে হয়। প্রেসারের ওষুধ খাচ্ছি বলে অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট খেতে হয়। ঠিক এই জায়গাতে আমাদের কাজটাও আরও কঠিন হয়ে যায়।
একটি প্রতিযোগীতা-রিয়ালিটি শো — কেউ খারাপ খেলছে, ভালো খেলছে, দারুণ খেলছে, জঘন্য খেলছে — আলাদা বিষয়। সেটা নিয়ে কথা বলা আমার লক্ষ্যই নয়।
নিরঞ্জনের দুর্নিবারের প্রতি নিজেরই ওই “flip” করাটা was really pathetically shocking. আমিও সেটা একেবারেই সমর্থন করি না। কিন্তু, বিষয় হল, কাউকে পছন্দ না হলেই তার ট্রমা, তার মানসিক অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করা, প্রকারান্তরে, খোঁটা দেওয়া যায় না — কাউকে সমর্থন না করলেই এবং তিনি থেরাপি করান জানতে পারলেই তাঁর দিকে “রিহ্যাবে চলে যাও” কথাটা ধেয়ে আসতে পারে না।
কেউ থেরাপি করাচ্ছে, ডিপ্রেশনের ওষুধ খাচ্ছে, অ্যাংজাইটির চিকিৎসা চলছে শুনলেই তাদের দিকে ঠিক এই জাজমেন্টটা আজও ধেয়ে আসে — “হাসপাতাল যাও, রিহ্যাব যাও”। সে নর্ম্যাল কথা বললেও ধরে নেওয়া হয় তার অসুস্থতা কথা বলছে।
—— আর এখানেই আমাদের কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়।
যিনি লিখেছেন তাঁর নাম প্রকাশ করে কোনও অসভ্যতা করার মত অভিরুচি নেই। না’হলে ওই কমেন্ট সেকশনটিতে আরও বিস্তর নমুনা ছিল। মানসিক অসুস্থতার প্রতি আরও অনেক সহমর্মিতার বাণী সেখানে ঝরে পড়েছিল।
আমি শুধু এই মানসিকতা দেখে আহত হই। এই জাজমেন্টগুলোই আমাদের কাজ এবং যাঁরা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন, তাঁদের দুদিকের কাজই কয়েকগুণ কঠিন করে দেয়।
আমাদের সিনিয়ররা এই সচেতনতা তৈরি করার কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আমাদের কাজ অনেকটা সহজ করে দিয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু, সমাজের এই ছবিটা বেরিয়ে এলেই বোঝা যায়, কাজ এখনও অনেক বাকি।
Copied from banerjee