08/07/2026
শ্রাবণ মাসে শিবপূজার প্রথা খুবই প্রাচীন, কিন্তু একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—কোনো একক শাস্ত্রে স্পষ্টভাবে লেখা নেই যে "শুধুমাত্র শ্রাবণ মাসেই শিবপূজা করতে হবে।" বরং বিভিন্ন পুরাণ, আগম ও আঞ্চলিক ধর্মীয় পরম্পরার সমন্বয়ে এই প্রথা গড়ে উঠেছে।
এর প্রধান ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রীয় সূত্রগুলি হলো—
শিব পুরাণ
শিবপুরাণে শ্রাবণ মাসে শিবপূজা, জপ, ব্রত ও অভিষেকের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে এই মাসে ভক্তিভরে শিবের আরাধনা বিশেষ পুণ্যদায়ক।
স্কন্দ পুরাণ
স্কন্দপুরাণের বিভিন্ন খণ্ডে শ্রাবণ মাসের ব্রত, তীর্থস্নান, বিল্বপত্র নিবেদন ও শিবোপাসনার বিশেষ গুরুত্বের উল্লেখ রয়েছে।
লিঙ্গ পুরাণ
এখানে শিবলিঙ্গের অভিষেক, রুদ্রজপ ও বিল্বপত্র নিবেদনের ফল বর্ণিত হয়েছে। যদিও এগুলি সারা বছরই প্রযোজ্য, শ্রাবণে পালনের বিশেষ প্রশংসা পরবর্তী শৈব পরম্পরায় আরও জোরালো হয়েছে।
বৈদিক রুদ্রোপাসনা
যজুর্বেদ-এর শ্রী রুদ্রম (নমকম ও চমকম) বহু শতাব্দী ধরে রুদ্রাভিষেকের মূল মন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমান মহামৃত্যুঞ্জয় রুদ্রাভিষেক মূলত এই বৈদিক রুদ্রোপাসনার ধারাবাহিক রূপ।
তাহলে শ্রাবণই কেন?
ঐতিহাসিকরা কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন—
বর্ষাকালে কৃষিনির্ভর সমাজে তুলনামূলক অবসর থাকায় ধর্মীয় আচার বেশি পালিত হতো।
উত্তর ভারতে বর্ষাকালে নদীগুলি পূর্ণ থাকায় গঙ্গাজল সংগ্রহ করে শিবলিঙ্গে নিবেদনের প্রথা জনপ্রিয় হয়। এখান থেকেই কাঁওয়ার যাত্রা ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হওয়ার পরের এই সময়কে বহু শাস্ত্রে তপস্যা, জপ ও ব্রতের জন্য অনুকূল ধরা হয়েছে।
মহামৃত্যুঞ্জয় রুদ্রাভিষেক কেন?
শাস্ত্রীয়ভাবে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, শ্রী রুদ্রম এবং রুদ্রাভিষেকের সমন্বয়ে এই অনুশ্ঠান সম্পন্ন হয়। এটি শ্রাবণেই সীমাবদ্ধ নয়; বছরের যে কোনো সময় করা যায়। তবে শ্রাবণ মাসে শৈব উপাসনার বিশেষ মাহাত্ম্যের কারণে এই সময়ে এর প্রচলন ও জনপ্রিয়তা সর্বাধিক।
অর্থাৎ, ইতিহাসের দৃষ্টিতে শ্রাবণে শিবপূজার প্রথা একদিকে বৈদিক রুদ্রোপাসনা, অন্যদিকে পুরাণ, আগম এবং শতাব্দীব্যাপী লোকাচারের সমন্বয়ে বিকশিত হয়েছে—এটি কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এই কারণেই আজও শ্রাবণ মাস শিবভক্তদের কাছে সর্বাধিক পবিত্র উপাসনাকাল হিসেবে বিবেচিত।
🔱 মহামৃত্যুঞ্জয় পূজা ও যজ্ঞ কেন করানো হয়?
জীবনে বারবার অসুস্থতা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা, মানসিক অস্থিরতা, অজানা ভয়, কর্মে বাধা বা দীর্ঘদিনের সংকট দেখা দিলে শাস্ত্রে মহামৃত্যুঞ্জয় পূজা ও যজ্ঞকে অত্যন্ত ফলদায়ক বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
ভগবান শিবের মহামৃত্যুঞ্জয় শক্তি অকালমৃত্যুর আশঙ্কা হ্রাস, রোগমুক্তির প্রার্থনা, মানসিক দৃঢ়তা, পারিবারিক শান্তি এবং নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে এই সাধনার মাধ্যমে আহ্বান করা হয়। এটি কেবল একটি আচার নয়, বরং আত্মিক শক্তি, সাহস ও ইতিবাচক মানসিকতার জন্য এক গভীর বৈদিক উপাসনা।
যদি আপনার জন্মছক অনুযায়ী এই পূজা প্রয়োজন হয়, তবে সঠিক বিধি অনুসারে মহামৃত্যুঞ্জয় পূজা, যজ্ঞ ও জপের মাধ্যমে প্রতিকার করা যেতে পারে।
📞 বিস্তারিত জানতে আজই যোগাযোগ করুন এবং অভিজ্ঞ জ্যোতিষীয় পরামর্শ গ্রহণ করুন।
তন্ত্রাচার্য জ্যোতিষশাস্ত্রী শ্রী অনির্বাণ গাঙ্গুলী
Assam Bongiyo Jyotish & Ta**ra Society (ABJTS)
(9836742906)
**ra