15/08/2026
Not a health related post, it's a part of my sweet memories in Tripura
I came to Tripura , Dharmanagar in 2021, 15 th August, joined Takshashila nursing home. In initial days I used to visit Kanchanpur for work purpose. In that time I noted down my feelings about that place.
After 5 yrs today I found that diary in my car.
সাল ২০২২; তারিখ উল্লেখ করিনি
চৈত্রের বিকেলে একটা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা, মানে আমি আর ড্রাইভার কিরন। যাত্রাপথের দৃশ্য এতটাই মনোরম যে পথেই ভেবেছিলাম ফিরে এসে কিছু লিখবো আজ। লেখার অভ্যেসটা ছোটবেলা থেকেই ছিল আমার, তবে পড়াশোনার চাপে খুব একটা লেখা হয়ে উঠতো না।এই অভ্যেসটা আমার তৈরি হয়েছে এম বি বি এস পড়ার সময়। তখন আমার বন্ধুদের একটি গ্রুপ ছিল, যারা আমরা বইপ্রেমী ছিলাম, প্রচুর গল্পের বই পড়তাম। তখনো মোবাইল এর মধ্যে এতটা ঢুকে পড়িনি আমরা।
যাইহোক আজকের কথায় আসি। আমি প্রতি সপ্তাহে এক বা দুবার এই ঘন জঙ্গলময় রাস্তায় যাই।
গন্তব্য কাঞ্চনপুর। বলতে গেলে মফস্বল একটি জায়গা। পুরো জায়গাটার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি বাজার। বাকি ছড়িয়ে থাকা কিছু জনপদ, ঘরবাড়ি। আকর্ষণীয় হয়তো কিছু নেই, তবু রাস্তাটা আমায় টানে। সরু আঁকাবাঁকা পিচগলা একটি রাস্তা। দুপাশে সারি সারি অজস্র সেগুন, রাবার, আরো কত বুনো গাছপালা। বেশ গভীর জঙ্গল, সূর্যের আলো প্রায় প্রবেশ করে না। শহর থেকে বেরিয়েই একটি প্রায় গাছপালা হীন রাস্তা এসে মিশেছে এই রাস্তাটিতে। মাঝে মাঝে এক একটা গ্রাম চোখে পড়ে, নামগুলোতেও বেশ শৈল্পিক ভাব রয়েছে, পানি সাগর, জলেবাসা, লালঝুড়ি, এমনকি আমার নিজের নামে ও একটি গ্রাম রয়েছে (জয়শ্রী)।
একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, নামগুলোয় জলের আধিক্য রয়েছে, যেমন- জলেবাসা, পানি সাগর, জলে বাজার, পদ্ম বিল ইত্যাদি। লালঝুড়ি নামটা বটগাছের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি যখন ছোট ছিলাম, বছরে একবার আমার দাদুর বাড়ি মথুরাপুর যেতাম বাসে করে, স্কুল টিউশন এর জন্য বিশেষ যাওয়া হয়ে উঠতো না । তখন যাতায়াতে রাস্তার পাশে বিভিন্ন নাম না জানা সুন্দর সুন্দর ফুলের গাছ দেখতে পেতাম, গুল্মজাতীয় গাছ, কোনোটার ফুল লাল, কোনোটা গোলাপী বা হলুদ। হঠাৎ সেই হলুদ এবং ল্যাভেন্ডার রঙের ফুল এই রাস্তায় দেখে আমার মন খুশিতে ভরে উঠলো, নাম জানলাম বাঁদরলাঠি বা অমলতাস্। অন্যটি জারুল। আগে হলে হয়তো আমি ফুলগুলো নেওয়ার চেষ্টা করতাম, কিন্তু এখন মনে চাইলো না, বললো থাক না ওরা গাছেই থাক, প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করুক। আর আমি আসা যাওয়ার পথে তাদের দেখে ভালোলাগাটা অনুভব করি, স্মৃতি রোমন্থন করি। এই পথে গাড়ি ঘোড়ার ভিড় খুব একটা নেই বললেই চলে। তাই প্রকৃতির নির্জনতার যে একটা শব্দ আছে তা অনুভব করা যায় ।কখনো রী রীএকটা আওয়াজ, আবার কখনো তাকে ছাপিয়ে আসে মন কেমন করা কুহু কুহু কোকিলের আওয়াজ ,মনে করিয়ে দেয় এটা বসন্তকাল। বসন্ত যেন সবার জন্য নতুন সাজ এনেছে, নতুন সুর এনেছে। লালে ভরিয়েছে কৃষ্ণচূড়াকে, হলুদে ভরিয়েছে বাবুল ও নাম না জানা কত বুনো গাছকে। জায়গাটা পাহাড়ি হলেও কোনো ঝর্ণা আমার চোখে পড়েনি। জলাধার বলতে গেলে শুধু ছোটখাটো ঝিলের মতো ,সবুজ তার জল ।আশেপাশে কয়েকটা আম গাছ এবং পাশের খেতে গরু চরে বেড়াচ্ছে এবং এক দুটো গরু ঝিলের জল খেয়ে তাদের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে। কেনো জানিনা এই জায়গা টুকু ই শুধু আমাকে মালদার কথা মনে করিয়ে দেয়, সাদৃশ্য আছে বলেই হয়তো।