15/02/2026
হে অঘোর!
হে আমার উৎস, হে মোর জন্মদাতা,
তোমারই আলোয় দেখা এই পৃথিবীর চঞ্চলতা।
জন্ম দিয়েছ অজানার মাঝে চিনিয়ে নিতে নিজেকে, তোমারই দুয়ারে প্রথম পাওয়া সত্যের সেই আলোকে। কিন্তু যখনি জাগিল বোধ, যখনি ফিরিল জ্ঞান—
সহস্র প্রশ্ন হৃদয়ে আমার হানিল তীক্ষ্ণ বাণ।
যে জগত তোমায় ছলনা করে ,
কেন পাঠালে সেথা আমায়?
তোমারি চিহ্ন যেখানে কেবল লুণ্ঠিত ধুলিকণায় ।
হে অচিন্ত্য!
দেখো, তোমায় নিয়ে রচে তারা শতেক অলীক গল্প,
হে অভীরু!
তোমারি নামে ভয়ের কারবার চলে— সত্য সেথা অল্প।
হে পশুপতি!
তোমারি স্মরণে অবোধ পশুরে পীড়ন করে তারা,
হে বোধমূর্তি!
তোমারি নামে কুসংস্কারে জগত আলোকহারা।
হে চন্দ্রশেখর!
স্বার্থের টানে তোমায় শিখর হতে নামায় ধূলিতলে,
হে আশুতোষ!
সব গ্রাস করিয়াও, অতৃপ্ত তারা লালসার তীব্র অনলে।
যদি পাঠাতেই আমায় এ ধরায়—
তবে দিতে শ্রদ্ধাভক্তিহীন এক জড় মন,
নতশির এক পুরুষত্বহীন ভীরু জীবন।
কিন্তু তুমি পাঠিয়ে দিলে—
জাগিয়ে দিলে অন্তরে মোর তীব্র বিদ্রোহের সুর,
তোমার কাছে যা শুধুই লীলা, আমার বুকে সেই রোদ্দুর।
হে নটরাজ!
নাচিয়া ওঠো সে প্রলয়-তাণ্ডবে ধ্বংসের তরে আজি,
ভেঙে দাও যত মিথ্যে অহম— যেথায় মায়ার বাজি।
শান্তি চাই না, মুক্তি চাই না— চাই শুধু তব বোধ,
অজ্ঞতা আর অন্ধকারের হোক আজ অবরোধ।
তুমিই শিব, তুমিই অঘোর, তুমিই প্রাণের স্পন্দন,
তোমারি স্মরণে টুটে যাক মোর মায়ার সকল বন্ধন।
শূন্য হতে আমি এসেছি শম্ভু— শূন্যেই হব লীন,
তব চরণে সঁপিলাম প্রাণ— এই মহা পুণ্য দিন।
যেখানে ভক্তির নামে ব্যবসা চলে আর দয়ার নামে চলে নিষ্ঠুরতা, সেখানে মহাকালের প্রলয় আজ বড় প্রয়োজন। ধর্ম মানে ভয় নয়, ধর্ম মানে সকল জড়তা ও মায়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। মহাদেবের তাণ্ডবে ভস্ম হয়ে যাক আমাদের চারপাশের সব পাখণ্ড আর অধর্ম।পরম বোধের জাগরণ ঘটুক প্রতিটি হৃদয়ে।
মহাশিবারাত্রির পুণ্যলগ্নে সকলকে শুভেচ্ছা। 🙏✨