Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO

Call Directions Website Contact the practice

Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO I am a medical oncologist. Oncology, however, remains its core focus.

This page started with the aim of spreading cancer awareness, and gradually became a platform to discuss health issues important to the common public.

ক্যান্সার রোগীদের খাবার নিয়ে কত রকমের পরামর্শই না শোনা যায়! কেউ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত কিছু খাওয়া চলবে ...
27/09/2026

ক্যান্সার রোগীদের খাবার নিয়ে কত রকমের পরামর্শই না শোনা যায়! কেউ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত কিছু খাওয়া চলবে না। কেউ বলেন, চিনি বা ভাত একেবারে বন্ধ। আবার কেউ শুধু কাঁচা খাবার খেতে বলেন, কেউ মাংস বাদ দিতে বলেন।

কিন্তু একজন ক্যান্সার রোগীর কী খাওয়া উচিত, তা কি এভাবে সবার জন্য এক নিয়মে ঠিক করা যায়? রোগটি কোথায়, কী চিকিৎসা চলছে, রোগী কতটা খেতে পারছেন, তাঁর ওজন কমছে কি না—সবকিছু দেখে পুষ্টির পরিকল্পনা করতে হয়। সেই কারণেই একটি ভালো ক্যান্সার হাসপাতালের চিকিৎসা দলে পুষ্টিবিদের থাকা অত্যন্ত জরুরি।

পিয়ারলেস হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগে একজন অনকো নিউট্রিশনিস্ট রয়েছেন, যিনি টাটা মেডিকেল সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আমাদের ক্যান্সার রোগীদের পুষ্টির বিষয়টি দেখেন। আমাদের চিফ নিউট্রিশনিস্টও একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান। তাঁর নেতৃত্বে বিভাগটি রোগীদের খাবার ও পুষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত কাজ করে।

এই বিভাগই পিয়ারলেস হাসপাতালের শ্রীয়স অডিটোরিয়ামে International Clinical Nutrition Update (ICNU 2026)-এর আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে টাটা মেডিকেল সেন্টারের চিফ নিউট্রিশনিস্টও এসেছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আমাদের গ্রুপ ডিরেক্টর ডাঃ ভি আর রমণান সকলকে স্বাগত জানান। তারপর আমাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ ডি পি সমান্দার পুষ্টির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। এর পর আমার সুযোগ হয় ক্যান্সার চিকিৎসায় পুষ্টির ভূমিকা নিয়ে কিছু বলার।

সেখানে আমি একটি কথাই জোর দিয়ে বলেছি—ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার সময় থেকেই রোগীর পুষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। আমরা বলি, ‘ওষুধ ও পথ্য’। শুধু ওষুধের কথা বলি না। কারণ কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা বড় অস্ত্রোপচার—প্রতিটি চিকিৎসার মধ্য দিয়েই রোগীকে যথেষ্ট ধকল সামলে যেতে হয়। তিনি ঠিকমতো খেতে না পারলে সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। আর যদি খাবার যাওয়ার পথেই বাধা থাকে, তাহলে চিকিৎসার পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে পুষ্টি দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

আমি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডের কথাও বলেছি। সেখানে বিভিন্ন বিভাগের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি পুষ্টিবিদের মতামত থাকা দরকার। একজন রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনায় তিনি কীভাবে পুষ্টি পাবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

গতকাল প্রি-কনফারেন্স কর্মশালায় পুষ্টিবিদ্যার ছাত্রছাত্রীরা ক্যান্সার রোগীদের পুষ্টির যত্ন নিয়ে হাতে-কলমে শিখেছেন। আজ পিয়ারলেস হাসপাতালে ICNU 2026-এর পূর্ণদিবসের আলোচনা চলছে।

আগামী দিনেও আমরা এমন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই। জ্ঞান শুধু নিজের কাছে রাখার জন্য নয়। যত বেশি ভাগ করে নেওয়া যায়, ততই তা মানুষের কাজে লাগে।

আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন।বাংলার নবজাগরণে কত অসামান্য মানুষ ছিলেন—রাজা রামমোহন রায়, ডিরোজিও, মাইকেল মধুসূদন দ...
26/09/2026

আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন।

বাংলার নবজাগরণে কত অসামান্য মানুষ ছিলেন—রাজা রামমোহন রায়, ডিরোজিও, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, কেশবচন্দ্র সেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আরও অনেকে। তবু যদি একজনের নাম বলতে হয়, যাঁর কাছে বাঙালি হিসেবে আমাদের ঋণ সবচেয়ে বেশি, আমার মনে সবার আগে আসে বিদ্যাসাগরের নাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁকে রবীন্দ্রনাথেরও উপরে স্থান দিই।

আজও আমার ছেলে বাংলা শেখে বর্ণপরিচয় পড়ে। কিন্তু শুধু পাণ্ডিত্য বা বই লেখার জন্য বিদ্যাসাগর আমার কাছে শ্রদ্ধেয় নন। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি মেরুদণ্ড সোজা রেখে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বিধবাবিবাহের পক্ষে লড়েছেন, নারীশিক্ষার জন্য কাজ করেছেন, আর সেই পথে অসম্মান ও প্রবল বাধার মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

ভাবি, আজকের দিনে থাকলে তাঁর প্রতিবাদকে আমরা কীভাবে গ্রহণ করতাম? হয়তো তাঁকেও কটু কথা শুনতে হতো, আক্রমণের মুখে পড়তে হতো। কারণ সমাজের ভুলের দিকে আঙুল তুললে সমাজ সব যুগেই অস্বস্তিতে পড়ে।

বিদ্যাসাগরের শাস্ত্রজ্ঞান ছিল অসাধারণ। অথচ তাঁর মানবিকতার জন্যই শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে বলেছিলেন ‘দয়ার সাগর’। আমার কাছে এই কথাটিই তাঁকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে চেনায়। মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁর কোনও অনুমতির দরকার হয়নি; যা ন্যায় বলে বুঝেছেন, তা-ই করেছেন।

দুঃখ হয় যখন দেখি, আমরা তাঁর নাম মনে রেখেছি, কিন্তু তাঁর আদর্শ কতটা ধরে রাখতে পেরেছি, সে প্রশ্ন করি না। বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানানো মানে শুধু তাঁর ছবিতে মালা দেওয়া নয়। অন্যায় দেখলে প্রশ্ন করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আর নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখা—আজ তাঁর জন্মদিনে সেটাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধার্ঘ্য।

মুখের ক্যান্সার ফিরে আসা কি এবার আটকানো সম্ভব? নতুন গবেষণায় আশার আলো !মুখ বা মুখগহ্বরের ক্যান্সারের অপারেশন হয়ে গেছে। ...
26/09/2026

মুখের ক্যান্সার ফিরে আসা কি এবার আটকানো সম্ভব? নতুন গবেষণায় আশার আলো !

মুখ বা মুখগহ্বরের ক্যান্সারের অপারেশন হয়ে গেছে। তার পরে রেডিয়েশন, প্রয়োজন হলে কেমোথেরাপিও হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রোগী এবং পরিবার ভাবেন—এবার হয়তো চিকিৎসা শেষ।

কিন্তু কিছু কিছু মুখের ক্যান্সার একটু বেশি আক্রমণাত্মক। সব চিকিৎসা ঠিকমতো হওয়ার পরেও সেগুলি আবার ফিরে আসতে পারে।

কিছুদিন আগে আমার এক ডাক্তার বন্ধু আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “যাঁদের ক্ষেত্রে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি, তাঁদের যদি চিকিৎসার শেষে আরও কয়েক সাইকেল কেমোথেরাপি দেওয়া যায়? তাতে কি লাভ হবে?”

প্রশ্নটা খুবই যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অতিরিক্ত কেমোথেরাপি দিয়ে এই ঝুঁকি কমানো যায়—এমন শক্ত প্রমাণ আমাদের হাতে নেই।

তবে সম্প্রতি NIVOPOST-OP নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।

অপারেশনের পরে যাঁদের রিপোর্ট দেখে বোঝা যায় যে ক্যান্সার ফিরে আসার ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচলিত রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির সঙ্গে Nivolumab নামে একটি immunotherapy যোগ করে দেখা হয়েছে।

ফলাফল আশাব্যঞ্জক। দেখা গেছে, immunotherapy যোগ করলে এই high-risk রোগীদের মধ্যে ক্যান্সার ফিরে আসার সম্ভাবনা আরও কিছুটা কমানো সম্ভব।

তার মানে অবশ্যই এই নয় যে মুখের ক্যান্সারের প্রত্যেক রোগীর immunotherapy লাগবে। অপারেশনের রিপোর্ট, রোগের প্রকৃতি, রোগীর শারীরিক অবস্থা—সবকিছু বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে এই গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ একটা নতুন রাস্তা দেখাচ্ছে।

ক্যান্সার ফিরে এলে আবার চিকিৎসা করার চেয়ে আমাদের চেষ্টা হওয়া উচিত—প্রথমবার চিকিৎসার সময়েই ফিরে আসার ঝুঁকিটা যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া।

আরও বেশি মানুষকে দীর্ঘদিন ক্যান্সারমুক্ত রাখাই তো শেষ পর্যন্ত আমাদের আসল লক্ষ্য।

গতকাল আমার শিক্ষক ডাঃ পি. এন. মহাপাত্রের আমন্ত্রণে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেওয়ার স...
25/09/2026

গতকাল আমার শিক্ষক ডাঃ পি. এন. মহাপাত্রের আমন্ত্রণে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়। আলোচনার বিষয় ছিল খুব পরিচিত, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কেমোথেরাপির পরে বমি বমি ভাব এবং বমি কীভাবে যতটা সম্ভব আটকানো যায়।

আমার কাছে বিষয়টা শুধু একটা side effect কমানোর ব্যাপার নয়। একজন রোগী যদি প্রতিবার কেমোথেরাপি নেওয়ার পর প্রচণ্ড বমি করেন, খেতে না পারেন, সারাদিন গা গুলিয়ে যায়—তাহলে পরের কেমোথেরাপির কথা ভাবলেই তাঁর ভয় লাগতে শুরু করে। চিকিৎসার প্রতি আস্থাটাই ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি, কেমোথেরাপি দিতে হলে বমিটাও যেন যতটা সম্ভব আটকানো যায়।

আগে হয়তো একটা বা দুটো বমির ওষুধ দিয়েই আমরা কাজ চালাতাম। এখন ব্যাপারটা অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত। কোন কেমোথেরাপিতে বমির সম্ভাবনা কতটা, আবার সেই নির্দিষ্ট রোগীর নিজের বমি হওয়ার ঝুঁকি কতটা—দুটোই হিসেব করতে হয়।

যেমন cisplatin বা anthracycline-cyclophosphamide-এর মতো কিছু chemotherapy-তে বমির ঝুঁকি খুব বেশি। এগুলিকে আমরা বলি highly emetogenic chemotherapy। এই ধরনের চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই শুরু থেকেই চার ধরনের ওষুধ দিয়ে বমি আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়—NK1 inhibitor যেমন aprepitant বা netupitant, 5-HT3 inhibitor যেমন palonosetron, সঙ্গে dexamethasone এবং olanzapine।

আবার carboplatin, oxaliplatin বা কিছু আধুনিক antibody-drug conjugate-এর ক্ষেত্রেও বমি ও nausea যথেষ্ট সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে trastuzumab deruxtecan-এর মতো ওষুধে nausea নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়।

তবে আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ছিল—শুধু chemotherapy-র নাম দেখলেই হবে না, রোগীকেও দেখতে হবে। অল্প বয়স, আগে থেকেই motion sickness-এর প্রবণতা, pregnancy-র সময় খুব বেশি morning sickness হওয়ার ইতিহাস, কিংবা আগের chemotherapy-তে প্রচণ্ড বমি হওয়া—এগুলিও একজন রোগীর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অর্থাৎ একই chemotherapy দুজন মানুষকে দিলেও তাঁদের anti-vomiting ওষুধের প্রয়োজন এক নাও হতে পারে।

এই patient-specific risk assessment নিয়েই MyRisk study-র প্রসঙ্গ এল এবং সেটি নিয়ে বেশ বিস্তারিত আলোচনা হল।

অনেকক্ষণ আলোচনার পর একটা কথাতেই আমরা সবাই একমত হলাম—ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধু সঠিক chemotherapy দেওয়া নয়; সেই চিকিৎসা যেন রোগী যতটা সম্ভব কম কষ্টে নিতে পারেন, সেটাও চিকিৎসারই অংশ।

কেমোথেরাপির পরে বমি হবে—এটা মেনে নেওয়ার দিন অনেকটাই পেরিয়ে এসেছে। আধুনিক supportive care-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত খুব স্পষ্ট—কেমোথেরাপি দেব, কিন্তু বমি আটকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাটাও করব।

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ—দীর্ঘদিনের চিকিৎসা কতটা নিরাপদ?নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কাদের বলে জানেন?সহজ ভাষায়, যে রোগ একজনের থেকে আর...
24/09/2026

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ—দীর্ঘদিনের চিকিৎসা কতটা নিরাপদ?

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কাদের বলে জানেন?

সহজ ভাষায়, যে রোগ একজনের থেকে আর একজনের মধ্যে ছড়ায় না, সেগুলিকেই বলা হয় নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ। যেমন—হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, ক্যান্সার ইত্যাদি।

এই রোগগুলির একটা বড় বৈশিষ্ট্য হল—চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে চলে। কারও প্রেশার ধরা পড়লে বছরের পর বছর, কখনও সারা জীবন ওষুধ খেতে হতে পারে। ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখের ক্ষেত্রেও একই কথা। তাই শুধু চিকিৎসা করলেই হবে না, দীর্ঘদিন ধরে সেই চিকিৎসা কতটা নিরাপদভাবে চলছে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিষয়টিকেই সামনে রেখে গত শুক্রবার পিয়ারলেস হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল “Safe Care of Non-Communicable Diseases” নিয়ে একটি আলোচনা। সেখানে একটি প্যানেল ডিসকাশন মডারেট করার সুযোগ হয়েছিল আমার।

প্যানেলে ছিলেন আমাদের হাসপাতালের তিনজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ চিকিৎসক—সিনিয়র পালমোনোলজিস্ট ডাঃ অজয় কৃষ্ণ সরকার, সিনিয়র এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডাঃ কল্যাণ কুশুম গাঙ্গুলি এবং সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ সৌমিক চৌধুরী।

আলোচনার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—একজন রোগীকে অনেক সময় একসঙ্গে অনেকগুলি ওষুধ খেতে হয়। একজন চিকিৎসক হয়তো ডায়াবেটিসের ওষুধ দিয়েছেন, আর একজন প্রেশারের, অন্য কেউ হার্টের। তখন কোন ওষুধ কেন চলছে, একটির সঙ্গে অন্যটির কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, কোনও ওষুধ আর প্রয়োজন আছে কি না—এসব নিয়মিত খতিয়ে দেখা দরকার। ওষুধ দেওয়াটাই চিকিৎসার শেষ কথা নয়; ওষুধটি নিরাপদভাবে চলছে কি না, সেটাও চিকিৎসারই অংশ।

ডাঃ অজয় কৃষ্ণ সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বললেন। সিওপিডির মতো রোগে ইনহেলার চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু শুধু ইনহেলার লিখে দিলেই তো হল না—রোগী সেটি ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন কি না, সেটাও তাঁকে শেখাতে হবে। ভুল পদ্ধতিতে ইনহেলার নিলে ভালো ওষুধও ঠিকমতো কাজ করবে না।

ডাঃ সৌমিক চৌধুরী তুলে ধরলেন আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—‘লেবেলিং’। এক-দুবার রক্তচাপ বেশি পাওয়া গেলেই কাউকে ‘হাইপারটেনসিভ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা দরকার। ডাঃ কল্যাণ কুশুম গাঙ্গুলিও একই বিষয়ে সতর্ক করলেন। ভুলভাবে কোনও রোগের লেবেল লেগে গেলে এমন ওষুধ বছরের পর বছর চলতে পারে, যার হয়তো আদৌ প্রয়োজন ছিল না।

ডাঃ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আর একটি বিষয় উঠে এল, যেটা আমার খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। কোনও পরীক্ষা লেখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—রিপোর্ট পজিটিভ হলে আমি কী করব? নেগেটিভ হলে কী করব? যদি দুটো ক্ষেত্রেই রোগীর চিকিৎসায় কোনও পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু পরীক্ষা করার জন্য পরীক্ষা করানোর আদৌ কতটা যুক্তি আছে?

আলোচনার শেষে প্রত্যেককে বলেছিলাম, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে এক লাইনে নিজের বার্তা দিতে। সবাই বলার পর অবশ্য আমাকেও ছাড়া হল না—“রাজীব, তোমাকেও একটা বলতে হবে।”

আমার উত্তরটা খুব সহজ ছিল—

একজন রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল টিম।

কারণ আজকের দিনে একজন চিকিৎসকের পক্ষে সবকিছু একা সামলানো সম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসা, সঠিক ওষুধ, সঠিক পরীক্ষা এবং সর্বোপরি রোগীর নিরাপত্তা—সবকিছুর জন্যই বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সমন্বয় জরুরি।

এই ধরনের আলোচনা পিয়ারলেস হাসপাতালের একাডেমিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করছে। আর শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত আলোচনা, শেখা এবং প্রশ্ন করার একটাই উদ্দেশ্য—

আরও ভালো চিকিৎসা। আরও নিরাপদ চিকিৎসা। রোগীর জন্য, রোগীকে সঙ্গে নিয়ে।

দেবীর আরাধনা, নারীর আর্তনাদ, ক্যান্সার শুধু শরীরে নয়, সমাজেও !দুর্গাপুজো আসছে। আর কয়েকদিন পরেই মাতৃশক্তির আরাধনায় মেত...
23/09/2026

দেবীর আরাধনা, নারীর আর্তনাদ, ক্যান্সার শুধু শরীরে নয়, সমাজেও !

দুর্গাপুজো আসছে। আর কয়েকদিন পরেই মাতৃশক্তির আরাধনায় মেতে উঠব আমরা সবাই।

অথচ চারপাশে তাকালে একটা অদ্ভুত বৈপরীত্য চোখে পড়ে। একদিকে মাতৃশক্তির আরাধনা, অন্যদিকে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারীর অপমান, নির্যাতন আর অসহায়তার খবর। সত্যি বলতে কী, মনটা খারাপ হয়ে যায়।

এই সেপ্টেম্বর মাস আবার মহিলাদের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতার মাস। তাই মাতৃপক্ষের আগে আজ কথা বলি মহিলাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্সার নিয়ে—সার্ভিক্যাল ক্যান্সার, এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার এবং ওভারিয়ান ক্যান্সার।

ভালো খবর হল, এই তিনটি ক্যান্সারের চিকিৎসাতেই আমরা এখন আগের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। এমনকি কিছু ক্যান্সার হওয়ার আগেই প্রতিরোধ করার সুযোগও আমাদের হাতে রয়েছে।

প্রথমে আসি সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে।

এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ হল দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এক বিশেষ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ—যার নাম এইচপিভি। তাই এইচপিভি টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যাপ স্মিয়ার তার মধ্যে একটি পরিচিত পরীক্ষা। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে তিন বছর অন্তর প্যাপ স্মিয়ার করা হয়। তবে বয়স, আগের পরীক্ষার রিপোর্ট এবং কী ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার ওপর এই সময়ের ব্যবধান কিছুটা বদলাতে পারে।

আরও আশার কথা হল, সার্ভিক্যাল ক্যান্সার একেবারে প্রথম দিকে ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশন করে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সুযোগ থাকে। রোগ একটু বেশি ছড়িয়ে পড়লে রেডিয়েশনের সঙ্গে কেমোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। আর রোগ যদি শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলেও এখন কেমোথেরাপির পাশাপাশি টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা আমাদের হাতে রয়েছে।

এরপর আসি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারে।

এই ক্যান্সার সাধারণত একটু বেশি বয়সে দেখা যায়। একটা সুবিধা হল, অনেক মহিলার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক রক্তপাতই এর প্রথম লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরে আবার রক্তপাত হলে সেটাকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার যদি অপারেশন করার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে সাধারণত প্রথম চিকিৎসা হল অপারেশন। অপারেশনের পরে রিপোর্ট দেখে ঠিক করা হয় আর কোনও চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না। কারও রেডিয়েশন লাগে, কারও কেমোথেরাপি, আবার কারও দুটোই লাগতে পারে। রোগ অনেকটা ছড়িয়ে গেলেও এখন কেমোথেরাপির পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি এবং অন্যান্য আধুনিক ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

সবশেষে আসি ওভারিয়ান ক্যান্সারে।

এই ক্যান্সারটা একটু অন্যরকম। প্রথম দিকে অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ থাকে না। তাই অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রোগটি বেশ কিছুটা ছড়িয়ে যাওয়ার পর ধরা পড়ে।

যদি শুরুতেই মনে হয় অপারেশন করে পুরো টিউমারটি সরিয়ে ফেলা সম্ভব, তাহলে আমরা প্রথমেই অপারেশনের দিকে যেতে পারি। আবার রোগ যদি অনেকটা ছড়িয়ে থাকে, তাহলে অনেক সময় প্রথমে বায়োপসি করে ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়। তারপর কয়েকটি কেমোথেরাপি দিয়ে টিউমার ছোট করে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পরে আবার প্রয়োজনমতো কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

এখানে বায়োপসি নিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।

ওভারিতে কোনও টিউমার যদি ক্যান্সার বলে খুব বেশি সন্দেহ হয় এবং চিকিৎসকদের মনে হয় সেটি সরাসরি অপারেশন করে পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে অপারেশনের আগে আলাদা করে সুচ দিয়ে বায়োপসি করার প্রয়োজন হয় না। অপারেশন করে বের করা টিউমার পরীক্ষা করেই রোগ নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু ওভারিয়ান ক্যান্সার যদি অনেকটা ছড়িয়ে যায় এবং অপারেশনের আগে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে কেমোথেরাপি শুরু করার আগে বায়োপসি করে রোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে সার্ভিক্যাল বা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার সন্দেহ হলে সাধারণত বায়োপসি করে রোগ নিশ্চিত করার পরেই ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা শুরু করা হয়।

আজকাল চারপাশে এমন অনেক ঘটনা দেখি, যেগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয়—বছরে কয়েকটা দিন মাতৃশক্তির আরাধনা করলেই নারীর প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

সমাজের সব অসুরকে হয়তো একজন চিকিৎসকের পক্ষে আটকানো সম্ভব নয়।

কিন্তু অন্তত কিছু ক্যান্সারকে আটকানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।

সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এইচপিভি টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর সার্ভিক্যাল, এন্ডোমেট্রিয়াল বা ওভারিয়ান ক্যান্সার হয়েও গেলেও তার মানে আজ আর সব শেষ নয়। অপারেশন, রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি—চিকিৎসার অনেক রাস্তা এখন আমাদের হাতে রয়েছে।

তাই এই মাতৃপক্ষে মাতৃশক্তির আরাধনার সঙ্গে আর একটা সংকল্পও থাকুক—

মা, বোন, স্ত্রী কিংবা কন্যাকে শুধু দেবীর আসনে বসাব না, তাঁদের স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেব।

মাতৃশক্তির আরাধনা হোক মণ্ডপে।
মাতৃশক্তির সুরক্ষা শুরু হোক আমাদের ঘর থেকে।

আজ আপনাদের বলব পরিতোষবাবুর কথা।পরিতোষবাবু প্রথম আমার কাছে এসেছিলেন ২০২৩ সালে। তখন তাঁর লিভারে একটি ক্যান্সার ধরা পড়েছে।...
20/09/2026

আজ আপনাদের বলব পরিতোষবাবুর কথা।

পরিতোষবাবু প্রথম আমার কাছে এসেছিলেন ২০২৩ সালে। তখন তাঁর লিভারে একটি ক্যান্সার ধরা পড়েছে। অন্য একটি হাসপাতালে তাঁর রেডিয়েশন-সহ কিছু চিকিৎসাও হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কাছে যখন এলেন, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ।

আমরা একটি PET-CT করালাম। দেখা গেল, লিভারের অনেকটা অংশ জুড়ে রোগ ছড়িয়ে রয়েছে এবং লিভারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।

কিন্তু সেই PET-CT-তেই আরও একটি জিনিস আমাদের নজরে এল—থাইরয়েডে একটি ছোট নডিউল। আমাদের সন্দেহ ছিল, সেটিও সম্ভবত আলাদা একটি থাইরয়েড ক্যান্সার।

এখন প্রশ্ন হল, একই মানুষের শরীরে যখন দুটো আলাদা ক্যান্সার রয়েছে, তখন কোনটার চিকিৎসা আগে করবেন?

সেই সময় আমাদের কাছে উত্তরটা বেশ পরিষ্কার ছিল।

থাইরয়েডের ক্যান্সার সাধারণত তুলনামূলক ধীরে এগোয়। কিন্তু পরিতোষবাবুর লিভারের ক্যান্সারটি তখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং তাঁর জীবনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিপজ্জনক। তাই থাইরয়েডের ছোট নডিউলটিকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রেখে আমরা সমস্ত গুরুত্ব দিলাম লিভারের ক্যান্সারের চিকিৎসায়।

শুরু হল ইমিউনোথেরাপি।

এবং তার পরের ঘটনাটা সত্যিই আমাদের আনন্দ দিয়েছিল। চিকিৎসায় লিভারের ক্যান্সার অসাধারণ সাড়া দিল। একটা সময় স্ক্যানে লিভারে আর সক্রিয় ক্যান্সার দেখা যাচ্ছিল না।

কিন্তু ক্যান্সারের গল্প সব সময় সরল পথে চলে না।

পরবর্তীকালে দেখা গেল, যে থাইরয়েডের ক্যান্সারটিকে আমরা প্রথমে তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলে পিছনে রেখেছিলাম, সেটিই তার ডালপালা বিস্তার করেছে। ফুসফুসেও সেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এক অর্থে অদ্ভুত পরিস্থিতি—যে লিভারের ক্যান্সারকে নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিলাম, সেটি তখন নিয়ন্ত্রণে; আর নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়েছে থাইরয়েডের ক্যান্সার।

তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার থাইরয়েডের ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে হবে।

আমাদের হাসপাতালেই তাঁর থাইরয়েডের অপারেশন হল। এরপর Radioactive Iodine Ablation-এর জন্য তাঁকে Tata Medical Center, Rajarhat-এ পাঠানো হয়। সেখানে তিনি সেই চিকিৎসাও সম্পূর্ণ করেন।

এরপর আবার এল নতুন সমস্যা। চিকিৎসার পরবর্তী সময়ে তাঁর অস্থিমজ্জার কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হয় এবং রক্তের বিভিন্ন উপাদান কমতে শুরু করে। ফলে পরের চিকিৎসাগুলো আমাদের অনেক হিসেব করে, শরীরের সহ্যক্ষমতা বুঝে দিতে হয়েছে।

কখনও targeted therapy, কখনও immunotherapy—রোগের অবস্থা এবং তাঁর শরীরের ক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসা বদলাতে বদলাতে আমরা এগিয়েছি।

এবং আজও তাঁর রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আমার খুব মনে আছে ২০২৩ সালে প্রথম যখন পরিতোষবাবু আমাদের Tumor Board-এ এসেছিলেন, তাঁকে দেখে আমরা সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। শরীরটা প্রায় নুইয়ে গিয়েছিল। হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল। তাঁকে দেখে সত্যিই খারাপ লাগছিল।

আর সেদিন সেই মানুষটিই আমার চেম্বারে এলেন একেবারে পরিপাটি হয়ে, সুন্দর করে পোশাক পরে।

এসেই বললেন, “ডাক্তারবাবু, আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলব।”

পরিতোষবাবু আবার ইংরেজির শিক্ষক। তাঁর কথাবার্তা, পোশাক, চলাফেরার মধ্যে সেই শিক্ষকসুলভ গাম্ভীর্যটা এখনও সুন্দরভাবে রয়ে গিয়েছে।

আমরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম।

ছবিটা তুলে দিলেন তাঁর মেয়ে এবং তাঁর স্ত্রী—এই দীর্ঘ এবং কঠিন যাত্রায় যাঁরা প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর পাশে থেকেছেন।

আমিও বললাম, “আমার ক্যামেরাতেও ছবিটা তুলে রাখুন। এই মুহূর্তটা আমার কাছেও থেকে যাক।”

২০২৩ সালের সেই নুইয়ে পড়া মানুষটির সঙ্গে আজকের পরিপাটি, আত্মবিশ্বাসী পরিতোষবাবুকে পাশাপাশি মনে করলে চিকিৎসক হিসেবেও একটা অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে।

ক্যান্সারের চিকিৎসায় সব গল্প এমন হয় না। সব রোগীর ক্ষেত্রেও একই ফল হবে, এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায় না। কিন্তু পরিতোষবাবুর গল্প আমাদের একটা কথা মনে করিয়ে দেয়—

একজন মানুষের একই সঙ্গে দুটো আলাদা ক্যান্সার থাকতে পারে। চিকিৎসার অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কখনও একটি রোগকে আগে সামলাতে হয়, কখনও অন্যটিকে। কখনও চিকিৎসাও মাঝপথে বদলাতে হয়।

আর তাই ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধু একটি প্রেসক্রিপশন নয়—এটি অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে পরিস্থিতি বুঝে, চিকিৎসার লক্ষ্য বদলে, একটার পর একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যাত্রা।

আজ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলাম পরিতোষবাবুর সেই আশ্চর্য যাত্রার একটি ছোট্ট মুহূর্ত।

আর ছবিটা আমার কাছে শুধু ডাক্তার আর রোগীর ছবি নয়।

এটা ২০২৩ সালের সেই কঠিন দিনগুলো থেকে আজ পর্যন্ত লড়াই করে পৌঁছে যাওয়া একজন শিক্ষক, তাঁর পরিবার এবং তাঁর চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলার একটি ছোট্ট স্মৃতি।

“ভাড়া কত দেব?”ক্যান্সার রোগী অটোতে উঠেছেন। হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন।অটোচালক হয়তো জানেন, এই যাত্রীর সামনে কী কঠিন সময় অ...
18/09/2026

“ভাড়া কত দেব?”

ক্যান্সার রোগী অটোতে উঠেছেন। হাসপাতালের দিকে যাচ্ছেন।

অটোচালক হয়তো জানেন, এই যাত্রীর সামনে কী কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

তাই গন্তব্যে পৌঁছে রোগী যখন বলেন,

— “কত ভাড়া দেব?”

উত্তর আসে,

— “কিছু দিতে হবে না। আপনি চিকিৎসা করান।”

ভাবুন তো, একজন অটোচালকের জন্য এই টাকাটা হয়তো খুব একটা কম নয়।

তিনি নিজেও খুব বড়লোক নন। সারাদিন অটো চালিয়ে সংসার চালান। তাঁরও পরিবার আছে, সন্তান আছে, বাড়ির খরচ আছে।

তারপরও তিনি একজন ক্যান্সার রোগীর কাছ থেকে ভাড়া নিলেন না। এটা শুধুই একটা বিনামূল্যের অটোযাত্রা নয়। এটা আসলে একজন মানুষের আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসা-যাওয়া—কথাটা শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে অনেক পরিবারের কাছে সেটা ততটাই কঠিন।

ওষুধের খরচ আছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ আছে। হাসপাতালের খরচ আছে। তার সঙ্গে আছে প্রতিদিনের যাতায়াতের খরচ।

বিশেষ করে দূরের কোনও ক্যান্সার হাসপাতালে যখন বারবার যেতে হয়, তখন অনেক পরিবারের কাছে হাসপাতালে পৌঁছনোটাই একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু এই কঠিন সময়ে কখনও কখনও পাশে এসে দাঁড়ান এমন কিছু মানুষ, যাঁদের কাছ থেকে আমরা হয়তো এমনটা আশাই করি না।

তাঁদের একজন—অটোচালক।

---

সম্প্রতি ডক্টর উদীপ্ত গোস্বামীর একটি গবেষণার কথা জানতে পেরে মনটা ভরে গেল

ডক্টর উদীপ্ত গোস্বামীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল একটি ক্যান্সার কংগ্রেসে। সেখানেই আলাপ, একসঙ্গে চা খাওয়া—আর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেন বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল।

খুব মিশুকে ছেলে। মুখে সবসময় হাসি লেগে আছে। প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি একটা মানুষ।

চেন্নাই থেকে মেডিক্যাল অনকোলজিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন সে ত্রিবান্দ্রামের রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টার (আরসিসি)-এ কর্মরত।

গত বছর কেরালায় বেড়াতে গিয়ে ত্রিবান্দ্রামে উদীপ্তর সঙ্গে আবার দেখা হয়েছিল। নিজে থেকেই আমার হোটেলে এসে আমাকে রাতে ওদের ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ আড্ডা হয়েছিল। সেই আড্ডায় আবারও মনে হয়েছিল—ছেলেটার মধ্যে একটা অদ্ভুত প্রাণশক্তি আছে।

আর সেই উদীপ্ত যখন ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়ানো এই অটোচালকদের নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টাডি করেছে, সত্যি বলতে কী, একজন সিনিয়র সহকর্মী হিসেবে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।

ত্রিবান্দ্রামের রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারকে ঘিরে ২৫ জন অটোচালককে নিয়ে করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁদের একটা বড় অংশ নিয়মিত ক্যান্সার রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

অনেকেই বিনামূল্যে বা কম ভাড়ায় রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন।

প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চালক প্রতি সপ্তাহে অন্তত কয়েকজন ক্যান্সার রোগী বা তাঁদের পরিজনকে বহন করেন।

আরও আশ্চর্যের বিষয়—অনেক চালক বলেছেন, তাঁরা কোনও কোনও রোগীর জন্য অপেক্ষাও করেন, অতিরিক্ত টাকা না নিয়েই।

অর্থাৎ শুধু হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া নয়— প্রয়োজনে রোগীর চিকিৎসা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও তাঁদের মানবিক দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু এই সাহায্যেরও একটা মূল্য আছে, এই মানুষগুলোর কথা আমরা খুব কমই ভাবি।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৭২% অটোচালক বলেছেন যে রোগীদের কম বা বিনামূল্যে ভাড়া দেওয়ার কারণে তাঁদের কিছুটা আয় কমে যায়। কেউ কেউ এই ক্ষতিকে মাঝারি থেকে গুরুতর বলেও বর্ণনা করেছেন।

অর্থাৎ তাঁরা শুধু তাঁদের সময় দিচ্ছেন না, নিজেদের উপার্জনের একটা অংশও ছেড়ে দিচ্ছেন।

তারপরও তাঁরা কেন করছেন?

উত্তরটা খুব সুন্দর।

সবচেয়ে বড় কারণ—সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি।

কেউ হয়তো নিজের পরিবারে ক্যান্সার দেখেছেন।

কেউ হয়তো কোনও কাছের মানুষকে এই রোগে হারিয়েছেন।

কেউ হয়তো শুধু বিশ্বাস করেন—

“আজ আমি যদি একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, হয়তো এটাই সবথেকে বড় পুজো, উপাচার অথবা ইবাদত—একজন মানুষের পাশে আরেকজন মানুষ হয়ে দাঁড়ানো।"

---

আমরা হাসপাতালের ক্যান্সার কেয়ার নিয়ে কথা বলি, নতুন ওষুধ নিয়ে কথা বলি। ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, কেমোথেরাপি নিয়ে আলোচনা করি। এসব অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু মাঝে মাঝে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাই - রোগীকে চিকিৎসার কাছে পৌঁছে দেওয়া। কারণ চিকিৎসা তখনই সম্ভব, যখন রোগী হাসপাতালে আসতে পারেন।

একজন রোগী যদি টাকার অভাবে হাসপাতালে আসতে না পারেন, তাহলে পৃথিবীর সেরা চিকিৎসাটাও তাঁর কাছে অর্থহীন।

সেই জায়গায় একজন অটোচালক হয়ে উঠতে পারেন চিকিৎসাব্যবস্থার এক নীরব সহযোদ্ধা।

আর উদীপ্তর এই গবেষণার সবচেয়ে সুন্দর দিকটা আমার কাছে এখানেই।

ক্যান্সার চিকিৎসার মতো অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর একটি ক্ষেত্রেও সে মানুষের এই ছোট ছোট মানবিকতাকে চিকিৎসার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

---

“ডাক্তারবাবু, আমাদেরও তো সংসার আছে…”

অবশ্যই আছে।

এই অটোচালকদের কাছ থেকে অসীম ত্যাগ আশা করা যায় না।

তাঁদেরও উপার্জন করতে হবে।

তাঁদের গাড়িতে জ্বালানি ভরতে হয়। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আছে। পরিবারের দায়িত্ব আছে।

তাই এই উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে সমাজেরও কিছু দায়িত্ব আছে।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া চালকদের একটা বড় অংশ বলেছেন, যদি তাঁদের জন্য কিছু সুবিধা—যেমন অগ্রাধিকার পার্কিং, জ্বালানি ভাউচার বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়া যায়, তাহলে তাঁরা আরও বেশি রোগীকে সাহায্য করতে আগ্রহী।

এখানেই একটা সুন্দর মডেলের কথা ভাবা যায়।

রোগীর জন্য বিনামূল্যে যাত্রা—কিন্তু চালকের জন্য সম্মান ও সহায়তা।

---

আমরা কি এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি না?

প্রতিটি বড় ক্যান্সার হাসপাতালের আশেপাশে এমন কিছু অটো বা ট্যাক্সিচালককে চিহ্নিত করা যেতে পারে, যাঁরা ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা দেবেন।

হাসপাতাল তাঁদের একটি পরিচয়পত্র দিতে পারে।

নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হতে পারে।

এনজিও বা সিএসআর-এর মাধ্যমে জ্বালানি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

হাসপাতালের সামাজিক পরিষেবা বিভাগ রোগীদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারে।

এতে লাভ হবে দু'পক্ষেরই।

রোগী পাবেন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত।

আর অটোচালকরা পাবেন তাঁদের মানবিক কাজের স্বীকৃতি এবং কিছু বাস্তব সহায়তা।

---

ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধু ওষুধে নয়

উদীপ্তর এই কাজটা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে একটা বিষয় নতুন করে ভাবিয়েছে।

আমরা যারা ক্যান্সার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত, আমরা প্রতিদিন ক্যান্সার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা করি।

কিন্তু একজন রোগীর চিকিৎসা মানে শুধু প্রেসক্রিপশন লেখা নয়।

তার হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারা,
চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারা,
চিকিৎসার খরচ সামলাতে পারা,
মানসিকভাবে ভেঙে না পড়া—

সবকিছুই ক্যান্সার কেয়ারের অংশ।

আর এই লড়াইয়ে ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল, পরিবার—সবার পাশাপাশি কখনও কখনও একজন অটোচালকও হয়ে উঠতে পারেন রোগীর নীরব সহযোদ্ধা।

উদীপ্ত, তোমার এই কাজের জন্য সত্যিই কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

একজন মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট হিসেবে তুমি আমাদের আবার মনে করিয়ে দিলে— "ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধু ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলার লড়াই নয়। এটা একজন মানুষকে তার কঠিনতম সময়ে মানুষের মতো করে পাশে থাকার লড়াইও।"

হয়তো একজন অটোচালকের হাতে কোনও কেমোথেরাপির ওষুধ নেই। কোনও অত্যাধুনিক মেশিন নেই। কোনও প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষমতাও নেই।

কিন্তু তাঁর কাছে আছে একটা অটো, কিছুটা সময়, আর একটা মানবিক মন।

আর কখনও কখনও, একজন অসহায় ক্যান্সার রোগীর জন্য এইটুকুই অনেক বড় হয়ে ওঠে।

উদীপ্ত, সত্যি তোমার জন্য খুব গর্ব হচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদের দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার মূল জায়গাগুলোর একটি তুমি ধরতে পেরেছ—ক্যান্সারের চিকিৎসাকে আরও মানবিক করে তোলার জায়গাটা।

তোমার এই ভাবনা শুধু একটি গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও অনেক হাসপাতাল, আরও অনেক শহর, আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছক।

কারণ শেষ পর্যন্ত— ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বড় আবিষ্কারের পাশাপাশি এই ছোট ছোট মানবিকতার গল্পগুলোর গুরুত্ব কোনও অংশেই কম নয়।

আর হয়তো এই ছোট ছোট মানবিকতাগুলিই একদিন আমাদের ক্যান্সার চিকিৎসাকে শুধু আরও উন্নত নয়, আরও মানবিক করে তুলবে।

ক্যান্সার কোষকে খুঁজে মেরে ফেলবে ‘স্মার্ট’ ওষুধ? বদলে যাচ্ছে ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা!ট্রিপল নেগেটিভ ব...
17/09/2026

ক্যান্সার কোষকে খুঁজে মেরে ফেলবে ‘স্মার্ট’ ওষুধ? বদলে যাচ্ছে ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা!

ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার—যে রোগের চিকিৎসা নিয়ে আসছে নতুন আশার আলো

গতকাল সন্ধ্যায় আমরা সকলে একসঙ্গে বসেছিলাম ব্রেস্ট ক্যান্সার, বিশেষ করে স্টেজ ৪ ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট তাঁদের টিম নিয়ে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। আর সুদূর ব্রাজিল থেকে ডক্টর কার্লোস ব্যারিওস আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

আলোচনার বিষয় ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ—
ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা আজ কোথায় দাঁড়িয়ে? আর আগামী দিনে আমরা কোথায় যেতে চলেছি?

প্রথমেই প্রশ্ন—ট্রিপল নেগেটিভ মানে কী?

আজকাল আমরা শুধু বলি না, “ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে, তাই কেমোথেরাপি হবে।”

কারণ সব ব্রেস্ট ক্যান্সার একরকম নয়।

বায়োপসি করার পরে কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে দেখা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস—

ER, PR এবং HER2।

এই তিনটির কোনোটিই যদি না থাকে, তখন তাকে বলা হয় Triple-Negative Breast Cancer বা TNBC।

একসময় এই রোগের ক্ষেত্রে আমাদের খুব বড় সমস্যা ছিল।

কারণ ভাবুন তো—
ER নেই, PR নেই, HER2 নেই। তাহলে কোনটাকে লক্ষ্য করে ওষুধ দেব?

তাই দীর্ঘদিন ধরে ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল।

কিন্তু বিজ্ঞান ধীরে ধীরে সেই ছবিটা বদলে দিয়েছে।

আমরা এখন জানি, ক্যান্সার কোষের গায়ে শুধু ER, PR বা HER2 থাকে না। আরও অনেক ধরনের চিহ্ন বা receptor থাকতে পারে।

এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ receptor হল TROP2।

অনেক ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের কোষে TROP2 পাওয়া যায়। আর এই TROP2-কে কাজে লাগিয়েই তৈরি হয়েছে এক নতুন ধরনের চিকিৎসা—Antibody-Drug Conjugate বা ADC।

ADC ব্যাপারটা কী?

সহজ করে বললে, এটাকে একটা “স্মার্ট ডেলিভারি সিস্টেম” ভাবতে পারেন।

ধরুন, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপির ওষুধ আছে। সেটি যদি সারা শরীরে সরাসরি দেওয়া হয়, তাহলে ক্যান্সার কোষের পাশাপাশি শরীরের ভালো কোষগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই বিজ্ঞানীরা কী করলেন?

একটি নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষকে খুঁজে বের করার মতো একটি অ্যান্টিবডি তৈরি করলেন।

তার সঙ্গে একটি লিঙ্কার দিয়ে জুড়ে দিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী একটি ক্যান্সার-ধ্বংসকারী ওষুধ।

অ্যান্টিবডিটি শরীরের মধ্যে গিয়ে তার target-কে খুঁজে বের করে। যেমন এখানে TROP2।

ক্যান্সার কোষের কাছে পৌঁছে সেটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর পুরো ওষুধটি ক্যান্সার কোষের ভিতরে ঢোকে। তারপর শক্তিশালী ওষুধটি সেখানে মুক্ত হয়ে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করার কাজ শুরু করে।

সহজ কথায়—

“ক্যান্সার কোষকে খুঁজে বের করো, তার কাছে শক্তিশালী ওষুধ পৌঁছে দাও এবং সেখানেই সেটিকে কাজ করতে দাও।”

এটাই ADC-এর মূল ধারণা।

এই কারণেই এখন নতুন নতুন ওষুধ নিয়ে এত আলোচনা

ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় TROP2-কে লক্ষ্য করে বেশ কিছু নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং চিকিৎসায়ও তাদের ভূমিকা তৈরি হচ্ছে।

যেমন—

Sacituzumab govitecan
Datopotamab deruxtecan
এবং নতুন প্রজন্মের Sacituzumab tirumotecan।

এদের লক্ষ্য একই ধরনের হলেও এদের গঠন, ওষুধের অংশ এবং কাজ করার পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই এদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এক নয়।

তাহলে কি ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার এখন আর ভয়ের নয়?

না, এমনটা বলা ঠিক হবে না।

ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার এখনও একটি কঠিন রোগ। বিশেষ করে যখন রোগটি শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে যায়, অর্থাৎ স্টেজ ৪ হয়।

কিন্তু আশার জায়গাটা হল—
আমাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি চিকিৎসার পথ রয়েছে।

ইমিউনোথেরাপি, নতুন ধরনের targeted treatment এবং ADC-এর মতো ওষুধ আমাদের চিকিৎসার পদ্ধতিকে ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে।

গতকালের আলোচনাটা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল

আমি আমার একজন ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীর কেস সেখানে তুলে ধরেছিলাম।

তারপর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ দেওয়া সহকর্মীদের সঙ্গে এবং ব্রাজিলের ডক্টর কার্লোস ব্যারিওসের সঙ্গে আলোচনা করেছি—

এই রোগীর ক্ষেত্রে এখন কী করা যায়?
কোন চিকিৎসা থেকে কী ধরনের উপকার আশা করা যায়?
এবং ভবিষ্যতে নতুন ওষুধগুলি কোথায় জায়গা করে নিতে পারে?

আলোচনায় ছিলেন মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, ব্রেস্ট ও সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট, অনকোপ্যাথোলজিস্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।

কারণ ক্যান্সারের চিকিৎসা আজ আর একজন চিকিৎসকের একার কাজ নয়।

অনেক বিশেষজ্ঞ মিলে রোগীকে বিভিন্ন দিক থেকে দেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।

এটাই হল Multidisciplinary Approach।

আর এখানেই ভবিষ্যতের আশা

একসময় ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারকে বলা হতো—

“এর তো কোনো target নেই।”

আজ বিজ্ঞান আমাদের বলছে—

“Target নেই” কথাটা হয়তো পুরোপুরি ঠিক নয়। আমাদের আরও গভীরে গিয়ে ক্যান্সার কোষকে চিনতে হবে।

কোন রোগীর ক্যান্সারে কোন receptor আছে, কোন রোগীর জন্য কোন ওষুধ উপযুক্ত, কোন চিকিৎসায় বেশি লাভ এবং কোন চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম—এই সবকিছু বুঝে চিকিৎসা করার দিকেই আমরা এগোচ্ছি।

আজকের চিকিৎসা যেমন বদলাচ্ছে, আগামী দিনের চিকিৎসা তার থেকেও আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক, target-based এবং biology-driven হতে চলেছে।

তাই ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার গল্পটা এখন আর শুধু “কেমোথেরাপি আছে কি নেই”—এই প্রশ্নে আটকে নেই।

বরং প্রশ্নটা এখন—

“ক্যান্সার কোষকে আমরা কতটা ভালোভাবে চিনতে পারছি, এবং সেই অনুযায়ী কতটা নির্দিষ্টভাবে তাকে আঘাত করতে পারছি?”

গতকালের আলোচনা থেকে সবচেয়ে বড় বার্তাটা আমার কাছে এটাই— বিজ্ঞান এগোচ্ছে।

তাই গতকালের এই আলোচনা সভা শুধুমাত্র একটি CME বা academic meeting ছিল না— এটি ছিল ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

Address

242, AJC Bose Road
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+919674446399

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO:

Shortcuts

Share

Category