Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO

Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO I am a medical oncologist. Oncology, however, remains its core focus.

This page started with the aim of spreading cancer awareness, and gradually became a platform to discuss health issues important to the common public.

কেমো শেষ, এবার এই ইনজেকশন! কেন দিতে হয় জানেন?কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার পর অনেক রোগী বা বাড়ির লোক আমাকে জিজ্ঞেস করেন—“ডাক্ত...
24/08/2026

কেমো শেষ, এবার এই ইনজেকশন! কেন দিতে হয় জানেন?

কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার পর অনেক রোগী বা বাড়ির লোক আমাকে জিজ্ঞেস করেন—“ডাক্তারবাবু, কেমোর পর একটা ইনজেকশন নিতে বলেছেন। এটা আবার কী? কেন দিতে হবে?”

“চামড়ার তলায় দিতে হবে নাকি?”

“কেমোর কতক্ষণ পরে দেব?”

“পেটে দেব, হাতে দেব, কোথায় দিলে ভালো?”

“হাসপাতাল থেকে যে ওষুধটা দিয়েছে, বরফ দিয়ে রাখতে বলেছে। ওষুধটা যদি গরম হয়ে যায়, তাহলে কি নষ্ট হয়ে যাবে?”

চলুন, আজ খুব সহজ করে এই ইনজেকশনটার গল্প জানা যাক।

এই ওষুধগুলিকে বলা হয় কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর। সহজ করে বললে, এগুলো শরীরকে সাদা রক্তকণিকা তৈরি করতে উৎসাহ দেয়। এর মধ্যে ফিলগ্রাস্টিম এবং পেগফিলগ্রাস্টিম খুব পরিচিত নাম।
কেমোথেরাপিয়ার পর কিছু সময়ের জন্য শরীরের সাদা রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে। তখন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি প্রাণঘাতী সংক্রমণও হতে পারে।
এই ইনজেকশন অনেকটা শরীরকে বলে—
“চল, এবার একটু বেশি করে সাদা রক্তকণিকা তৈরি করা যাক।”
কেমোর কতক্ষণ পরে দিতে হয়?

এখানে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।
সাধারণভাবে এই ধরনের ইনজেকশন কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পরে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া হয়। তবে ঠিক কখন দিতে হবে, সেটা কোন ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের কেমো হয়েছে তার উপর নির্ভর করে।

তবে অনেক রোগী আমায় প্রশ্ন করেন—“ডাক্তারবাবু, এটা আজই, মানে কেমোথেরাপির পরেই কি দেওয়া যায় না? আবার বাড়ি গিয়ে কাল ব্যবস্থা করতে হবে? তার চেয়ে আজই হাসপাতালে দিয়ে দিন না!”

আমার উত্তর হয়—না। কেমোর একই দিনে দেওয়া ঠিক নয়।

কেন?

কারণ কেমোথেরাপি তখনও শরীরের দ্রুত বিভাজিত কোষগুলির উপর কাজ করছে। এই সময় সাদা রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়াকে তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে দিলে কেমোথেরাপির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হতে পারে এবং কেমোর কার্যকারিতাও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সহজ কথায়—আগে কেমো তার কাজ করুক, তারপর শরীরকে নতুন সাদা রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করা হোক।

তাই নিজের মতো করে সময় ঠিক করবেন না। আপনার চিকিৎসক যে সময় বলেছেন, সেটাই অনুসরণ করবেন।

কোথায় দিতে হয়?

এগুলো সাধারণত চামড়ার ঠিক নিচে দেওয়া হয়।পেটের চামড়া, উরু বা অন্য নির্দিষ্ট জায়গায় দেওয়া যেতে পারে। কোথায় দিলে সবচেয়ে ভালো হবে, তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই। প্রশিক্ষিত নার্স বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী দিলেই হয়।

ওষুধটা কীভাবে রাখবেন?

এই অংশটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।ফিলগ্রাস্টিম বা পেগফিলগ্রাস্টিম সাধারণত ২–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়।

ধরুন, আপনি আগের রাতে ওষুধটি কিনে আনলেন এবং পরের দিন ইনজেকশন দেওয়ার কথা। তাহলে ওষুধটি বাড়ির ফ্রিজে ২–৮°C তাপমাত্রায় রাখতে পারেন। সম্ভব হলে ফ্রিজের মাঝের তাকে রাখুন।
ডিপ ফ্রিজারে রাখবেন না। ফ্রিজারের চিলিং অংশেও রাখবেন না। সরাসরি বরফের সঙ্গে লাগিয়ে রাখবেন না।
আবার বাইরে ঘরের তাপমাত্রাতেও ফেলে রাখবেন না।

আর যদি ভুল করে ওষুধ কিছুক্ষণ বেশি গরম হয়ে যায় বা জমে যায়, নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবহার করবেন না। কতক্ষণ এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল সেটা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

এর কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
হ্যাঁ, থাকতে পারে।
সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হলো হাড়ে বা শরীরে ব্যথা।
অনেক রোগী আমায় বলেন—“ডাক্তারবাবু, কেমো দেওয়ার পর তো কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এই পেগফিলগ্রাস্টিম ইনজেকশন দেওয়ার পর প্রচণ্ড গা, হাত-পা ব্যথা শুরু হয়েছে!”

আসলে এই ওষুধগুলো আমাদের অস্থিমজ্জায় কাজ করে। অস্থিমজ্জা হলো শরীরের সেই জায়গা, যেখানে রক্তের বিভিন্ন কোষ তৈরি হয়। এই ইনজেকশন সেখানে সাদা রক্তকণিকা তৈরির কাজ বাড়িয়ে দেয়।
স্বাভাবিকভাবেই সেই কারণে অনেকের হাড়ে বা শরীরে ব্যথা শুরু হতে পারে।

কখনও মাথাব্যথা বা ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় সামান্য অস্বস্তিও হতে পারে।

তবে সবার এমন হবে না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো সামলানো যায়। অনেক সময় খুব তাড়াতাড়িই ব্যথা কমেও যায়।

আর “শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, প্যারাসিটামল ভরসা” তো আছেই!

তবে প্যারাসিটামল বা অন্য কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

একটা কথা মনে রাখবেন—এই ইনজেকশন কিন্তু কেমোথেরাপির বিকল্প নয়। এটি কেমোথেরাপির পর শরীরকে সামলে উঠতে সাহায্য করার একটি সহায়ক চিকিৎসা। বরং ভাবুন—কেমোথেরাপি তার কাজ করেছে, আর এবার শরীরকে আবার শক্তি ফিরে পেতে একটু সাহায্য করা হচ্ছে।

তবে কোন রোগীর এই ইনজেকশন দরকার, কোনটি দরকার, কখন দিতে হবে—এসব সিদ্ধান্ত রোগীর কেমোথেরাপি এবং সংক্রমণের ঝুঁকি দেখে চিকিৎসকই নেবেন।

সব কেমোথেরাপির পর এই ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না।
তাই নিজে থেকে কিনে নিয়ে বা নিজের মতো করে সময় ঠিক করে এই ইনজেকশন নেবেন না।

তাই কেমোর পর এই ইনজেকশন পেলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
কেমো তার কাজ করুক, ইনজেকশন তার কাজ করুক, আর আমরা?
ডাক্তারের কথা মেনে চলি, একটু ধৈর্য রাখি, আর শরীরকে সময় দিই।
শেষ পর্যন্ত লড়াইটা ক্যান্সারের সঙ্গে—ইনজেকশনের সঙ্গে তো আর নয়!

পিয়ারলেস হাসপাতালে মহিলাদের ক্যান্সার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভাগতকাল পিয়ারলেস হাসপাতাল এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ রেডি...
23/08/2026

পিয়ারলেস হাসপাতালে মহিলাদের ক্যান্সার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাসভা

গতকাল পিয়ারলেস হাসপাতাল এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ রেডিয়েশন অনকোলজিস্টস ইন ইন্ডিয়া (AROI)-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল মহিলাদের ক্যান্সার, বিশেষ করে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার।
কলকাতা এবং আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু প্রতিষ্ঠিত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে এটি শুধুমাত্র রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এই ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরাও আলোচনায় অংশ নেন।

কারণ আজকের দিনে ক্যান্সারের চিকিৎসা আর কোনও একটি বিভাগের একার দায়িত্ব নয়।

একজন রোগীর চিকিৎসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজিস্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং অনকোপ্যাথোলজিস্ট—প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আলোচনায় উঠে এল সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা, রেডিয়েশন দেওয়ার নতুন পদ্ধতি, কীভাবে চিকিৎসাকে আরও নির্ভুল করা যায় এবং কীভাবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে রোগীকে আরও ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

পাশাপাশি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের চিকিৎসাতেও গত কয়েক বছরে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হলো। কোন রোগীর ক্ষেত্রে শুধু অপারেশন যথেষ্ট, কার ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি দরকার, কোথায় কেমোথেরাপি বা নতুন ধরনের ওষুধের প্রয়োজন—এসব নিয়েও মতবিনিময় হলো।

আমার ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের অনুষ্ঠান খুব ভালো লাগে।

কারণ এখানে শুধু বক্তৃতা হয় না। একজন চিকিৎসক তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা বলেন, অন্যজন তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে প্রশ্ন তোলেন। কখনও মতের মিল হয়, কখনও মতের অমিল। আর সেই আলোচনার মধ্য দিয়েই হয়তো আরও ভালো কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়।

সবচেয়ে ভালো লাগল, এতজন অভিজ্ঞ চিকিৎসককে একই জায়গায় বসে মহিলাদের ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে দেখে।

ক্যান্সার চিকিৎসা প্রতিদিন বদলাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি আসছে, নতুন ওষুধ আসছে, চিকিৎসার পদ্ধতি আরও নিখুঁত হচ্ছে।
আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদেরও প্রতিনিয়ত শিখে যেতে হয়।

শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত আলোচনা, এই সমস্ত পরিশ্রমের একটাই উদ্দেশ্য—একজন রোগী যেন আগামীকাল আরও একটু ভালো চিকিৎসা পান।

আর সেই কারণেই হয়তো চিকিৎসকদের এই আড্ডাগুলো এত জরুরি।

“কেমোথেরাপি দিলে কি খুব ব্যথা হয়?”ক্যান্সার রোগীর বাড়ির লোকেরা আমার কাছে এসে যে প্রশ্নগুলো করেন, তার মধ্যে এই প্রশ্নটা...
22/08/2026

“কেমোথেরাপি দিলে কি খুব ব্যথা হয়?”

ক্যান্সার রোগীর বাড়ির লোকেরা আমার কাছে এসে যে প্রশ্নগুলো করেন, তার মধ্যে এই প্রশ্নটা খুব পরিচিত—

প্রশ্নটা শুনতে সহজ। কিন্তু এর পিছনে যে কতটা ভয় লুকিয়ে থাকে, সেটা আমরা চিকিৎসকেরা বুঝতে পারি।

আমি সাধারণত বলি, কেমোথেরাপি মানেই ব্যথা—এটা ঠিক নয়।
কেমোথেরাপির ওষুধ কীভাবে দেওয়া হবে, তার উপর কিছুটা নির্ভর করে। বেশিরভাগ সময় ওষুধ শিরায় দেওয়া হয়। তখন সুচ ফোটানোর সময় সামান্য ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু ওষুধ শরীরে ঢোকার সময় সাধারণত তীব্র ব্যথা হওয়ার কথা নয়।

তবে কেমোথেরাপির পর কিছু মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। কারও বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, মুখে ঘা, খাবারে অরুচি হতে পারে। কারও শরীর ব্যথা করতে পারে। আবার কারও একেবারেই তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা। সব কেমোথেরাপি একরকম নয়।
কোন ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, কতটা মাত্রায় দেওয়া হচ্ছে, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা কেমন—এসবের উপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেকটাই নির্ভর করে।

আর আজকের দিনে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য আমাদের হাতে অনেক ভালো ওষুধ রয়েছে।

বমি আটকানোর ওষুধ, ব্যথা কমানোর ওষুধ, মুখের ঘা বা অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসা—প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো দেওয়া হয়। তাই কেমোথেরাপি মানেই দিনের পর দিন অসহ্য কষ্ট সহ্য করতে হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

আর একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কেমো চলাকালীন কোনো সমস্যা হলে চুপ করে সহ্য করবেন না।
“কেমো তো চলছে, এগুলো হবেই”—এটা ভেবে বসে থাকবেন না।
ছোট সমস্যা শুরুতেই জানালে অনেক সময় সেটাকে বড় সমস্যা হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

কেমোথেরাপি নিয়ে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু কেমোথেরাপিকে ভয় পাওয়ার চেয়ে, কীভাবে এই চিকিৎসাটা যতটা সম্ভব আরামে নেওয়া যায় সেটা নিয়ে আমাদের কথা বলা বেশি জরুরি।

শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসা শুধু রোগের সঙ্গে লড়াই নয়। রোগী যাতে চিকিৎসার সময় যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সেটাও চিকিৎসারই একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাই কেমোথেরাপির নাম শুনে আগে থেকেই ভয় পাবেন না।
জানুন, প্রশ্ন করুন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

ভয়টা অনেক সময় অজানা জায়গা থেকেই আসে। জানা হয়ে গেলে সেই ভয়টা অনেকটাই কমে যায়।

আগামীকাল পিয়ারলেস হাসপাতালে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদে...
21/08/2026

আগামীকাল পিয়ারলেস হাসপাতালে একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অফ রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার এবং এই দুই ক্যান্সারের চিকিৎসায় আধুনিক রেডিওথেরাপির ভূমিকা।

মূলত রেডিয়েশন অনকোলজিস্টদের অনুষ্ঠান হলেও আলোচনায় থাকবেন এই রোগগুলির চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা—গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজিস্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট, অনকোপ্যাথোলজিস্ট, মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং আরও অনেকে।

অর্থাৎ, এক ছাদের তলায় বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে ক্যান্সার চিকিৎসার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হবে। আধুনিক চিকিৎসায় এই ধরনের মাল্টিডিসিপ্লিনারি আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানটি আগামীকাল দুপুর ১টা থেকে শুরু হবে। তাই আগামীকাল আমি নিজে ওপিডিতে থাকতে পারছি না।

তবে চিন্তার কিছু নেই। ডা. শাওনি পারাই ওপিডি পরিষেবা চালু রাখবেন এবং রোগীদের দেখবেন।

আজ, শুক্রবার আমি যথারীতি আছি। খুব জরুরি প্রয়োজন হলে আগামীকালও আসতে পারেন—ডা. শাওনি দেখে নেবেন। আর সোমবার থেকে আমি আবার যথারীতি ওপিডিতে থাকছি।

সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনাদের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

“নারী পুরুষ সমান সমান, আছে যে তার অনেক প্রমাণ”“নারী পুরুষ সমান সমান, অনেকটা তাও মানতে পারি.....লক্ষ ব্লেডে কামালেও উঠবে ...
20/08/2026

“নারী পুরুষ সমান সমান, আছে যে তার অনেক প্রমাণ”

“নারী পুরুষ সমান সমান, অনেকটা তাও মানতে পারি.....
লক্ষ ব্লেডে কামালেও উঠবে না তো গোঁফ আর দাড়ি ....”

মৌচাক ছবিতে উত্তম কুমার আর মিঠু মুখার্জির সেই মজার গানের লড়াই—“নারী বড় না পুরুষ বড়”।

গোঁফ আর দাড়ির এই কুযুক্তি দিয়ে উত্তম কুমার মিঠু মুখার্জিকে হারিয়ে দিয়েছিলেন বটে। কিন্তু তার পর স্বীকার করেছিলেন যে গোঁফ আর দাড়ি তো আর পুরুষের ইনস্পিরেশন নয়, নারীই পুরুষের ইনস্পিরেশন। কথাটা তখনকার যুগে পার পেয়ে গেলেও আজকের যুগে এই কথা বললে মহানায়কের পিঠের হাড়গোড় একটা দুটো ভাঙতেই পারে।

আজকের যুগে নারীরা শুধু ইনস্পিরেশন, ভালো কাজ করার—এই কথাটা শুধু যে গ্রহণযোগ্য নয়, তাই নয়, বরং অপমানজনক। নারীরা আজ সমান তালে কাজ করে চলেছে পুরুষদের সাথে সাথে।

আমার ফিল্ডেই দেখুন না। মহিলারা ডাক্তারিতে কোনো অংশে কম নয়। আমার সাথে কাজ করেন ডা. শাওনি পারাই। ওনার জ্ঞান, যোগ্যতা এবং ওয়ার্ক এথিক নিয়ে কিছু বলার নেই। অনেক পুরুষ অনকোলজিস্টকে দাঁড় করিয়ে ৫ গোল দিতে পারেন উনি। যদিও প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার জন্য অনেক লড়াই করতে হয় ওনাকে।

অনেকেই আছেন যারা ওনার সামনেই আমাকে “স্যার” আর ওনাকে “দিদি” বলে সম্বোধন করেন। এটা যে কত বড় অপমানের ব্যাপার সেটা হয়তো সকলে বুঝতে পারেন না।

“মহিলারাই মহিলাদের সব থেকে বড় শত্রু।”
এই কথাটা শুনে এসেছি। সত্যিই, বেশিরভাগ সময়, এই “দিদি” নামের আক্রমণটা মহিলাদের থেকেই আসে দেখেছি!

তবে ডাক্তারিতেও মহিলাদেরই স্থান আছে বইকি?
মহিলারা গাইনোকলজিস্ট হবেন, চাইল্ড স্পেশালিস্ট, এমনকি কার্ডিও বা নেফ্রো অবধি ও চলতে পারে।

কিন্তু সার্জন??

পাগল নাকি?

মহিলা ডাক্তার আবার অপারেশন করতে পারে নাকি?

তাও মহিলাদের অপারেশন যেমন গাইনি বা ব্রেস্ট সার্জন চলতে পারে। তাই বলে একটা মহিলা আমার পেট কাটবে? কেটে তো দিলো, তারপর জুড়তে পারবে তো?

এমন চিন্তাধারা আমাদের দেশের মহিলা সার্জনদের প্রতিনিয়ত শুনতে হয়।

পিয়ারলেসে আমার বন্ধু, ডা. পল্লবিকা মণ্ডল। সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট। এআইআইএমএস, দিল্লি থেকে এমসিএইচ করা। জ্ঞানী এবং হাতের কাজ একসাথে এত উচ্চ মানের হতে পারে, সেটা ওকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না।

সেইটাকে দেখে রোগীরা প্রথমেই ভাবেন?
মহিলা ডাক্তার? অপারেশনটা ঠিকঠাক হবে তো?
অনেকে ওনার কাছে যেতে বলাতে আমায় প্রশ্ন করেছেন,
“ডাক্তারবাবু আর কোনো বড় ডাক্তার নেই?”
আসলে মুখে কেউ স্বীকার করতে পারেন না যে মহিলা সার্জনের ওপর ভরসা নেই।
আমি তখন বলি, উনি কলকাতার একজন সেরা অনকোসার্জন। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস আছে ওনার ওপর।

তাহলে কি মহিলা সার্জনরা সত্যিই ভালো সার্জন?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে তো হবে না। দরকার অনেক রোগী, অনেক অপারেশন এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য।

আমাদের দেশে এসব গবেষণা করার মানসিকতা নেই, কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার একটি বড় গবেষণায় এই বিষয়টাই দেখা হয়েছে।

প্রায় ২২ লক্ষ ৯০ হাজার রোগী, ১৪ ধরনের বড় অপারেশন এবং ৬৫ থেকে ৯৯ বছর বয়সি রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সময়কাল ছিল ২০১৬ থেকে ২০১৯।

ফলাফলটা বেশ চমকপ্রদ।

যেসব রোগীর অপারেশন মহিলা সার্জনরা করেছিলেন, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সামান্য ভালো ছিল।

অপারেশনের ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল—
মহিলা সার্জনের রোগীদের ক্ষেত্রে ২.৬%
আর পুরুষ সার্জনের রোগীদের ক্ষেত্রে ৩.০%।
এক বছর পরে এই পার্থক্য আরও দেখা যায়—
৩.৯% বনাম ৪.৪%।

শুনতে পার্থক্যটা খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যে এই ছোট পার্থক্যটিও গবেষণার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও মজার ব্যাপার হলো, মহিলা রোগীর চিকিৎসা যদি মহিলা সার্জন করেন, তাহলে তাঁদের আবার হাসপাতালে ফিরে আসার ঘটনা এবং কিছু জটিলতা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।

তাহলে কি গবেষণাটি প্রমাণ করল যে মহিলা সার্জনরাই ভালো?

না, এত সহজে বলা যাবে না।
গবেষণাটি মূলত একটি সম্পর্ক দেখেছে। এর অর্থ এই নয় যে মহিলা হওয়ার কারণেই একজন সার্জন ভালো ফল করেন।

তাহলে আসল কারণ কী হতে পারে?

গবেষকরা মনে করছেন, রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ, চিকিৎসা বোঝানো, চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে সাহায্য করা, অপারেশনের পরের যত্ন—এই বিষয়গুলোও হয়তো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু—“সার্জন মহিলা না পুরুষ?”
হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—“রোগীর যত্ন কীভাবে দেওয়া হচ্ছে?”

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এই গবেষণা মহিলা সার্জনদের বিরুদ্ধে প্রচলিত অনেক ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

শেষ পর্যন্ত ভালো চিকিৎসার আসল পরিচয় লিঙ্গে নয়।
দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ, যত্ন এবং রোগীর প্রতি দায়িত্ববোধ—এসবই একজন ভালো চিকিৎসকের আসল পরিচয়।

আর একটা কথা একটু লজিক দিয়ে ভেবে দেখবেন।
আমাদের সমাজে মহিলাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হয়ে কাজ করতে হয়। আজ আমি যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছতে আমায় যদি ৫টা হার্ডল টপকাতে হয়েছে, আমার জায়গায় থাকা কোনো মহিলাকে ৫০টা হার্ডল টপকাতে হবে।

কাজেই একই পজিশনে থাকা পুরুষ ডাক্তারের থেকে হয়তো মহিলা ডাক্তার একটু বেশিই ভালো হবেন।

তাই যখন নিজের জন্য ডাক্তার খুঁজবেন, তিনি পুরুষ না মহিলা সেটা ভাববেন না। তিনি ডাক্তার হিসেবে কেমন, শুধু সেটুকুই বিচার করবেন।

আর সবশেষে একটা কথা—

পুরুষ ডাক্তারদের স্যার বলে ডাকলে, মহিলা ডাক্তারকে ম্যাডাম বলুন। সেটা খুব দুরূহ মনে হলে বরং পুরুষ ডাক্তারবাবুকে দাদা, জেঠু বা মেশোমশাই বলুন।

এক যাত্রায় পৃথক ফল করবেন না।

আর এর পরও না বুঝলে কিন্তু আমাদের গাইতে হবে—

“পাগলাগারদ কোথায় আছে, নেই বুঝি তা জানা....”

অনকোলজিস্ট ডাক্তারবাবু কি ৫-ফ্লুরোরাসিল (5-Fluorouracil বা 5-FU) নামে কোনও কেমোথেরাপি দিচ্ছেন?কেমোথেরাপি দেওয়ার পর কি ব...
19/08/2026

অনকোলজিস্ট ডাক্তারবাবু কি ৫-ফ্লুরোরাসিল (5-Fluorouracil বা 5-FU) নামে কোনও কেমোথেরাপি দিচ্ছেন?

কেমোথেরাপি দেওয়ার পর কি বুক ধড়ফড় শুরু হয়েছে?
ডায়রিয়া হচ্ছে?

যে শিরায় কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল, সেই শিরাটা কি কালচে হয়ে যাচ্ছে, শক্ত হয়ে যাচ্ছে বা ব্যথা করছে?

তাহলে আজকের লেখাটা আপনার জন্য।

৫-FU কেমোথেরাপি—কিছু কথা জানা খুব জরুরি l
স্টমাক ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, রেক্টাল ক্যানসার, প্যানক্রিয়াসের ক্যানসার—এরকম অনেক ক্যানসারের চিকিৎসায় 5-FU নামে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কেমোথেরাপির ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

অনেক সময় এই ওষুধটা একবারে দিয়ে দেওয়া হয় না। একটা ছোট্ট পাম্পের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা, ৪৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে শরীরে দেওয়া হয়।

শুনতে খুব সহজ মনে হলেও, এই ওষুধটা দেওয়ার কিছু নিয়ম আছে। সেই নিয়মগুলো ঠিকমতো না মানলে দুটো সমস্যা হতে পারে।

এক—ওষুধ ঠিকভাবে শরীরে পৌঁছতে নাও পারে।

দুই—ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি হতে পারে।

হাতের শিরা দিয়ে দিলে কী হয়?

অনেক সময় হাতের সাধারণ শিরায় chemotherapy দেওয়া হয়। কিন্তু 5-FU-এর মতো ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে চললে সেই শিরায় সমস্যা হতে পারে।

শিরায় জ্বালা হতে পারে, ব্যথা হতে পারে, প্রদাহ হতে পারে। কখনও শিরাটা কালচে বা শক্ত হয়ে যেতে পারে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—কখনও কখনও ওষুধটা শিরার বাইরে আশপাশের টিস্যুতেও চলে যেতে পারে। তাই chemotherapy চলাকালীন হাতে ব্যথা, জ্বালা, ফোলা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে সেটা কখনও লুকিয়ে রাখবেন না। সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা ডাক্তারকে জানান।

তাহলে উপায়?

উপায় আছে।

যে ওষুধটা অনেকক্ষণ ধরে দিতে হবে, সেটাকে এমন একটি পথে দেওয়া যায় যাতে হাতের ছোট শিরার উপর চাপ কম পড়ে।
এখানেই আসে PICC line আর Chemoport।

PICC line কী?

PICC line হল একটি বিশেষ ধরনের সরু, লম্বা নল। এটি হাতের একটি শিরা দিয়ে ঢুকিয়ে তার মাথাটা বুকের বড় রক্তনালির কাছে রাখা হয়। ফলে chemotherapy সরাসরি একটি বড় রক্তনালিতে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে infusion দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বেশ সুবিধাজনক।

Chemoport কী?

Chemoport হল আরও একটি খুব সুন্দর ব্যবস্থা।
চামড়ার নিচে ছোট্ট একটা port বসিয়ে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে একটি সরু নল থাকে, যেটা শরীরের ভেতরের বড় রক্তনালির সঙ্গে যুক্ত থাকে।

বাইরে থেকে শুধু ছোট্ট একটা উঁচু জায়গা বোঝা যায়। যখন chemotherapy দেওয়ার দরকার হয়, বিশেষ needle দিয়ে সেই port-এ ওষুধ দেওয়া হয়।

ফলে বারবার হাতের শিরায় ক্যানুলা করার ঝামেলা কমে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে chemotherapy দেওয়াও অনেক সহজ হয়।
অবশ্য প্রত্যেক রোগীর Chemoport বা PICC line লাগবেই এমন নয়। কোন রোগীর জন্য কোনটা ভালো, সেটা তাঁর chemotherapy, চিকিৎসার সময়কাল এবং শিরার অবস্থার উপর নির্ভর করে।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—DPYD testing
5-FU নিয়ে কথা বললে আর একটা বিষয় আজকাল জানা খুব দরকার। আমাদের শরীরে DPD নামে একটা enzyme আছে। এই enzyme 5-FU-কে শরীরের মধ্যে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে।

কিন্তু কিছু মানুষের শরীরে এই enzyme স্বাভাবিকভাবে কম কাজ করে। এর পিছনে থাকতে পারে DPYD gene-এর কিছু পরিবর্তন।

এমন কারও শরীরে যদি সাধারণ dose-এর 5-FU দেওয়া হয়, তাহলে ওষুধটা শরীরে বেশি পরিমাণে জমে যেতে পারে।

ফলে হতে পারে—প্রচণ্ড ডায়রিয়া, মুখে ঘা, রক্তের সাদা কণিকা খুব কমে যাওয়া, সংক্রমণ, দুর্বলতা—এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানিও হতে পারে।

তাই 5-FU শুরু করার আগে অনেক ক্ষেত্রে DPYD testing করার কথা ভাবা হয়।

সহজ করে বললে, এই পরীক্ষা আমাদের একটা ধারণা দিতে পারে যে আপনার শরীর 5-FU-কে স্বাভাবিকভাবে সামলাতে পারবে কি না।

যদি দেখা যায় enzyme-এর কাজ কিছুটা কম, তাহলে শুরু থেকেই 5-FU-এর dose কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে। পরে রোগীর শরীরে ওষুধের প্রভাব দেখে dose ধীরে ধীরে ঠিক করা যায়।

আর যদি enzyme-এর কাজ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণত 5-FU বা একই ধরনের কিছু ওষুধ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

তাহলে কি 5-FU নিয়ে ভয় পাওয়ার দরকার?

না। একেবারেই নয়।

5-FU বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ক্যানসারের ওষুধ।

শুধু ওষুধটা দেওয়ার আগে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার— সঠিক রোগী, সঠিক dose, সঠিক পথে ওষুধ দেওয়া এবং সঠিক monitoring।

আর chemotherapy চলাকালীন যদি অস্বাভাবিক বুক ধড়ফড়, প্রচণ্ড ডায়রিয়া, মুখে অনেক ঘা, হাতের শিরায় তীব্র ব্যথা/জ্বালা, ফোলা বা কালচে হয়ে যাওয়া—এরকম কিছু হয়, তাহলে অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত আপনার oncologist-কে জানান।

কারণ chemotherapy মানে শুধু একটা ওষুধ শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া নয়।

কোন ওষুধ, কতটা dose, কীভাবে দিতে হবে এবং রোগীর শরীর সেই ওষুধকে কীভাবে সামলাচ্ছে—সবকিছুর উপরেই চিকিৎসার সাফল্য এবং নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে।

সঠিক জ্ঞান আর সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসাকে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।

ঝটিকা সফরে গিয়েছিলাম জামশেদপুর। টাটা মোটরস হাসপাতালের একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে।আমার সঙ্গে ছিলেন আমাদের ক্লিনিক্যাল ডি...
17/08/2026

ঝটিকা সফরে গিয়েছিলাম জামশেদপুর। টাটা মোটরস হাসপাতালের একটি আলোচনা সভায় যোগ দিতে।
আমার সঙ্গে ছিলেন আমাদের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর, ডা. অয়ন বসু।

সকাল ৮টায় কলকাতা থেকে রওনা। সারাদিনের ব্যস্ততা। জামশেদপুরে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে আবার গাড়িতে রাতের যাত্রা। রাত ১টায় কলকাতায় ফেরা।

মোটামুটি গাড়িতে ১২ ঘণ্টা।

ক্লান্তি ছিল ঠিকই, তবে যে কাজটা করতে গিয়েছিলাম, তার জন্য এই কষ্টটা যথার্থই সার্থক বলা যায়।

আমরা গিয়েছিলাম টাটা মোটরসের চিকিৎসকদের সঙ্গে পিয়ারলেস হাসপাতালের নতুন ক্যান্সার উইং সম্পর্কে কথা বলতে। আমাদের এখানে আধুনিক মেডিক্যাল অনকোলজিতে কী কী পরিষেবা রয়েছে, কীভাবে আমরা ক্যান্সার চিকিৎসাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি—সেই কথাই ছিল মূল আলোচনার বিষয়।

কেমোথেরাপি থেকে শুরু করে হাই-ডোজ কেমোথেরাপি, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কীভাবে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—এসব নিয়ে আলোচনা হলো।

তারপর কথা হলো গত কয়েক বছরে অনকোলজির যে অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে, তা নিয়ে।
টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, অ্যান্টিবডি ড্রাগ কনজুগেট—ক্যান্সারের চিকিৎসা আজ কতটা বদলে গেছে, সেই গল্পও উঠে এল আলোচনায়।

আমার পর বলতে উঠলেন ডা. অয়ন বসু। তিনি শুধু কয়েকটি ছবির মাধ্যমে বোঝালেন, আমাদের হাসপাতালে অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি কীভাবে দেওয়া হচ্ছে।

মাত্র মাস দুয়েক হয়েছে আমাদের রেডিওথেরাপি বিভাগ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই স্টেরিওট্যাকটিক রেডিওথেরাপি, আইএমআরটি, আইজিআরটি, ব্র্যাকিথেরাপি—সবকিছুই চালু হয়ে গেছে।

সকলেই বিষয়টি বেশ প্রশংসা করলেন।

সবচেয়ে ভালো লাগল, আলোচনায় উপস্থিত চিকিৎসকদের উৎসাহ দেখে। নতুন চিকিৎসা সম্পর্কে জানার আগ্রহ, প্রশ্ন করার আগ্রহ—সবকিছুই চোখে পড়ার মতো।

ফেরার পথে রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। শরীর ক্লান্ত। কিন্তু মনে হচ্ছিল, আজকের বারো ঘণ্টার গাড়ির সফরটা বোধহয় সার্থকই হয়েছে।

কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে আমরা যত এগোব, সেই অগ্রগতির শেষ সুবিধাটা তো পৌঁছবে একজন রোগীর কাছেই।
আর সেই পথটা তৈরি করার জন্যই হয়তো এতটা পথ যাওয়া, এতটা পথ ফিরে আসা।

আশি তে আসিও নাক্যান্সার রোগীদের নিয়ে যখন বাড়ির লোকেরা আমার কাছে আসেন, অনেকেই বলেন,“ডাক্তারবাবু, ওনার তো বয়স হয়ে গেছে...
16/08/2026

আশি তে আসিও না

ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে যখন বাড়ির লোকেরা আমার কাছে আসেন, অনেকেই বলেন,“ডাক্তারবাবু, ওনার তো বয়স হয়ে গেছে। এই বয়সে আর বেশি চিকিৎসা করে কী হবে? আপনি বরং ওনাকে ব্যথার ওষুধ দিয়ে দিন। শেষ যে ক’টা দিন উনি থাকবেন, একটু ভালো করে থাকুন।”

কথাটার মধ্যে যুক্তি আছে বইকি। অনেক সময় আমিও সেই সিদ্ধান্তই দিই। যখন দেখি রোগী ক্যান্সারের চিকিৎসার ধকল সহ্য করতে পারবেন না, তখন আমারও লক্ষ্য থাকে ব্যথা আর অন্যান্য উপসর্গগুলো কমিয়ে রোগীকে যতটা সম্ভব আরামে রাখা। আপনাদের আগেও বলেছি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ আমার কাছে আসেন, যাঁরা এতটাই জীবনশক্তিতে ভরপুর যে তাঁদের সেরা চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করাটাই ঠিক বলে মনে হয়।

কেশববাবু তেমনই একজন মানুষ। বয়স আশির ওপর।
আসলে ওনার ভাই আমার কাছে প্রায় দু’বছর ধরে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনিই কেশববাবুকে আমার কাছে নিয়ে এসেছিলেন।

ফুসফুসের ক্যান্সার।
স্বাভাবিকভাবেই প্রথমবার যখন এসেছিলেন, যথেষ্ট ভয়ের মধ্যে ছিলেন। কিন্তু একটা জিনিস প্রথম দিনই আমার চোখে পড়েছিল—উনি হাসতে পারেন বেশ! এই পরিস্থিতিতেও আমার ঠাট্টাগুলোতে বেশ হাসছিলেন।

আমার একটা নিজস্ব তত্ত্ব আছে। কোনো রোগী যদি এই ভয়ংকর রোগের মধ্যেও নিজের রসবোধটুকু ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার একটা সুযোগ অবশ্যই আছে।

কোনো জার্নালে বেরোনো পেপার নয়।
এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া উপলব্ধি।

পিইটি স্ক্যান করে দেখা গেল, রোগটা শুধু ফুসফুসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
প্রথমে তিনটি সাইকেল কেমোথেরাপি দেওয়া হলো। তারপর আবার পিইটি স্ক্যান করে দেখা গেল, রোগটা আরও ছোট হয়ে গেছে।
তখন ওনাকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হলো—লক্ষ্য, ক্যান্সারটাকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার চেষ্টা করা।

গত সপ্তাহে আবার দেখা করতে এসেছিলেন।
রেডিওথেরাপি সম্পূর্ণ হয়েছে।
আর মুখে সেই একই হাসি—যে হাসিটা প্রথম দিন আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল।

আমি বললাম, “আমার একটা ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে কি আপনার এই ঘটনাটা শেয়ার করতে পারি?”

সানন্দে রাজি হলেন। ওনার ছেলেই ছবিটা তুলে দিলেন।

কিছু কিছু মানুষ এভাবেই লড়াইটা জিতে যান।
আমাদের মনে করিয়ে দেন— বয়সটা আসলে শুধুই একটা সংখ্যা।
লড়াই করার ইচ্ছেটাই আসল।

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আরেকটি স্বাধীনতার গল্প—ক্যান্সার থেকে মুক্তির স্বাধীনতাআজ ১৫ই আগস্ট। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। চার...
15/08/2026

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আরেকটি স্বাধীনতার গল্প—ক্যান্সার থেকে মুক্তির স্বাধীনতা

আজ ১৫ই আগস্ট। দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। চারদিকে তেরঙ্গা, দেশাত্মবোধক গান, স্কুলের অনুষ্ঠান, পতাকা উত্তোলন। ছোটবেলায় ১৫ই আগস্ট মানেই ছিল স্কুলে যাওয়া, হাতে ছোট্ট একটা পতাকা আর লাড্ডু নিয়ে বাড়ি ফেরা।

কিন্তু আজ, একজন চিকিৎসক হিসেবে, এই দিনটাকে একটু অন্যভাবে ভাবি।স্বাধীনতা মানে আসলে কী? শুধু একটা দেশের পরাধীনতা থেকে মুক্তি? নাকি নিজের ভয়, অজ্ঞতা আর অসহায়তা থেকেও মুক্তি?

তাহলে একটা প্রশ্ন করা যাক—ক্যান্সারের ভয় থেকেও কি আমরা স্বাধীন হতে পারি? আমার উত্তর—অবশ্যই পারি। তবে তার জন্য যুদ্ধটা একটু অন্যরকম।

প্রথম স্বাধীনতা—ভয় থেকে মুক্তি

আজও কেউ ক্যান্সার শব্দটা শুনলেই প্রথমে কী ভাবেন?
“সব শেষ!”
“বাঁচবে না!”
“কেমো নিতে হবে!”
“অনেক কষ্ট হবে!”

কিন্তু ক্যান্সার মানেই জীবন শেষ—এই ধারণাটা আজ আর সত্যি নয়।
ক্যান্সার একটাই রোগ নয়। এর অনেক ধরন আছে। কিছু ক্যান্সার পুরোপুরি ভালো করা যায়, আবার কিছু ক্যান্সারকে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

তাই প্রথম স্বাধীনতা হল— ক্যান্সার মানেই মৃত্যু—এই ভয় থেকে নিজেকে মুক্ত করা।

দ্বিতীয় স্বাধীনতা—অজ্ঞতা থেকে মুক্তি

একজন রোগী আমাকে একবার বলেছিলেন, “ডাক্তারবাবু, আমি তো ক্যান্সারের চিকিৎসা করাব না। কেমো দিলে শরীর শেষ হয়ে যায়!”
আমি বললাম, “আপনি কেমোথেরাপিকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন?”
তিনি বললেন, “লোকের মুখে শুনেছি।”

সমস্যাটা এখানেই। ক্যান্সার সম্পর্কে আমাদের অনেক ধারণাই এখনও শোনা কথা।
কেউ বললেন কেমো মানেই ভয়ংকর।
কেউ বললেন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে আর চিকিৎসা হয় না।
কেউ বললেন অপারেশন করলে ক্যান্সার ছড়িয়ে যায়।
আবার কেউ বললেন, “আমার এক আত্মীয় এই ওষুধ খেয়ে ভালো হয়েছে, আপনিও সেটা নিন।”
কিন্তু চিকিৎসা কখনও "লোকের মুখে শোনা" দিয়ে করা যায় না।
সঠিক তথ্য জানাও ক্যান্সারের বিরুদ্ধে একটি বড় অস্ত্র।

তৃতীয় স্বাধীনতা—দেরি করার অভ্যাস থেকে মুক্তি

আমাদের দেশে একটা বড় সমস্যা হল—আমরা অনেক সময় শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিই না।
কাশি হচ্ছে—“ঠান্ডা লেগেছে।”
ওজন কমছে—“খাবার কম খাচ্ছি।”
পেটে অস্বস্তি—“গ্যাস।”
রক্তপাত হচ্ছে—“পাইলস।”
কয়েক মাস পরে যখন সমস্যা অনেকটা বেড়ে যায়, তখন চিকিৎসকের কাছে আসি।
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু অনেক ক্যান্সার সময়মতো ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি সফল হয়। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করাও এক ধরনের স্বাধীনতা— অবহেলার স্বাধীনতা নয়, সচেতনতার স্বাধীনতা।

চতুর্থ স্বাধীনতা—তামাক থেকে মুক্তি

এখানে আমাদের নিজেদের কাছে একটা কঠিন প্রশ্ন করতে হবে।
সিগারেট, বিড়ি, গুটখা, খৈনি—এসবের সঙ্গে আমরা কেন বন্ধুত্ব রাখব?
তামাক শুধু ফুসফুসের ক্যান্সার নয়, আরও অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আজ স্বাধীনতা দিবসে কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, “ক্যান্সার থেকে বাঁচার জন্য আমি একটা কাজ কী করতে পারি?”
আমি বলব—তামাক ছাড়ুন।
এটা হয়তো সবচেয়ে কঠিন স্বাধীনতাগুলোর একটি।
কিন্তু অসম্ভব নয়।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতা—ভুল চিকিৎসার হাত থেকে
ক্যান্সার ধরা পড়লে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এই সময় কেউ যদি বলেন—
“এই গাছের পাতা খেলেই ক্যান্সার ভালো।”
“কেমো লাগবে না।”
“শুধু এই ওষুধ খেলেই সব শেষ।”
তখন রোগী এবং পরিবার আশার আশ্রয় খোঁজেন।

আমি কাউকে দোষ দিই না। ভয় পেলে মানুষ আশ্রয় খোঁজে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে—
আশা এবং মিথ্যা আশ্বাস এক জিনিস নয়।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া, প্রয়োজনে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া এবং চিকিৎসার সুবিধা-অসুবিধা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ পথ।

তাহলে কি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আমরা সত্যিই জিতছি?
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই।

গত কয়েক দশকে ক্যান্সার চিকিৎসায় অভাবনীয় পরিবর্তন হয়েছে।
আগে যেখানে হাতে ছিল অল্প কয়েকটি অস্ত্র, আজ সেখানে রয়েছে—
অপারেশন, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগানো চিকিৎসা এবং আরও অনেক নতুন পদ্ধতি।

আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হয়েছে আমাদের ক্যান্সারকে বোঝার ক্ষমতায়। আজ আমরা শুধু জানি না যে একজন মানুষের ক্যান্সার হয়েছে। আমরা অনেক সময় জানতে পারি—কোন ধরনের ক্যান্সার হয়েছে, তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী এবং কোন চিকিৎসা তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারে।অর্থাৎ, চিকিৎসাও ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে আরও ব্যক্তিগত।

আজ যখন আমরা দেশের স্বাধীনতা উদযাপন করছি, তখন স্বাধীনতার অর্থটা একটু বড় করে ভাবি।
স্বাধীনতা মানে শুধু বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি নয়।
স্বাধীনতা মানে—
ভয় থেকে মুক্তি।
অজ্ঞতা থেকে মুক্তি।
তামাকের আসক্তি থেকে মুক্তি।
অবহেলা থেকে মুক্তি।
ভুল তথ্য থেকে মুক্তি।
আর ক্যান্সার হলে অসহায় বোধ করার মানসিকতা থেকেও মুক্তি।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মতোই ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও লড়াইটা একদিনে শেষ হবে না।
কিন্তু একটা পার্থক্য আছে।
এই যুদ্ধে আমরা একা নই।
আমাদের পাশে আছেন চিকিৎসক, নার্স, গবেষক, বিজ্ঞানী এবং সর্বোপরি—আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান।

তাই আজ তেরঙ্গার দিকে তাকিয়ে একটা কথাই মনে হয়—যে দেশ একদিন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন হতে পেরেছিল, সেই দেশের মানুষ ক্যান্সারের ভয়, অজ্ঞতা আর অসহায়তার শৃঙ্খলও একদিন অনেকটাই ভাঙতে পারবে।

ক্যান্সারকে ভয় নয়—ক্যান্সারকে বুঝতে হবে।
সমস্যাকে লুকিয়ে নয়—সময়মতো সামনে এনে লড়তে হবে।
আর সবচেয়ে বড় কথা—আশা হারানো যাবে না।

শুভ স্বাধীনতা দিবস।
দেশ স্বাধীন হয়েছে ৮০ বছর আগে। এবার আমাদের লক্ষ্য হোক—ক্যান্সারের ভয় থেকেও মানুষকে স্বাধীন করা।
জয় হিন্দ।

আজ থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত আমার চেম্বার বন্ধ থাকবে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করছি, আগামী রবিবা...
13/08/2026

আজ থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত আমার চেম্বার বন্ধ থাকবে। এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করছি, আগামী রবিবারের পর থেকে আবার যথারীতি আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।

তবে এই সময়ে আপনাদের চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য আমার অবর্তমানে ডা. শাওনী পারাই থাকছেন। তিনি নিজেও একজন অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং এই সময়ে আমার সমস্ত রোগী দেখবেন ও আউটডোর পরিচালনা করবেন।

তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে এই সময়েও আপনারা পিয়ারলেস হাসপাতালে ডা. শাওনী পারাই-এর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

আপনাদের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

Address

242, AJC Bose Road
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+919674446399

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO:

Shortcuts

Share

Category