22/10/2025
# # 🧬 ইয়েল্লাপ্রগাদা সুব্বারাও: এক ভারতীয় বিজ্ঞানী যাকে আমরা চিনিনা
# # # 💊 তাঁর হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল আবিষ্কার:
* **ফসফোক্রিয়েটিন** ও **ATP (Adenosine Triphosphate)** – জীবিত কোষের শক্তি ব্যবস্থার চাবিকাঠি।
* **ডাই-ইথাইল-কারবামাজিন (DEC)** – ফাইলেরিয়াসিস বা গোদ এর প্রথম কার্যকর ওষুধ, আজও ব্যবহার হয়।
* **ফোলিক অ্যাসিড (Vitamin B9)** – মানবদেহের কোষ বিভাজন ও রক্ত তৈরির অপরিহার্য উপাদান।
* **অ্যান্টিফোলেট যৌগ** – যার থেকেই পরে তৈরি হয় **methotrexate**, ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রথম কার্যকর কেমোথেরাপি ওষুধ।
* **ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন (Aureomycin)** – পৃথিবীর প্রথম ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক।
একজন মানুষ — যার নাম হয়তো স্কুলের বইয়ে নেই, কিন্তু যার আবিষ্কারে আজও কোটি মানুষ বেঁচে আছে।
---
# # # 🌾 ভীমাবরাম থেকে হার্ভার্ড পর্যন্ত এক অসম্ভব যাত্রা
১৮৯৫ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের এক সাধারণ গ্রামে জন্ম নেন ইয়েল্লাপ্রগাদা সুব্বারাও। ছোটবেলায়ই তিনি দুই ভাইকে এক অজানা রোগে হারান — ট্রপিকাল fever. হয়তো সেই শোকই তাঁকে চিকিৎসা আর বিজ্ঞানের পথে নিয়ে যায়।
মদ্রাস মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত হয় — কারণ তিনি বিদেশি পোশাক পরতে অস্বীকার করেন, খদ্দরের পোশাকই পরতেন।
তবু তিনি থামেননি। দেশ ছেড়ে পাড়ি দেন আমেরিকায়, যেখানে দিনমজুরের মতো কাজ করে রাতে ল্যাবে গবেষণা করতেন। তাঁর পকেটে তখন মুদ্রা কম, কিন্তু প্রতিভাকে লুকিয়ে রাখা যায়না।
---
# # # ⚗️ প্রথম আবিষ্কার: জীবনের শক্তির রহস্য
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় সুব্বারাও আবিষ্কার করেন **ATP ও ফসফোক্রিয়েটিন** — যে যৌগের উপরই আজ জীববিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে।
একটি কোষ কীভাবে শক্তি পায়, পেশী কীভাবে সংকুচিত হয়, জীবনের চক্র কীভাবে ঘুরে চলে — তার উত্তর তিনিই প্রথম বিজ্ঞানসম্মতভাবে দেন।
আজ আমরা শিশুর মেটাবলিজম, ক্যান্সার সেল-এর শক্তি ব্যবস্থাপনা, এমনকি জেনেটিক গবেষণায় ATP কথাটা শুনি — কিন্তু তার পেছনে রয়েছেন এই ভারতীয় প্রতিভা।
---
# # # 💊 “ভিটামিন” থেকে “কেমোথেরাপি” — সাব্বরাওয়ের ম্যাজিক
হার্ভার্ডে তাঁর প্রতিভা ততদিনে নজরে আসে, কিন্তু নাগরিকত্ব বা স্থায়ী পদ কেউ দেয়নি। তবু তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যান।
এই সময় তিনি তৈরি করেন **ফোলিক অ্যাসিড**, যার ভিত্তিতে পরে Sidney Farber বানান **অ্যান্টিফোলেট methotrexate** — ক্যান্সার চিকিৎসার ইতিহাসে এক বিপ্লব।
📖 *The Emperor of All Maladies*-এ সিদ্ধার্থ মুখার্জি লেখেন —
> “Yellapragada Subbarow supplied Farber with the folic acid that led to the birth of chemotherapy.”
অর্থাৎ, ক্যান্সার চিকিৎসার প্রথম রাসায়নিক অস্ত্রটির বীজ ছিল একজন ভারতীয়ের ল্যাবে।
---
# # # 🌍 মানবতার সেবায় বিজ্ঞান
তাঁর আরেকটি আবিষ্কার **ডাই-ইথাইল-কারবামাজিন (DEC)** – যা ফাইলেরিয়াসিসের বিরুদ্ধে আজও WHO-র প্রোগ্রামে ব্যবহৃত হয়।
এই ওষুধে লক্ষ লক্ষ মানুষ, বিশেষ করে ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে, অন্ধত্ব ও বিকলাঙ্গতা থেকে মুক্তি পেয়েছে।
এরপর তিনি তৈরি করেন **ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন (Aureomycin)** — প্রথম ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক, যার পথ ধরে এসেছে ডক্সিসাইক্লিন, টেট্রাসাইক্লিন — আমাদের শিশুচিকিৎসায় প্রতিদিনের নাম।
---
# # # 🧫 কিন্তু যিনি সব দিলেন, তাকেই দিল না দুনিয়া
তাঁর সহকর্মী Cyrus Fiske-এর সঙ্গে তৈরি “Fiske–Subbarow Method” আজও বায়োকেমিস্ট্রির মূলভিত্তি।
তবু তাঁর নাম বাদ পড়ে যায় বহু বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকে।
কারণ তিনি ছিলেন এক “বিদেশি”, এক “ইমিগ্র্যান্ট”, যার স্বপ্ন ছিল কেবল গবেষণায় — রাজনীতি বা ক্ষমতায় নয়।
হার্ভার্ড তাঁকে কখনো অধ্যাপক বানায়নি।
তিনি বেঁচে থাকতে নোবেল তো দূরের কথা, এমনকি নিজের ওষুধের পেটেন্টও পাননি।
১৯৪৮ সালে, মাত্র ৫৩ বছর বয়সে, অতিরিক্ত পরিশ্রমে ও হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর ডেস্কে তখনও পড়ে ছিল কিছু নতুন রাসায়নিকের নোটবুক — হয়তো আরও কিছু মানবজাতির মুক্তির পথ লেখা ছিল তাতে।
---
# # # 🏅 পরের প্রজন্মের শ্রদ্ধাঞ্জলি
দশকের পর দশক পর তাঁর নাম আবার আলোয় আসে। ভারত সরকার ডাকটিকিট প্রকাশ করে তাঁর সম্মানে, এবং অন্ধ্রপ্রদেশে একটি মেডিক্যাল কলেজের নাম রাখা হয় তাঁর নামে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা, বোধহয়, তাঁর প্রতিটি আবিষ্কারের প্রতিদিনের প্রয়োগেই — শিশুর ক্যান্সার থেকে শুরু করে সংক্রামক রোগের চিকিৎসা পর্যন্ত।
---
# # # ✨ শেষ কথা
আজ আমরা যখন কোনো শিশুকে ফাইলেরিয়াসিস থেকে বাঁচাই, বা ক্যান্সার রোগীর জন্য methotrexate দিই, তখন হয়তো অজান্তেই আমরা এক ভারতীয় বিজ্ঞানীর প্রতি নীরব প্রণাম জানাই।
ইয়েল্লাপ্রগাদা সুব্বারাও আমাদের মনে করিয়ে দেন —
> “বিজ্ঞান কেবল ল্যাবরেটরির আলোয় নয়, মানুষের জীবনে আলো ছড়ানোর নাম।”