06/05/2026
আজকের গল্প বাঙালির বোধহীন CMC প্রীতি নিয়ে।
CMC যাওয়া সব ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ নয় কেনো !
আমি আমার দিক থেকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। কারোর পড়ে ভালো লাগতে পারে বা নাও লাগতে পারে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু সত্যি এটাই।
CMC একটা সময়ে ভালো ছিলো, তখন অন্য কোথাও আর কম খরচে সেই রকম ভালো চিকিৎসা ছিল না। এটা আজ থেকে 40 বছর আগেকার ফ্যাক্ট। কিন্তু বিগত 25 বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন হাসপাতাল অনেক বেশি দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সেবা মানে সার্টিফায়েড হয়ে চলে এসেছে।
তাও CMC মানুষকে আকর্ষণ করতো কারণ চিকিৎসা খরচ কম ছিলো কারণ খৃস্টান ট্রাস্টের ভর্তুকি তে চলতো। কিন্তু একটাই অসুবিধা যে সাধারণ চিকিৎসা করতে গিয়েও রুগী কে মাসের পর মাস থাকতে হতো।
কিন্তু বিগত 5 বছরে CMC এর ম্যানেজমেন্ট লেভেলে ও দর্শনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আর সেই ভর্তুকি নেই। তাই ইনকাম বাড়ানোর জন্য ও এতো হিউজ সংখ্যক রুগীকে জায়গা দেবার জন্য তাদের নতুন নতুন বিল্ডিং বাড়িয়ে বেড সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে। এর ফলে দৈনিক হাসপাতাল অপারেশন খরচ বেড়েছে ফলে সেই অপারেশন খরচের মোকাবিলা করতে গিয়ে তাদেরকেও খরচ বাড়াতে হয়েছে এবং এই মুহূর্তে তাদের ওখানে চিকিৎসার খরচ কোনো 250/ 300 বেডের হাসপাতালের থেকে কম নয়। কিন্তু সেটা মহাজ্ঞানী বাঙালিরা এখনো ধর্তব্যের মধ্যে ধরে নি। তাই পশ্চিম বঙ্গ, অসম ও বাংলাদেশের বাঙালিরা এখনো লাইন লাগিয়ে যায় , যখন বোঝে খরচ বেশি হচ্ছে, তখন কেউ কেউ বেরিয়ে অন্যান্য হাসপাতালে চলে যায়, আর অধিকাংশই যেতে পারে না কারণ তাদের কাছে ইতিমধ্যেই করে ফেলা রিপোর্টের কপি থাকে না কারণ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় না।
অগত্যা যে চিকিৎসা উচ্চমানের বা সমমানের হাসপাতালে 10 দিন শেষ করে কেউ ফিরে যেতে পারে সেই চিকিৎসাই মোটামুটি একই খরচে করার জন্য তাদের দুই থেকে তিন মাস থেকে যেতে হয়, সাথে যোগ হয় বাসা ভাড়া, যাতায়াত, খাওয়াদাওয়া ইত্যাদির খরচ।
এর পূর্ণ সুবিধা পায় আশেপাশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো, যেখানে চিকিৎসা অতিরিক্ত কমার্শিয়াল কিন্তু কিছু ডক্টর তাদের পূর্ব সময়কালে CMC তে কাজ করে আসার ফলে রুগী স্বভাবতই সেই দিকে আকর্ষিত হয়।
CMC এখন একটি বাজার ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সেই বাজারের মালিক সমান ভাবে বাংলাদেশি ও ইন্ডিয়ান মধ্যভোগী কিছু মানুষ। ওখানে কেউ গিয়ে কমপক্ষে মাস তিন চার এর আগে ফিরতে পারবে না যদি চিকিৎসা শেষ করে আসতে হয়, আর এই সময়টা হোটেল ও লজের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ে। শুধু লজ নয়, খাবার হোটেল, টিকেটিং এজেন্ট, ওষুধের দোকান, ছোটখাট ডায়াগনস্টিক ল্যাব প্রত্যেকে কমিশন দেয় আর সেই কমিশন মাসোহারার মতো চলে যায় লোকাল ইন্ডিয়ান ব্যবসায়ীর ( রুগী বন্ধু রুপী দালাল ) কাছে, তারা সেটা যে যার হিসেব মতো ভাগ করে নেন বাংলাদেশে বসে CMC বুঝিয়ে পাঠানো ব্যবসা পার্টনার দের সাথে যারা কেউ রুগীর চাচা, বন্ধু, প্রতিবেশী হিসেবে তাদের প্রভাবিত করেছেন সেখানে যাবার জন্য।
এ এক বিশাল চক্র। স্বাভাবিক ভাবেই আমার এই পোস্ট অধিকাংশ মানুষের ই পছন্দ হবে না এবং বেশ কয়েকটি বাজে কমেন্ট ও পড়বে, কিন্তু আমি চাই মানুষ সত্যি টা জানুন, আমার বক্তব্যের যুক্তি গুলো একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখুন।
যে রোগ গুলির জন্য ওখানে কখনোই যাবেন না , সেগুলি হলো -
১. ক্যান্সার
২. বোন ম্যারো ও অন্য যেকোনো ট্রান্সপ্ল্যান্ট
৩. স্পাইন অপারেশন
৪. জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগ নিয়ে
তাই CMC যাবার আগে চোদ্দোবার ভাবুন যে আপনার টাকা ও সময়, উভয়েই সস্তা কি না ! "
ধন্যবাদ।
ক্যান্সার ফাইটার রানা রানা ক্যান্সার ফাইটার
Rana Bhattacharyya & Cancer Awareness
Support : +91 9051132231