11/09/2026
#কাছের_লোক_আত্মহত্যা_করলে_কিভাবে_ধীরে_ধীরে_নিজেকে_সামলানো_যায়?
গতকালই ছিল বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস! যে মানুষটা চলে যায়, তাকে আর ফিরিয়ে আনা যায়না কিন্ত কাছের মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হয়। খুব কাছের কেউ আত্মহত্যা করলে শোকটা অনেক সময় সাধারণ শোকের মতো হয় না। দুঃখের সঙ্গে অপরাধবোধ, রাগ, লজ্জা, “আমি যদি আগে বুঝতাম…”—এই ভাবনাগুলোও আসতে পারে। নিজেকে ধীরে ধীরে সামলানোর জন্য—
🌿 ১. নিজেকে দোষ দেবেন না
“আমি যদি আরও কিছু করতাম…”—এই চিন্তা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মানুষের আত্মহত্যার পেছনে সাধারণত বহু জটিল মানসিক ও জীবনের কারণ থাকে। সবকিছুর দায় আপনার নয়।
🌿 ২. এখনই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না
কাঁদতে ইচ্ছে করলে কাঁদুন, চুপ থাকতে ইচ্ছে করলে কিছুক্ষণ চুপ থাকুন। শোকের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
🌿 ৩. একা থাকবেন না
বিশ্বাসযোগ্য একজন মানুষকে বলুন— “আমার খুব খারাপ লাগছে, তুমি কিছুদিন আমার সঙ্গে থেকো।” সব কথা বলতে না পারলেও পাশে কাউকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
🌿 ৪. অপরাধবোধকে প্রশ্ন করুন
যখন মনে হবে, “আমার জন্যই এটা হয়েছে”, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:
আমি তখন কী জানতাম?
তখন আমার হাতে বাস্তবে কী কী করার সুযোগ ছিল?
আমি কি এখন অতীতের তথ্য দিয়ে নিজেকে বিচার করছি?
🌿 ৫. শরীরের যত্ন নিন
শোকের সময় খাবার, ঘুম ও দৈনন্দিন কাজ ভেঙে পড়তে পারে। তবু চেষ্টা করুন—
খাবার + জল + ঘুম + সামান্য হাঁটা + নিয়মিত ওষুধ/চিকিৎসা থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া।
🌿 ৬. মৃত্যুর দৃশ্য বা ঘটনার স্মৃতি বারবার ফিরে এলে
নিজেকে বর্তমানের দিকে ফিরিয়ে আনুন। ধীরে শ্বাস নিন এবং চারপাশে ৫টি জিনিস দেখুন, ৪টি স্পর্শ করুন, ৩টি শব্দ শুনুন। এতে তীব্র মুহূর্তটি কিছুটা কমতে পারে।
🌿 ৭. নিজের মতো করে বিদায় জানান
চিঠি লেখা, প্রার্থনা, স্মৃতিচারণ, ছবি দেখা বা তাঁর সম্পর্কে ভালো স্মৃতি লিখে রাখা—যেটা আপনার কাছে অর্থপূর্ণ, সেটি করতে পারেন।
🌿 ৮. পেশাদার সাহায্য নিন
যদি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অপরাধবোধ, আতঙ্ক, ঘুমের সমস্যা, দুঃস্বপ্ন, দৈনন্দিন কাজ করতে না পারা বা ঘটনাটি বারবার মনে পড়তে থাকে, একজন মনোবিজ্ঞানী/মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Su***de bereavement-এর জন্য grief counselling বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।
❤️ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
“কেন এমন হলো?”-এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের জীবনটাকে থামিয়ে দেবেন না।
আপনি তাঁকে ভালোবাসতেন—এটাই সত্য। তাঁকে বাঁচাতে না পারা মানেই আপনি তাঁকে যথেষ্ট ভালোবাসেননি, এমন নয়।
আর যদি এই ঘটনার পর আপনার নিজেরও আত্মহত্যার চিন্তা আসে বা নিজেকে নিরাপদ মনে না হয়, একা থাকবেন না—তৎক্ষণাৎ কাছের কাউকে জানান এবং জরুরি চিকিৎসা/স্থানীয় crisis support নিন। প্রফেশনালদের সাহায্য নিন।
© সৌমী চক্রবর্তী
সাইকোলজিস্ট
লাইফ কোচ
79 8018 2763