Sonali Chattopadhyay

Sonali Chattopadhyay Consultant Clinical Psychologist

02/04/2026



Delivering lecture on Stress Management and Coping skills at the Tripura Institute of Paramedical Sciences, Tripura on 2...
01/04/2026

Delivering lecture on Stress Management and Coping skills at the Tripura Institute of Paramedical Sciences, Tripura on 28.03.26.


10th October বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস । এই বছরের বিষয় - দুর্যোগ বা বিপর্যস্ত ও জরুরি অবস্থাতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেব...
18/10/2025

10th October বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস । এই বছরের বিষয় - দুর্যোগ বা বিপর্যস্ত ও জরুরি অবস্থাতে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সহজলভ্যতা।
এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গে কি কি ব্যবস্থা আছে সেই প্রসঙ্গে জানাই জেলা ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি (District Mental Health Programme) এর মনোবিদ ও সমাজ কর্মীরা প্রয়োজন অনুসারে বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের সঙ্গে কাজ করে থাকেন । যেমন এই মুহূর্তে আমাদের জলপাইগুড়ির DMHP Team ( Aditi Aahan Majumdar ) তাদের জেলার বিপর্যস্ত এলাকাতে কাজ করছেন ।

আমি এবং আমার সহকর্মীরা মিলে মানে team এই বছর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার যে তৃণমূল স্তরের কর্মীরা বিপর্যয় মোকাবিলা করেন তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যে একটা বড় বিপর্যয়ের পরে সাধারণ মানুষের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে, সেই অবস্থাতে কী ধরনের মানসিক অসুখ দেখা যেতে পারে বা প্রাথমিক ভাবে বিপর্যস্ত কবলিত এলাকার মানুষকে কীভাবে psychological first aid দিতে পারি ।
যেহেতু এখন প্রায় প্রতিটা জেলাতে ব্লক হাসপাতাল স্তরে মানসিক পরিষেবা পৌঁছাচ্ছে তাই এটা আশা করা যেতে পারে যে গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষই এই পরিষেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন । ফলে মানসিক বিপর্যয়ে চিকিৎসকের সাহায্য প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে ।

সরকারি স্তরে টোল ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্যের হেল্প লাইন নম্বর 14416 অবশ্যই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কারন পশ্চিমবঙ্গের যেকোন জায়গার মানুষই তার মনের কষ্টের জন্য এই নম্বরে ফোন করতে পারেন । এখানে নির্দিষ্ট counsellor রা ফোন ধরেন এবং মানুষের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন । এমনকি যদি কেউ একটু কাঁদবার জন্যও একজন মানুষকে চান তাহলে এই নম্বরে ফোন করতে পারেন ।

তবে সরকারি স্তরে বৃহত্তর বিপর্যয়ের মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল স্তরের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীদের যোগসূত্র এখনও সেই ভাবে তৈরি হয়নি । আমার বন্ধু বিশিষ্ট মনোবিদ Prasanta Roy নিজের উদ্যোগে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের সঙ্গে কাজ করেছে । ও একটা এমন গ্রুপ তৈরি করেছে যারা এই সমস্ত ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে পারবে ।

তবু সরকারি স্তরে মনোবিদ নিয়োগের সংখ্যা এতটাই কম যে আমাদের রাজ্যের যে মানসিক সমস্যার চাপ তা সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় । প্রতিটা জেলা হাসপাতালে একজন করে মনোবিদ, DMHP তে একজন, তাও সব জেলা হাসপাতালেই যে মনোবিদ আছেন তা নয় । সব DMHP তেই যে মনোবিদ আছেন তা নয় । কারণ আমাদের রাজ্য DMHP তে Clinical Psychologist দের এতটাই কম মাইনে ধার্য করেছে সেখানে দূরবর্তী জেলাতে চাকরি নিতে কেউ আগ্রহী থাকছে না । কিছুদিন আগে Juvenile Justice Board সংক্রান্ত Hight Court Committe র একটা মিটিং এ নতুন পোষ্ট তৈরির প্রয়োজন তুলে ধরি, কিন্তু সেটাও কিছু হল না ।
যাইহোক, সরকার কি ব্যবস্থা নেবে কি নেবে না তার অপেক্ষা না করে, আমরা বরং আরেকটু সচেতন হই। আমরা পরস্পরের প্রতি যতটা বন্ধুত্ব পূর্ণ ব্যবহার করব, সহানুভূতিশীল হবো, যতটা হিংসা বা দ্বেষ ভাব ত্যাগ করব, যতটা প্রকৃতিকে ভালোবাসবো, লোভের বশে প্রকৃতির সঙ্গে ত্যাঁদরামো (এর থেকে ভালো ভাষা ব্যবহার করতে পারলাম না) কম করব, চুরিচামারি কম করব, লোক ঠকাবোনা, তত বিপর্যয়ও কম হবে আর মানুষের মানসিক সমস্যাও কম হবে ।
সঙ্গের ছবিটা আমাদের অনুষ্ঠানের ।




আমাদের সমাজে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবার । জন্ম মুহূর্ত থেকেই আমাদের মনের গঠনে পরিবারের ভূমিকা অসম্ভব গ...
11/11/2023

আমাদের সমাজে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবার । জন্ম মুহূর্ত থেকেই আমাদের মনের গঠনে পরিবারের ভূমিকা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। আবার একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য যদি বিঘ্নিত হয় তারও প্রভাব পরিবারের ওপর খুব একটা সদর্থক হয় না । এই দুইয়ের পারস্পরিক প্রভাব নিয়ে কথা বলব, সঙ্গে থাকছেন শ্রীতমা Sreetoma Mukhopadhyay
আপনারাও থাকুন ।

https://www.radioindialive.com/air-kolkata-geetanjali-live-all-india-radio

এটা আমি তৈরি করেছিলাম আমার বাড়ির মানুষটিকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে । তিনি সচেতন হয়েছেন এবং সিগারেট খাওয়া ছেড়েছেন । এখন স...
31/05/2023

এটা আমি তৈরি করেছিলাম আমার বাড়ির মানুষটিকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে । তিনি সচেতন হয়েছেন এবং সিগারেট খাওয়া ছেড়েছেন । এখন সমস্ত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আমি এটা পোষ্ট করছি ।

24/05/2023


আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের একটা অংশ । যদি আমাদের পাকস্থলীতে ইনফেকশন, হৃদপিন্ডে আর্টারীতে ব্লকেজ, ফুসফুসে অবস্ট্রাকশন, কিডনীতে স্টোন, লিভারে ক্ষয় ইত্যাদি যদি হতে পারে মস্তিষ্কের অসংখ্য নিউরোনের সূক্ষ্ম ক্রিয়াকলাপেও সমস্যা হতে পারে ।
কোন অসুখই গরীব-বড়লোক, শহর-গ্রাম এই সব দেখে হয় না । মানব শরীরে যেকোন অসুখ হবার প্রবনতা আছে । আমি গত ১৬ বছর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলাতে গ্রামীণ অঞ্চলে মানসিক বিভাগে চিকিৎসারত । সবার জ্ঞাতার্থে জানাই ক্যানিং ১ ব্লকে ঘুটিয়ারি শরিফ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতি মাসে আমাদের ক্লিনিকে গড়ে ৮৫ জন মানুষ দেখাতে আসেন তাদের কারোর ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, ওসিডি, স্কিজোফ্রেনিয়া আছে । হ্যাঁ তারা নিয়মিত আসে । বাসন্তী গ্রামীণ হাসপাতালে এই সংখ্যাটা ৬০ । জয়নগর-২ ব্লকে এই সংখ্যাটা ৭৫ । সুতরাং আমি নিশ্চয়ই বোঝাতে পারছি গ্রামাঞ্চলের মানুষের সচেতনতা এবং তাদের মানসিক চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের ইচ্ছা আছে । এখন প্রশ্ন হল তারা কি এই ডিপ্রেসন, জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার, স্কিজোফ্রেনিয়া এই সব রোগের নাম জানে ? উত্তর হল - না । তারা এই সব শক্ত কথা বুঝতে না । আমরা সাধারণ ভাবে তাদের বলি আমাদের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মতো মনেও অসুখ হয় এবং তা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাতে সেরে যায় ।
নওয়াজউদ্দিন যে গ্রামের ছেলে সেখানে মানসিক অসুখ নিয়ে কোন সচেতনতা হয়তো এখনো পৌছায়নি তাই সে যখন গ্রামে ছিল তখন সে এই সব অসুখের নাম জানত না বা এই শব্দ গুলো তার কানে পৌঁছায়নি। কিন্তু তা বলে তাদের গ্রামের কোন মানুষের মধ্যে কোন মানসিক অসুখ হয়নি সেটা সে বলতে পারেনা । বরঞ্চ আমরা বলতে পারি সেগুলো চিকিৎসার আওতায় আসেনি । এমনটা হয় । তাতে একটা মানুষের সামগ্রিক কর্ম ক্ষমতা কমে যায় । মানুষ মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । আমরা সবাই মিলে নওয়াজউদ্দিনকে দোষারোপ না করে বরং সঠিক ভাবে সচেতনতার দিকটা তুলে ধরি ।
এখনও শহরাঞ্চলে ডিগ্রীধারী মানুষেরা মনে করেন মানসিক রোগ মানে সেই মানুষটার দুর্বলতা। একজন বিজ্ঞানী আমাকে বলেছিলেন যে তাকে ডিপ্রেশনের জন্য ওষুধ খেতে হচ্ছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে যে তিনি যেন হেরে গেলেন । । অথচ তিনি যখন উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য ওষুধ খান তখন তাঁর কিছু মনে হয় না । আমার মনে হয় মানসিক সমস্যা বিষয়ে আমাদের সবার আরো সচেতনতার প্রয়োজন।
(C) Sonali Chattopadhyay

   রাগ আমাদের প্রত্যেকের হয় । রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিৎকার চেঁচামেচি মারধর হয় ।  যেখানে বহিঃপ্রকাশ হয়না সেখানে অন্ত...
04/02/2023


রাগ আমাদের প্রত্যেকের হয় । রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিৎকার চেঁচামেচি মারধর হয় । যেখানে বহিঃপ্রকাশ হয়না সেখানে অন্তঃক্ষরণ হয় । যদি কোন রাগের পরিস্থিতিতে কেউ খুব উত্তেজিত হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে ফেলে তাহলে সেই ঘটনা থেকে পরে সে কী কী শিখতে পারে ?

¤ যে ঘটনা বা যে পরিস্থিতি আমার মনে বিরক্তি বা রাগের সৃষ্টি করছে সেই ঘটনা বা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা ওই মুহূর্তে আমার ছিল না । আমার ব্যক্তিত্বের মধ্যে যতটা চাপ নেবার ক্ষমতা আছে, তার থেকেও ওই পরিস্থিতি আরও খানিকটা বেশি ক্ষমতা দাবী করছিল ।

¤ বোঝার চেষ্টা করতে পারে কেন ওই পরিস্থিতিটা আমার মনে চাপ সৃষ্টি করছে । এটার জন্য বোঝা দরকার আমার মন automatically ওই ঘটনাটাকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করছে তা জানা ।

¤ -"ও এরকমটা করেছিল বলেই তো আমি রেগে গেছিলাম" বা " ও এইরকম করবে আর আমি মুখ বুজে সহ্য করব - কেন ? আমি কি তবে ....!!!!!!. " এই রকম ভাবে যদি আমার মন ওই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে, তবে আমি আমারই চরম ক্ষতি করব । কারন অন্য একটা মানুষ কেমন আচরন করবে সেটা নির্ভর করছে সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের গঠনের ওপর । সে আমার বাবা, মা, ভাই , বোন, স্বামী , স্ত্রী বা বন্ধু যেই হোক না তার ব্যক্তিত্বের একটা নিজস্ব system আছে । সে সেই system অনুযায়ী চালিত হয় । সেই system টা আমার মনের মত নাও হতে পারে । তাই - " ও কেন এমন করবে ? " - এই কথাটা শুধুমাত্র আমারই বিরক্ত বাড়াবে । কোন সমাধান হবেনা ।

¤ তাহলে কী ভাবে ব্যাখ্যা করব ? যদি কারোর কোন আচরন আমার রাগের কারণ হয় তাহলে এটাও ভাবতে হবে সে কেন এই আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছে । তার ব্যক্তিত্বে বা মনে কি সমস্যা আছে যার ফলে এই আচরণ হচ্ছে ?

একটা উদাহরণ দেওয়া যাক -
ঘটনা - বাচ্চাকে বার বার পড়াবার পরও পরীক্ষায় ভুল করে এসেছে । আমি মা, যখন দেখলাম বাচ্চা সেই একই ভুল করেছে আমি রেগে গিয়ে বাচ্চাকে খুব মারলাম ।
পরে ঘটনার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রথমে ভাববো আমি রেগে গেলাম কেন ? 'বাচ্চা লিখতে পারল না' ঘটনাটা আমার মনের মধ্যে কী কী অস্বস্তি তৈরি করছে । উত্তর হতে পারে যে - আমি মানতে পারছি না যে আমার সন্তান এই রকম ভুল করবে বা এরকম ভুল করলে লেখাপড়া শিখবে কি করে ! বা এর ভবিষ্যত কি হবে বা এর সমাধান আমি কি করে করব জানি না বা আরো এরকম কিছু ।
এই রকম চিন্তা আমার মনে চাপ তৈরি করছে আর আমার রাগ সেই রকম চাপেরই বহিঃপ্রকাশ । কিন্তু এই বহিঃপ্রকাশে বাচ্চার লেখাপড়া শেখার ক্ষমতাতে কোন উন্নতি হবে না ।

¤ তার বদলেএটা ভাবতে হবে যে আমার বাচ্চার মনের মধ্যে বা বুদ্ধিতে কি সমস্যা হচ্ছে যে বাচ্চা বার বার শিখিয়ে দেবার পরেও ভুল করছে । কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটা নির্ণয় করতে হবে ।

¤ আরেকটা উদাহরণ- ধরা যাক আমার মা কে আমি আমার একটা জামা প্যান্ট কেচে পরিস্কার করে রাখতে বলেছিলাম । মা করেনি । ভুলে গেছেন । আজ বিয়ে বাড়ি । আমি ভেবেছি ওই জামা প্যান্টটাই পরব । জামা খুঁজতে গিয়ে দেখি আ-কাচা কাপড়ের ব্যাগে আমার সাধের জামা প্যান্টটা পরে আছে । এখন আমি কি পরব ? ব্যাস মাথা গরম । আর ওমনি মাকে যা নয় তা উল্টোপাল্টা বলে দিলাম ।

¤ কেন এতটা রেগে গেলাম ? আমি আমার পরিবেশ থেকে আশা করেছিলাম যে সে আমার চাহিদা মতো কাজ করবে । কিন্তু সে তা করেনি । ফলে আমি আশাহত হলাম । কাজটার ওপর নির্ভর করে আমি যে পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম তা মাঠে মারা গেল ( ওই জামা প্যান্ট পরে বিয়ে বাড়িতে যে মাঞ্জা দেব ভেবেছিলাম) ফলে double আশাহত । আবার আমি যে আশাহতও হতে পারি এটাও আমার ভাবনার বাইরে ছিল । ফলে এখানে tripple আশাহত । এই tripple হতাশা এবং হতাশা কে সহ্য করতে না পেরে রাগ ও খারাপ ব্যবহার ।

¤ অথচ তখন যদি মা সঙ্গে সঙ্গে কেচেও দেন তাহলে সে ভিজে জামা পরে তো আর বিয়ে বাড়ি যাওয়া ঘটবে না । ফলে রাগ তো সমাধান করল না বরং মন খারাপের চোটে বিয়ে বাড়ি হয়তো যাওয়াই আর হল না ।

¤ তাহলে কি করা উচিত? প্রথমত আমার সব আশা পূর্ণ হবে এমনটা নাই হতে পারে । যার কাছ থেকে আশা করছি তার ক্ষমতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে ।
এরপর ভাবতে হবে কেন আশা পূর্ণ হল না । অর্থাৎ মা কেন ভুলে গেল । এখানে একটা উত্তর আসতে পারে মা আমার ক্ষেত্রেই এমন করে । কিন্তু সত্যিই কি তাই ? নাকি অন্য কোন কারন ? আচ্ছা এটাতো হতে পারে যে মা কাজের চাপে সবটা সামলে উঠতে পারেনি ।
তাহলে কি শিখলাম, পরিবেশ থেকে শুধু আশা করলেই হবেনা । পরিবেশ আমার আশাটাকে পূর্ণ করার ক্ষমতা রাখে কিনা সেটাও বুঝতে হবে ।

রেগে খারাপ ব্যবহার করে তাকে পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে ব্যাখ্যা করাটা নিজের মনের দুর্বলতা । তার চেয়ে একটু সময় করে নিজের মনের সামনে আয়না ধরুন । ভাবুন । ভাবা প্র্যাকটিস করুন ।
তাহলে রাগ কমাতে পারবেন ।

27/12/2022


যাঁরা বাংলাতে সিনেমা, সিরিয়াল বা web series তৈরি করেন তাঁদের বিশেষ অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে বর্তমানে এই শহরে Mental Health Professionals এর অভাব নেই । যদি কেউ একান্ত খুঁজে না পান এই অধম লেখিকার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নীচে লেখা চারটি ঠিকানায় অথবা যেকোন মেডিকেল কলেজের Psychiatry বিভাগে যোগাযোগ করবেন । কারন আপনারা মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক অসুখ সম্বন্ধে বেশ কিছু ভুল তথ্য ও ভুল চিত্র আপনাদের তৈরি সিনেমা , সিরিয়াল ও web series এ ফুটিয়ে তুলছেন বছরের পর বছর ধরে এবং এতে সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সঠিক মনোভাব তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে । মনে রাখবেন সিনেমা, সিরিয়াল বা web series সব কটিই খুব শক্তিশালী গণমাধ্যম।

আপনাদের সুবিধার জন্য জানাই
1. Mental Health Care Act 1987 ও 2017 এর জন্য চিকিৎসা পরিষেবার কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে ।

2. লুনাটিক আর অ্যাসাইলাম শব্দ গুলো 1987 সালের পর থেকে আর ব্যবহার করা যায় না ।

3. কাউকে বিশেষ কারোর ইচ্ছে মতো কোন কারন ছাড়াই হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য জোর করে ভর্তি করা যায় না ।

4. শরীরে যেমন অনেক ধরনের অসুখ হতে পারে তেমন মনেও অনেক ধরনের অসুখ হতে পারে । প্রতিটা রোগের প্রকাশভঙ্গি আলাদা ।
মানসিক সমস্যা মানেই রোগীরা এক বিশেষ ভাবে আধো আধো ভাবে অদ্ভুত posture এ কথা বলবে এমনটা নয় ।

5. বুদ্ধির মান কম হওয়া মানে মানসিক অসুস্থতা নয় ।

6. মাথায় সরাসরি ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয় না ।

7. বর্তমানে সারা ভারতে community mental Health care চালু হয়েছে । ফলে মানসিক অসুখের চিকিৎসার জন্য শুধুমাত্র শহরাঞ্চলের ওপর বা রাঁচীর ওপর নির্ভর করতে হবে এমন টা নয় । যেমন আমি নিজে দক্ষিণ 24 পরগণা জেলার প্রতিটা ব্লকে মাসে একবার করে ক্লিনিক করি । এটা সরকারি ব্যবস্থা ।

যে চারটি জায়গায় আপনারা সঠিক তথ্যের জন্য যোগাযোগ করবেন তা হল -

1. Dept. of Psychology, Calcutta University
2. Dept. Of Applied Psychology, Calcutta University
3. Pavlov Hospital and Centre of Excellence on Mental Health, Calcutta National Medical College, Kolkata.
4. Institute of Psychiatry.

দয়া করে মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতন হন এবং সঠিক তথ্য জানুন ও অন্যকে জানতে সাহায্য করুন ।

10/10/2022
23/09/2022

ভালবাসা মানে নিজের অহম বোধের মধ্যে অন্যের অহম কে যত্নে স্থান দেওয়া । মানে আমি আর আমি যাকে ভালবাসি - এই দুই ব্যক্তি মিলে এক ব্যক্তি হওয়া । একজনের ব্যথা লাগলে অন্যেরও ব্যথা লাগবে, একজনের আনন্দ হলে অন্য জনেরও আনন্দ হবে । একজনের অপমান অন্যজনেরও অপমান , একজনের সম্মান অন্য জনের সম্মান । অন্যকে sympathy দেখানোর নাম ভালবাসা নয় । আমার পরিচিত একজন স্বামী গর্ব করে তার স্ত্রীকে প্রায়ই বলে থাকেন যে আমি তোমাকে যতটা ভালবাসি ততটা এই পৃথিবীতে তোমার মা ছাড়া আর কেউ ভালবাসে না । স্ত্রী অবাক হয়ে শোনে, মুচকি হাসেন কিন্তু আমি কখনো তাকে এই কথার কোন উত্তর দিতে দেখিনি, হয়তো মনে মনে ভাবেন যে, অন্য লোক আমাকে ভালবাসবেন কেন ? কার কি দায় পড়েছে আমাকে ভালবাসবার? ভালবাসাতো তৈরি হয় একসাথে জীবন যাপনে , একসাথে ঘাম ঝড়িয়ে, একে অপরকে শ্রদ্ধা করে, একজনের অনুচ্চারিত কষ্ট বুঝে তার বোঝা বহন করে, একজনের দূর্বলতাকে গ্রহণ করে তাকে সবলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, তার সামগ্রিক অস্তিত্বে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে - আর এ সবের জন্য তো সময় দরকার । আমি তো শুধু মাত্র অফুরন্ত সময় নিয়ে তোমার কাছেই আমাকে মেলে ধরেছি , অফুরন্ত সময় নিয়ে তোমারই প্রেমে পড়েছি , আর তো অন্য কাউকে সেই সময় দিই নি । তাহলে কেন অন্য মানুষ আমার স্বামীর সঙ্গে আমাকে ভালবাসার প্রতিযোগিতা করতে আসবেন ? কিন্তু এত কথা স্ত্রী তার স্বামীকে বলেন না । কারন তিনি তার বোধ দিয়ে বুঝতে পারেন, যে স্বামী ভালবাসার আস্ফালন করেন তার আর যাই কিছু যোগ্যতা থাকুক ভালবাসবার যোগ্যতা তৈরি হয়নি । ভালবাসতে গেলে অন্যের কাছে নিজেকে উজার করে দিতে হয় ।
হ্যা ঠিকই বলছি, ভালবাসা দেওয়া বা অন্য মানুষ কে ভালবাসা আসলে একটা যোগ্যতা যা জন্ম থেকেই ধীরে ধীরে মানুষকে অর্জন করতে হয় । জন্মের মুহূর্ত থেকে মানুষ নিজের অস্তিত্ব রক্ষা এবং নিজের চাহিদা পূরণের ব্যস্ত । নিজেকে ভালবাসলে যেমন নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয় তেমন অন্যকে ভালবাসলেও তার অস্তিত্ব নিজের অস্তিত্বর মতোই দামি হয় । এই বোধের জন্য জীবন বোধের শিক্ষা লাগে । আমাদের সমাজে তা বিরল ।
আমাদের সমাজে বাবা ও মায়েরা সন্তানকে শুধু মাত্র যেন তেন প্রকারে টাকা পয়সা রোজগারের skill শেখায় । এবং এটা শেখায় যে তুমি যদি টাকা রোজগার না করতে পারো তাহলে তোমার অস্তিত্ব সংকটে । ফলে নতুন প্রজন্ম অস্তিত্বের সংকটে ভোগে, এবং সব সময়ই অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় জীবন কাটায় । প্রতি মুহূর্তে আমি কতটা পেলাম তার একটা অসমাপ্ত হিসেব কষে যায় । কিন্তু সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে তো হারাতে হয় । হারতে হয় । সহ্য করতে হয় । সেটা কজন শেখে । যেমন স্বামী হয়তো কর্মক্ষেত্রে হয়রানি শিকার হয়ে মেজাজ হারিয়ে বাড়িতে ফিরেছে, স্ত্রী দরজা খুলতে দেরী করায় সমস্ত বিরক্ত টা স্ত্রীর ওপর গিয়ে পড়ল । এখন স্ত্রী বিরক্তি টা সহ্য করতে না পেরে যদি সেও মুখ ঝামটা দেয় তো ঝগড়াই হবে । আবার স্ত্রী যদি খানিক চুপ থাকে তবে এমনটাও হতে পারেঃ-
স্বামী : কি কর সারাদিন বাড়িতে বসে ? কখন থেকে বেল বাজাচ্ছি, ঘুমোও নাকি ???
স্ত্রী খানিক বাদে যখন স্বামী হাত পা ধুয়ে খেয়ে শান্ত হয়ে বসেছে তখন কাছে বসে গায়ে হাত বুলিয়ে বললঃ কি গো ? একটু বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলে , রাস্তায় বা অফিসে কিছু সমস্যা হয়েছে ? কোন কারনে কি মন খারাপ ?
স্বামী তখন এই সহমর্মিতায় আরো শান্ত হবে এবং মনের জ্বালা শান্ত হবে ।
আরেকটা উদাহরণ: স্ত্রীকে হয়ত তার শাশুড়ি মানে স্বামীর মা কিছু ভাবে ভুল কারনে তিরস্কার করেছেন আর স্ত্রী মনোকষ্টে ভুগছেন, সেই সময় অনেক স্বামীই স্ত্রীকে বোঝাতে যান যে কেন তার মা এমন বলেছেন - মা আসলে এমন ভাবে তোমাকে বলেন নি , তুমি ভুল ভাবছ ইত্যাদি কিন্তু তার বদলে স্বামী এত বকবক না করে যদি নিঃশব্দে স্ত্রীকে জড়িয়ে বুকে কাছে টেনে নিয়ে একটু আদর করে দিয়ে বোঝান যে স্ত্রীর মনের কষ্ট যেন তিনিও অনুভব করছেন তাহলে হয়তো স্ত্রীর কষ্টের প্রশমন তাড়াতাড়ি হবে ।

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sonali Chattopadhyay posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category