18/08/2026
ইতিহাসের শহরে আজ শুধুই হাহাকার: আসামের দুর্গতদের পাশে "স্মৃতিসুধা"
আপনাদের সকলের আশীর্বাদ আর ভালোবাসাকে পাথেয় করে, গতকাল অর্থাৎ ১৭ই আগস্ট, আমাদের "স্মৃতিসুধা" পরিবার পৌঁছে গিয়েছিল আসামের শিবসাগর জেলার দারিকাপারগাঁও অঞ্চলে। আপনাদের মতো সহৃদয় মানুষদের নিঃস্বার্থ অনুদানে আমাদের এই সাহায্যের ঝুলির ৫০% পূর্ণ হয়েছিল, আর সেই ভরসা নিয়েই আমরা ছুটে গিয়েছিলাম সর্বস্বান্ত মানুষগুলোর পাশে।
ঐতিহ্যের শিবসাগর ও দারিকাপারগাঁওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি:
আহোম রাজাদের একসময়ের গৌরবময় রাজধানী এই শিবসাগর। মন্দির, স্থাপত্য আর ঐতিহ্যে ঘেরা আসামের এক অত্যন্ত বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক জনপদ এটি। কিন্তু আজ সেই শিবসাগরের দারিকাপারগাঁওয়ের দিকে তাকালে বুকটা হাহাকার করে ওঠে। প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর প্রলয়ে সেই চেনা রূপ আজ শুধুই কাদা আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।
দুর্গতদের যন্ত্রণা ও আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস:
বন্যার জল কমার সাথে সাথে মানুষের আসল দুর্গতিটা যেন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সেখানে পৌঁছে আমরা দেখলাম এক অবর্ণনীয় হাহাকার। আমরা কেবল ত্রাণ তুলে দিইনি, সময় নিয়ে বসেছিলাম তাঁদের পাশে। শুনেছি তাঁদের যন্ত্রণার কথা, চোখের সামনে তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার ভেসে যাওয়ার গল্প। ভেজা চোখে তাঁরা যখন নিজেদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের কথা বলছিলেন, তখন সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছিলাম আমরাও।
এই অসহায় পরিস্থিতিতে আপনাদের দেওয়া অনুদান এবং আমাদের মিলিত চেষ্টায় আমরা তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছি বেঁচে থাকার কিছু অত্যন্ত জরুরি রসদ:
* খাদ্যসামগ্রী: ডালিয়া, সুজি, বিস্কুট, ছোট হরলিক্স প্যাকেট এবং কেলগস (Kellogg's)।
* স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: মা-বোনেদের সম্মান ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং ওয়েট-ওয়াইপস (Wet-wipes)।
* নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী: মাথা গোঁজার জায়গায় একটু স্বস্তির জন্য বেডশিট, বড় বড় গামলা সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের আরও অনেক কিছু।
লড়াই এখনও শেষ হয়নি:
দারিকাপারগাঁওয়ে আমরা পৌঁছতে পারলেও, বাস্তব পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। বিহুগর, নেপালিকুঠির মতো আরও বেশ কিছু এলাকার মানুষ এখনও চরম অভাব, পানীয় জলের সংকট আর দুর্দ্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের কাছে এখনও পৌঁছানো ভীষণ জরুরি।
আপনাদের এই অমূল্য অনুদান ছাড়া আমাদের এই যাত্রা কখনোই সম্ভব হত না। "স্মৃতিসুধা" পরিবার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে আসামের এই বুকফাটা কান্নার মাঝে একটু আশার আলো জ্বালতে। এভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন, আশীর্বাদ করবেন, যাতে বিপন্ন এই মানুষগুলোর হাতটা আমরা শক্ত করে ধরে রাখতে পারি।