মন ও গ্রাফ/ Mon O Graph

মন ও গ্রাফ/ Mon O Graph Counselling, Psychotherapy, Career Counselling, Workshop on Mental health, experience -15+ yrs
Consultant : Dr.BC Roy Hospital

Mind reading, Negative interpretation, Overthinking“আমি খুব একা হয়ে যাচ্ছি।”“কেউ আমাকে পছন্দ করে না।”“সবাই আমাকে এড়িয়...
19/08/2026

Mind reading, Negative interpretation, Overthinking

“আমি খুব একা হয়ে যাচ্ছি।”

“কেউ আমাকে পছন্দ করে না।”

“সবাই আমাকে এড়িয়ে চলছে।”

চেম্বারে বসে এই ধরনের কথা আমাকে প্রায়ই শুনতে হয়।

একটু খুঁটিয়ে জানতে চাইলে দেখা যায়, এই বিশ্বাসের পিছনে অনেক সময় খুব ছোট ছোট ঘটনা থাকে।

রাস্তায় পরিচিত একজনের সঙ্গে দেখা হলো। আমি হাসলাম, কিন্তু সে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল।

মেসেজ করলাম। Seen হয়েছে, কিন্তু reply আসেনি।

ফোন করলাম। বলল, “এখন ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করব।”তারপর আর ফোন করেনি।

এরপর শুরু হয় মনের মধ্যে গল্প তৈরি হওয়া—

“নিশ্চয়ই ও আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে।”

“ও আর আমাকে পছন্দ করে না।”

“আমাদের সম্পর্কটা বোধহয় শেষ।”

“সবাই ধীরে ধীরে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।”

একটা ঘটনা থেকে আরেকটা ধারণা...

একটা ধারণা থেকে আরেকটা আশঙ্কা...

আর শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাটাই যেন সত্যি মনে হয়।

অথচ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা ভুলে যাই—

অপর মানুষটি কিন্তু কখনও বলেনি যে সে আমাদের অপছন্দ করে।

তার নীরবতা, দেরীতে উত্তর দেওয়া, ফোন না করা—এসবের অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে।

হয়তো সে ব্যস্ত ছিল।

হয়তো কোনো সমস্যার মধ্যে ছিল।

হয়তো সত্যিই কোনো কারণে কথা বলতে পারেনি।

কিন্তু আমরা সেই আচরণের সবচেয়ে নেতিবাচক ব্যাখ্যাটাই বেছে নিই এবং সেটাকেই সত্যি ধরে নিই।

তারপর সেই চিন্তাই আমাদের মনের সমস্ত জায়গা দখল করে নেয়।

কাজে মন বসে না।

Energy কমে যায়।

ঘুমের সমস্যা হয়।

খিদে কমে যায়।

মাথার মধ্যে শুধু একই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে—

“ও আমার সঙ্গে এমন কেন করল ?”

এখানেই Overthinking-এর একটা বড় ফাঁদ তৈরি হয়।

আমরা অন্য মানুষের আচরণ দেখি, কিন্তু তার উদ্দেশ্য নিজের মতো করে ধরে নিই।

অথচ সত্যিটা হলো—

অন্য একজন মানুষের মনের ভেতর কী চলছে, সেটা আমরা বড়জোর অনুমান করতে পারি, নিশ্চিতভাবে জানতে পারি না।

Psychotherapy-তে এই ধরনের Thought pattern নিয়ে কাজ করার একটি কার্যকরী উপায় হল Cognitive Restructuring।

ঘটনাটা কী?

আমি কী ব্যাখ্যা করলাম?

আমার মাথায় কী চিন্তা এল?

এই চিন্তার পক্ষে সত্যিই কী প্রমাণ আছে?

এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা কি হতে পারে?

এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করতে শেখা খুব জরুরি।

লক্ষ্য হলো প্রতিটি চিন্তাকে আরও যুক্তিসঙ্গত ও balanced দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখা ।

তাই পরের বার কেউ আপনার মেসেজের উত্তর দিল না, ফোন করল না, অথবা আপনাকে দেখেও কথা না বলে চলে গেল—

সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তে পৌঁছবেন না।

চিন্তাগুলোকে পরপর সাজিয়ে ভেবে দেখুন—

অপর মানুষটির নীরবতা একটি ঘটনা।

“সে আমাকে আর পছন্দ করে না”—এটা ঘটনার প্রতি আমার নিজের ব্যাখ্যা।

আর এই ঘটনা ও ব্যাখ্যার মাঝখানের দূরত্বটুকু চিনতে পারাই Cognitive Restructuring-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কারণ তথ্য যেখানে শেষ হয়, Overthinking অনেক সময় সেখান থেকেই গল্প লেখা শুরু করে।

রূপা সিকদার ধর
Psychological Counsellor
#অন্দরমহলেরমনস্তত্ত্ব

আপনাকে নিয়ে অন্যেরা যে গল্পটা বানিয়েছে, সেটা আপনার জীবন নয়।কাউন্সেলিংয়ে এমন কিছু মানুষ আসেন, যাঁদের জীবনের সমস্যা শু...
12/08/2026

আপনাকে নিয়ে অন্যেরা যে গল্পটা বানিয়েছে, সেটা আপনার জীবন নয়।

কাউন্সেলিংয়ে এমন কিছু মানুষ আসেন, যাঁদের জীবনের সমস্যা শুধু তাঁদের নিজের কষ্টটুকু নিয়ে নয়—বাইরের মানুষের বলা মনগড়া কথাগুলোও তাঁদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

একজন তরুণী এসেছিলেন প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে।তাঁর অনেকদিনের ভালবাসার সম্পর্কবিচ্ছেদ হয়েছে।

দুই বাড়ীর মধ্যে বিয়ের কথাবার্তা এগোতেই শুরু হয় নানারকম অশান্তি, তাঁর পক্ষে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল।

তিনি বারবার বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন।

কিন্তু যেহেতু লোক জানাজানি হয়ে গেছে এবং কথাবার্তা এগিয়ে গেছে, প্রতিবারই তাঁকে বলা হয়েছিল—

"সব বিয়ের কথাবার্তায় এমন একটু-আধটু হয়। মানিয়ে নিতে হয়।"

কখনও তাঁকেই বলা হয়েছে—

"তুমি একটু বেশি sensitive।"

শেষ পর্যন্ত একদিন তিনি আর সহ্য করতে না পেরে বিয়ে ভেঙে দেন।

তারপর শুরু হয় আরেক লড়াই।

পাড়া, আত্মীয়স্বজন, পরিচিত মানুষ এবং যে বাড়ীতে বিয়ে হতে যাচ্ছিল—
অনেকেই নিজেদের মতো করে গল্প তৈরি করতে শুরু করলেন।

কেউ তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

কেউ এমন কথা বললেন, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

ধীরে ধীরে তিনি মানুষের সামনে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন।

একদিন মন ভালো করার জন্য একজন বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। একটু সময় কাটাবেন বলে।
কিন্তু তাঁর সেই বন্ধু পুরোপুরি তাঁকে avoid করে গেলেন।

সেই ঘটনাটা তাঁর মনে এমনভাবে আঘাত করেছিল যে, তিনি আরও গুটিয়ে গেলেন।

প্রায় এক বছর বাড়ির বাইরে বেরোননি।

অন্ধকার ঘরে বসে থাকতেন।

মানুষের বলা কথাগুলো যেন তাঁর নিজের পরিচয় হয়ে উঠেছিল।

কাউন্সেলিংয়ে ধীরে ধীরে একটা প্রশ্ন নিয়ে কাজ শুরু করলাম—

"যারা আপনার সম্পর্কে এই কথাগুলো বলছে, তারা কি সত্যিই আপনার জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ যে তাদের কথায় আপনি নিজের মূল্য নির্ধারণ করবেন?"

সবসময় নয়।

অনেক সময় কিছু মানুষ যখন নিজের জীবনে করার মতো কিছু খুঁজে পায় না, তখন অন্যের জীবন নিয়ে চর্চা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

কিন্তু তাদের অসত্য কথা আপনার সত্যি হয়ে যায় না।

কেউ আপনাকে নিয়ে একটি গল্প তৈরি করলেই, সেই গল্পের চরিত্র আপনি হয়ে যান না।

আপনার পরিচয় তৈরি হয়—

আপনি কীভাবে বাঁচছেন,

কীভাবে নিজেকে সামলাচ্ছেন,

কী শিখছেন,

কী কাজ করছেন,

কী ভালোবাসছেন,

এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও কতবার উঠে দাঁড়াচ্ছেন—

সেসব দিয়ে।

Therapy-র একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল- তাঁকে শেখানো মানুষের বলা কথাকে নিজের জীবনের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

সব কথার উত্তর দিতে হয় না।

সব অপমানের প্রতিবাদ করতে হয় না।

সবাইকে নিজের সত্যি বোঝানোর দায়িত্বও আপনার নয়।

কখনও কখনও সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো—

নিজের জীবনটাকে আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিজের মনের মতো সজিয়ে নেওয়া।

ধীরে ধীরে তিনি বাইরে বেরোতে শুরু করলেন।

নিজের পছন্দের কাজ করতে শুরু করলেন।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন।

আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো যখন—

অন্য মানুষ তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে, সেটা আর তাঁর নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রইল না।

আজ তিনি অনেক ভালো আছেন।

তাঁর জীবনে এখনও কিছু সমস্যা আছে।

কিন্তু এখন তিনি জানেন—

অন্যের বলা কথা তাঁর জীবন নয়।

আপনার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।
আপনার বিরুদ্ধে গল্প তৈরি হতে পারে।
মানুষ আপনাকে ভুল বুঝতে পারে।

কিন্তু...

সেগুলোর কোনোটাই আপনার পরিচয় নয়।

আপনার পরিচয় আপনি নিজের যাপন দিয়ে তৈরি করছেন।

রূপা সিকদার ধর
Psychological Counsellor
#অন্দরমহলেরমনস্তত্ত্ব

Victim Identity/Learned Helplessnessকিছু মানুষের জীবনে সত্যিই অনেক প্রতিকূলতা থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সেই অভিজ...
05/08/2026

Victim Identity/Learned Helplessness

কিছু মানুষের জীবনে সত্যিই অনেক প্রতিকূলতা থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সেই অভিজ্ঞতাগুলো ধীরে ধীরে এমন এক চিন্তার ধরন তৈরি করে, একসময় জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে তাঁরা দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

কাউন্সেলিংয়ে এমন অনেক মানুষ আসেন, যাঁদের গল্প শুনলে প্রথমে মনে হয়—

এত কষ্ট একজন মানুষ কীভাবে সহ্য করেছেন!

ছোটবেলায় অবহেলা...

কর্মজীবন গঠনে প্রতিকূলতা...

ভালোবাসায় ব্যর্থতা...

বিয়ের পর অপূর্ণতা...

সন্তানদের নিয়ে হতাশা...

শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তা...

সব মিলিয়ে মনে হয়, ভাগ্য যেন কোনোদিনই তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি।

কিন্তু কাউন্সেলিংয়ের একটা সুন্দর দিক হলো—

গল্পটা যত গভীরে যায়...

তত নতুন কিছু চোখে পড়তে শুরু করে।

একসময় দেখা যায়,

প্রতিটি ঘটনার মধ্যে মানুষটি অজান্তেই শুধু সেই অংশটুকুই দেখছেন, যা তাঁর বিশ্বাসকে সত্যি প্রমাণ করে—

"আমার জীবনে কোনোদিন কিছু ভালো হয় না।"

যেখানে প্রশংসা ছিল, সেখানে তিনি সমালোচনা দেখেছেন।

যেখানে ভালোবাসা ছিল, সেখানে অপূর্ণতা খুঁজেছেন।

যেখানে সুযোগ ছিল, সেখানে শুধুই ব্যর্থতার আশঙ্কা দেখেছেন।

ধীরে ধীরে এই চিন্তার ধরনটাই হয়ে ওঠে বাস্তব।

আমরা প্রায়ই দেখি—

জীবনের নানা ঘটনাবলী আমাদের যতটা কষ্ট দেয়,
তারথেকে ঘটনাগুলোকে আমরা যেভাবে ব্যাখ্যা করি, সেটাই আমাদের অনেক বেশি কষ্ট দেয়।

কাউন্সেলিংয়ের উদ্দেশ্য সমালোচনা করা নয়। বরং বোঝানো—কোন চিন্তার ধরনটা আজও মানুষটাকে একই জায়গায় আটকে রেখেছে।

আমরা ঘটনা দিয়ে শুরু করি না।
আমরা শুরু করি...
ঘটনাটাকে কীভাবে দেখছি, সেখান থেকে।

এটাই Psychotherapy-এর অন্যতম ভিত্তি।

যেদিন মানুষ বুঝতে শুরু করেন—

"আমার প্রতিটি চিন্তাই সত্যি নয়।"

সেদিন থেকেই পরিবর্তন হতে শুরু করে।

কারণ...

নেতিবাচক চিন্তা যদি বছরের পর বছর প্রশ্নহীনভাবে সত্যি বলে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবীটাই অন্ধকার মনে হতে শুরু করে।

কিন্তু সুখবর হলো...

চিন্তার ধরন শেখা যায়।
প্রয়োজনে সেই নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে আরও বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও সহায়কভাবে দেখতে শেখা যায়।

তাই পরামর্শ হল…
যখনই কোনো নেতিবাচক চিন্তা আসবে আমাদের একটু থেমে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখা দরকার

“আমি কি বাস্তব চিন্তা করছি... নাকি আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের ভিত্তিতে বাস্তবকে ব্যাখ্যা করছি?”

রূপা সিকদার ধর
Psychological Counsellor

#অন্দরমহলেরমনস্তত্ত্ব

"আপনি আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন... নাকি তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান?"এই প্রশ্নটা শুনে বেশিরভাগ মানুষই উত্তর দেবেন—"অবশ্যই ভা...
28/07/2026

"আপনি আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন... নাকি তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান?"

এই প্রশ্নটা শুনে বেশিরভাগ মানুষই উত্তর দেবেন—
"অবশ্যই ভালোবাসি।"

কিন্তু কাউন্সেলিং রুমে বসে, বছরের পর বছর অসংখ্য দাম্পত্য সম্পর্কের গল্প শুনতে শুনতে একটা বিষয় বারবার চোখে পড়ে।
(এই লেখাটা কোনো একটি দম্পতির গল্প নয় বরং বহু সম্পর্কের মধ্যে দেখা একটাই মিল।)

স্বামী-স্ত্রী দু'জনেরই অভিযোগের শেষ নেই।

"ও আমাকে সময় দেয় না।"

"ও আমার কথা শোনে না।"

"ও সবকিছু লুকিয়ে করে।"

"ও আমাকে সম্মান করে না।"

"ও শুধু নিজের কথাই ভাবে।"

অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে...

কিন্তু একটা প্রশ্ন খুব কম মানুষই নিজেকে করেন—

"আমি কি সত্যিই তাকে ভালোবাসি, নাকি তাকে আমার মতো করে গড়ে তুলতে চাই?"

অনেক সম্পর্কেই ভালোবাসার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছেটা বড় হয়ে যায়।

কোথায় যাবে...

কার সঙ্গে কথা বলবে...

কী পোশাক পরবে...

কতক্ষণ বাইরে থাকবে...

কীভাবে চলবে...

সবকিছুর ওপর অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ।

আর আশ্চর্যের বিষয়...

এর নামই দেওয়া হয়—"আমি তো তোমার ভালোর জন্য বলছি।"

ভালোবাসা আর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম।

ভালোবাসা নিরাপত্তা দেয়।
নিয়ন্ত্রণ শ্বাসরোধ করে।

ভালোবাসা বিশ্বাস করতে শেখায়।
নিয়ন্ত্রণ সন্দেহ বাড়ায়।

ভালোবাসা মানুষকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
নিয়ন্ত্রণ মানুষকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয়।

একজন Psychological Counsellor হিসেবে আমি আর একটা বিষয় প্রায়ই দেখি...

অনেক দম্পতি একসঙ্গে থাকেন, কিন্তু বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন না।

তাই ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝিও নিজেরা মিটিয়ে নিতে পারেন না।

সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি, আত্মীয় বা বাইরের মানুষের মতামত খুব সহজেই সম্পর্কের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

হয়তো এই কারণেই...

সুস্থ দাম্পত্যের প্রথম শর্ত শুধু স্বামী-স্ত্রী হওয়া নয়, দু'জন ভালো বন্ধু হওয়া।

যে সম্পর্কে কথা বলার জায়গা থাকে… সেখানে অভিযোগ কমে।

যে সম্পর্কে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা থাকে… সেখানে ভালোবাসা টিকে থাকে।

আর যে সম্পর্কে শুধু একজন বদলাতে থাকে… আর অন্যজন শুধু দোষ খুঁজতে থাকে… সেখানে দূরত্ব তৈরি হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

কাউন্সেলিংয়ের একটা বড় শিক্ষা হলো—

যতক্ষণ আমরা শুধু অপর মানুষটাকে বদলাতে চাই, ততক্ষণ আমরা অসহায় বোধ করি।

আর যেদিন থেকে নিজেকে নিয়ে কাজ শুরু করি, সেদিন থেকেই সমাধানের দরজাটা খুলতে শুরু করে।

কারণ...

সম্পর্কের দৃঢকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় সঙ্গীর আচরণ বদলানো নয়, নিজের আচরণের প্রতি সৎ হওয়া।

রূপা সিকদার ধর
Psychiatric counsellor.
#অন্দরমহলেরমনস্তত্ত্ব

"একটা বাচ্চা যখন ক্লাসে চুপ করে বসে থাকে, তখন সে হয়তো পড়া এড়াচ্ছে না...  হয়তো বারবার অপমানিত হওয়া এড়াচ্ছে।"কাউন্সে...
18/07/2026

"একটা বাচ্চা যখন ক্লাসে চুপ করে বসে থাকে, তখন সে হয়তো পড়া এড়াচ্ছে না... হয়তো বারবার অপমানিত হওয়া এড়াচ্ছে।"

কাউন্সেলিংয়ে এমন অনেক বাচ্চা আসে, যাদের সম্পর্কে স্কুল থেকে অভিযোগ আসে—

"ক্লাসে চুপ করে বসে থাকে।"

"ক্লাসওয়ার্ক করে না।"

"কিছু জিজ্ঞেস করলে মাথা নিচু করে থাকে।"

অথচ বাড়িতে...

হোমওয়ার্ক ঠিকঠাক করে আনে।

তাই স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মা ভাবেন—

"স্কুলে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হচ্ছে।"

কিন্তু সবসময় কি তাই?

কিছুদিন আগে এমনই এক ছোট্ট বাচ্চার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। পরিচয় গোপন রাখার জন্য কিছু তথ্য পরিবর্তন করে লিখছি।

ধীরে ধীরে বোঝা গেল...

ওর অক্ষরজ্ঞান এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
যুক্তাক্ষর পড়তে কষ্ট হয়।
সহজ যোগ-বিয়োগেও আত্মবিশ্বাস নেই।
এদিকে সে ক্লাস থ্রিতে উঠে গেছে।

এখন একটু ভাবুন...

যে বাচ্চা বোর্ডে লেখা পড়তেই পারছে না, সে ক্লাসওয়ার্ক করবে কীভাবে?

যখন পাশের সব বন্ধুরা লিখছে, আর সে পারছে না...

তখন তার কাছে সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

চুপ করে বসে থাকা।

অনেক সময় এই নীরবতা অবাধ্যতার নয়...
এটা লজ্জার।
ব্যর্থতার ভয়।
বারবার ভুল করার আতঙ্ক।

আর হোমওয়ার্ক?

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রথমদিকে টিউটর বাড়িতে বলতেন যে বাচ্চাটি শিখতে পারছে না। পরে ধীরে ধীরে উত্তর বলে বলে লিখিয়ে দেওয়া শুরু হয়।

ফলে খাতা ভর্তি হলো...

কিন্তু শেখাটা আর হলো না।

এখানে আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না।

একজন স্কুলশিক্ষকের পক্ষে ৩০–৪০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে প্রত্যেকের শেখার ঘাটতি আলাদা করে ধরা সবসময় সম্ভব হয় না।
আবার অনেক বাবা-মাও সময়, কাজ বা পড়ানোর দক্ষতার সীমাবদ্ধতার কারণে স্কুল ও টিউটরের ওপর নির্ভর করেন।

কিন্তু এই ঘটনা একটা প্রশ্ন রেখে যায়...

“আমরা কি শুধু এই দেখছি যে হোমওয়ার্ক করা হয়েছে , নাকি বাচ্চাটা নিজের চেষ্টায় করতে পারছে কি না, সেটাও দেখছি?”

একজন Psychological Counsellor হিসেবে আমি এমন বেশ কিছু শিশুর সঙ্গে কাজ করেছি।

আমার অভিজ্ঞতায়, অনেক সময় বাচ্চা পড়তে চায় না বলে নয়...

সে পড়তে পারে না বলেই পড়া এড়িয়ে যায়।

আর আমরা সেই নীরবতাকে ভুল বুঝি।

বাবা-মা এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের কাছে আমার একটি অনুরোধ—

শিশু যদি বারবার একই জায়গায় আটকে যায়...

তাকে শুধু আরও বেশি পড়তে বলবেন না।
প্রথমে দেখুন...
সে সত্যিই শিখছে, নাকি শুধু মুখস্থ করছে?
কারণ...

শেখার ভিতটাই যদি মজবুত না হয়, তাহলে পরের প্রতিটি ক্লাস শিশুটির কাছে আরও ভয়ের, আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

আর একটা শিশু যখন ভেঙে পড়ে...

সে প্রথমে নিজের ওপর বিশ্বাস হারায়।

রূপা সিকদার ধর
For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

#অন্দরমহলেরমনস্তত্ত্ব

যে পরিবারে পারস্পরিক সম্মান,  প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা আর স্বীকৃতির ভাষা হারিয়ে যায়, সেখানে ভালোবাসাও ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে ...
08/07/2026

যে পরিবারে পারস্পরিক সম্মান, প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা আর স্বীকৃতির ভাষা হারিয়ে যায়, সেখানে ভালোবাসাও ধীরে ধীরে নিঃশব্দ হয়ে যায়।

অনেক পরিবারেই একটা কথা খুব গর্ব করে বলা হয়—

" আপনজনের মধ্যে আবার 'Thank you' বলতে হয় নাকি?"

সত্যিই কি হয় না?

একজন স্বামী প্রতিদিন সংসারের জন্য পরিশ্রম করে বাড়ি ফিরছেন।

একজন স্ত্রী দিনের পর দিন অফিস, সংসার, সন্তান—সব সামলাচ্ছেন।

একজন ছেলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সেবা করছেন,ওষুধ কিনে আনছে।

একজন মেয়ে নিজের ইচ্ছাগুলো সরিয়ে রেখে পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

একটি শিশু মন দিয়ে পড়াশোনা করছে, আর ছোট ছোট দায়িত্বগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছে শুধু একদিন বাবা-মায়ের মুখে "আমি তোমার জন্য গর্বিত" শুনবে বলে।

সবাই কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু...

কেউ কাউকে বলে না—
"তুমি আছ বলে আমার জীবনটা একটু সহজ হয়েছে।"

কেউ বলে না—
"তোমার এই কাজটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।"

বরং কী শুনতে হয়?

"এটা তো তোমার কর্তব্য।"

"এতে কী আর এমন বড় কিছু করে ফেলেছ?"

"আরও ভালো করতে পারতে।"

ধীরে ধীরে কী হয় জানেন?

মানুষ নিজের দায়িত্ব পালন বন্ধ করে না। কিন্তু ভালোবাসার অনুভূতি হারিয়ে ফেলে। শূন্যতা তৈরি হয়।

একজন Psychological Counsellor হিসেবে আমি প্রায়ই দেখি, সম্পর্ক ভাঙার শুরু বড় কোনো ঘটনা দিয়ে হয় না।

অনেক সময় সম্পর্ক ভাঙতে শুরু করে...যেদিন একজন মানুষ ভাবতে শুরু করেন—

"আমি প্রতিদিন আমার কর্তব্য করে যাচ্ছি। কিন্তু কেউ যেন বুঝতেই চায় না, এই কর্তব্যগুলোর পেছনেও একজন মানুষ আছে—তারও ক্লান্তি আছে, কষ্ট আছে, আর একটু স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে।”

Gratitude শুধু একটা ভদ্রতা নয়।

এটা মানুষকে জানায়—"তুমি গুরুত্বপূর্ণ।"

যে পরিবারে কৃতজ্ঞতার বদলে সমালোচনা চলতে থাকে, সেখানে ভালোবাসা অনেক সময় দায়িত্বে পরিণত হয়।
আর দায়িত্ব দিয়ে সংসার চলতে পারে...কিন্তু শুধুমাত্র দায়িত্ব দিয়ে সম্পর্ক বেঁচে থাকে না।

আজ বাড়ি ফিরে একটা ছোট্ট কাজ করে দেখুন।

কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই, পরিবারের একজন মানুষকে শুধু বলুন ( নিজের মতো করে)—

"তুমি যা করো, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।"

দেখুন, তার মুখের অভিব্যক্তি বদলায় কি না।
কারণ...
ভালোবাসা শুধু বড় বড় দায়িত্ব / কর্তব্য পালন করলেই বাঁচে না।
কখনও কখনও ছোট ছোট স্বীকৃতিও একটা সম্পর্ককে নতুন করে বাঁচিয়ে দিতে পারে।

রূপা সিকদার ধর
For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

#ঘরেরভেতরেরমনস্তত্ত্ব

"When the source of life within you is your highest authority, the opinions and judgments around you do not matter."এই ক...
06/07/2026

"When the source of life within you is your highest authority, the opinions and judgments around you do not matter."

এই কথার অর্থ, অন্যদের কথা অগ্রাহ্য করা নয়।বরং, নিজেকে এতটা চিনে ফেলো, যাতে অন্যের মতামত তোমার পরিচয় নির্ধারণ না করে।

কাউন্সেলিং এ প্রায়ই এমন মানুষেরা আসেন, যারা জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সফল। নিজের কাজ, পরিবার, দায়িত্ব—সবই সামলাচ্ছেন।

তবুও তারা ভীষণ কষ্টে থাকেন।

কেন?

কারণ, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা অন্যের সাফল্যে/ আনন্দে / ভালোথাকায় অনুপ্রাণিত না হয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। তাই তাঁরা সমালোচনা করেন, ছোট করার চেষ্টা করেন, তুলনা করেন, বা এমন কিছু কথা বলেন, যা দিয়ে একজন মানুষের শান্তি/ আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা যায়।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল

আসল সমস্যা অন্যের কথা নয়।

সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন আমরা সেই মানুষ গুলোকে চিনতে পেরেও তাদের কথাগুলোকে নিজের সত্যি বলে বিশ্বাস করতে শুরু করি।

• ধীরে ধীরে আমরা নিজের strength গুলো ভুলে যাই।

• নিজের achievement গুলোকে ছোট করে দেখি।

• নিজের সাফল্য গুলো ভুলে মিথ্যের ফাঁদে পড়ে যাই।
সেখান থেকেই শুরু হয় মানসিক কষ্ট।

এই বিষয়ে থেরাপির মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মানুষকে শেখাতে হয়—

• কোনটা আমার নিজের পরিচয়, আর কোনটা অন্যের মতামত।

• নিজের strength, achievement ও success (প্রত্যেকের জীবনেই কিছু থাকে, কিন্তু চিনতে পারিনা) গুলো আরেকবার দেখে নেওয়া।

• Healthy boundary তৈরি করা—সব মতামত গ্রহণযোগ্য নয় বা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়।

• যাঁরা বারবার শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব রাখা বা জীবন থেকে ছেঁটে ফেলা অনেক সময় আত্মসম্মানের অংশ।

• সবচেয়ে বড় কথা, নিজের মূল্য অন্যের প্রশংসা বা সমালোচনার ওপর নির্ভর করে না।

যেদিন একজন মানুষ এই কথাগুলো বুঝতে পারেন, সেদিন থেকে অন্যের কথাগুলো আর তাঁকে আগের মতো কষ্ট দিতে পারে না।
কারণ, তখন তাঁর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নিজের পরিচয়, নিজের মূল্যবোধ এবং নিজের সত্য।

For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

“ম্যাডাম, আমার ওজনটা একটু কমিয়ে দিন…”এই কথাটা আমরা প্রায়ই শুনি।কিন্তু কখনও কখনও ওজনের গল্পটা আসলে খাবারের গল্প নয়। সে...
03/07/2026

“ম্যাডাম, আমার ওজনটা একটু কমিয়ে দিন…”

এই কথাটা আমরা প্রায়ই শুনি।

কিন্তু কখনও কখনও ওজনের গল্পটা আসলে খাবারের গল্প নয়। সেটা হয় মনের গল্প।

কিছুদিন আগে একজন ভদ্রলোক কাউন্সেলিংয়ে এসেছিলেন। তাঁর পরিচয় গোপন রাখার জন্য কিছু তথ্য পরিবর্তন করে লিখছি।

অভিযোগ ছিল—তিনি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে খাচ্ছেন। ওজন দ্রুত বাড়ছে। বাড়ির লোকের ধারণা, তিনি শুধু নিজের ইচ্ছেমতো চলেন, কোনো নিয়ম মানতে চান না।

প্রথম কয়েকটি সেশনে বিষয়টি অনেকটাই এমনই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু কাউন্সেলিংয়ে আমরা অনেক সময় সমস্যার উপসর্গ নয়, তার শিকড় খুঁজে দেখি।

ধীরে ধীরে তিনি এমন কিছু অনুভূতির কথা বলতে শুরু করলেন, যা এতদিন কাউকে বলেননি।

বাইরে থেকে তাঁর জীবন বেশ সফল। ভালো চাকরি, আর্থিক স্থিতি, সংসার—সবই আছে।

কিন্তু ভেতরে তিনি প্রতিদিন তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে বেঁচে ছিলেন।

বাড়িতে ফিরে শান্তি পাবেন, না নতুন কোনো অশান্তির মুখোমুখি হবেন—এই অনিশ্চয়তা তাঁকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়াত। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। একাকিত্ব বাড়তে থাকে। আনন্দের জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। সম্পর্কও আর নিরাপদ মনে হতো না।

এরপর শুরু হয় বিষণ্নতা, উদ্বেগ, এবং সেই সঙ্গে খাবারের সঙ্গে এক অদ্ভুত সম্পর্ক।

অনেকের কাছে খাবার শুধু খিদে মেটানোর উপায়।

কিন্তু কারও কারও কাছে খাবার হয়ে ওঠে—
একটু শান্তি,
একটু সান্ত্বনা,
কিংবা কয়েক মিনিটের জন্য কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা।

তখন সমস্যাটা আর শুধু "বেশি খাওয়া" থাকে না।

এটি হয়ে যায় emotional eating—যেখানে মানুষ খিদের জন্য নয়, অনুভূতির ভার সামলাতে খায়।

কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতিগুলো চিনতে শিখেছেন। চাপ সামলানোর নতুন উপায় তৈরি হচ্ছে। নিজেকে একটু একটু করে ফিরে পাচ্ছেন।

এই পথ সহজ নয়। বহু বছরের অভ্যাস এবং মানসিক ক্ষত কয়েক সপ্তাহে বদলে যায় না। কিন্তু পরিবর্তন সম্ভব—যখন মানুষকে শুধু "কম খাও" বলা হয় না, বরং তাঁর কষ্টটাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তবে এই গল্প আমাকে আরেকটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়।

যদি একটি সম্পর্ক বা পারিবারিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে একজন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, তাহলে শুধু একজনের কাউন্সেলিং সব সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

অনেক সময় পুরো পরিবারের যোগাযোগের ধরন, পারস্পরিক সম্মান এবং বোঝাপড়ারও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

কারণ কখনও কখনও একজন মানুষের উপসর্গ আসলে তাঁর যাবতীয় সম্পর্কের নীরব ভাষা।

সব ওজনের পেছনে অতিরিক্ত খাবার থাকে না। কখনও কখনও থাকে অতিরিক্ত কষ্ট।

For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

"সরকারি চাকরি না হলে জীবন ব্যর্থ।"এই একটি বাক্য কত মানুষের জীবনকে নিঃশব্দে প্রভাবিত করে, তা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি ন...
01/07/2026

"সরকারি চাকরি না হলে জীবন ব্যর্থ।"

এই একটি বাক্য কত মানুষের জীবনকে নিঃশব্দে প্রভাবিত করে, তা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না।

কিছুদিন আগে এক তরুণ কাউন্সেলিংয়ে এসেছিলেন। তাঁর পরিচয় গোপন রাখার জন্য কিছু তথ্য পরিবর্তন করে লিখছি।

ছোটবেলা থেকে তিনি একটি কথাই শুনে বড় হয়েছেন—"সরকারি চাকরি না পেলে জীবনে কিছুই হবে না।"

তিনি নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর শুরু হলো একের পর এক সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি। বারবার চেষ্টা, বারবার ব্যর্থতা।

শেষ পর্যন্ত একটি বেসরকারি চাকরি পেলেও সেটার সঙ্গে তাঁর পড়াশোনার বিষয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রতিদিন অফিসে যাওয়া, ভুলের ভয়, চাকরি হারানোর আশঙ্কা, নিজের কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ না থাকা—ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করলেন, "আমার দ্বারা কিছুই হবে না।"

বাড়িতেও একই কথা শুনতে হতো। এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীও তাঁকে আরও ভেঙে দিচ্ছিল। নিজের ওপর বিশ্বাস প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলেন।

তিনি অনেকবার ভেবেছিলেন কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেবেন। কিন্তু আশপাশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার
( কাউন্সেলিং শুধু পাগলরাই করায়) ভয়ে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত নিজেকেই বোঝালেন, "Career Counselling করলে অন্তত কেউ পাগল বলবে না।" সেই কারণেই প্রথমবার কাউন্সেলিংয়ে আসা।

কাউন্সেলিংয়ের সময় বিভিন্ন psychometric assessment এবং দীর্ঘ আলোচনায় বারবার একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল—তাঁর আগ্রহ, দক্ষতা এবং সম্ভাবনা তাঁর নিজের বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তিনি নিজের রিপোর্টের চেয়ে বহু বছরের শোনা কথাগুলোকে বেশি বিশ্বাস করছিলেন।

অনেক সময় আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা বাইরের মানুষ নয়, বরং বহুদিন ধরে নিজের সম্পর্কে বিশ্বাস করে আসা সেই নেতিবাচক বাক্যগুলো ( তোর দ্বারা কিছু হবে না)।

ধীরে ধীরে তিনি নিজের শক্তিগুলোকে নতুন করে দেখতে শিখলেন। বুঝতে পারলেন, অন্যের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তিনি নিজের স্বপ্নটাই ভুলে গিয়েছিলেন।

কিছুদিন আগে তাঁর ফোন এসেছিল।

তিনি বললেন, "সেদিন যদি কাউন্সেলিংয়ে না আসতাম, তাহলে হয়তো কোনোদিন নিজের পছন্দের পথে হাঁটার সাহসই পেতাম না। এখন নিজের কাজ করি, আনন্দ নিয়ে কাজ করি, আর অনেক বেশি শান্তিতে আছি।"

এই গল্পটা শুধু একজন তরুণের নয়। এমন অনেক ছেলে-মেয়ে আছে, যারা শুধু নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয়, বরং অন্যের ভয়, প্রত্যাশা আর তুলনার ভার নিয়ে জীবন কাটায়।

সন্তানকে পথ দেখানো অবশ্যই জরুরি। কিন্তু পথ দেখানো আর পথ ঠিক করে দেওয়া—দুটো এক জিনিস নয়।

কখনও কখনও একটি প্রশ্নই জীবন বদলে দিতে পারে—"তুমি সত্যিই কী করতে চাও?”

For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

অনেকেই জানেন আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মানসিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা এবং career confusion নিয়ে কাজ করছি। এতদিন এই বিষয...
30/06/2026

অনেকেই জানেন আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মানসিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা এবং career confusion নিয়ে কাজ করছি। এতদিন এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি লিখিনি। কিন্তু প্রতিদিনের কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে বুঝিয়েছে, অনেক মানুষ শুধু সঠিক তথ্যের অভাবে বা কাউকে খোলাখুলি বলতে না পারার কারণে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট পান।

তাই আজ থেকে নিয়মিত কিছু ভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে লেখা শেয়ার করব।

সব ক্ষত সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা দেয় না। কিছু ক্ষত অনেক বছর পর কথা বলতে শুরু করে।

কিছুদিন আগে একজন তরুণী কাউন্সেলিংয়ে এসেছিলেন। তাঁর পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার জন্য কিছু বিবরণ পরিবর্তন করে লিখছি।

ছোটবেলায় তাঁর সঙ্গে একটি abuse এর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় বিষয়টি যেন কোথাও চাপা পড়ে যায় * ( Repression)। বাইরে থেকে জীবন চলছিল স্বাভাবিক, কিন্তু মনের ভেতর সেই স্মৃতি নীরবে রয়ে গিয়েছিল।

বহু বছর পরে একটি আলোচনার সময় ট্রিগারের মাধ্যমে হঠাৎ সেই স্মৃতি আবার ফিরে আসে **(Trauma Trigger)। তারপর থেকেই তিনি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়েন। পড়াশোনায় মন বসত না, নিজেকে একা মনে হতো, আর সবচেয়ে বেশি রাগ হতো বাবা-মায়ের ওপর। তাঁর মনে প্রশ্ন ছিল—"সেই সময় যদি আমাকে সত্যিই রক্ষা করা হতো, তাহলে আজ কি আমি এত কষ্ট পেতাম?"

আরও একটি বিষয় তাঁকে কষ্ট দিচ্ছিল। সম্পর্কের প্রতি তাঁর আগ্রহ থাকলেও, যখনই কোনো সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার দিকে এগোত, তিনি অস্বস্তি অনুভব করতেন। কোনো কারণ ছাড়াই সামনে থাকা মানুষটিকেই খারাপ বা অবিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে শুরু করত। তখন তিনি ভাবতেন, "সমস্যাটা বোধহয় আমারই।"

আসলে, অনেক সময় এটি "চরিত্রের সমস্যা" নয়, "ইচ্ছাশক্তির অভাব"ও নয়। অমীমাংসিত মানসিক আঘাত (trauma) আমাদের নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাস এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

ধীরে ধীরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে বুঝতে শিখলেন। নিজের অনুভূতিগুলোকে দোষ না দিয়ে গ্রহণ করতে শিখলেন। আজ তিনি পড়াশোনায় ফিরে এসেছেন, নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন, এবং একটি সুস্থ ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছেন।

এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্য শুধু একটাই—

অনেক সময় "কী হয়েছে" তা নয়, "কীভাবে সেই ঘটনার ভার এতদিন একা বয়ে বেড়িয়েছে"—সেই কথাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও মনে হয়, অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা আজও বর্তমান জীবন, সম্পর্ক বা আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করছে, তাহলে মনে রাখবেন—সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার নয়, সাহসের পরিচয়।

* Repression একটি অচেতন বা সাবকনশাস ডিফেন্স মেকানিজম

* * Trauma Trigger : বড় হওয়ার পর কোনো ঘটনা যদি ট্রমাটিক ঘটনার সাথে মিলে যায়, অবদমিত স্মৃতিগুলো আবার সচেতন মনে ভেসে ওঠে।

For appointment
Call/ WhatsApp 9331292677

Address

Sodepur
Kolkata
700113

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মন ও গ্রাফ/ Mon O Graph posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share