26/06/2026
তোমার এতো ভালোবাসা কোথায় আমি রাখবো বলো না পার্ট ২
অনেক দূর দূর থেকে কচি কাচা নিয়ে তাদের মা বাবা রা আমায় দেখাতে আসেন। আমি তো বলেই থাকি, যে সকলকে আমি ঠিক করতে মোটেই পারিনা, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের থেকেই অপার ভালোবাসা পাই, ঈশ্বর এর অশেষ কৃপায়। সেদিন সুন্দর বন থেকে এলেন, এক পুঁচকে, তার মা বাবা র সাথে, নিয়ে এসেছে তাদের ওখানকার এত্ত বড় জ্যান্ত কাঁকড়া, তাদের দাঁড় দেখে তো আমার হৃৎকম্প শুরু, তা ওনারা দেখালেন কাঁকড়া ভালো করে বেঁধে এনেছেন, দুষ্ট গুলো কিছুতেই ব্যাগ থেকে বেরোবে না। চেম্বার করলাম, পুরো শেষ অব্দি ব্যাগ টি লাফিয়ে গেলো, পা বাঁধা কাঁকড়া রা গোষ্ঠী বদ্ধ ভাবে ব্যাগ এ লাফাচ্ছে যে, অনেক ভয় ভয় ওই ব্যাগ নিয়েই নামলাম, তারপর বাড়ি। বাড়ি গিয়ে একটি হাঁড়ি তে জল দিয়ে, ঠিক ওনারা যেভাবে বলেছেন, সেইভাবে কাঁকড়া গুলিকে ছেড়ে দিলাম।ওপরে একটা ছোট্ট ঢাকা। একবার বললাম পালিয়ে যাবে না তো? শশুর মশাই বললেন, জানো না এক কাঁকড়া অন্য কাঁকড়া কে পালতে দেয় না, তাকে আটকে দেয়, ওইজন্যই কথায় বলে না, বাঙালী কাঁকড়া র জাতি?
ভালো কথা, পর দিন কাঁকড়া র ঝাল রান্না হবে, এই আনন্দে সবাই শুতে যাওয়া হলো, সকালে উঠে দেখি বারান্দায় হাঁড়ির মুখের ঢাকনা টা মাটিতে পরে। যত জন ছিলেন হাঁড়িতে তারা অর্ধেক হয়ে গেছেন, বাকিরা নিরুদ্দেশ। হন্যে হয়ে সবাই মিলে তখন কাঁকড়া খুঁজছি।
একজনকে পেলাম, ফুলের টব এর নিচে। বাকিরা পগার পার।
বাঙালী ও কাঁকড়া র উন্নয়ন দেখে আমরা যারপরনাই অবাক।
শেষে যারা পরে ছিলেন তাদের দিয়েই রান্না হলো কাঁকড়া র ঝাল। কিন্তু যারা হারিয়ে গেছেন তাদের আর খুঁজে পাইনি। কেউ কি বলতে পারেন, জল ছাড়া এরা বাঁচে কতদিন, বাড়িতে কোথাও লুকিয়ে থাকার সম্ভবনা আছে কি?
আমার সকল পরম প্রিয় রোগী বন্ধুরা, আপনাদের ভালোবাসা য় আমি আপ্লুত, কিন্তু এ ভালোবাসা এবার বড়ই দৌড় করলো, শেখালো ও অনেক কিছু, কাঁকড়া এবং বাঙালী উভয় র ই পরিবর্তন ভীষণ ভাবে সম্ভব।
#রোগীকথা রূপকথা