10/09/2026
মাঝে মাঝে এক-একটি দিন হৃদয়ের গহিন ছুঁয়ে মনের মণিকোঠায় চিরতরে গেঁথে যায়। আজ তেমনই একটি দিন।
পার্ক ক্লিনিকে আমার চেম্বার বহুদিনের। শুরু করেছিলাম এক মহিরুহের ছায়ায়—ডাক্তার সন্দীপ চ্যাটার্জী স্যার। কী অসাধারণ ছিল তাঁর কর্মক্ষমতা, আর কী আশ্চর্য ছিল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষমতা!
স্যারেরই দেখা এক রোগিণীকে আমি পরবর্তীকালে দেখতাম। স্যারের কাছে তাঁর দু’বার ব্রেন সার্জারি হয়েছিল; আমার কাছে আসতেন মৃগীর চিকিৎসার জন্য। স্যারের অকালপ্রয়াণে বয়স্ক মানুষটি বড় আঘাত পেয়েছিলেন। চোখ মুছতে মুছতে বলতেন,
“ডাক্তারবাবু আমার থেকে কত ছোট—তাও চলে গেলেন?”
মাসিমা নিজেও বহুদিন খুব অসুস্থ ছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়েরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। শেষবার যখন তাঁকে দেখি, তখনও হেসে আমাকে বলেছিলেন,
“তুমি কিন্তু, ডাক্তার, বড় রোগা হয়ে যাচ্ছ!”
আজ আমার জন্মদিন। আজ চেম্বারে এসেছিলেন তাঁর মেয়ে। হাতে এক বাক্স মিষ্টি, একটি কলম আর সারদা মায়ের একটি ছবি।
মাসিমা চলে গিয়েছেন আজ ঠিক এক মাস হলো। যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, আমার জন্মদিনে তাঁদের ওখানকার মিষ্টি খাওয়াবেন।
কথা রেখেছেন।
মেয়ের হাত দিয়ে পাঠাতে ভোলেননি।
মাসিমা, আমার ভালোবাসা নেবেন। অমৃতলোকে বড় ভালো থাকবেন।
আমরা অকিঞ্চিৎকর মানুষ। তবু যখন এমন উজাড় করে দেওয়া ভালোবাসা পাই, মনে হয়—ঈশ্বরদর্শন হলো।
অদ্বৈতবাদও তো ঠিক সেই কথাই বলে—মানুষের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর কখনও কখনও দর্শন দিয়ে যান।
#রোগীকথারূপকথা