08/09/2026
OTP না দিলেও কি এখন ব্যাংকের টাকা নিরাপদ? কিছু কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই
কিছুদিন ধরে অনলাইন ব্যাংক জালিয়াতির খবর দেখে একটা বিষয় আমাকে সত্যিই ভাবাচ্ছে।
আগে আমিও মনে করতাম—OTP কাউকে না দিলেই ব্যাংকের টাকা নিরাপদ। কিন্তু এখন এমন অনেক ঘটনার কথা শুনছি, যেখানে মানুষ বলছেন তাঁরা কাউকে OTP দেননি, অথচ তাঁদের Bank Account থেকে টাকা চলে গেছে।
কোথাও Savings Account-এর টাকা, কোথাও বহু বছরের সঞ্চয়, আবার কোথাও FD নিয়েও সমস্যার কথা শোনা যাচ্ছে।
আমরা সারাজীবন পরিশ্রম করে একটু একটু করে টাকা জমাই। তাই আমার মনে হয়েছে, শুধু OTP গোপন রাখলেই এখন আর দায়িত্ব শেষ নয়। নিজের পুরো Digital Banking ব্যবস্থাটাকেই সুরক্ষিত রাখা দরকার।
আমি নিজেও কয়েকটি বিষয়ে এখন থেকে আরও বেশি সতর্ক থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
১. Public mobile number আর Banking number আলাদা রাখা
আমাদের অনেকেরই ব্যবসা বা পেশার কারণে mobile number Facebook, WhatsApp, website বা অন্য জায়গায় public থাকে। আমার নিজেরও পেশাগত কারণে contact details বহু জায়গায় প্রকাশিত।
তাই আমার মনে হয়, সম্ভব হলে Banking-এর জন্য একটি আলাদা private mobile number এবং আলাদা email ব্যবহার করা ভালো। সেই number বা email অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোথাও প্রকাশ না করাই নিরাপদ।
২. UPI Account-এ প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা না রাখা
যে account থেকে প্রতিদিন UPI বা ছোটখাটো online payment করি, সেখানে খুব বেশি টাকা রাখার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।
বড় Savings ও FD-কে দৈনন্দিন লেনদেনের account থেকে যতটা সম্ভব আলাদা ও সুরক্ষিত রাখা ভালো।
৩. WhatsApp বা SMS-এ আসা অচেনা App/APK থেকে সাবধান
“KYC Update”, “Bank Update”, “Electricity Bill”, “Police Notice” ইত্যাদি নামে কোনও link বা APK এলেই বিশ্বাস করা উচিত নয়।
পরিচিত নাম বা logo দেখলেই যে সেটি আসল—তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
৪. Screen Share বা Remote Access কখনও নয়
কেউ Bank বা Customer Care-এর লোক পরিচয় দিলেও mobile-এর screen share করা বা AnyDesk/TeamViewer-এর মতো remote-access app install করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
OTP, UPI PIN, ATM PIN, CVV এবং Banking Password—কোনোটাই কাউকে দেওয়া উচিত নয়।
আর একটা কথা বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—
নিজের Account-এ টাকা গ্রহণ করার জন্য UPI PIN দিতে হয় না।
৫. ভয় দেখিয়ে টাকা চাইলে আগে যাচাই করুন
কেউ Police, CBI, ED, TRAI বা অন্য কোনও সরকারি সংস্থার নাম করে ফোন করে ভয় দেখাল—আর বলল এখনই টাকা পাঠাতে হবে—তাহলে আতঙ্কিত হয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
আজকাল “Digital Arrest”-এর ভয় দেখিয়েও প্রতারণার কথা শোনা যাচ্ছে।
ভয় এবং তাড়াহুড়ো—প্রতারকদের বড় অস্ত্র।
আমার মতে, বিশেষ করে যাঁদের phone number বা email পেশাগত কারণে public থাকে, তাঁরা এই সহজ ব্যবস্থাটি ভেবে দেখতে পারেন—
Public Number → সাধারণ ও পেশাগত যোগাযোগ
Private Number → শুধু Banking
Private Email → শুধু Banking ও Finance
UPI Account → সীমিত টাকা
Main Savings/FD → দৈনন্দিন লেনদেন থেকে যতটা সম্ভব আলাদা
আর দুর্ভাগ্যবশত কোনওদিন যদি দেখি আমার অজান্তে account থেকে টাকা চলে গেছে, তাহলে “কাল Bank-এ যাব” বলে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
সঙ্গে সঙ্গে Bank-কে জানাতে হবে, প্রয়োজনীয় Banking Access/Card block করতে হবে এবং Cyber Crime Helpline 1930-এ যোগাযোগ করতে হবে।
আমার নিজের উপলব্ধি খুব সহজ—
আজকের দিনে শুধু OTP বাঁচানো নয়, নিজের Mobile Number, Email, UPI, Phone এবং Bank Account—সবকিছুকে একসঙ্গে সুরক্ষিত রাখার কথা ভাবতে হবে।
আমরা অনেকেই জীবনের ২০–৩০–৪০ বছরের পরিশ্রমে একটু একটু করে সঞ্চয় তৈরি করি। কয়েক মিনিটের অসাবধানতায় সেই সঞ্চয় যেন কোনও প্রতারকের হাতে না যায়।
তাই Digital Banking-কে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, বন্ধ করে দেওয়ারও দরকার নেই।
দরকার শুধু সচেতনতা, কিছু নিয়ম এবং সময়মতো সতর্ক হওয়া।
আর বিশেষ করে বাড়ির বয়স্ক মানুষদের এই বিষয়গুলো বারবার বুঝিয়ে বলা দরকার। কারণ প্রযুক্তি প্রতিদিন বদলাচ্ছে, তার সঙ্গে প্রতারণার পদ্ধতিও বদলাচ্ছে।
আপনাদের পরিচিত কারও কি OTP না দেওয়া সত্ত্বেও Bank Account থেকে টাকা চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে?
হয়ে থাকলে কীভাবে ঘটেছিল, মন্তব্যে জানাতে পারেন। আপনার একটি অভিজ্ঞতা হয়তো অন্য একজন মানুষের বহু বছরের সঞ্চয় বাঁচাতে সাহায্য করবে।
— Ramapada Acharjee