13/09/2026
লেখাটা বড়।
কিন্তু জরুরী।
অনুগ্রহ করে পড়বেন।
আপনি ডাক্তার দেখাতে যাবেন । ভাবলেন তার আগে ডাক্তারবাবুর রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটা যাচাই করে নি। বলা তো যায় না চারিদিকে যা জালিয়াতি চলছে। আপনি দেখলেন সেই ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশন প্যাডে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার আছে। আপনি নিশ্চিন্ত হলেন যে যাই হোক বাবা এই ডাক্তার কোন জালিয়াত বা প্রতারক নন!
প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী একটু দাঁড়িয়ে যান।
হ্যাঁ আপনাদেরকেই বলছি। একটু দাঁড়ান!!!
এই পশ্চিমবঙ্গে বিগত ১৫ বছর ধরে যে জালিয়াতি আর প্রতারণা হয়েছে তার নবতম সংযোজন সদ্য আবিষ্কৃত হয়েছে।
যে ঘটনা এই রাজ্যে তো বটেই সম্ভবত সারা ভারতে অভূতপূর্ব।
যারা স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি, হয়তো ক্লাস ফোর কিংবা ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে সেই রকম অনেক লোককে আগের মেডিকেল কাউন্সিল, যেটা তৃণমূলী ডাক্তাররা ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ছাপ্পা মেরে দখল করেছিল, সেই কাউন্সিল টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে টাকাটা জনপ্রতি ১০ লক্ষ টাকা।
ভাবতে পারছেন!!!????
একজন ডাক্তারী ছাত্র এমবিবিএস পাস করার পর সেই রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন পেলে তবেই সেই রাজ্যে প্র্যাকটিস করার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সেই ডাক্তারবাবুর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। যা তাকে স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করতে বৈধতা দেয়।
বর্তমান মেডিক্যাল কাউন্সিল যার মাথায় আছেন "নর্থবেঙ্গল লবি" র তথাকথিত ডাঃ সুদীপ্ত রায়, ডাঃ সুশান্ত রায়, ডাঃ অভিক দে, ক্লাস ফোর পাশ করা ক্লাস ফাইভ পাশ করা লোকজনকে এই মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে ডাক্তার হিসেবে প্র্যাকটিস করার লাইসেন্স দিয়েছে।
এই ঘটনা কি করে ধরা পড়ল?
যখন চার বছর বয়সের একটা ফুটফুটে বাচ্চা বর্ধমানে ফাইমোসিস অপারেশন করতে গিয়ে মারা গেল। তখন দেখা গেল যে "ডাক্তারবাবু" অপারেশন করেছেন, সেই "ডাক্তারবাবু" আদপে ডাক্তারই নন, কিন্তু তার ওয়েস্টবেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন আছে।
এই প্রসঙ্গে আপনাদের ছোট্ট করে বলি যে, এই মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভোট কিভাবে হয়।
দুটো প্যানেলে ভোট হয়। ৭, ৭ জন করে সর্বমোট ১৪ জন নির্বাচিত হতে পারেন।
একটা প্যানেল থাকে যেসব ডাক্তারবাবুরা মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস এ আছেন, অর্থাৎ যারা শিক্ষক চিকিৎসক, তাঁদের মধ্য থেকে ৭ জন নির্বাচিত হতে পারেন, আরেকটা প্যানেল থাকে সমস্ত রেজিস্টার্ড ডাক্তারবাবু, তাঁদের ভেতর থেকে ৭ জন নির্বাচিত হতে পারেন। তার সঙ্গে কিছু সরকার মনোনীত প্রতিনিধি থাকেন।
কিন্তু দলটা যেহেতু তৃণমূল, তারা কোন কিছুই ছাড়ে না, তাই ডাক্তারদের মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনেও তৃণমূল সবসময় প্রভাব বিস্তার করেছে।
২০১৩ নির্বাচনে ছিল নির্মল মাঝির প্রভাব।২০১৮সালের নির্বাচন, আমাদের করা মামলায় হাইকোর্টে যার ফলপ্রকাশ স্থগিত হয়ে যায়, তখন ছিল শান্তনু সেন বাবুর প্রভাব।
আর ২০২২ সালের নির্বাচনে ছিল "নর্থ বেঙ্গল লবি"র অপ্রতিহত প্রভাব।
এবার শুনুন এই ২০২২ সালের ভোটটা ঠিক কিভাবে হয়েছিল! তখন তৃণমূলের এই নর্থ বেঙ্গল লবির ডাক্তাররা, তাঁরা মেডিক্যাল কাউন্সিল এর ভোটে দাঁড়ায়। বিপদ বুঝতে পেরে, তখন সারা বাংলার তৃণমূল বিরোধী গণতান্ত্রিক চিকিৎসকরা মেডিক্যাল কাউন্সিলকে এই অনাচার থেকে বাঁচানোর জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এই গণতন্ত্রপ্রেমী চিকিৎসকদের প্যানেলে প্রার্থী ছিলেন।
এই "Cash for Registration" অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে ভুয়ো ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার যে চক্র একার হাতে যিনি খুঁজে বের করেছেন, সেই ডাঃ রাজীব পান্ডে ও এই তৃণমূল বিরোধী গণতান্ত্রিক চিকিৎসক প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন।
নির্বাচন চলাকালীন যখন ডাক্তারদের ব্যালট পেপার পোস্ট করতে হয় বা সরাসরি মেডিকেল কাউন্সিল এসে ব্যালট জমা করে যেতে হয়,তখনই ছাপ্পা দেওয়া চলছিল তৃণমূলের।
তারপরেও যখন ব্যালট গণনার সময় দেখা গেল যে তৃণমূল হারছে, তখন শুরু হল আসল খেলা। কাউন্টিং হঠাৎ করে বন্ধ করে কাউন্টিং হল থেকে আমাদের কাউন্টিং এজেন্ট দেরকে বার করে দেয়া হলো। কারণ মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী তিনিই ছিলেন এই নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার। এবং এই লোকটি (একে ভদ্রলোক বলছি না), এই তৃণমূলীদের একদম খাস লোক এবং এদের সঙ্গে মেডিক্যাল কাউন্সিলের সমস্ত দুর্নীতির বিষয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইনি দীর্ঘদিন আগে অবসরপ্রাপ্ত হয়েও বেআইনিভাবে রেজিস্ট্রার এবং তার পরে অ্যাডভাইজার এর পদ আঁকড়ে রেখেছিলেন।
আমাদেরকে কাউন্টিং হল থেকে বার করে দিয়ে কি করা হলো?
১.আমাদের পক্ষে ভোট পড়া যে ব্যালট, সেগুলো নিয়ে সেগুলোতে অতিরিক্ত কোনো চিহ্ন দিয়ে সেগুলোকে ক্যান্সেল করানো হলো ।
২.তৃণমূলের ডাক্তারদের আগে থেকে জোগাড় করা ছাপ্পা ব্যালট কাউন্টিং এর জায়গায় ঢোকানো হল।
৩.তৃণমূলের ডাক্তারদের যেগুলো ভোট পাওয়া ব্যালট, সেগুলো কুমিরছানা দেখানোর মতো করে বারবার করে কাউন্টিং হতে লাগলো।
আমাদেরকে এইভাবে জোর করে হারিয়ে তৃণমূলের তথাকথিত ডাক্তাররা মেডিকেল কাউন্সিল দখল করল।
খুব চেনা চেনা লাগছে ছবিটা???
ঠিক ই ধরেছেন। এর পরের বছর ২০২৩ সালে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল একই কায়দায় ভোট করিয়েছে।
আমাদের করা মামলা, এই ২০২২ সালের মেডিকেল কাউন্সিলের নির্বাচন নিয়ে এখনো পর্যন্ত আদালতের বিচারাধীন।
কিন্তু বুঝতেই পারছেন আদালতে তো তারিখ পে তারিখ চলতেই থাকে।
একটা মেডিকেল কাউন্সিল দখলের জন্য কেন এই আকুলতা ছিল তৃণমূলের ডাক্তারদের !????
সেগুলো এবারে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।
প্রকাশ্যে আসছে তাদের এই নোংরা খেলা।
তারা মেডিকেল কাউন্সিলে, যেখানে শুধুমাত্র পাশ করা এমবিবিএস ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন হওয়ার কথা, সেখানে টাকা নিয়ে ক্লাস ফোর পাস, ক্লাস ফাইভ পাস হাতুড়ে ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে।
শোনা যাচ্ছে যে এই রকম জন পিছু তারা অন্তত দশ লাখ টাকা করে নিয়েছে।
ভাবতে পারছেন আমার আপনার জীবন নিয়ে কিভাবে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে?
ভাবতে পারছেন কত মানুষ এদের হাতে মারা গেছে ?
ভাবতে পারছেন যারা সত্যিকারের পাশ করা ডাক্তার তাদের বৈধতাকেও কিভাবে সংশয়ের ভেতরে ফেলে দিয়েছে?
ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর ফোরাম (WBDF) এই রাজ্যের সমস্ত সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, এই ভয়ংকর চক্রান্ত কিন্তু শুধুমাত্র ডাক্তারদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না।
যাঁরা রোগী, যাঁরা সাধারন মানুষ, যাঁরা চিকিৎসাপ্রার্থী, এই জালিয়াতি তাদের জীবন নিয়ে এক চূড়ান্ত প্রহসন।
আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যতদূর সম্ভব যাওয়া যায়, যাব।
কিন্তু সাধারণ মানুষকে, সচেতন নাগরিক সমাজকে গর্জে উঠতে হবে। এই ভয়ংকর অপরাধ যারা করেছে, তারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বহু মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দিতেই হবে।
সঙ্গে দুটো ছবি রইল,
একটা মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার এবং তারপরে অ্যাডভাইজার মানস চক্রবর্তীর ছবি। আরেকটা সেই ১৪ জন তৃণমূলী ডাক্তার যারা ২০২২ সালে নির্বাচনে জোচ্চুরি করে জিতেছিল তাদের ছবি।