29/07/2026
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শুধু বিদ্যার সাগর ছিলেন না, ছিলেন দয়ারও সাগর। সে দয়া বেহিসাবী দয়া, অপরিমিত দয়া। নিজের ভাগ বজায় রেখে দয়া নয়, অনেক আছে বলে তার একটা অংশে কৃপা বিতরণ নয়- সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে নিজেকে উৎসর্গ করার মত দয়া। চেনা-অচেনা কত মানুষ যে তাঁর আর্থিক সাহায্য লাভ করেছে, তার ইয়াত্তা নাই। ফ্রান্সে কবি মধুসূধন ঋণগ্রস্ত। তাই অপরিচিত বিদ্যাসাগরকে চিঠি লিখলেন সাহায্য চেয়ে। ঋণ করে পাঠালেন টাকা। সেই ঋণ শোধ করতে তাঁকে পরবর্তীকালে ছাপাখানার অংশ বিক্রি করতে হয়েছিল। মধুসূদন তাঁর বীরাঙ্গনা কাব্য উৎসর্গ করেছেন বিদ্যাসাগরকে। মধুসূদন লিখেছেন -"The genius and wisdom of an ancient sage, the energy of an Englishman and the heart of a Bengali mother."
বিধবা বিবাহ আন্দালনে তাঁর হৃদয়বত্তা ও পৌরুষের সর্বোত্তম বিকাশ ঘটেছিল। একে তিনি বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৎকর্ম। দেশাচারের প্রবল বিরুদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। গোঁড়া হিন্দুদের শাস্ত্রীয় যুক্তিজাল অবলীলায় ছিন্ন করেছেন শাস্ত্রীয় যুক্তি দিয়েই প্রাণ সংশয় হবার আশঙ্কাও ছিল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি শেষ পর্যন্ত স্থির ভাবে দণ্ডায়মান ছিলেন। কেবল বিধবা বিবাহ আইন পাশ করানো নয়। নিজের বড় ছেলের বিবাহ দিলেন একজন বিধবার সঙ্গে।
ধর্ম নিরপক্ষ সত্যানুসন্ধান ও মানবতাবাদ তাঁর মনুষ্যত্বের আর এক পরিচয়। গোঁড়া হিন্দু পণ্ডিতদের সঙ্গে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থশালা দহনকারী গোঁড়া খালিফাদের তুলনা করতে পারেন অনায়াসে; সকল জাতের জন্য সংস্কৃত কলেজের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারেন; কাশীর পাণ্ডাদের ধিক্কার দিয়ে বিশ্বনাথ দর্শনের চেয়ে মা-বাবার চরণ বন্দনা পুণ্যকর্ম বলে ঘোষনা করেন; কলেজের পিয়নকে রাজা জমিদারদের সঙ্গে একই ফরাসে বসাতে তাঁর বাধে না। এই মহত্ত্বের উপলব্ধি ছিল না সে যুগে। তাই এসেছে অজস্র আঘাত। নিন্দা-কৃতঘ্নতার ইয়াত্তা ছিল না।
তিনি ঈশ্বর সম্বন্ধে কিরূপ ভাবেন। এই প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যাসাগর বলেছিলেন -"তাঁকে তো জানবার জো নাই! এখন কর্তব্য কি? আমার মতে কর্তব্য, আমাদের নিজের এরূপ হওয়া উচিত যে, সকলে যদি সেরূপ হয়, পৃথিবী স্বর্গ হয়ে পড়বে। প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত যাতে জগতের মঙ্গল হয়।"
আজ তার প্রয়াণ দিবসে স্টুডেন্টস বডির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য....