23/06/2026
*প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এর উদ্বোধন, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা এবং মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে সফল ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান*
আজ এ কথা বলার প্রয়োজন নেই যে, নিমতা ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতিরক্ষা কমিটি পরিচালিত ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতি স্বাস্থ্যরক্ষা কেন্দ্র নিমতা ও পারিপার্শ্বিক অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ সহ সমস্ত রকম ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সুলভে পাওয়া যায় এই প্রতিষ্ঠানে। বিগত ২৪ বছর ধরে ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতি স্বাস্থ্যরক্ষা কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছে নিরলসভাবে।
নিমতা ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতিরক্ষা কমিটি তার কর্মকাণ্ডের পরিধি শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবায় সীমাবদ্ধ রাখেনি। বিভিন্ন জনমুখী সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলেছে তার রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপনের দিকে। বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি যেমন, প্রবীণ নাগরিকদের হাঁটা প্রতিযোগিতা, শিশু কিশোর কিশোরীদের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য শিবির, বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন এবং এই শিবিরের রক্তদাতাদের সম্মাননা প্রদান এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের অন্যতম।
গত ২১ জুন, ২০২৬ রবিবার নিমতা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সান্ধ্য অনুষ্ঠানে স্মৃতিরক্ষা কমিটি পরিচালিত ১ লা মার্চ ২০২৬ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের রক্তদাতাদের সম্বর্ধনা, উত্তর দমদম পৌরসভা এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ও কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা, সংগঠনের সদস্য-সদস্যা, ডাক্তার ও কর্মীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল সন্তানদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। উত্তর দমদম পৌরসভার অন্তর্গত বিভিন্ন স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অডিও ভিস্যুয়াল ক্যুইজ প্রতিযোগিতা ছিল এদিনের বিশেষ আকর্ষণ। ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতি স্বাস্থ্যরক্ষা কেন্দ্রে অত্যাধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NABL Accredited) দীর্ঘদিন ধরে সাফল্যের সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসেছে। কিন্তু স্বল্প জায়গার কারণে ল্যাবটিকে আরো আধুনিক মানের করা যাচ্ছিল না। এদিনের অনুষ্ঠানে অপেক্ষাকৃত বড় জায়গায় ল্যাবটিকে পুনর্গঠিত সঙ্গে নতুন অত্যাধুনিক পরীক্ষা-যন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তার উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় পত্রিকা 'স্বাস্থ্যের সন্ধানে' র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ এবং স্মৃতিরক্ষা কমিটির সদস্য-সদস্যা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের সমবেত প্রয়াসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল এদিনের অন্যতম আকর্ষণ।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকাল ঠিক পাঁচটায় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন স্মৃতিরক্ষা কমিটির কার্যকরী সভাপতি শ্রী চতুরানন হালদার মহাশয়। যাঁর স্মৃতিতে স্মৃতিরক্ষা কমিটি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা, সকলের প্রিয় ডাঃ অমিতাভ বসু (মানিক)-র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি। এরপর উপস্থিত সকল সদস্য-সদস্যা এবং শুভানুধ্যায়ীগণ শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে একে একে অমিতাভ বসুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্য-সদস্যা ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। 'আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে.....' রবীন্দ্র গীতি পরিবেশনে প্রকাশিত হয় স্রষ্টা বা পরমেশ্বর আনন্দ ও মঙ্গলের আঁধার, সত্য ও সুন্দর রুপে বিরাজমান। 'সংকোচের বিহ্বলতা' কাটিয়ে 'উজ্জ্বল দিন' এর আহবান করা হয় পরিবেশিত গীতিতে। 'আলোকের এই ঝর্ণাধারা....' গানে নিজেদের অন্তরের সব অন্ধকার, দীনতা ও মনের ধুলাবালি ধুয়ে ফেলে এক নতুন আলোয় নিজেদের জাগিয়ে তোলার প্রার্থনা করা হয়। সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শিল্পীরা সংগঠনের আত্মকথা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত দর্শকমন্ডলীর কাছে।
এরপর ক্যুইজ মাস্টার শুভব্রত চক্রবর্তী ও তাঁর সহযোগীকে মঞ্চে আহবান করা হয় প্রতিযোগিতা শুরু করার জন্য। মোট ২৬ জন প্রতিযোগী ১৩ টি গ্রুপে ক্যুইক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এবং সুষ্ঠুভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দের সঙ্গে ক্যুইজ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে। উপস্থিত সকলে প্রবল করতালি দিয়ে ক্যুইজ প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন।
ক্যুইজ প্রতিযোগিতা চলাকালীন মঞ্চে উপস্থিত হন এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘ ও বিশ্ব মাতা মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় শ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহাশয় এবং বিশেষ অতিথি দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শ্রী সৌরভ সিকদার মহাশয়। তাঁদের আন্তরিকতার সঙ্গে বরণ করে নেওয়া হয় উত্তরীয় এবং পুষ্পস্তবক প্রদানের মাধ্যমে। শ্রী সৌরভ শিকদার মহাশয় এবং মাননীয় শ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহাশয় প্রদীপ জ্বালিয়ে নতুন প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা 'স্বাস্থ্যের সন্ধানে' উদ্বোধন করেন মান্যবরেরা। শ্রী সৌরভ সিকদার মহাশয় তাঁর বক্তৃতায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবিরাম সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদানে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন। আমরা আনন্দিত, আপ্লুত বিধায়ক মহাশয়ের আমাদের কর্মকান্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মাননীয় শ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহাশয় তাঁর সুমিষ্ট ভাষণে মানব প্রেমের কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষের সেবাই শ্রেষ্ঠ সেবা। ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতি স্বাস্থ্যরক্ষা কেন্দ্রের মানুষের জন্য কর্মকান্ডকে তিনি 'ঈশ্বর সেবা' বলে ভূষিত করেন। এরপর শ্রী সিকদার মহাশয় এবং মাননীয় শ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী মহাশয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করেন। সংস্থার সমগ্র কর্মকাণ্ডে তাঁরা ভীষণভাবে আনন্দিত হন এবং এই কর্মকাণ্ডকে আরো সুদূরপ্রসারী ও সর্বজনহীতকর করতে পরামর্শ দেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে স্থানাধিকারী নিমতা অঞ্চলের তিনজন ছাত্রছাত্রীকে বিশেষভাবে সম্বর্ধিত করা হয় মানপত্র এবং উত্তরীয় প্রদানের মাধ্যমে। তারপর উত্তর দমদম পৌরসভা অঞ্চলের সমস্ত স্কুলের বিভিন্ন বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্র-ছাত্রীদের এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সদস্য-সদস্যা ও কর্মীদের সন্তানদের বিশেষভাবে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা দিবসে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে ৯৮ জন দাতা রক্তদানের মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদেরকে সম্মানিত করা হয় উত্তরীয় এবং মানপত্র প্রদানের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে আবারো তাঁরা রক্তদানের মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করবেন এই আশা রাখি।
নিমতা ডাঃ অমিতাভ বসু স্মৃতিরক্ষা কমিটি ২০০২ সালে তাঁদের জন্মলগ্ন থেকে পথ চলা শুরু করে আজও বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এক পরিচিত নাম। স্বাস্থ্যপরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজমুখী কর্মসূচি সংগঠনকে আরও জনমুখী করে তুলেছে একথা বলাই বাহুল্য।
আগামী বছর সংগঠনের রজত জয়ন্তী বর্ষ উদযাপিত হবে। এই উদযাপন অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের একমাত্র কামনা।🙏