19/07/2026
'ধুলোপায়ে রোজ যেতেন জগন্নাথদর্শনে' ―
মা একবার পুরী গিয়েছিলেন কলকাতা থেকে চাঁদবালি বড় জাহাজে। চাঁদবালি থেকে কটক ক্যানাল-স্টিমারে, আর কটক থেকে গরুর গাড়িতে করে শ্রীক্ষেত্র। সাথে ছিলেন রাখাল মহারাজ, শরৎ মহারাজ, যোগানন্দ মহারাজ, যোগেন-মা।
বলরাম বসুর ভাই হরিবল্লভ বসু ছিলেন সে অঞ্চলের মস্ত বড় উকিল, খুব নামডাক ছিল। মন্দিরের পুরোতরা তাঁকে খুব সন্মান করতেন। পুরোতদের মধ্যে একজন প্রধান ছিলেন গোবিন্দ শিঙ্গারী― হরিবল্লভ বসুর অতিথি মাকে খাতির করে নিয়ে যেতে এসে বললেন― 'মন্দিরে নিয়ে যাবার জন্য পালকি নিয়ে আসব মা'। মধুর আর্তির সাথে মা বললেন– 'না গোবিন্দ, আমি হেঁটে যাব মন্দিরে। তুমি শুধু আমাকে আগেআগে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেও, তাতেই আমি প্রভুর মন্দিরে জগৎপতি জগন্নাথকে দর্শন করে আসতে পারব'।
রত্নবেদীতে পুরুষসিংহ দেখলেন মা। আবার দেখলেন লক্ষ শালগ্রাম শিলার উপর শিব বসে আছেন। স্বর্গলোকে দেবদেব, মর্তলোকে সদাশিব। ভক্তমধ্যে আশুতোষ, দীনমধ্যে দীননাথ।
ধুলোপায়ে রোজ যেতেন জগন্নাথদর্শনে, দর্শনান্তে আঁচলের গ্রন্থিতে বেঁধে নিতেন রাধুকে। ভিড়ের মধ্যে সে যেন হারিয়ে না যায়। একবার অখণ্ডলোকে মহামায়া, আবার জীবলোকে মায়াবিনী। একবার রাধা, আরেকবার রাধু।
যেটুকু হবার সেটুকুই হবে। পুরীতে মা যখন দেখলেন, এত লোক জগন্নাথ দর্শন করতে এসেছে, তখন আনন্দে কাঁদতে লাগলেন। 'আহা, এত লোক মুক্ত হয়ে যাবে' ! শেষে দেখলেন মুক্তি কি এতই সহজ ? শুধু যারা বাসনাশূন্য তারাই মুক্তি পাবে। তাদের সংখ্যা আর কটি ? চক্রের মত সৃষ্টি চলছে। যে জন্মে মন বীতকাম সেটিই তার শেষ জন্ম।
সংসার থেকে নিষ্কৃতি পাবার জন্য একটি ছেলে এসেছেন মায়ের কাছে। মা বললেন― 'ভগবান তোমায় কতগুলি পোষ্যের ভার দিয়েছেন, তাদের কি তুমি ফেলে যাবে ! তুমি ফেলে গেলে তাদে জন্য তো আমাকেই ভেবে ভেবে মরতে হবে। তাই বলছি― সংসার ছাড়বার দরকার নেই, আমার সংসার মনে করে থাকো'।
পরমাপ্রকৃতি শ্রীশ্রীসারদামণি ।।
শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত