17/04/2026
হঠাৎ করেই চারপাশটা ঘুরতে শুরু করল। মনে হচ্ছে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে, ব্যালান্স হারিয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম! সাথে বমি ভাব এবং কানে একটানা শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ। সাধারণ 'মাথা ঘোরা', গ্যাস বা দুর্বলতা ভেবে কি দিনের পর দিন এই সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন?
সাবধান! এটি শুধুমাত্র দুর্বলতা নয়, এটি হতে পারে Meniere’s Disease বা মেনিয়ার্স ডিজিজ, যা কানের ভেতরের একটি মারাত্মক সমস্যা।
মেনিয়ার্স ডিজিজ আসলে কী?
আমাদের শরীরের ভারসাম্য (Balance) বজায় রাখার অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো কান। মেনিয়ার্স ডিজিজ হলো কানের ভেতরের অংশের (Inner Ear) একটি জটিল রোগ। কানের ভেতরে থাকা তরল পদার্থের (যাকে Endolymph বলা হয়) মাত্রা বা চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এই রোগের সৃষ্টি হয়। তরলের এই ভারসাম্যহীনতার কারণে কানের নার্ভগুলো ব্রেনে ভুল সিগন্যাল পাঠায়, যার ফলে হঠাৎ করেই মারাত্মক 'ভার্টিগো' (Vertigo) বা মাথা ঘোরার অ্যাটাক শুরু হয়।
কীভাবে বুঝবেন আপনি মেনিয়ার্স ডিজিজে আক্রান্ত?
এই রোগের প্রধানত ৪টি নির্দিষ্ট লক্ষণ বা 'Classic Symptoms' থাকে:
• ভার্টিগো অ্যাটাক (Vertigo Attacks): হঠাৎ করে তীব্র মাথা ঘোরা। এই অ্যাটাক কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মনে হয় যেন চারপাশের সবকিছু তীব্র বেগে ঘুরছে।
• টিনিটাস (Tinnitus): কানে সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ, শোঁ শোঁ বা বাঁশি বাজার মতো আওয়াজ হওয়া।
• শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া (Hearing Loss): প্রথম দিকে কানে শোনার ক্ষমতা ওঠানামা করে এবং চিকিৎসা না করালে ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
• কান ভারী লাগা (Ear Fullness): কানের ভেতরে একধরনের চাপ বা কান বন্ধ হয়ে থাকার অনুভূতি।
কেন এটি বিপজ্জনক?
ভার্টিগোর অ্যাটাক কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়া যেকোনো সময় আসতে পারে। আপনি হয়তো রাস্তা পার হচ্ছেন, সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন বা ড্রাইভ করছেন—এমন সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে গেলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এর ফলে রোগীর মনে একধরনের অজানা আতঙ্ক তৈরি হয়, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
সমাধান কী?
মেনিয়ার্স ডিজিজকে যদিও পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং কিছু নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন:
• খাবারে লবণের (Sodium) পরিমাণ একেবারে কমিয়ে ফেলতে হবে। কারণ লবণ শরীরে জল ধরে রাখে, যা কানের ভেতরের তরলের চাপ বাড়িয়ে দেয়।
• ক্যাফেইন ও ধূমপান বর্জন: চা, কফি, চকোলেট এবং ধূমপান এই রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়।
• সঠিক চিকিৎসা: দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ (যেমন: ভার্টিগোর ওষুধ বা ডাইইউরেটিকস) গ্রহণ করা।
মাথা ঘোরা মানেই শুধু ব্রেনের বা প্রেসারের সমস্যা নয়, কানের সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে। তাই বারবার মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে একজন ENT (কান, নাক, গলা) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
👨⚕️ Consult with:
Dr. Srijoy Gupta
MBBS | MS (ENT) | DNB (ENT)
Consultant - ENT Surgeon
📞 For Appointment: 0084204 46485
📍 Consult at:
🏥 Manipal Hospitals, Salt Lake
🏥 ILS Hospital, Salt Lake
🏥 The Newtown Clinic
সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় আপনার শ্রবণশক্তিকে রক্ষা করতে পারে এবং আপনাকে ফিরিয়ে দিতে পারে একটি স্বাভাবিক জীবন। 🌿