23/05/2026
বাড়ছে দাবদাহ, তার সাথেই পাল্লা দিয়ে যেটার রিস্ক বাড়ছে তা হলো হিট স্ট্রোক।
হিট স্ট্রোক (Heat Stroke) হলো অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া। এটি একটি মেডিক্যাল এমার্জেন্সি। দ্রুত চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র, কিডনি সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
🧐হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে—
*শরীরের তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়া (প্রায় ১০৪°F / ৪০°C বা তার বেশি)
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
*প্রচণ্ড দুর্বলতা
*মাথাব্যথা
*বমি বমি ভাব বা বমি
*বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথা বলা
*হাঁটতে সমস্যা বা খিঁচুনি
*ত্বক গরম ও লাল হয়ে যাওয়া
*ঘাম কমে যাওয়া বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া (সব ক্ষেত্রে নয়)
*দ্রুত নাড়ির গতি ও শ্বাসপ্রশ্বাস
*আচরণে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক উত্তেজনা
😥বিশেষ ঝুঁকিতে থাকেন—
-বয়স্ক ব্যক্তি
-ছোট শিশু
-বাইরে রোদে কাজ করা মানুষ
-ডিহাইড্রেশন থাকা ব্যক্তি
-হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকা রোগী
✅হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন
# জরুরি পদক্ষেপ
*রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত জায়গায় নিয়ে যান।
*টাইট বা অতিরিক্ত কাপড় খুলে দিন।
*শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করুন—
-ঠান্ডা জল দিয়ে শরীর মুছুন
-ভেজা কাপড়/তোয়ালে দিন
-ফ্যান চালান
-বগল, ঘাড়, কুঁচকিতে বরফ বা ঠান্ডা প্যাক দিন
*রোগী সচেতন থাকলে অল্প অল্প করে জল বা ORS দিন।
*রোগী অজ্ঞান, বিভ্রান্ত বা বমি করলে মুখে কিছু খাওয়াবেন না।
*দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান বা জরুরি চিকিৎসা ডাকুন।
❌কী করবেন না
*খুব বরফঠান্ডা জল একসাথে খাওয়াবেন না
*অজ্ঞান রোগীর মুখে জল দেবেন না
*“নিজে নিজে ঠিক হয়ে যাবে” ভেবে দেরি করবেন না
⏸️প্রতিরোধের উপায়
-প্রচুর জল পান করুন
-দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন
-হালকা রঙের ঢিলেঢালা কাপড় পরুন
-বাইরে কাজ করলে নিয়মিত বিরতি নিন
-শিশু বা বৃদ্ধকে বন্ধ গাড়ির ভিতরে রেখে যাবেন না
সবাই সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন।
সকলের আরোগ্য কামনায় - Dr. Anoovab Saha - Physiatrist