Dr Subhasish Pati

Dr Subhasish Pati This page brings education on pain and movement health from Dr Subhasish Pati, Specialist in Interventional Pain Management and Rehabilitation Medicine.
(1)

Learn about early signs, proven treatments and daily habits that support pain free living.

আজ চেম্বারে ঢুকেই সুদীপবাবু বেশ কাঁচুমাচু মুখে বসলেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কষ্ট হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করার আগেই উনি একরাশ অভিয...
16/05/2026

আজ চেম্বারে ঢুকেই সুদীপবাবু বেশ কাঁচুমাচু মুখে বসলেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে কষ্ট হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করার আগেই উনি একরাশ অভিযোগ নিয়ে শুরু করলেন—

🧓🏻"ডাক্তারবাবু, মাথায় চিরুনি ছোঁয়াতে পারছি না, হাত তো উঠছেই না! জামার হাতা গলাতে গিয়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখছি।আর আজ কিন্তু আপনার জন্য এক গুচ্ছ প্রশ্ন আছে । তবে প্রথমেই বলে রাখি— অপারেশন কিন্তু আমি করাবো না!"

👨🏻‍⚕️আমি একটু হেসে বললাম, "আসেন সুদীপবাবু, শান্ত হয়ে বসুন। আপনার এই যে হাত তুলতে না পারা বা হাত জ্যাম হয়ে যাওয়া— একেই আমরা বলি ফ্রোজেন শোল্ডার (Frozen Shoulder)। আপনার কাঁধটা একদম জমে বরফের মতো হয়ে গেছে।"

🧓🏻সুদীপবাবু অবাক হয়ে বললেন, "আমি তো ক্রিকেট খেলতে গিয়ে চোট পাইনি, এমনকি সিঁড়ি দিয়ে পড়েও যাইনি। তাহলে হুট করে জ্যাম কেন হলো?"

✍🏻আমি ওনার পুরোনো রিপোর্টগুলো দেখছিলাম। ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম, "এই যে রিপোর্টে সুগারটা বেশি দেখছি, এটা কবে থেকে?"

🧓🏻উনি আকাশ থেকে পড়লেন, "কেন? সুগারের জন্য কি কাঁধ জ্যাম হয় নাকি?"

🔎আমি ওনাকে সহজ করে বুঝিয়ে বললাম, "দেখুন, আমাদের কাঁধের জয়েন্টের চারদিকে একটা পাতলা আবরণের মতো অংশ থাকে, যাকে আমরা বলি ক্যাপসুল। যাদের সুগার বেশি থাকে, তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই ক্যাপসুলটা আস্তে আস্তে মোটা আর শক্ত হয়ে যায়। ফলে হাত নাড়াতে গেলেই টান লাগে আর প্রচণ্ড ব্যথা হয়।"

✍🏻শুধু সুগার নয়, থাইরয়েডের সমস্যা বা অনেকদিন হাত একভাবে ফেলে রাখলেও এটা হতে পারে। এবং বাত এর জন্যও হতে পারে I

🩻একদম সহজভাবে বলতে গেলে, আমাদের কাঁধ হলো একটা 'বল আর সকেট' জয়েন্ট। একটা বাটির মতো গর্তে একটা বল বসানো থাকে। আর এই পুরো সেটআপটাকে ধরে রাখে লিগামেন্ট, টেন্ডন আর ওই ক্যাপসুলটা। যখনই কোনো কারণে ওই ক্যাপসুলে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয়, তখনই শুরু হয় আসল যন্ত্রণা।

✅আমি সুদীপবাবুকে বললাম, এই রোগটা সাধারণত তিনটে স্টেজে চলে:
1. ফ্রিজিং স্টেজ (Freezing): প্রথম দিকে শুধু ব্যথা। হাত নাড়াতে গেলেই মনে হয় কেউ চ্যাঁত করে কামড় দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমোতে গেলেই বিপদ বাড়ে।
2. ফ্রোজেন স্টেজ (Frozen): এই পর্যায়ে ব্যথা হয়তো একটু থিতু হয়, কিন্তু হাত একদম আড়ষ্ট হয়ে যায়। হাত ওপর দিকে তোলা বা পিঠের দিকে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
3. থয়িং স্টেজ (Thawing): এটা হলো বরফ গলার সময়। ঠিকঠাক চিকিৎসা আর ব্যায়ামে কাঁধ আবার সচল হতে শুরু করে।

🧓🏻সুদীপবাবু চিন্তিত মুখে জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে উপায় কি ডাক্তারবাবু? ওষুধেই কি সব ঠিক হবে?"

👨🏻‍⚕️আমি ওনাকে আশ্বস্ত করে বললাম:
💊শুরুতে কিছু ব্যথানাশক ওষুধ আর সঠিক ফিজিওথেরাপি বা নির্দিষ্ট কিছু এক্সারসাইজ ( যেমন পেন্ডুলাম এক্সারসাইজ বা ফিঙ্গার ল্যাডার )করলেই কাজ হয়।
মনে রাখবেন ব্যথানাশক ওষুধের চেয়েও কিন্তু জরুরি হলো সুগার নিয়ন্ত্রণ। সুগার না কমলে কাঁধের বরফ গলানো কঠিন।

🖌️সাধারণ ব্যায়ামে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে UST TENS LASER জাতীয় থেরাপি দেওয়া যেতে পারে ।

💉 যদি ব্যথা খুব বেশি হয়, তবে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড (USG) মেশিনে দেখে ঠিক জায়গামত ইনজেকশন দিই। এতে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই জ্যাম অনেকটা কেটে যায়।

🔎সবশেষে বললাম, "আর অপারেশনের কথা যেটা বললেন, সেটা একদম শেষ ধাপ। আজকাল উন্নত চিকিৎসার যুগে অপারেশন খুব কম মানুষেরই লাগে।"

🧓🏻সুদীপবাবু এবার একটু আশ্বস্ত হলেন। হাসিমুখে বললেন, "না না, তাহলে সুগারটা আজ থেকেই কমিয়ে ফেলছি! আপনার দেওয়া ওষুধ শুরু করছি র দেখিয়ে দেওয়া ব্যাম I আচ্ছা ডাক্তারবাবু, সব তো বুঝলাম... কিন্তু এই আমের দিনে কি আম একদমই খাবো না?"

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, "এই তো! পরের দিনের গল্পের টপিক পেয়ে গেলাম! আম খাওয়া যাবে কি যাবে না, সেটা নিয়ে না হয় পরের দিন আড্ডা হবে।"

🥭সুদীপবাবুও হাসতে হাসতে উঠে দাঁড়ালেন, "ঠিক আছে ডাক্তারবাবু, আপনার ফেসবুক পেজটা তাহলে ফলো করতে থাকছি, ওখানেই আমের উত্তরটা পাবো আশা করি!"

আপনারও কি হাত তুলতে সমস্যা হচ্ছে? সুগার থাকলে কিন্তু সাবধান! নিয়ম মেনে এক্সারসাইজ করবেন , এটা হওয়ার আগেই আটকে দিন I ফ্রোজেন শোল্ডার অবহেলা করবেন না। fans

"ডাক্তারবাবু, খুব ভালো আছি। আপনি যা বাঁচালেন... সেই দিন তো সুইসাইড করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার কাছে।"🎯সুনীতা দেবীর...
12/05/2026

"ডাক্তারবাবু, খুব ভালো আছি। আপনি যা বাঁচালেন... সেই দিন তো সুইসাইড করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার কাছে।"

🎯সুনীতা দেবীর মুখে আজকের এই হাসিটা দেখার জন্য এক মাস আগে বেশ কিছুটা সময় দিতে হয়েছিল। সেই দিন বিকেলের কথা স্পষ্ট মনে আছে। বছর পঁয়ত্রিশের এক মহিলা, চোখেমুখে একরাশ ক্লান্তি আর একগুচ্ছ ল্যাব রিপোর্ট। সমস্যা সেই একটাই—ব্যথা, সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা। অথচ সব নামী জায়গার রিপোর্ট বলছে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।

🔎বাড়ির লোক তো বটেই, এমনকি অনেক সময় নিজেরও মনে হচ্ছিল, "আমি কি তবে পাগল হয়ে যাচ্ছি?" সুনিতা দেবীর যে রোগ টা হয়েছে, সেটাকে আমরা ডাক্তারি ভাষায় বলি fibromyalgia I

আজ বিশ্ব ফাইব্রোমায়ালজিয়া দিবস (World Fibromyalgia Day)। সুনীতা দেবীর মতো হাজারো মানুষের লড়াইয়ের গল্প আজ সবার জানা প্রয়োজন।

😳ফাইব্রোমায়ালজিয়া এটা কি হয় ?
সুনীতা দেবীকে সেদিন বুঝিয়েছিলাম, আপনার রক্ত বা হাড়ের রিপোর্টে কিছু ধরা পড়ছে না কারণ সমস্যাটা শরীরের যন্ত্রাংশে নয়, সমস্যাটা হলো আপনার শরীরের 'সফটওয়্যারে'। Fibromyalgia তে এই symptoms গুলো দেখা যায় ...

✍🏻 শরীরের ওপর-নিচ, ডান-বাম সব জায়গায় অন্তত ৩ মাস ধরে ব্যথা থাকা।
✍🏻সারারাত ঘুমানোর পরেও সকালে মনে হওয়া যেন এক ফোঁটাও ঘুম হয়নি।
✍🏻খিদে কম পাওয়া বা খাবার ইচ্ছে থাকে না I
✍🏻 ফাইব্রো-ফগ: মনঃসংযোগের অভাব, খেই হারিয়ে ফেলা বা ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া।
✍🏻 মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা গভীর ঘুমের অভাব।

💉🩻 কী কী টেস্ট করতে হয় এই রোগ ধরতে ?
🎯আসলে ফাইব্রোমায়ালজিয়া ধরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা বা এক্স-রে নেই। এটি মূলত রোগীর বর্ণনা এবং শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়।
আগে চিকিৎসকরা '১৮টি টেন্ডার পয়েন্ট' পরীক্ষা করতেন। শরীরের নির্দিষ্ট ১৮টি জায়গায় আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে যদি অন্তত ১১টি জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, তবে তাকে ফাইব্রোমায়ালজিয়া বলা হতো।

🩺যদিও এখন আধুনিক পদ্ধতিতে শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথার তীব্রতা (Widespread Pain Index) এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখেই এটি নির্ণয় করা হয়।

😳সুনীতা দেবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "রিপোর্ট ভালো হলে ব্যথা কেন হচ্ছে?"
👨🏻‍⚕️ আমি বুঝিয়ে বললাম , আমাদের মস্তিষ্কে এবং মেরুদণ্ডে (Central Nervous System) ব্যথার সংকেত বয়ে নিয়ে যাওয়ার এক বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। ফাইব্রোমায়ালজিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই সিস্টেমটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'Central Sensitization'।

সহজভাবে বললে—সাধারণ মানুষের কাছে যা কেবল একটা হালকা স্পর্শ বা চাপ, সুনীতা দেবীর মস্তিষ্কের কাছে সেই সংকেতটি পৌঁছাচ্ছে 'তীব্র ব্যথা' হিসেবে। কারণ তাঁর মস্তিষ্কের ব্যথার ভলিউম বা 'গেইন' (Gain) অনেক বাড়িয়ে দেওয়া আছে। নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিকের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে।

🔎সুনীতা দেবীর ভয় ছিল তিনি কোনোদিন ঠিক হবেন কি না। আমি ওনাকে আশ্বস্ত করে চিকিৎসার একটি রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছিলাম:

💊সাধারণ পেইনকিলার এতে কাজ করে না। আমরা এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করি যা মস্তিষ্কের সেই বাড়তি সংবেদনশীলতাকে বা 'ভলিউম'কে কমিয়ে আনে (যেমন: Pregabalin, Duloxetine বা Amitriptyline)।

⏰দিনে অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা, সাঁতার কাটা বা হালকা স্ট্রেচিং। এটি শরীরে 'এন্ডোরফিন' তৈরি করে যা প্রাকৃতিক পেইনকিলার।

🛌ঘুমের একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা এবং শোয়ার আগে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকা।

🧘 স্ট্রেস কমানোর জন্য মেডিটেশন বা প্রয়োজনে কাউন্সেলিং (CBT)।

⁉️আমি কি একা এই রোগে ভুগছি? একটু ভয়ে ভয়ে এই প্রশ্ন টা করলেন

🖌️সুনীতা দেবীর এই প্রশ্নের উত্তরে জানাই—না, আপনি একাই নন। সারা বিশ্বে প্রায় ২% থেকে ৮% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা প্রায় ৭-৯ গুণ বেশি। অর্থাৎ, আপনার চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা এই 'অদৃশ্য ব্যথা' নিয়ে লড়াই করছেন কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয়ের অভাবে ধুঁকছেন।

🧿আজ এক মাস পর সুনীতা দেবী যখন এসে বললেন তিনি ভালো আছেন, তখন বুঝলাম তিনি শুধু শারীরিক ব্যথা থেকে মুক্তি পাননি, বরং দীর্ঘদিনের সেই 'ভুল বোঝার' গ্লানি থেকেও মুক্তি পেয়েছেন।

🎗️ফাইব্রোমায়ালজিয়া মানেই জীবনের শেষ নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন আর একটু মানসিক সাহস থাকলেই এই পাহাড় সমান ব্যথার মেঘ সরিয়ে রোদ্দুর আনা সম্ভব। আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের বার্তা হোক—ব্যথা অদৃশ্য হলেও রোগীর কষ্টটা কিন্তু বাস্তব। পাশে থাকুন, সাহস জোগান I রিপোর্ট normal মানেই সব ঠিক আছে এমন নয় কিন্তু 🙏 fans

আজকের পোস্টটা একটু অন্যরকম, একরাশ খুশির খবর নিয়ে। পৌঁছে গিয়েছিলাম নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। নিজের চোখে সাক্ষী থা...
10/05/2026

আজকের পোস্টটা একটু অন্যরকম, একরাশ খুশির খবর নিয়ে। পৌঁছে গিয়েছিলাম নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। নিজের চোখে সাক্ষী থাকলাম এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। দেখলাম দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে—এত বড় একজন মানুষ, অথচ কী বিনম্র তাঁর আচরণ! সকলের সামনে ঝুঁকে প্রণাম করলেন, যা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতে হয়।
দেখলাম দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে জয়ের তৃপ্ত হাসি আর আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর চোখে এক পাহাড় আত্মবিশ্বাস।

✍🏻কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, হঠাৎ ভিভিআইপি (VVIP) পাস নিয়ে আমি সেখানে কী করছিলাম?

🩺আসল গল্পটা ঠিক এখানেই। আমার ভাই সৌভিক পাত্র Souvik Patra Souvik Patra MLA আজ বিধায়ক (MLA)! বাঁকুড়া জেলার তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩২ বছর বয়সে সে এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে দেখিয়েছে। প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েই ৫০,০০০-এর বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে সে। এই জয় কেবল পরিসংখ্যানের নয়, এই জয় চরম পরিশ্রম আর সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার।

🖌️সবচেয়ে বড় কথা হলো, ওর কোনো রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। আমাদের পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কেউ কোনোদিন রাজনীতির ধারেপাশেও ছিল না। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়, নিজের দমে আজ সে এই জায়গায়। আর ওর এই লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে আছে ওর ছোটবেলার এক বন্ধুSamaresh Patra—তাদের বন্ধুত্বের গল্প বলতে বসলে হয়তো আজ আর শেষ হবে না।

⏰নতুন প্রজন্মের এই তরুণ নেতার ওপর আমাদের সবার অনেক আশা। বিশ্বাস করি, নতুন সরকার এই নতুন রক্তকে অগ্রাধিকার দেবে। যে সদিচ্ছা আর স্বপ্ন নিয়ে ও রাজনীতিতে পা রেখেছে, তা যেন ও পূরণ করতে পারে।
ওর। আপনাদের আশীর্বাদ আর ভালোবাসা ওর একান্ত প্রয়োজন, যাতে ও আরও অনেকটা পথ এগিয়ে যেতে পারে এবং মানুষের সেবা করতে পারে। fans

ব্যথা আর  তার সাথে আপনার শরীরের সব চেয়ে বড় শত্রু কে জানেন? সেটা হলো বাড়তি ওজন! 🎯শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনের বিজ্ঞানট...
06/05/2026

ব্যথা আর তার সাথে আপনার শরীরের সব চেয়ে বড় শত্রু কে জানেন? সেটা হলো বাড়তি ওজন!

🎯শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনের বিজ্ঞানটা কিন্তু চমকে দেওয়ার মতো। আপনার শরীরের ওজন যদি মাত্র ১ কেজি কমে, তবে হাঁটুর জয়েন্টের ওপর থেকে প্রায় ৪ কেজি ‘মেকানিক্যাল লোড’ বা চাপ কমে যায়। ভাবুন তো, শরীরের বাড়তি কয়েক কেজি ঝরিয়ে ফেললে আপনার হাড় আর মাংসপেশি কতটা মুক্তি পাবে!

🖌️এই কথাটি বলতে না বলতেই প্রশ্ন আসে— "ডাক্তার বাবু, ওজন কমাবো কী করে? কিছু টিপস দিন!" চলুন, আজ সরাসরি কিছু বৈজ্ঞানিক অভ্যেসের কথা বলি।

⏰প্রথমেই আসি সময়ের ব্যাপারে। ঘড়ি ধরে খাবার খাওয়াটা ওজন কমানোর প্রাথমিক ধাপ। আপনি যদি দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন, বা সময় মতো না খান , শরীর তখন ‘স্টারভেশন মোড’-এ চলে যায়। তখন মেটাবলিজম বা হজম শক্তি ধীর হয়ে যায় এবং পরের বার যখনই আপনি খাবেন, শরীর সেই খাবারকে শক্তিতে (energy) রূপান্তর না করে চর্বি বা ফ্যাট হিসেবে জমিয়ে রাখে ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে। শরীর confuse হয়ে যায় পরের বার সে খাবার পাবে কি না তাই সময়মতো খাবার খেলে শরীরের এই ফ্যাট জমানোর প্রবণতা কমে।

🍦এরপরের বড় কাজ হলো চিনি বা মিষ্টি কে বিদায় জানানো। ইনসুলিন হরমোন যখন রক্তে অতিরিক্ত চিনি পায়, তখন সে সেটাকে দ্রুত কোষে পাঠিয়ে ফ্যাট হিসেবে জমা করে। আমি জানি, একদিনে এটা সম্ভব নয়। তাই আস্তে আস্তে কমিয়ে আনুন। চায়ে চিনি খাওয়া বন্ধ করা বা মিষ্টির পরিমাণ কমানো—এই ছোট ছোট জয়গুলোই কিন্তু ভবিষ্যতে বড় ফল দেবে।

❌আর একটা ভুল ধারণা ভাঙাই, অনেকে ভাবেন ভাত ছেড়ে শুধু রুটি খেলেই রোগা হওয়া যায়। আসলে ভাত আর রুটি দুটোই কার্বোহাইড্রেট, এদের ক্যালরি প্রায় একই। আপনি ভাত খান বা রুটি, আসল কথা হলো পরিমাণ। পেট ভরার জন্য ভাতের বদলে শাক-সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। আর খাওয়ার ঠিক আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিন, এতে আপনার খিদের তীব্রতা কিছুটা কমবে এবং হজমেও সুবিধে হবে।
সারাদিনে বড় মিল বা ভারি খাবার তিনবারই খাবেন, আর মাঝখানের সময়গুলোতে খিদে পেলে ভাজাভুজির বদলে হালকা কিছু খাওয়ার অভ্যেস করুন। একমুঠো আলমন্ডস , আখরোট বা শসা এই সময়ের জন্য আদর্শ।

✅ এর সাথে নজর দিন আপনার ভিটামিন D3 লেভেলের ওপর। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে ভিটামিন D3-এর অভাব থাকলে মেটাবলিজম কমে যায় এবং ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই ভিটামিন আমাদের শরীরের চর্বি পোড়ানোর হরমোনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ওজন কিছুতেই না কমলে একবার এই লেভেলটা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।

🛌ওজন কমানোর জন্য ঘুম কিন্তু কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক প্রয়োজন। রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম আপনার ‘লেপটিন’ (যা তৃপ্তি দেয়) এবং ‘ঘেরলিন’ (যা খিদে বাড়ায়) হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ঘুমের অভাব হলে ঘেরলিন বেড়ে যায়, ফলে পরের দিন আপনার আজেবাজে খাওয়ার ইচ্ছে বা ‘ক্রেভিং’ বেড়ে যায়। তাই ঠিকমতো ঘুমোলে ওজন কমানোর যুদ্ধটা অর্ধেক জিতে যাওয়া যায়।

🏋️‍♀️সবশেষে আসি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—শারীরিক পরিশ্রম। ঘরে আপনি কাজ করছেন ঠিক কিন্তু দিনে অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ হার্টের স্বাস্থ্য আর ফ্যাট বার্নিংয়ের (Fat Burning) জন্য দরকার । কিন্তু যাদের ব্যথার জন্য হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে, তারা কী করবেন? আপনার বাড়ি,ক্লাব বা হাউসিং সোসাইটিতে কি জিম আছে? অথবা বাড়িতে কোনো স্ট্যাটিক সাইকেল? জিম না থাকলেও অন্তত ওই স্থির সাইকেলটা চালানো শুরু করুন। দিনে মাত্র ১৫-২০ মিনিট সাইক্লিং করলে জয়েন্টের ওপর চাপ না ফেলেই আপনার ক্যালরি বার্ন হবে এবং পায়ের পেশি শক্ত হবে। কিছু না হলে free hand exercise এই করুন , এটাও কাজে আসবে I

🙏আমি জানি এই পরিবর্তনগুলো আনা বেশ জটিল। কিন্তু মনে রাখবেন, ওজন কমানোটা একটা অভ্যেসের মতো—একবার শরীরের ইঞ্জিনটা সঠিক ছন্দে চলতে শুরু করলে আপনি নিজেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।

💊ব্যথা কমানোর ওষুধ তো আমি দিচ্ছিই, কিন্তু সারাজীবন কি ওষুধের ওপর ভরসা করবেন? নাকি একটু কষ্ট করে নিজের শরীরটাকে হালকা করে একটা রোগমুক্ত সুন্দর জীবনের দিকে এগোবেন?

❌ডিসক্লেইমার: আমি কিন্তু এখানে কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট দিচ্ছি না। প্রত্যেকের শরীরের গঠন ও প্রয়োজন আলাদা, তাই একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানই আপনার জন্য সঠিক চার্ট তৈরি করতে পারবেন। তবে হ্যাঁ, কমেন্টে আপনার উচ্চতা ও বর্তমান ওজন জানান। আমাদের টিমের পক্ষ থেকে আপনার আইডিয়াল ওজন বা বিএমআই (BMI) কত হওয়া উচিত, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। 🙏 fans

🩺আমাদের না একটা বড় দোষ আছে—সব ব্যথারই একটা না একটা কারণ খুঁজে বের করি। কখনও বলি, "ওহ, কাল একটু বেশি কাজ হয়ে গেছে তো, তাই...
02/05/2026

🩺আমাদের না একটা বড় দোষ আছে—সব ব্যথারই একটা না একটা কারণ খুঁজে বের করি। কখনও বলি, "ওহ, কাল একটু বেশি কাজ হয়ে গেছে তো, তাই কোমরে লাগছে," আবার কখনও বলি, "আসলে বসার ভঙ্গিটা ঠিক নেই, তাই হয়তো..."। মানে ব্যথার একটা জুতসই কারণ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই!

✍🏻সুমিত বাবুর গল্পটা মনে আছে তো? ওই যে সেদিন ফেসবুকে বলছিলাম... যাক, আজ Ankylosing Spondylitis day তে চলুন এই রোগের লক্ষণগুলো আর একবার ঝালিয়ে নিই। একটু রিভিশন হয়ে যাবে আর কী!

✅সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোমরে তীব্র ব্যথা অনুভব করা— শরীর আড়ষ্ট হয়ে থাকে আর নড়াচড়া করতে বেশ কষ্ট হয়।
✅ মাঝেমধ্যে কোমরের দু-দিকের নিতম্বে (buttocks) অদলবদল করে ব্যথা হওয়া, মানে একদিন ডান দিক তো একদিন বাঁ দিক I (Alternate buttock pain)।
✅শুধু ব্যথা নয়, মাঝেমধ্যে গাঁটগুলো ফুলেও যেতে পারে (Joint swelling)।
✅অবাক লাগলেও সত্যি, এই সমস্যায় অনেকের চোখ লাল হয়ে যায় (Eye redness)।
✅সাধারণত কোমর এর সাথে সাথে শরীরের বড় জয়েন্টগুলোতে, যেমন কাঁধ (shoulder) বা হাঁটুতে এই ব্যথা বেশি থাবা বসায় I

❌একটা কথা মাথায় রাখবেন, যদি দেখেন কোনো ব্যথা ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেও ঠিক হচ্ছে না, তবে সেটাকে আর কোনো বাহানা বা 'কারণ' দিয়ে ধামাচাপা দেবেন না। ওটা নিজের ওপর না ছেড়ে অবশ্যই ডাক্তারবাবুকে দেখান।

🎯ব্যথা কিন্তু সারানো সম্ভব, যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায়। সেটা ওষুধ হতে পারে, নিয়মিত ব্যায়াম (Exercise) হতে পারে, আবার অনেক সময় লাইফস্টাইলে সামান্য কিছু পরিবর্তনও ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
নিজে সচেতন হোন, আর অন্যদেরও সচেতন করুন। সুস্থ থাকুন! 💙
Post dedicated to all patients with fans

আরে নীলিমা বৌদি যে! আসুন আসুন, বসুন। কী ব্যাপার, হাতে ওটা কিসের এক্স-রে?  আপনি তো দেখি বেশ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন! 🩻বৌদ...
30/04/2026

আরে নীলিমা বৌদি যে! আসুন আসুন, বসুন। কী ব্যাপার, হাতে ওটা কিসের এক্স-রে? আপনি তো দেখি বেশ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন!

🩻বৌদি বসতে না বসতেই ব্যাগ থেকে এক্স-রে প্লেটটা বের করে টেবিলের ওপর প্রায় আছড়ে ফেলে বললেন, "দেখুন ডাক্তারবাবু, কী কাণ্ড! আমার গোড়ালির হাড়টা কেমন তলোয়ারের মতো বেড়ে গেছে। এই হাড়টা আলপিনের মতো তলায় বিঁধছে বলেই তো আমি পা ফেলতে পারছি না। পাড়ার সবাই বলছে এই হাড় না কাটলে ব্যথা যাবে না। আপনিই ভরসা, অপারেশন করে এটা বাদ দিয়ে দিন!"

👨🏻‍⚕️আমি এক্স-রে-টা আলোর সামনে ধরে একটু হেসে বললাম, "বৌদি, শান্ত হোন। আপনি যেটাকে হাড় বেড়ে যাওয়া বলছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে আমরা বলি ক্যালকেনিয়াল স্পার (Calcaneal Spur)। কিন্তু আসল সত্যিটা জানলে আপনি অবাক হবেন—আপনার ব্যথার জন্য ওই বেড়ে যাওয়া হাড়টা সরাসরি দায়ী নয়!"

👨🏻‍⚕️বৌদি আকাশ থেকে পড়লেন। আমি বুঝিয়ে বললাম, "আমাদের পায়ের তলায় একটা খুব শক্ত ফিতের মতো টিস্যু থাকে, যার নাম প্ল্যান্টার ফ্যাশিয়া(Planter Fascia)। আপনি যখন ওজন বাড়ান কিংবা রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তখন এই ফিতেটার ওপর প্রচণ্ড টান পড়ে। বারবার টানের ফলে সেখানে ছোট ছোট চোট লাগে আর শরীর তখন ওই জায়গাটাকে শক্ত করতে ক্যালসিয়াম জমা করতে শুরু করে। এই ক্যালসিয়াম জমার পাহাড়টাই এক্স-রে-তে কাঁটার মতো দেখায়। এটা আসলে একটা লক্ষণ, আসল অসুখ হলো আপনার পায়ের তলার সেই ফিতের দীর্ঘদিনের প্রদাহ বা প্ল্যান্টার ফাসাইটিস।"

👨🏻‍⚕️আমি একটু থেমে জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা বৌদি, আপনার কি সুগার বা থাইরয়েড আছে?"

👵🏼বৌদি একটু আমতা আমতা করে বললেন, "হ্যাঁ ডাক্তারবাবু, থাইরয়েড তো বহুদিনের, আর সুগারটাও মাসখানেক আগে টেস্ট করিয়েছিলাম, বেশ অনেকটাই বেশি এসেছে। কেন বলুন তো? তার সাথে পায়ের ব্যথার কী সম্পর্ক?"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "সম্পর্কটা গভীর বৌদি! ডায়াবেটিস আর থাইরয়েড থাকলে শরীরের কোলাজেন টিস্যুগুলো তাদের নমনীয়তা হারায়, ফলে খুব সহজেই চোট পায় এবং সারতে দেরি হয়। আবার অনেকের যদি ইউরিক অ্যাসিড বা বাতের সমস্যা থাকে, তবে গোড়ালির জয়েন্টে প্রদাহ বেড়ে গিয়ে ব্যথা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এটা একটা বার্নিং ইস্যু, তাই শুধু হাড়ের কাঁটা দেখলে হবে না, আপনার এই সুগার-থাইরয়েডগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।"

👵🏼বৌদি এবার কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "সবাই তো ইনজেকশনের কথা বলছে, কিন্তু ও বাবা! গোড়ালিতে সুঁচ ফোটালে তো প্রান বেরিয়ে যাবে! খুব ব্যথা হয় নাকি?"

💉আমি ওনাকে আশ্বস্ত করে বললাম, "আরে না বৌদি, এখন দিনকাল বদলেছে। আমরা এখন আর আন্দাজে ইনজেকশন দিই না। আমরা এখন ব্যবহার করি USG Guided Injection। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনের স্ক্রিনে সরাসরি আপনার পায়ের ভিতরের কলকব্জা দেখতে দেখতে একদম নিখুঁত নিশানায় ওষুধটা পৌঁছানো হয়। এতে ভুল হওয়ার সুযোগ নেই আর ব্যথাও খুব সামান্য—একেবারে মশা কামড়ানোর মতো। সুগার থাকলেও ভয়ের কিছু নেই, কারণ এই পদ্ধতিতে আমরা একদম সঠিক জায়গায় ওষুধ দিই যাতে সাইড ইফেক্ট কম হয়।"

🩸আর যদি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়, তবে আমাদের কাছে PRP (Platelet-Rich Plasma) র মতো আধুনিক অস্ত্র আছে, যেখানে আপনার নিজের রক্ত থেকেই 'হিলিং সেল' নিয়ে আপনার ক্ষত সারানো হয়।

👨🏻‍⚕️সবশেষে বৌদির পায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম, "বৌদি, আপনি বাড়িতে কী চটি পরেন?"

👵🏼বৌদি কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, "বাড়িতে তো খালি পায়েই থাকি ডাক্তারবাবু, মেঝেতে পা দিলে একটু আরাম লাগে, শুধু বাইরে গেলে ফ্ল্যাট চটি পরি।" আমি ওনাকে কড়া সুরে বললাম, "ঐখানেই তো মস্ত ভুলটা করছেন! ক্যালকেনিয়াল স্পার থাকলে খালি পায়ে হাঁটা মানে বিষে পা দেওয়া। ঘরে হোক বা বাইরে, সবসময় নরম সোলের চটি পরতে হবে। আপনার জুতোটা হতে হবে হিল রেইজ (Heel Raise) যুক্ত, অর্থাৎ গোড়ালির দিকটা সাধারণের চেয়ে সামান্য উঁচু আর খুব নরম গদিওয়ালা। আপনার মতো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমরা বিশেষ ধরনের MCP জুতো দিই যা পায়ের ওপর চাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। মনে রাখবেন বৌদি, সঠিক জুতোই হলো আপনার অর্ধেক ওষুধ। ওই 30 মিনিট 30 মিনিট রুল টা ভুলবেন না কিন্তু আর দিনে দুই থেকে তিনবার exercise গুলো যেটা বললাম "

🎯নীলিমা বৌদি এবার আশ্বস্ত হয়ে হাসিমুখে বিদায় নিলেন। বুঝলেন যে হাড় কাটাকুটি নয়, সুগার নিয়ন্ত্রণ , এক্সারসাইজ আর সঠিক জুতোর চাবিকাঠি হাতে থাকলেই তিনি আবার আগের মতো তরতরিয়ে হাঁটতে পারবেন। fans

বিকেলের চেম্বারে বিনয় বাবু যখন ঢুকলেন, ওনার মুখটা ছিল ফ্যাকাশে। হাতে একটি দামী নার্সিংহোমের বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ। কোনো ক...
25/04/2026

বিকেলের চেম্বারে বিনয় বাবু যখন ঢুকলেন, ওনার মুখটা ছিল ফ্যাকাশে। হাতে একটি দামী নার্সিংহোমের বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ। কোনো কিছু বলার আগেই তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে এমআরআই (MRI) প্লেটগুলো আমার টেবিলের ওপর ছড়িয়ে দিয়ে বড্ড অসহায় ভাবে বললেন:

🧓🏻"ডাক্তারবাবু, সব শেষ! পাড়ার ওষুধের দোকানের ছেলেটা রিপোর্টটা দেখে বলল— 'জেঠু, কোমর এর নার্ভের ওপর যা প্রেশার পড়েছে, আর কেউ বাঁচাতে পারবে না। নির্ঘাত কোমরে বড় অপারেশন লাগবে।' আমার তো দুদিন ধরে রাতের ঘুম উড়ে গেছে ডাক্তারবাবু, আমি কি আর কোনোদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারব না?"

🔎আমি শান্তভাবে এমআরআই প্লেট
লেটগুলোর দিকে একবারও না তাকিয়ে বিনয় বাবুর চোখের দিকে সরাসরি তাকালাম। তারপর মৃদু হেসে বললাম:

👨🏻‍⚕️ "বিনয় বাবু, আপনি তো এক মাস ধরে কোমর ব্যথায় ভুগছেন, তাই না? কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনি এই এমআরআই করিয়ে আসলে একটা মস্ত বড় ভুল করেছেন?"

👨🏻‍⚕️বিনয় বাবু: (চমকে গিয়ে) "ভুল? কেন ডাক্তারবাবু? সবাই তো বলে এমআরআই করলেই সব পরিষ্কার ধরা পড়ে!"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম "শুনুন বিনয় বাবু , আমরা কিন্তু মানুষ চিকিৎসা করি, কাগজের রিপোর্ট নয়। আপনি কি জানেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া ১০০ জন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের (যাদের পিঠে কোনো ব্যথাই নেই) যদি এমআরআই করা হয়, তবে দেখা যাবে তাদের মধ্যে প্রায় ৩০% থেকে ৫০% মানুষের রিপোর্টে আপনার মতোই 'ডিস্ক হার্নিয়েশন' বা নার্ভে চাপ ধরা পড়বে? অথচ তাদের কোনো ব্যথাই নেই! একে বলা হয় 'এজ রিলেটেড চেঞ্জেস'—ঠিক যেমন বয়সের সাথে সাথে চুলে পাক ধরে, তেমনি মেরুদণ্ডেও কিছু পরিবর্তন আসে। চুলে পাক ধরলে কি আমরা মাথা অপারেশন করি? করি না।

🖌️আপনার ক্ষেত্রেও খামোখা রিপোর্ট দেখে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। খুব বেশি প্রয়োজন হলে একটা সাধারণ এক্স-রেই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল।"

🧓🏻বিনয় বাবু: "কিন্তু ডাক্তারবাবু, ওই যে পাড়ার লোক বলছে এটাই নাকি সায়াটিকা (Sciatica)? হাড় বেড়ে গিয়ে নার্ভ টিপে ধরেছে? ওটা হলেও কি অপারেশন লাগে না?"

🩺আমি বুঝিয়ে বললাম "বিনয় বাবু, সায়াটিকা কোনো মারণ রোগ নয়। আমাদের কোমর থেকে একটা মোটা নার্ভ পায়ের নিচ পর্যন্ত গেছে, যার নাম সায়াটিক নার্ভ। কোনোভাবে সেই নার্ভে চাপ লাগলে পায়ে ঝিনঝিন বা কারেন্টের মতো ব্যথা নামে—এটাকেই আমরা সায়াটিকা বলি। কিন্তু মনে রাখবেন, সায়াটিকা মানেই সার্জারি নয়। সঠিক ফিজিওথেরাপি আর ওষুধের মাধ্যমেই ৯০% রোগী সুস্থ হয়ে যান।"

🧓🏻বিনয় বাবু: "তাহলে অপারেশন কখন লাগে ডাক্তারবাবু? আমার তো বুক ধড়ফড় করছে।"

👨🏻‍⚕️"অপারেশন বা সার্জারি লাগে মাত্র ১% থেকে ৫% ক্ষেত্রে। তাও কখন জানেন? আমি বুঝিয়ে বলছি, এই কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষণ থাকলে:

1. যদি আপনার প্রস্রাব বা পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ চলে যায়।
2. যদি হঠাৎ দেখেন পায়ের পাতা একদম অবশ হয়ে গেছে বা পা তোলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।
3. যদি প্রতিদিন আপনার পায়ের শক্তি কমতে থাকে বা পায়ের মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে শুরু করে।
4. যদি আপনার দুই পা হঠাৎ খুব ভারী হয়ে যায় এবং মলদ্বারের চারপাশটা একদম অবশ (Saddle Anesthesia) হয়ে যায়। এটি একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি।
5. যদি টানা ৩-৪ মাস সঠিক ব্যায়াম, বিশ্রাম এবং ইনজেকশন দেওয়ার পরেও ব্যথা এতটাই তীব্র থাকে যে আপনি বিছানা থেকে এক পা-ও নড়তে পারছেন না।"

🔎আমি বিনয় বাবুর কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করে বললাম: "বিনয় বাবু, আপনার ক্ষেত্রে এই কোনোটিই ঘটেনি। আপনি দিব্যি হেঁটে আমার চেম্বারে এসেছেন। আর যদি খুব জেদি ব্যথা হয়ও, অপারেশনের আগে আমার কাছে TFE (Transforaminal Epidural Injection) এর মতো আধুনিক পদ্ধতি আছে। যেখানে কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই সরাসরি ওই নার্ভের গোড়ায় ওষুধ পৌঁছে দিয়ে প্রদাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে সেটারও এখনই দরকার নেই।

🧓🏻বিনয় বাবু: "এতদিনে ঠিক কথা শুনলাম ডাক্তারবাবু। রিপোর্টের পাতাগুলো দেখে তো মনে হচ্ছিল আমি পঙ্গু হয়ে গেছি। আপনি যখন বলছেন ব্যায়ামেই কাজ হবে, তখন আর ভয় কিসের!"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম "একদম! মন থেকে ভয়টা ঝেড়ে ফেলুন। আপনার এই ব্যথা আগামী এক মাসের মধ্যে ঠিক মতো সঠিক এক্সারসাইজ আর ওষুধের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আপনার শরীর রিপোর্ট দেখে চলে না, চলে আপনার ইচ্ছাশক্তির ওপর। ভরসা রাখুন।"

🙏বিনয় বাবুর চোখে এবার জল, তবে সেটা আতঙ্কের নয়, পরম স্বস্তির। তিনি এমআরআই প্লেটগুলো ব্যাগে পুরে নিলেন। ওনার হাঁটার ভঙ্গিতে এখন আর সেই জড়তা নেই।

🧓🏻বিনয় বাবু: "ডাক্তারবাবু, আপনার কথা শুনেই অর্ধেক ব্যথা কমে গেল। আমি আজ থেকেই ব্যায়াম শুরু করব। আবার সেই পার্কে হাঁটতে ফিরবই!"

👨🏻‍⚕️আমি হাসিমুখে ওনাকে বিদায় জানালাম। আমার টেবিলে পড়ে রইল কিছু প্রেসক্রিপশন, আর বিনয় বাবু নিয়ে গেলেন এক বুক আত্মবিশ্বাস। fans

না আজ গল্প নয়, আজ ভোট। শিলিগুড়ির এই মনোরম ঠান্ডা ছেড়ে চলে এলাম বাঁকুড়ার তপ্ত গরমে—শুধুমাত্র নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্র...
23/04/2026

না আজ গল্প নয়, আজ ভোট। শিলিগুড়ির এই মনোরম ঠান্ডা ছেড়ে চলে এলাম বাঁকুড়ার তপ্ত গরমে—শুধুমাত্র নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে। 🗳️🔥

ভোট মানেই তো এক বুক আশা। আমাদের এই প্রিয় পশ্চিমবঙ্গকে আরও সুন্দর ও উন্নত দেখার স্বপ্ন। এমন একটা রাজ্য, যেখানে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হবে আরও আধুনিক ও মজবুত, যাতে প্রতিটি মানুষ সঠিক পরিষেবা পায়। আমরা চাই আমাদের এই বাংলা প্রকৃত অর্থেই একটি উন্নত রাজ্যে পরিণত হোক।

নিজের ভোট নিজে দিন, আমাদের রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য । ✊🏠

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে সুকুমার বাবু ভেতরে ঢুকলেন। মুখে একগাল হাসি, হাতে এক ব্যাগ টাটকা সবজি। মাসখানেক আগে এই মানুষটাই যখন...
21/04/2026

চেম্বারের দরজাটা ঠেলে সুকুমার বাবু ভেতরে ঢুকলেন। মুখে একগাল হাসি, হাতে এক ব্যাগ টাটকা সবজি। মাসখানেক আগে এই মানুষটাই যখন এসেছিলেন, যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলেন। আজ যেন অন্য মানুষ!

🧓🏻"ডাক্তারবাবু, আপনার ম্যাজিক তো কাজ করে দিয়েছে! হাঁটুর ব্যথা তো এখন একদম নেই বললেই চলে। কিন্তু মনে মনে একটা ভয় হচ্ছে—এই যে ভালো আছি, এটা ধরে রাখব কী করে? যাতে আর ওই কষ্ট না হয়, তার একটা দাওয়াই দিন তো!"

👨🏻‍⚕️আমি কলমটা টেবিলের ওপর রেখে তাকিয়ে একটু হাসলাম। বললাম, "বসুন সুকুমার বাবু। সব বলছি। দেখুন, এটা তো বয়সজনিত রোগ, বয়সকে তো আমরা কমাতে পারব না, কিন্তু রোগটা আটকানো যাবে! আপনার এই সুস্থতা কিন্তু কোনো ম্যাজিক নয়, এটা আপনার লাইফস্টাইলের ওপর নির্ভর করছে।"

🧓🏻সুকুমার বাবু মন দিয়ে শুনছেন দেখে আমি বলতে শুরু করলাম:

🖌️"সুকুমার বাবু, আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের ভেতর একধরণের তরল থাকে, যাকে আমরা বলি সাইনোভিয়াল ফ্লুইড—চলতি ভাষায় ওটাই হলো আপনার হাঁটুর 'জেলি'। আপনি যখন নিয়ম করে দিনে দু’বার ব্যায়াম করবেন, তখন হাঁটুতে রক্ত চলাচল বাড়ে আর এই জেলি তৈরির প্রক্রিয়াটা সচল থাকে। ফলে হাড়ের ঘর্ষণ কমে যায়।"
আমি একটু থেমে যোগ করলাম, "আর সবথেকে বড় কথা, ব্যায়াম করলে মস্তিস্ক থেকে ডোপামিন নিঃসরণ হয়। এটা শরীরের একদম প্রাকৃতিক পেইনকিলার! তাই ওষুধ ছাড়াই আপনার মন ফুরফুরে থাকবে আর ব্যথাও কম লাগবে।"

🔎"আপনার ঊরুর পেশি (Quadriceps) যত শক্তিশালী হবে, শরীরের ওজনটা সরাসরি হাড়ের ওপর না পড়ে পেশিগুলো ভাগ করে নেবে। অনেকটা গাড়ির শক-অ্যাবজর্বারের মতো! তাই ব্যায়াম বন্ধ করলে কিন্তু বিপদ।"

❌"ওজনটা কিন্তু আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। মনে রাখবেন, শরীরের ওজন যদি মাত্র ১ কেজি বাড়ে, হাঁটুর ওপর কিন্তু চাপ পড়ে প্রায় ৪ কেজি! আপনার জয়েন্টগুলো এত বাড়তি ভার সইতে পারে না, তাই ওজন বাড়লেই ব্যথা ফিরে আসবে।"

🎯"সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা এক্কেবারে কমিয়ে দিন। একটা প্ল্যান করে নিন সুকুমার বাবু। ওপরে কাজ থাকলে এমনভাবে গুছিয়ে নিন যাতে দিনে একবার কি বড়জোর দু’বার ওপরে উঠতে হয়। বারবার ওঠানামা করা মানেই হাঁটুর আয়ু কমিয়ে দেওয়া।"

🔎"বাথরুমে কিন্তু আর নিচে বসা চলবে না। কমোড ব্যবহার করা মানেই হাঁটুর ওপর ৯০ শতাংশ চাপ কমিয়ে দেওয়া। আর প্রতিদিন নিয়ম করে সমতলে আধঘণ্টা হাঁটুন।"

🧓🏻সুকুমার বাবু একটু ইতস্তত করে বললেন, "ডাক্তারবাবু, খাবারের ব্যাপারে কী করব? পাড়ার লোকজন তো বলছে এটা খাবেন না, ওটা খাবেন না..."
আমি হাসলাম। "খাবার নিয়ে তো আপনাকে আগেও বলেছি— প্রতিবেশীর কথা শুনে নয় কিন্তু! নিজের শরীরের ভাষা বুঝুন। কোনো বিশেষ খাবার খেলে যদি আপনার মনে হয় ব্যথা বাড়ছে, তবেই সেটা বন্ধ করবেন। ঢালাওভাবে সবার কথা শুনে ডায়েট করবেন না।"

🩺সুকুমার বাবু আশ্বস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমি ওনার কাঁধে হাত রেখে বললাম, "এই নিয়মগুলো মাথায় রাখুন সুকুমার বাবু। দেখবেন বিনা ওষুধেও আপনি দারুণ ভালো থাকবেন!"

🧓🏻সুকুমার বাবু হাসিমুখে বিদায় নিলেন। আমি ভাবলাম, শুধু সুকুমার বাবু কেন, আমাদের ঘরে ঘরে তো এমন অনেক সুকুমার বাবু আছেন! তাই আপনিও যদি কোনো সুকুমার বাবু কে চেনেন তাহলে এই নিয়ম গুলো শেয়ার করবেন কিন্তু I@top fans

"আরে পুলকবাবু যে! আসুন আসুন। ভোটের বাজারে চারদিকে তো এখন শুধু মাইকের আওয়াজ আর জনসভা। আপনাকে  অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য স...
19/04/2026

"আরে পুলকবাবু যে! আসুন আসুন। ভোটের বাজারে চারদিকে তো এখন শুধু মাইকের আওয়াজ আর জনসভা। আপনাকে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য সেই যে ব্যায়ামগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো চলছে তো? আজকে আবার সাথে কাকে আনলেন?"

🧓পুলকবাবু চেয়ারটা টেনে বসে বললেন, "ডাক্তারবাবু, আজ নিজের জন্য নয়, মেয়ে সীমাকে নিয়ে এলাম। ওর বয়স এখন মাত্র ৩০ বছর, কিন্তু দেখুন তো কয়েক দিন ধরে কী এক আপদ জুটেছে! সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতের আঙুল সোজা করতে পারছে না, প্রচণ্ড যন্ত্রণা। আবার বলছে হাঁটুতেও ব্যথা , আমার মতো ওরও কি এই বয়সেই হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস শুরু হলো নাকি?"

👧সীমা কাঁচুমাচু মুখে নিজের আঙুলগুলো দেখাল। আমি সীমার হাতের জয়েন্টগুলো একটু টিপে দেখে বললাম, "পুলকবাবু, আপনি আর সীমা দুজনেই 'বাত' বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন ঠিকই, কিন্তু আপনাদের দুজনের লড়াইটা একদম আলাদা। আপনারটা হলো অস্টিওআর্থ্রাইটিস, আর সীমার যেটা মনে হচ্ছে, সেটা হলো রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)।"

👧🏻সীমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "দুটো কি আলাদা ডাক্তারবাবু?"

🖌️আমি ড্রয়ার থেকে একটা কলম বের করে বোঝাতে শুরু করলাম, "সীমা, তোমার বাবার যেটা হয়েছে, সেটা হলো হাড়ের 'ক্ষয়'(Osteoarthritis)। বয়স বাড়লে যেমন হাড়ের মাঝের লুব্রিকেন্ট কমে যায়, অনেকটা পুরনো সাইকেলের চেনের মতো—এটাও তাই। কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হাড়ের ক্ষয় নয়, বরং শরীরের ভেতরের একটা 'বিদ্রোহ'। তোমার নিজের ইমিউন সিস্টেম ভুল করে তোমার জয়েন্টগুলোকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করছে। একে আমরা বলি Autoimmune Disease।"

👨‍⚕️ তুমি যে বললে সকালে হাত সোজা করতে পারো না, এটাকেই আমরা বলি Early Morning Stiffness। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে সারা রাত জয়েন্টের ভেতরে প্রদাহ বা Inflammation জমে থাকে। তাই সকালে উঠে মনে হয় আঙুলগুলো কেউ আঠা দিয়ে আটকে দিয়েছে। অন্তত ১ ঘণ্টা না কাটলে বা কাজকর্ম না করলে হাত সচল হয় না।"

🩸আমি সীমাকে কিছু রক্ত পরীক্ষা (RA Factor, Anti-CCP) করতে দিলাম । রিপোর্ট আসতেই দেখা গেল Rheumatoid Factor পজিটিভ।

🧓পুলকবাবু রিপোর্ট দেখে আঁতকে উঠলেন, "ডাক্তারবাবু, এ তো পজিটিভ! তবে কি ওর হাতগুলো সব ওই উনুন ধরার সাঁড়াশির মতো বেঁকে যাবে? জানেন ওর মাসির সব আঙ্গুল বাঁকা "

👨‍⚕️"একদম ভয় পাবেন না," আমি আশ্বস্ত করলাম। "আগেকার দিনে যখন আমাদের কাছে ভালো ওষুধ ছিল না, তখন হাত বেঁকে যেত, যাকে আমরা Rheumatoid Hand বলি। কিন্তু সীমা এখন একদম Window of Opportunity-তে আছে। অর্থাৎ রোগ ধরা পড়ার প্রথম ৩-৬ মাসের মধ্যে যদি আমরা সঠিক চিকিৎসা শুরু করি, তবে হাড়ের ওই বিকৃতি বা deformity আমরা ১০০% আটকে দিতে পারি।"

🔎"পুলকবাবু, সীমার ক্ষেত্রে আমাদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে কারণ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটা Systemic Disease। এটা শুধু জয়েন্টে আটকে থাকে না; এটি ফুসফুসে জল জমাতে পারে, চোখের জল শুকিয়ে দিতে পারে (শুষ্ক চোখ), এমনকি হার্টের রক্তনালীতেও প্রদাহ তৈরি করতে পারে। তাই একে একদম অবহেলা করা চলবে না।"

🖌️পুলক বাবু জিজ্ঞেস করলেন "আচ্ছা এই রোগ টার লক্ষণ কি কি একটু বলবেন ?
"খুব ভালো প্রশ্ন পুলক বাবু , এই রোগে এই এই উপসর্গ দেখা যায় , যেমন ":
১ ) আঙ্গুলে বা হাত বা পায়ের ছোট জয়েন্টগুলোতে ব্যথা।
২ ) জয়েন্টগুলোতে লালচে ও ফোলাভাব।
৩ ) সকালে বিছানা থেকে ওঠার পর ব্যথা বা হাতের আঙ্গুল আড়ষ্ট হয়ে যাওয়া।
৪ ) আপনার কব্জি, কনুই, কাঁধ, এবং হাঁটুগুলি ফোলা এবং লালচে ভাব এবং সেইসাথে আপনার হাঁটুগুলি বেদনাদায়ক হতে পারে।
৫ ) সাধারণত রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পিঠে ব্যথা হয় না।
৬ ) আপনি অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন । প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বরও হতে পারে।

সংক্ষেপে: শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা হবে এবং প্রধানত বিশ্রামের পরে বৃদ্ধি পাবে।

👧🏻সীমা জিজ্ঞেস করল, "তাহলে এখন উপায়? আমাকে কি সারাজীবন পেইনকিলার খেয়ে যেতে হবে?"

🖌️"একদমই না সীমা! আমাদের কাছে এখন অনেক আধুনিক অস্ত্র আছে:
• DMARDs: এই ওষুধগুলো তোমার বিগড়ে যাওয়া ইমিউন সিস্টেমকে শান্ত করবে।
• Biologics: এগুলো একদম লেটেস্ট টেকনোলজি, যা সরাসরি ব্যথার উৎসকে ব্লক করে।
• USG Guided Injections: যদি কোনও জয়েন্টে খুব বেশি ব্যথা থাকে, তবে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড দিয়ে একদম নিখুঁতভাবে ইনজেকশন পৌঁছে দিতে পারি।"
• ⁠এর সাথে সাথে exercise কিন্তু নিয়ম মেনে করতে হবে I

🩺এটা ঠিক যে এই রোগ পুরোপুরি হয়তো সারে না কিন্তু এতোটাই ভালো থাকা যায় যে বোঝা যাবে না কিছু হয়েছে বলে I

❓পুলকবাবু আমতা আমতা করে বললেন, "ডাক্তারবাবু, আমার থেকেই কি এটা মেয়ের হলো? ওর বাচ্চাদেরও কি এটা হবে?"

👨‍⚕️"না না, অস্টিওআর্থ্রাইটিস আর রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এক নয়। বংশগতির একটা সূক্ষ্ম যোগসূত্র থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার থেকে এটা হয়েছে। সীমা যদি ধূমপান না করে (যা এই রোগের বড় শত্রু), নিয়মিত ব্যায়াম করে আর আমার দেওয়া ওষুধগুলো ঠিকমতো খায়, তবে ও একদম স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবে।"

🖌️দেখা গেছে যদি আপনার প্রথম-ডিগ্রী আত্মীয়ের (যেমন মা, বাবা, ভাইবোনদের) এই রোগ থাকে তবে আপনার RA এর কোনো পারিবারিক ইতিহাস নেই এমন লোকদের তুলনায় এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুণ বেশি।

❓পুলক বাবু জিজ্ঞেস করলেন প্রেগন্যান্সি তে সমস্যা হবে?

🔎 আমি বললাম ওনাকে , এই বাত , সাধারণত গর্ভাবস্থায় সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু রোগের সাথে সম্পর্কিত ব্যথা বা স্ট্রেসের জন্য পরোক্ষ ভাবে প্রভাব হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, কিছু ওষুধ যা রোগীদের দেওয়া হয় তা বিকাশমান শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি শুক্রাণুর জন্য বিষাক্ত।
তাই আমরা সবাই কে বলে থাকি আপনি যদি গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেন তাহলে অবিলম্বে আপনার ডাক্তার বাবু কে জানান।

🎯সব শুনে পুলকবাবু আর সীমা আশ্বস্ত হলেন। বাইরে তখন ভোটের স্লোগান শোনা যাচ্ছে, আর চেম্বারের ভেতরে সীমা তৈরি হচ্ছে তার জয়েন্টের এই 'বিদ্রোহ' দমনের জন্য।

👨‍⚕️আমি হেসে বললাম, " সীমা, আজ থেকে তোমার লড়াই শুরু। পরের বার যখন আসবে , যেন দেখি এই হাত দিয়েই তুমি নিজের সব কাজ হাসিমুখে করতে পারছো !"

🔎সীমা হাসল। আর পুলকবাবু মেয়ের হাত ধরে বললেন, "চল মা, ডাক্তারবাবু যখন অভয় দিয়েছেন, তখন আর চিন্তা নেই। সামনে ভোট আছে, তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে ভোটের লাইন এ দাঁড়াতে হবে তো " fans

Address

16, Hill Cart Road
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+917003996890

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Subhasish Pati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Subhasish Pati:

Share

Category