Dr Subhasish Pati

Dr Subhasish Pati This page brings education on pain and movement health from Dr Subhasish Pati, Specialist in Interventional Pain Management and Rehabilitation Medicine.

Learn about early signs, proven treatments and daily habits that support pain free living.

মিতা বউদি সেদিন চেম্বারে ঢুকতেই বললেন, "স্যার এই  যে ডান হাতের কনুই,  এখান থেকে যা ব্যথা করছে! রান্না করতে খুন্তি তো ধরত...
17/06/2026

মিতা বউদি সেদিন চেম্বারে ঢুকতেই বললেন, "স্যার এই যে ডান হাতের কনুই, এখান থেকে যা ব্যথা করছে! রান্না করতে খুন্তি তো ধরতেই পারছি না, হাত ঝুলিয়ে রাখলেও ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে।"

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, "বসুন বউদি, শান্ত হোন। আগে হাতটা দেখি।"মিতা বউদি চেয়ারটায় বসে তাঁর ডান হাতটা টেবিলের ওপর রাখলেন। মধ্যবিত্ত সংসারে সারাটা দিন অক্লান্ত খাটেন। এই ডান হাতটাই ওঁর পুরো ঘর-সংসারটাকে সচল বা বাঁচিয়ে রেখেছে।

👨🏻‍⚕️আমি ওনার কনুইয়ের বাইরের দিকের হাড়টার ওপর হালকা চাপ দিতেই বউদি 'ওরেব্বাবা' বলে হাতটা টেনে নিলেন।

👵🏼 "কী বুঝলেন স্যার? ক্যানসার-ট্যানসার নয় তো? আজকাল যা সব শুনছি চারদিকে!" বউদির চোখেমুখে একরাশ উদ্বেগ।

👨🏻‍⚕️আমি উনার ভয় ভাঙানোর জন্য হেসে হেসে বললাম, "আরে না না, কী যে বলেন! ক্যানসার হতে যাবে কেন? আপনার যেটা হয়েছে, সেটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে 'টেনিস এলবো' (Tennis Elbow)।"

👨🏻‍⚕️"টেনিস এলবো!" বউদি আকাশ থেকে পড়লেন। "বলেন কী স্যার! আমি জীবনে কোনোদিন টেনিস ব্যাট চোখেও দেখিনি, আর আমার কিনা টেনিস খেলোয়াড়দের রোগ হলো?"

👨🏻‍⚕️আমি একটু সহজ করে বুঝিয়ে বললাম, "দেখুন বউদি, আমাদের হাতের কব্জি আর আঙুলগুলো যে পেশির সাহায্যে নড়াচড়া করে, সেই পেশির শেষ শক্ত অংশটা (যাকে আমরা টেন্ডন বলি) এসে যুক্ত হয়েছে কনুইয়ের এই বাইরের হাড়টার সাথে। আপনি যখন রোজ কড়াইয়ে ভারী খুন্তি নাড়েন, মশলা বাটেন বা কাপড় নিঙড়ান, তখন এই টেন্ডনটার ওপর বারবার অতিরিক্ত টান পড়ে। এই একটানা বাড়তি চাপের ফলে টেন্ডনটার ভেতরে খুব সূক্ষ্ম বা মাইক্রোস্কোপিক ফাটল বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, যাকে আমরা বলি 'মাইক্রো টেন্ডন টিয়ার' (Micro Tendon Tears)। যেহেতু আপনি হাতটাকে বিশ্রাম দিচ্ছেন না, তাই ওই সূক্ষ্ম ফাটলগুলো জোড়া লাগার আগেই আবার নতুন করে চোট পাচ্ছে। আর সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে এই তীব্র ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ আর ব্যথা।"

👵🏼মিতা বউদি মন দিয়ে শুনলেন, তারপর একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "বলেন কী স্যার! আচ্ছা, আমার কিন্তু আবার সুগার (ডায়াবেটিস) আছে। এটা কি সুগার থাকলে বেশি হয়?"

👨🏻‍⚕️আমি উনার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লাম, "খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন বউদি। হ্যাঁ, শরীরে ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এই ধরনের পেশি ও টেন্ডনের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কারণ, সুগার থাকলে আমাদের শরীরের লিগামেন্ট বা টেন্ডনগুলোর নমনীয়তা বা ইলাস্টিক ভাব কমে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাধা পায়, যার ফলে এগুলো সহজে আঘাত প্রাপ্ত হয় এবং চোট সারতে অনেক বেশি সময় নেয়। শুধু তাই নয় বউদি, যদি শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকে বা অন্য কোনো বাতের (Arthritis) সমস্যা থাকে, তাহলেও কিন্তু কনুইয়ের এই ব্যথাটা আরও জাঁকিয়ে বসতে পারে।"

👵🏼মিতা বউদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "ওরে বাবা! বলেন কী স্যার! এই সামনের মাসে ছেলের বিয়ে। বাড়ি ভর্তি লোক, পিঠে-পুলি বানানো থেকে শুরু করে একহাতে কত কী করতে হচ্ছে। কিন্তু এখন উপায় কী বলুন তো? খুন্তি না ধরলে তো বাড়ির সবাই না খেয়ে মরবে!"

👨🏻‍⚕️আমি বুঝিয়ে বললাম, "নামটা টেনিস এলবো হলেও, আমাদের দেশ ভারতের কথাই ধরুন না—এখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে গৃহবধূ,দর্জি , প্লাম্বার বা আইটি কর্মীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ (Incidence) কিন্তু খুব বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভারতে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এই কনুইয়ের ব্যথায় ভোগেন, যাদের মধ্যে ৯৫%-এর বেশি মানুষের সাথে টেনিস খেলার কোনো সম্পর্কই নেই! তাই ভেঙে পড়বেন না।"

🩺আমি টেবিল থেকে একটা বিশেষ ধরণের ব্যান্ড তুলে ওনার হাতে দিয়ে বললাম, " বৌদি, আপাতত কয়েকটা নিয়ম মানতে হবে । এই যে ব্যান্ডটা দেখছেন, একে বলে টেনিস এলবো ব্যান্ড। ক্রিকেট ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকরের নাম তো শুনেছেন? উনারও কিন্তু কেরিয়ারের একটা সময়ে মারাত্মক টেনিস এলবো হয়েছিল। উনি যখন মাঠে নামতেন, লক্ষ্য করে দেখবেন কনুইয়ের ঠিক নিচে এমন একটা ব্যান্ড পরে থাকতেন। এটা পরে থাকলে টেন্ডনের ওপর সরাসরি চাপটা পড়ে না, ব্যান্ডটা চাপটা শুষে নেয়। আপনাকেও কাজ করার সময় ওমনি করেই এটা পরে থাকতে হবে।"

⚠️ বউদি ব্যান্ডটা হাতে নিয়ে যেই না ব্যথার জায়গায় বাঁধতে গেলেন, আমি উনার হাতটা ধরে আটকে দিয়ে বললাম, "আরে ওভাবে নয় বউদি! এটাই তো সবাই ভুল করে। কনুইয়ের ঠিক যে হাড়টায় ব্যথা, তার ওপর ব্যান্ডটা বাঁধবেন না। বাঁধতে হবে কনুইয়ের হাড় থেকে ঠিক দুই আঙুল নিচে (forearm বা হাতের পেশির ওপর)। তবেই ওটা আসল জায়গায় টেন্ডনের ওপর বাড়তি পুল বা টানটা আটকাতে পারবে।"

➡️বউদি ব্যান্ডটার দিকে তাকিয়ে বেশ উৎসাহ পেলেন, "ওরে বাবা! সচিন তেন্ডুলকরও এটা পরতেন? আর বাঁধারও এমন সুন্দর নিয়ম আছে? তাহলে তো আমি ঠিক এভাবেই পরব স্যার। আর কী করতে হবে?"

✍🏻আমি প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতে বললাম, "প্রথম কথা, দিন কয়েকের জন্য ভারী কাজ একদম বন্ধ। দিনে ৩-৪ বার কনুইয়ের ব্যথার জায়গায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট করে বরফ দেবেন। সাথে আমি ব্যথানাশক একটা মলম আর কয়েকটা ওষুধ লিখে দিচ্ছি, ওগুলো নিয়ম করে লাগাবেন ও খাবেন।এবং ব্যথা একটু কমে গেলে প্রায় মাস তিনেক এই এক্সারসাইজ গুলো করবেন কিন্তু । "

📝বউদি প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে একটু ইতস্তত করে বললেন, "আচ্ছা স্যার, যদি এই ওষুধ, বরফ আর ব্যান্ডে কাজ না হয়? অনেক সময় তো শুনি এগুলো সহজে সারতে চায় না!"

👨🏻‍⚕️আমি ওনার ভয় দূর করে হেসে বললাম, "যদি সাধারণ ওষুধ বা বিশ্রামে কাজ না হয়, তবে আমাদের কাছে আধুনিক চিকিৎসার অনেক রাস্তা আছে বউদি। যেমন ফিজিওথেরাপি । এর মধ্যে লেজার থেরাপি (LASER) বা আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি (UST) ব্যবহার করে ওই ভেতরের মাইক্রো টিয়ার বা ক্ষতগুলোকে খুব দ্রুত সারিয়ে তোলা যায় তাছাড়া আরো অনেক যন্ত্র আছে ।"

👵🏼 "আর যদি তাতেও কাজ না হয় স্যার?"
🎯 "তাহলে আমাদের কাছে আরেকটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং নিরাপদ অস্ত্র আছে—সেটি হলো ইউএসজি গাইডেড ইনজেকশন (USG guided Injections)। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একদম নিখুঁতভাবে, টেন্ডনের ঠিক যে অংশটায় মাইক্রো টিয়ার বা ক্ষত হয়েছে, সেখানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয় বা PRP ও দেওয়া যেতে পারে, সেই দিন যেটা বলেছিলাম । এতে কোনো কাটাছেঁড়ার ব্যাপার থাকে না, অথচ টেন্ডনটা খুব দ্রুত হিল বা সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই একদম চিন্তা করবেন না।"

👵🏼মিতা বউদি এবার পুরোপুরি আশ্বস্ত হয়ে হাসিমুখে চেয়ার থেকে উঠলেন। যাওয়ার আগে অবশ্য মনে করিয়ে দিতে ভুললেন না, "ছেলের বিয়েতে কিন্তু আপনার নিমন্ত্রণ রইল স্যার! তখন কিন্তু আর 'রোগীর চাপ'-এর বাহানা দিয়ে রেহাই পাবেন না, ভালো করে খেয়ে আসতে হবে!"

❤️ আমি হেসে মাথা নাড়লাম। একজন চিকিৎসকের কাছে রোগীর মুখের এই আশ্বস্ত হাসি আর স্নেহের চেয়ে বড় পাওনা আর কী-ই বা হতে পারে!


চেম্বারে সেদিন  অমল বাবু ঢুকলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠের আর হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন। এসে চেয়ারটায় বসে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে ...
15/06/2026

চেম্বারে সেদিন অমল বাবু ঢুকলেন। বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠের আর হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন। এসে চেয়ারটায় বসে একটা লম্বা শ্বাস ফেলে বললেন,

👨🏻‍🦳"আচ্ছা ডাক্তারবাবু, এই বয়সে ব্যথা কি হতেই থাকবে? সেই দিন ছেলেও বলছিলো কোমরে ব্যথা । আচ্ছা, বুঝবো কী করে যে ব্যথা হলে কখন সত্যিই ডাক্তার দেখানো উচিত, আর কখন একটু তেল মালিশ করলেই চলে যাবে?"

👨🏻‍⚕️আমি হেসে উনাকে বললাম, "অমল বাবু, একটা কথা আগে ভালো করে বুঝে নিন। ব্যথা কিন্তু আমাদের বন্ধু! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। ব্যথা আসলে আমাদের শরীরের একটা অ্যালার্ম সিস্টেম বা সিগন্যাল। শরীরে কোথাও না কোথাও কিছু একটা একটু খারাপ আছে, সেটা বোঝানোর জন্যই শরীর এই সিগন্যালটা দেয়। ঘরের স্মোক ডিটেক্টর যেমন আগুন লাগলে আওয়াজ করে সতর্ক করে, ব্যথাও ঠিক তাই।"

✍🏻আমাদের সরকারি হাসপাতালের ওপিডিতে (OPD) প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন করে পেশেন্ট দেখতে হয়। ওনাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু এই কোনো না কোনো ব্যথা নিয়েই আসেন। আমরা চিকিৎসকরা ঠিক এই কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন করে আর কিছু লক্ষণ দেখে মনে মনে ঠিক করে নিই যে এই ব্যথাটা 'ভালো' নাকি 'খারাপ'।

👨🏻‍🦳অমল বাবু উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "বলেন কী ডাক্তারবাবু! ব্যথার মধ্যেও আবার ভালো-খারাপ আছে? তাহলে খারাপ ব্যথা কোনগুলো?"

👨🏻‍⚕️আমি তখন ওনাকে বুঝিয়ে বললাম, "শুনুন অমল বাবু, এই লক্ষণগুলো যদি ব্যথার সাথে থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটা খারাপ ব্যথা এবং একেবারেই অবহেলা করা চলবে না:"

➡️১. সকালে বিছানা থেকে ওঠার সময় যদি দেখেন ব্যথা খুব বেড়ে গেছে এবং ৩০ মিনিট বা আধ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেই আড়ষ্টতা বা ব্যথা কমছে না, তখন সেটা কিন্তু কোনো সাধারণ ব্যথা নয়। এটা 'বাতের' (Inflammatory Arthritis) জন্য হতে পারে।

➡️২. আপনি শান্ত হয়ে এক জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রামে বসে আছেন, তারপর যখনই উঠতে যাচ্ছেন, দেখছেন মারাত্মক ব্যথা হচ্ছে—এটাও কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়।

➡️৩. ব্যথাটা কোনো একটা নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে নেই। একসাথে অনেকগুলো জয়েন্টে বা গিঁটে ব্যথা হচ্ছে, কিংবা জয়েন্টগুলো ফুলে লাল হয়ে যাচ্ছে—এটাও বেশ খারাপ লক্ষণ।

➡️৪. যদি ব্যথার পাশাপাশি শরীরে জ্বর জ্বর ভাব আসে, কিংবা ত্বকে কোনো রকমের র‍্যাশ বা লালচে দাগ দেখা যায়, তবে একদম অবহেলা করবেন না। এটা শরীরের ভেতরের কোনো বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

➡️৫. কোমরের ব্যথাটা যদি কোনো চোট-আঘাত ছাড়াই হঠাৎ শুরু হয়, একটা নির্দিষ্ট সাইডে বেশি হয় এবং সকালের দিকে খুব বেড়ে যায়, তবে মনে রাখবেন—এটা কিন্তু সাধারণ স্পন্ডিলোসিস বা বয়সের ক্ষয়জনিত ব্যথা নয়। এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।

➡️৬. কোমর থেকে ব্যথাটা যদি ঝিনঝিন বা অবশ ভাব করতে করতে একটা পা দিয়ে নিচের দিকে নেমে যায়, কিংবা একটা পুরো পা ভারী বা অবশ লাগে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান। এই ধরণের নার্ভের সমস্যা প্রথম থেকে সঠিক চিকিৎসা করলে পরে আর কোনো সার্জারি বা ইনজেকশন কিছুই লাগে না। ওষুধ আর রিহ্যাবিলিটেশনেই ঠিক হয়ে যায়।

➡️৭. হাঁটতে গিয়ে যদি পায়ে ঠিকমতো জোর না পান, পা থেকে চটি বা চপ্পল নিজে নিজেই খুলে পড়ে যায়, কিংবা যদি প্রস্রাব-পায়খানা ধরে রাখতে সমস্যা হয়—তবে জানবেন এটা অত্যন্ত জরুরি অবস্থা (Medical Emergency)। এক মুহূর্ত দেরি না করে হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

➡️৮. কোমর ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর থাকে, দিন দিন শরীরের ওজন কমে যেতে থাকে, ঘন ঘন কাশি হয় এবং শরীর খুব দুর্বল লাগে—তবে এগুলোও ভালো লক্ষণ নয়। অনেক সময় ক্যানসার বা যক্ষ্মার (TB) মতো রোগও হাড় বা মেরুদণ্ডে ছড়ালে এমন হতে পারে।

➡️৯. যেকোনো ধরণের ব্যথা যদি টানা ৩ সপ্তাহ বা ২১ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও না কমে, তবে সেটাকে আর ফেলে রাখা বা অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।

➡️১০. যদি দেখেন কোনো চোট-আঘাত ছাড়াই হঠাৎ শরীরের যেকোনো একটা জয়েন্ট (যেমন হাঁটু বা কনুই) মারাত্মক ফুলে গেছে, লাল হয়ে গেছে, ছোঁয়া যাচ্ছে না এবং ছটফটানি ধরানো ব্যথা হচ্ছে—তবে জানবেন এটা জয়েন্টের মারাত্মক ইনফেকশন (Septic Arthritis) হতে পারে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না হলে জয়েন্ট স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

➡️১১. সবশেষে যে পয়েন্টটি বলব, সেটি অত্যন্ত মারাত্মক। যদি দেখেন একটা পায়ের ডিম বা পেছনের পেশি (Calf) হঠাৎ ফুলে গেছে, চাকা হয়ে শক্ত হয়ে গেছে, লালচে দেখাচ্ছে এবং হাত দিলে গরম লাগছে—তবে এটা শিরার ভেতর রক্ত জমাট বাঁধার (DVT - Deep Vein Thrombosis) লক্ষণ হতে পারে। এই রক্ত পিণ্ডটি ছুটে গিয়ে ফুসফুসে আটকে গেলে রোগীর প্রাণসংশয় পর্যন্ত হতে পারে।

👨🏻‍🦳আমার কথাগুলো শুনে অমল বাবু চোখ কপালে তুলে বললেন, "বলেন কী ডাক্তারবাবু! একটা ব্যথার পেছনে এত কিছু দেখতে হয়?!"

👨🏻‍⚕️আমি হাসতে হাসতে বললাম, "আরে অমল বাবু, সেই জন্যই তো আমরা অনেক সময় পেশেন্টের ব্যথা কমে গেলেও ঠিক পুরোপুরি খুশি হতে পারি না! অনেক সময় পেশেন্ট এসে বলেন—'ডাক্তারবাবু, দারুণ ওষুধ দিলেন, ব্যথা তো একদম গায়েব!' কিন্তু আমরা চিকিৎসকরা যদি ব্যথার আসল কারণ বা সঠিক ডায়াগনোসিস (Diagnosis) না করতে পারি, তাহলে ব্যথা কমলেও মনে শান্তি পাই না।"
"কারণ এই ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যথাগুলো আসলে একটা ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির (Volcano) মতো। ওপর থেকে দেখে মনে হতে পারে সব শান্ত, কিন্তু ভেতরে কী চলছে তা না জানলে, কখন যে হঠাৎ বড় বিস্ফোরণ ঘটবে তা কেউ বলতে পারে না।"

🙏তাহলে পরামর্শ এটাই— ব্যথাকে শত্রু না ভেবে তার সিগন্যালটা বোঝার চেষ্টা করুন। সাধারণ পেশীর টান বা ক্লান্তিজনিত ব্যথা দু-চার দিনে এমনিই কমে যায়, কিন্তু ওপরে বলা লক্ষণের কোনো একটাও যদি মিলে যায়, তবে গুগল সার্চ করে বা নিজে নিজে পেইনকিলার খেয়ে রোগ না চেপে, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন!

সুমনবাবু , বয়স ৪৫ বছর , সে দিন চেম্বারে এলো। এসেই ব্যাগ থেকে একটা এমআরআই (MRI) রিপোর্ট বার করে বলল, "দেখুন ডাক্তারবাবু,...
11/06/2026

সুমনবাবু , বয়স ৪৫ বছর , সে দিন চেম্বারে এলো। এসেই ব্যাগ থেকে একটা এমআরআই (MRI) রিপোর্ট বার করে বলল, "দেখুন ডাক্তারবাবু, হাঁটুর লিগামেন্টটা ছিঁড়ে গেছে, অপারেশন কি করতেই হবে ?"

🖌️ওর চোখে তখন স্পষ্ট ভয় আর একটা অনিশ্চয়তা। প্রশ্নটা কিন্তু বেশ জটিল, আর এর উত্তর কখনো এক কথায় "হ্যাঁ" বা "না" তে হয় না।

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "আসুন সুমনবাবু, ভয় না পেয়ে আজ আমরা একটু হাঁটুর ভেতরের বিজ্ঞানটা সহজ করে বুঝে নিই। বিজ্ঞানটা মাথায় থাকলে, ডাক্তারবাবু কেন অপারেশন করতে বলছেন বা এখন দরকার নেই বলছেন, সেটা বুঝতে আপনার নিজেরই খুব সুবিধে হবে।"

🦴আমাদের শরীরের জয়েন্টগুলো ঠিকঠাক রাখার জন্য দুটো জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাদের কাজ কিন্তু একেবারেই আলাদা:

✅লিগামেন্ট (Ligament): এটা হলো একটা শক্ত, ইলাস্টিক ফিতের মতো (tough elastic band) যা একটা হাড়ের সাথে অন্য হাড়কে (Bone to Bone) জুড়ে রাখে। এর মূল কাজ হলো জয়েন্টটাকে স্থায়িত্ব (stability) দেওয়া, যাতে হাঁটুটা তার নির্দিষ্ট সীমার বাইরে বেঁকেচুরে না যায়।

✅টেন্ডন (Tendon): এটা হলো দড়ির মতো শক্ত ফাইবার (fibrous cord) যা মাংসপেশিকে হাড়ের সাথে (Muscle to Bone) জুড়ে রাখে। যখন মাংসপেশি ছোট-বড় হয়, তখন এই টেন্ডনের সাহায্যেই আমাদের হাত-পা নড়াচড়া করে।

🎯সহজ কথায়, টেন্ডন আমাদের নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, আর লিগামেন্ট আমাদের জয়েন্টকে ঠিক জায়গায় ধরে রাখে।

👨🏻‍⚕️সুমনবাবু কে বুঝিয়ে বললাম মেডিকেল বিজ্ঞানে লিগামেন্ট ছেঁড়াকে আমরা মূলত ৩টি গ্রেডে ভাগ করি:

👉🏻Grade 1 (Mild): লিগামেন্টের ফাইবারগুলোতে একটু মোচড় বা টান লেগেছে, কিন্তু ছিঁড়ে যায়নি। জয়েন্ট পুরোপুরি স্টেবল থাকে।

👉🏻Grade 2 (Moderate): এটা হলো আংশিক বা পার্সিয়াল টিয়ার (Partial Tear)। মানে লিগামেন্টের একটা বড় অংশ ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু পুরোটা আলাদা হয়ে যায়নি। এতে জয়েন্টে কিছুটা আলগা ভাব বা ল্যাক্সিটি (laxity) আসতে পারে।

👉🏻Grade 3 (Severe): এটা হলো কমপ্লিট টিয়ার (Complete Tear)। লিগামেন্টটা পুরো দু-টুকরো হয়ে ছিঁড়ে গেছে। জয়েন্ট তার স্থায়িত্ব পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে।

এবার আসি চিকিৎসা তে , তার আগে বলে রাখি xray তে কিন্তু লিগামেন্ট টিয়ার দেখা যায় না ,এক্ষেত্রে MRI করাতেই হয় , যদিও USG দিয়েও কিছু টা বোঝা যায় I

🖌️গ্রেড ১ এবং গ্রেড ২ টিয়ারের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় Conservative Management (বিনা অপারেশনে চিকিৎসা) দিয়েই রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়। এতে মূলত তিনটি ধাপ থাকে:

✅ কিছু ওষুধ, যেটা লিগামেন্ট. আবার জোড়া লাগাতে সাহায্য করে I

✅এক্সারসাইজ: হাঁটুর চারপাশের মাংসপেশি (বিশেষ করে কোয়াড্রিসিপ্স ও হ্যামস্ট্রিংস) শারীরিক কসরতের মাধ্যমে জোরালো করা হয়, যাতে তারা লিগামেন্টের অভাবটা পূরণ করে দিতে পারে।

✅ইলেক্ট্রোথেরাপি মোডালিটিজ: দরকার পড়লে UST (Ultrasound Therapy) বা এই জাতীয় অ্যাডভান্সড মোডালিটিজ ব্যবহার করা হয়, যা ভেতরের টিস্যু হিলিং তাড়াতাড়ি করে এবং ব্যথা কমায়।

✅PRP (Platelet-Rich Plasma) ইনজেকশন: যদি সাধারণ উপায়ে ব্যথা না কমতে চায়, তখন রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেট নিয়ে কনসেনট্রেটেড ফর্মে ওই ক্ষতস্থানে দেওয়া হয়, যা প্রাকৃতিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটা নিয়ে তো আগেও গল্প হয়েছে আমাদের I

🧓🏻সুমন বাবু আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন গ্রেড ৩ হলে কী হবে?

👨🏻‍⚕️জটিলতা শুরু হয় গ্রেড ৩ টিয়ারে। এখানে ডাক্তারবাবু অপারেশন করবেন কি না, তা মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—রোগীর বয়স এবং তিনি কী কাজ করেন।

🔎 ধরা যাক, রোগীর বয়স কম অথবা তিনি প্রতিদিন ফুটবল, ক্রিকেট খেলেন বা ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন। তাঁর জন্য কিন্তু অপারেশন (Ligament Reconstruction)-ই সেরা বিকল্প।

🎯এটা কেন এর জন্য একটু বায়োমেকানিক্স (Biomechanics) বুঝে নেওয়া যাক।

💊যখন লিগামেন্ট পুরো ছিঁড়ে যায়, তখন হাঁটুর স্বাভাবিক movement ও লকিং মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায়। খেলাধুলো বা দৌড়াদৌড়ির সময় হঠাৎ টার্ন নিতে গেলে হাঁটু নিজের জায়গা থেকে সরে যাবে। এই অবস্থায় সর্বোচ্চ বা Full Potential নিয়ে খেলা অসম্ভব।
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, হাঁটু এভাবে আনস্টেবল থাকলে উরুর হাড় ও পায়ের হাড় বারবার নিজেদের মধ্যে ঘষা খাবে। এর ফলে হাঁটুর ভেতরের নরম তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে এবং খুব কম বয়সেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বা হাঁটুর ক্ষয়জনিত বাতের রোগ দেখা দিতে পারে ।

💊বয়স ৪০ বা তার ওপরে হলে বা যিনি মূলত ডেস্ক জব করেন এবং মাঠে নেমে নিয়মিত ফুটবল খেলেন না—তাঁদের গ্রেড ৩ টিয়ার হলেও আমরা প্রথমে ফিজিওথেরাপি ও এক্সারসাইজ (Conservative)-এর ওপরই বেশি জোর দিই। রিহ্যাবিলিটেশনের সাহায্যে বেশিরভাগ মানুষ সাধারণ কাজকর্ম খুব সহজভাবেই করতে পারেন।

🧓🏻সুমন বাবু বললেন ডাক্তারবাবু তাহলে বয়স্কদের ক্ষেত্রেও কখন অপারেশন লাগবেই? আমিও তো এই গ্রুপ এর লোক I

👨🏻‍⚕️বয়স ৪০-এর ওপর হলে যদি কনসারভেটিভ চিকিৎসা Fail করে সেই ক্ষেত্রে অপারেশন লাগে , এটা বোঝা যায় এই জিনিস গুলো দেখে :

❌পা ফলস হওয়া (Giving Way): হাঁটতে গিয়ে মনে হচ্ছে হাঁটু ঘুরে যাচ্ছে, ভর পাওয়া যাচ্ছে না এবং রোগী ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। এটা ওষুধ এক্সারসাইজ এও ঠিক যদি না হয় I

❌৩ থেকে ৪ সপ্তাহ প্রপার রেস্ট, এক্সারসাইজ ও ওষুধের পরেও ব্যথা (ব্যথা) একটুও কমছে না।

❌ছেঁড়া লিগামেন্টের অংশ জয়েন্টের ভেতর আটকে গিয়ে হাঁটু সোজা বা ভাঁজ করতে বাধা দিচ্ছে।হাঁটু লক হয়ে যাচ্ছে I

❌শুধু একটা লিগামেন্ট নয়, সাথে হয়তো মেনিসকাস (হাঁটুর গদি) বা একাধিক লিগামেন্ট একসাথে ছিঁড়ে গেছে।

❌ডাক্তারবাবুরা চেম্বারে শুইয়ে কিছু ক্লিনিকাল টেস্ট করেন (যেমন: Lachman test বা Anterior Drawer test) দেখার জন্য পায়ের নিচের হাড়টা কতটা সামনে এগিয়ে আসছে। এই Clinical Instability খুব বেশি থাকলে অপারেশন ছাড়া গতি থাকে না।

👨🏻‍⚕️সুমন বাবুর Grade 2 Tear ছিল (আংশিক ছেঁড়া), আর সেই সাথে ওজনটাও একটু বেশির দিকে ছিল।
আমি রিপোর্টটা টেবিলে রেখে ওর কাঁধে হাত দিয়ে হেসে বললাম, "সুমনবাবু, ভয়ের কিচ্ছু নেই। আপনার অপারেশন হয়তো দরকার হবে না। ওজনটা একটু কমাতে হবে, আর আমরা আজ থেকেই সঠিক ফিজিওথেরাপি আর এক্সারসাইজ শুরু করব এবং মাস তিন এই ওষুধ টা খাবেন কিন্তু । হাঁটু আবার আগের মতোই চাঙ্গা হয়ে যাবে!"

🧓🏻সুমনের মুখে তখন এক চিলতে স্বস্তির হাসি। চোখের সেই ভয়টা নিমেষেই গায়েব! fans

"ডাক্তারবাবু, আমাদের পায়েও একটা হার্ট (হৃৎপিণ্ড ) আছে?! জানতাম না তো!"সুকোমল বাবু চোখ বড় বড় করে প্রশ্নটা করলেন।🧓🏻আজই চেম...
08/06/2026

"ডাক্তারবাবু, আমাদের পায়েও একটা হার্ট (হৃৎপিণ্ড ) আছে?! জানতাম না তো!"সুকোমল বাবু চোখ বড় বড় করে প্রশ্নটা করলেন।

🧓🏻আজই চেম্বারে এসেছেন উনি। গত কয়েকদিন ধরে পায়ের কাফ মাসল (Calf muscle) বা পায়ের ডিমে মারাত্মক ব্যথা। বললেন, "সারাদিন যেমন-তেমন, রাতে বিছানায় শুলেই মাঝেমধ্যে পায়ে এমন 'টান' (Cramp) ধরে যে যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়! কী যে করি ডাক্তারবাবু!"

🩺সুকোমল বাবুর মতো এই সমস্যা আমাদের ঘরে ঘরে। চলুন, আজ একটু গভীরভাবে আর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জেনে নেওয়া যাক—কেন রাতে ঘুমানোর সময়ই এই কাফ মাসলে ব্যথা বা টান ধরে?

🎯আমাদের পেশি কোষের (Muscle cells) প্রায় ৭০-৮০% অংশই জল দিয়ে তৈরি। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে দেখলে, পেশি সংকোচন ও প্রসারণের জন্য কোষের ভেতরে এবং বাইরে জলের একটি নিখুঁত ভারসাম্য বা 'Fluid Homeostasis' বজায় রাখতে হয়। আমরা যখন পর্যাপ্ত জল খাই না, তখন কোষের বাইরের তরল কমে যায়। এর ফলে Nerve endings বা স্নায়ুপ্রান্তগুলো উদ্দীপিত হয়ে পড়ে এবং নিজে থেকেই পেশিকে সংকুচিত হতে বাধ্য করে। রাতে যখন শরীর দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামে থাকে, তখন এই ডিহাইড্রেশনের কারণে পেশি হুট করে 'স্পাজম' বা লক হয়ে যায়।

🎯পেশি কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে কিছু বিশেষ খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট—যেমন সোডিয়াম পটাশিয়াম .ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম । কোষের ভেতরে এবং বাইরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের একটি পাম্প কাজ করে, যাকে Sodium-Potassium Pump বলে। এটি পেশির স্নায়বিক সংকেত বা Action Potential পরিবহন করে।যদি শরীরে সোডিয়াম বা পটাশিয়াম কমে যায়, তবে স্নায়ুর সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এলোমেলো হয়ে যায় এবং পেশি অনিয়ন্ত্রিতভাবে সংকুচিত হতে শুরু করে। অন্যদিকে, ম্যাগনেসিয়াম কাজ করে 'মাসল রিল্যাক্স্যান্ট' বা পেশি শিথিলকারী হিসেবে। ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হলে পেশি আর সংকুচিত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না, ফলে দীর্ঘক্ষণ তীব্র টান বা 'Cramp' ধরে থাকে।

🎯সারাদিন হাঁটাচলা, তাড়াহুড়ো বা ভারী কাজ করার ফলে কাফ মাসলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে পেশি কোষে ল্যাকটিক অ্যাসিড (Lactic Acid) জমা হতে শুরু করে এবং পেশির শক্তি ফুরিয়ে আসে (Adenosine Triphosphate বা ATP-র ঘাটতি হয়)। পেশি শিথিল বা রিল্যাক্স হতেও কিন্তু শক্তির (ATP) প্রয়োজন হয়। রাতে যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, তখন এই ক্লান্ত পেশিগুলো পর্যাপ্ত শক্তি না পেয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথার সৃষ্টি করে।

🎯মনে রাখবেন কিন্তু সব সময় সমস্যা পায়ে থাকে না, থাকে আমাদের মেরুদণ্ডে। কোমরের ল্যাম্বার স্পাইনের (Lumbar Spine) হাড় যদি ক্ষয়ে যায় বা ডিস্ক সরে গিয়ে (Herniated Disc) পা-গামী নার্ভের (যেমন Sciatic Nerve) ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে সেই স্নায়বিক উত্তেজনা কারেন্টের শকের মতো নিচের দিকে নেমে আসে। চিকিৎসা পরিভাষায় একে Radicular Pain বলে, যা রাতে শোওয়ার পজিশনের কারণে আরও বেড়ে যেতে পারে। এটার জন্য কিন্তু ব্যথা হতে পারে I

🎯বিশেষ করে যারা ধূমপায়ী বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের পায়ের ধমনীগুলোতে চর্বি জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় (Atherosclerosis)। সারাদিন হাঁটার সময় পায়ে বেশি রক্তের প্রয়োজন হয় বলে তখন ব্যথা করে (Intermittent Claudication), কিন্তু রোগটি যখন জটিল রূপ নেয়, তখন রাতে বিশ্রামের সময়ও কাফ মাসলে তীব্র জ্বালাপোড়া ও কামড়ানো ব্যথা শুরু হয়, কারণ তখন টিস্যুগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না ।

🫀 এবার আসি সেই কথায়—আমাদের 'দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড' বা Second Heart!

🤔ভেবে দেখেছেন কখনো, আমাদের বুকের ভেতরের হার্টটি যখন রক্ত পাম্প করে, সেই রক্ত খুব সহজেই গ্র্যাভিটি বা অভিকর্ষের টানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত নেমে যায়। কিন্তু পায়ের সেই ব্যবহৃত বা দূষিত রক্ত (Deoxygenated Blood) আবার অভিকর্ষের উল্টো দিকে লড়াই করে অত উঁচুতে বুকের হার্টে ফেরত আসে কীভাবে?

👉🏻এখানেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে আমাদের কাফ মাসল( calf Muscle)! আমাদের কাফ মাসলের গভীরের শিরাগুলোর (Deep Veins) ভেতরে একমুখী ভালভ বা One-Way Valves থাকে। আমরা যখন হাঁটাচলা করি, তখন এই কাফ মাসলগুলো পাম্পের মতো সংকুচিত (Squeeze) হয়। এই সংকোচনের ফলে শিরাগুলোর ওপর চাপ পড়ে এবং রক্ত ওপরের দিকে উঠতে বাধ্য হয়। ভালভগুলো এমনভাবে তৈরি যে রক্ত একবার ওপরে উঠে গেলে আর নিচে নামতে পারে না।
যেহেতু এটি একা হাতে নিচের রক্তকে পাম্প করে পুনরায় মূল হার্টে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা সম্পন্ন করে, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে কাফ মাসলকে সগৌরবে 'পেরিফেরাল হার্ট' বা 'সেকেন্ড হার্ট' (Second Heart) বলা হয়। এই পাম্পটি অচল হয়ে পড়লেই শরীরে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়।

🧓🏻 "আচ্ছা ডাক্তারবাবু, কখন এই কাফ মাসলের ব্যথাটা খুব ভয়ের?" সুকোমল বাবু বেশ চিন্তিত মুখে প্রশ্ন করলেন।

👨🏻‍⚕️সুকোমল বাবুকে আশ্বস্ত করে বললাম—সব ব্যথা সাধারণ নয়। কিছু কিছু লক্ষণ দেখলে একদম দেরি না করে ডাক্তারবাবু কে দেখানো উচিত। যেমন:

❌DVT (Deep Vein Thrombosis): যদি দেখেন কোনো একটি পা হুট করে অস্বাভাবিক ফুলে গেছে, লাল হয়ে গেছে এবং হাত দিলে ছ্যাঁক করে ওঠার মতো গরম লাগছে, তবে সাবধান! এর মানে পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বেঁধেছে। এই জমাট বাঁধা রক্ত (Clot) যদি ছুটে গিয়ে ফুসফুসে আটকে যায় (Pulmonary Embolism), তবে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

❌সেলুলাইটিস (Cellulitis): এটি পায়ের ত্বকের গভীর স্তরের একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এতে কাফ মাসল ফুলে লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করে এবং রোগীর সাথে প্রচণ্ড জ্বর বা কাঁপুনি আসে। দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক না দিলে এটি রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে (Sepsis)।

🧓🏻রাতে হঠাৎ পা খিঁচিয়ে ধরলো! তখন তাৎক্ষণিক কী করবো একটু যদি বলেন ?

👨🏻‍⚕️ আমি বুঝিয়ে বললাম ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পা লক হয়ে গেলে প্যানিক না করে এই বৈজ্ঞানিক স্টেপগুলো ফলো করুন:

✅সোজা হয়ে বসে বা শুয়ে পা দুটো টানটান করুন। এবার পায়ের পাতা বা আঙুলগুলোকে নিজের বুকের দিকে জোরে টানুন (Dorsiflexion)। এটাকে অ্যাক্টিভ স্ট্রেচিং (Active Stretching) বলা হয় I
🖌️ যখন হুট করে পেশি সংকুচিত হয়, তখন তার বিপরীতমুখী স্ট্রেচিং করলে স্নায়ুর 'Golgi Tendon Organ' উদ্দীপিত হয়। এটি মেরুদণ্ডে সংকেত পাঠায় পেশিটিকে দ্রুত শিথিল বা রিল্যাক্স করার জন্য।

✅পায়ের ডিমের ওপর নিচ থেকে ওপরের দিকে হালকা হাতে মালিশ করুন এবং গোড়ালিটি গোল করে ঘোরানোর চেষ্টা করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন আবার স্বাভাবিক হবে।

✅ যদি ব্যথা বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়, তবে গরম জলের ব্যাগ বা হিটিং প্যাড দিয়ে কাফ মাসলে সেঁক দিন। গরম উত্তাপ ওই অংশের রক্তনালীকে প্রসারিত করে (Vasodilation), ফলে দ্রুত রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড ধুয়ে মুছে যায় এবং পেশি শান্ত হয়।

🧓🏻সুকোমল বাবু বললেন, "ওষুধগুলো তো খাচ্ছি, কিন্তু যদি তাও ব্যথা না কমে, তবে কী পরীক্ষা করাতে হবে?"

👨🏻‍⚕️আমি ওনাকে বুঝিয়ে বললাম, যদি প্রাথমিক ওষুধ, লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং স্ট্রেচিংয়ে ব্যথা না কমে, তখন ব্যথার আসল উৎস খোঁজার জন্য আমাদের কিছু পরীক্ষা করতে হবে, আপনি নিশ্চিন্তে আজ বাড়ি যান , ওষুধ গুলো খাবেন এবং .....

✅ দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল নিয়ম করে খাবেন। গরমে বা বেশি ঘাম হলে ডাবের জল বা ওআরএস (ORS) খেতে পারেন, যা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখবে।

✅নিয়মিত কাফ এক্সারসাইজ: এক জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না। প্রতি 30 মিনিট অন্তত একবার উঠে দাঁড়িয়ে পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে কয়েকবার ওঠানামা করুন (Calf Raises)।

✅ঘুমানোর আগে নিয়ম করে ২ মিনিট কাফ স্ট্রেচিং করুন। আপনার এই 'দ্বিতীয় হার্ট' যত সচল থাকবে, আপনিও ততটাই সুস্থ ও ফিট থাকবেন!

💬 আপনার কি রাতে এমন পায়ের ডিমে টান ধরে? কমেন্টে জানান আপনার অভিজ্ঞতার কথা 🙏 fans

"ভাই, তোর বৌদির সায়াটিকা (Sciatica) হয়েছে... ডাক্তার দেখালাম, কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না জিনিসটা কি? একটু বুঝিয়ে বলবি...
04/06/2026

"ভাই, তোর বৌদির সায়াটিকা (Sciatica) হয়েছে... ডাক্তার দেখালাম, কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না জিনিসটা কি? একটু বুঝিয়ে বলবি?"

🎯সিটি সেন্টারের ওই বড় শপিং মল-এর ভিড়ে নীলেশ হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রশ্ন টা I

🩺এট সত্যি ডাক্তারদের একটা বড় সমস্যা! বিয়ে বাড়ি হোক বা শপিং মল, দেখা হলেই "ডাক্তার বাবু,....দিয়ে একটা প্রশ্ন " যাই হোক যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছি সেটা প্রশ্ন করলে ভালোই লাগে বোঝাতে 😂 I

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "শোন, ভেতরে চল, একটু বসে কথা বলি, কফি খেতে খেতে ।"

🔎তাহলে সায়াটিকা কি?
🖌️সায়াটিকা কোনো রোগ নয়, এটা আসলে একটা উপসর্গ (Symptom)। আমাদের শরীরে সবথেকে লম্বা এবং মোটা নার্ভ হলো সায়াটিক নার্ভ (Sciatic Nerve)। এটা আমাদের কোমরের নিচে (L4 থেকে S3 vertebra ) থেকে শুরু হয়ে, নিতম্ব (Buttocks) দিয়ে নেমে দুটো পায়ের নিচ অবধি গেছে। যখন এই নার্ভ-এর ওপর কোনো কারণে চাপ (Compression) পড়ে, তখন যে তীব্র ব্যথা হয়, সেটাকেই আমরা সায়াটিকা বলি।

✍🏻নীলেশ কে আরো বোঝালাম "মনে কর একটা বাগান-এর জল দেওয়ার পাইপ। পাইপ-এর মধ্যে দিয়ে জল যাচ্ছে, কিন্তু কেউ যদি পাইপ-এর একটা জায়গায় পা দিয়ে চেপে ধরে, তখন জলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে বা পাইপ-টা ফুলে উঠবে। সায়াটিকা-ও ঠিক তাই; স্পাইনাল কর্ড থেকে নার্ভ-টা বেরোনোর সময় যদি ডিস্ক (Disc) বা হাড়ের চাপ খায়, তখন পায়ের নিচ অবধি ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে।"

❌আবার কিন্তু মনে রাখতে হবে সব কোমর বা পায়ে ব্যথাই কিন্তু সায়াটিকা নয়। কিছু জিনিস আছে যা দেখতে ঠিক সায়াটিকার মতো:

👉🏻পাইরিফর্মিস সিন্ড্রোম (Piriformis Syndrome): নিতম্ব (buttocks) ভেতরে থাকা একটা পেশি (Piriformis) যদি নার্ভ-কে চেপে ধরে।প্রায় একই রকম ব্যথা হয় কিন্তু I

👉🏻স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট পেইন (SI Joint Pain): কোমরের নিচে নিতম্ব হাড়ের জয়েন্টে সমস্যা হলে। অনেক সময় অনেক টা একই রকম ব্যথা হয় কোমরে I

👉🏻ফ্যাসেট সিন্ড্রোম (Facet Syndrome): শিরদাঁড়ার পেছনে থাকা ছোট জয়েন্টের সমস্যা। এটাও অনেকটা একই রকম I

👉🏻 ট্রোক্যান্টেরিক বারসাইটিস: হিপ জয়েন্টের পাশে জলের থলিতে প্রদাহ হলেও জ্বালা বা ব্যথা হতে পারে ।

⁉️তাহলে পরের প্রশ্ন -কি দেখে বুঝবো এটা sciatica হতে পারে ?

✍🏻ইলেকট্রিক শকের মতো ব্যথা যদি কোমর থেকে শুরু হয়ে নিতম্ব (buttocks) হয়ে পায়ের নিচ অবধি নেমে যায়।
✍🏻এমন জ্বালা-ভাব (Burning Sensation), যেন পায়ে মনে হয় আগুন ছুঁয়ে যাচ্ছে।
✍🏻ঝিনঝিন বা অবশ-ভাব (Numbness/Tingling) পায়ের পাতা বা আঙুল অবশ মনে হতে পারে।
✍🏻মাংসপেশির দুর্বলতা, পা ফেলা বা হাঁটতে গেলে মনে হয় পা জোর পাচ্ছে না।

👨🏻‍⚕️ডাক্তাররা সাধারণত SLR (Straight Leg Raise) টেস্ট করেন। রোগীকে শুইয়ে দিয়ে পা-টা লাঠির মতো সোজা করে উপরে তুলতে বলা হয়। ৩০ থেকে ৭০ ডিগ্রির মধ্যেই যদি পায়ে তীব্র ব্যথা হয়, তবে বুঝতে হবে নার্ভে চাপ পড়েছে। আরো অনেক টেস্ট আছে I

⁉️একটা জিনিস সবাই বলেন একটা MRI লিখে দিন না , তাহলে MRI কখন লাগবে?

🖌️সবাই ভাবে ব্যথা হলেই MRI করতে হবে, কিন্তু আসলে তা নয়। MRI: এটাকে বলা হয় 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড'। আর গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড জিনিস তো সবসময় দেওয়া হয় কি ? MRI তখনই দরকার যদি:
🎯৬ সপ্তাহ ওষুধ বা ব্যায়ামে কাজ না হয়। তখন এপিডুরাল ইনজেকশন বা সার্জারি যদি প্ল্যান করা হয় I
🎯পা খুব বেশি অবশ হয়ে যাচ্ছে ।
🎯প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় (এটা এমারজেন্সি)।

🧔‍♂️নীলেশ জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা, আমরা কি ওষুধেই ভালো হতে পারি?"

👨🏻‍⚕️আমি নীলেশ কে বললাম একদম বেশির ভাগ মানুষ (প্রায় ৯০%) ওষুধ এবং ব্যায়ামে ভালো হয়ে যান। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস এবং নার্ভের ব্যথার বিশেষ ওষুধ (যেমন Pregabalin) দেওয়া হয়। স্পাইনাল এক্সটেনশন এক্সারসাইজ (Mckenzie protocol) খুব উপকারী। তবে তীব্র ব্যথার সময় বেশি ব্যায়াম করা ঠিক নয়।

🌡️না কমলে আল্ট্রাসোনিক থেরাপি (UST) বা TENS , আইএফটি (IFT)-র মতো জিনিস গুলো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ঠিক ভাবে বসা বা দাঁড়ানোর ভঙ্গি (Posture) শেখাটা খুব দরকার কিন্তু । নিয়ম যেমন ভারি জিনিস না তোলা , ওই 30 মিনিট 30 মিনিট রুল টা ফলো করা I

💉যদি ওষুধে কাজ না হয়, তখন এপিডিউরাল ইঞ্জেকশন বা ট্রান্সফোরামিনাল ব্লক দেওয়া হয়। এটা সরাসরি নার্ভের চাপের জায়গায় প্রদাহ কমিয়ে দেয়।

🧔‍♂️নীলেশ বললো তাহলে সার্জারি কখন লাগে ?
👨🏻‍⚕️সার্জারি হলো শেষ উপায়। মাত্র ৫-১০% ক্ষেত্রে এর দরকার পড়ে।
যদি ডিস্ক টা এতটাই বেরিয়ে যায় যে নার্ভ-কে পুরো চেপে ধরেছে।
যদি প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
যদি পা পুরো 'ড্রপ' হয়ে যায় বা কাজ না করে।

🧔‍♂️নীলেশ একটু থতমত খেয়ে গেল, "এত কিছু? আমি তো জানতামই না! ভাগ্যিস তোর সাথে দেখা হলো। তাহলে বলছিস, ওই ডাক্তার বাবু ঠিকই বলেছেন তো?"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "একদম ঠিক। সব ডাক্তারই চান তার পেশেন্ট যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে। উনি নিজে পরীক্ষা করেছেন, রিপোর্ট দেখেছেন... তাই উনার ওপর ভরসা রাখ। আমি তো শুধু উপরে উপরে বললাম, কিন্তু আসল চিকিৎসা করেন উনিই যিনি বৌদি কে সরাসরি দেখছেন।

🧔‍♂️নীলেশ এর মুখে একটু স্বস্তির হাসি দেখলাম। "ঠিক আছে ভাই, ভরসা রেখে ট্রিটমেন্টটা চালাই, আর নিয়ম গুলো ভালো করে মানতে বলব বৌদিকে।"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "একদম, নিয়ম না মানলে কিন্তু রোগ আবার ফিরতে পারে। চল, উঠি কফি বিল টা..........!"
fans



রাত তখন আড়াইটে। চারদিক নিস্তব্ধ, কিন্তু মীরা দেবীর চোখে ঘুম নেই। কয়েক মাস ধরেই ডান হাতের বুড়ো আঙুল থেকে মাঝের আঙুল পর্য...
02/06/2026

রাত তখন আড়াইটে। চারদিক নিস্তব্ধ, কিন্তু মীরা দেবীর চোখে ঘুম নেই। কয়েক মাস ধরেই ডান হাতের বুড়ো আঙুল থেকে মাঝের আঙুল পর্যন্ত একটা অস্বস্তিকর ঝিনঝিন হচ্ছিল, কিন্তু আজ যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

🎯পরদিন সকালে মীরা দেবী ক্লিনিকে ঢুকেই হতাশ গলায় বললেন—
"ডাক্তারবাবু, কাল তো পুরো রাত ঘুমোইনি। ডান হাতটা যা ঝিনঝিন করছে কী বলব! কিছু দিন ধরেই করছিল, কিন্তু আসব আসব করে আর আসাই হলো না..."

👨🏻‍⚕️আমি হাসিমুখে বললাম, "আসুন, বসুন মীরা দেবী। একদম চিন্তা করবেন না, আগে দেখি ব্যাপারটা কী।" আমি তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে বললাম, "মীরা দেবী, আপনার হাত দুটোকে উল্টো করে নমস্কার করার মতো করে একে অপরের পিঠের সঙ্গে ঠেকিয়ে রাখুন তো।" (চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে আমরা বলি Phalen's Test)।

👵🏼মীরা দেবী হাত দুটো মেলালেন, কিন্তু এক মিনিট তো দূরের কথা, ৩০ সেকেন্ড যেতে না যেতেই হাত দুটো সরিয়ে নিলেন। চোখে-মুখে যন্ত্রণার ছাপ, বললেন— "আর পারছি না ডাক্তারবাবু! পুরো হাতটা যেন ভারি হয়ে আসছে, ঝিনঝিনটা সাঙ্ঘাতিক বেড়ে গেল!"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "মীরা দেবী, রোগ একদম পরিষ্কার। একে আমরা বলি কার্পাল টানেল সিনড্রোম (Carpal Tunnel Syndrome)।"

👵🏼মীরা দেবী অবাক হয়ে বললেন, "অ্যাঁ! কী সিনড্রোম বললেন? নামটা তো বেশ খটমটো!"

👨🏻‍⚕️আমি সহজ করে বুঝিয়ে বললাম, "দেখুন মীরা দেবী, আমাদের কবজির ভেতরে আড়াআড়ি একটা লিগামেন্টের ব্যান্ড থাকে, ঠিক যেন একটা সুড়ঙ্গের ছাদ। আর সেই সুড়ঙ্গ বা টানেলের ভেতর দিয়ে হাড় আর টেন্ডনের মাঝখান দিয়ে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু যায়, যার নাম মিডিয়ান নার্ভ (Median Nerve)।

✍🏻সহজভাবে ভাবুন, একটা সরু গলি দিয়ে অনেক লোক যাতায়াত করছে। যদি হঠাৎ গলির দেওয়ালগুলো ফুলে ওঠে বা ওপরের ছাদটা নিচু হয়ে যায়, তবে ভেতরের লোকগুলোর যাতায়াতে চাপ পড়বে না? এই নার্ভটার ওপর চাপ পড়লে ঠিক সেটাই হয়। আর তার ফলেই আপনার ওই আঙুলগুলোতে ব্যথা আর ঝিনঝিন হচ্ছে।"

👵🏼মীরা দেবী উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "ডাক্তারবাবু, এমন কেন হয়? আর কত জনেরই বা হয় এমন রোগ?"
আমি বললাম, "আপনার মনে আছে, আপনি যে সারা বছর ওই সেলাইয়ের কাজটা করেন? ওই যে কবজিটা বারবার একই ভঙ্গিতে ভাঁজ হয়, ওটার জন্যই সুড়ঙ্গটার ভেতর চাপ বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৫ জন এই সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে মধ্যবয়সী মহিলাদের মধ্যে এটা খুব সাধারণ।

🩺তবে শুধু কাজ নয়, আমি আপনার কিছু পরীক্ষা করে নেব— যেমন সুগার, থাইরয়েড বা ইউরিক অ্যাসিড। কারণ শরীরে সুগার বা থাইরয়েডের সমস্যা লুকিয়ে থাকলে টিস্যুতে জল জমে সুড়ঙ্গটাকে আরও সরু করে দেয়। ফলে নার্ভটা আরও বেশি করে চেপে যায়। আবার অনেক সময় কিন্তু ওই বাত থাকলেও হয় কিন্তু I"

👨🏻‍⚕️আমি তাঁকে পরামর্শ দিলাম একটা NCS (Nerve Conduction Study) করানোর জন্য। মীরা দেবী জিজ্ঞেস করলেন, "সেটা আবার কী?"

🖌️আমি বুঝিয়ে বললাম, "এটা হলো নার্ভের স্পিড টেস্ট। আপনার নার্ভের ভেতর দিয়ে কারেন্ট বা সংকেত কতটা দ্রুত যাচ্ছে, তা মেপে বোঝা যাবে নার্ভটা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাথে একটা USG করে আমরা দেখে নেব চাপের চোটে নার্ভের ব্যাস বা ডায়ামিটার কতটা বেড়েছে।"

👵🏼মীরা দেবী একটু চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে এখন উপায়? ডাক্তারবাবু, অপারেশন লাগবে না তো?"

👨🏻‍⚕️আমি তাঁকে আশ্বস্ত করে বললাম, "সব সময় অপারেশন লাগে না। কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে। যেমন:
যদি ওষুধের কাজ না হয়। যদি হাতের জোর বা পাওয়ার কমে যায়।যদি 'থিনার মাসল' (Thenar Muscle) বা বুড়ো আঙুলের গোড়ার পেশিগুলো শুকিয়ে যায়। বা ওই নার্ভ এর টেস্ট বা USG তে দেখা যায় কি নার্ভ এ খুব বেশি চাপ পড়ছে I

💊আপাতত আপনি এই ওষুধগুলো শুরু করুন আর যে ব্যায়ামগুলো (Nerve Gliding Exercise) দেখিয়ে দিলাম, সেগুলো নিয়ম করে করবেন। রিপোর্টগুলো আসুক, তারপর বাকিটা ঠিক করব।"

👵🏼মীরা দেবী ডাক্তার বাবু তাও ভয় করছে একটু এর চিকিৎসা নিয়ে বলবেন ? আমি বুঝিয়ে বললাম
১. শুরুতে ওষুধ, স্প্লিন্ট (হাতের বেল্ট) এবং রিহ্যাবিলিটেশন ব্যায়াম।
২.যদি এতেও না কমে, তবে TENS-এর মতো উন্নত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয়।
৩. এখন বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই আল্ট্রাসাউন্ড দেখে নার্ভের ওপরের চাপ কমানোর জন্য ইনজেকশন দেওয়া যায়( USG Guided Injection) । এতে নার্ভটা আবার প্রাণ ফিরে পায়।
৪. একদম শেষ পর্যায়ে যখন আর কোনো উপায় থাকে না, তখন ছোট একটা অস্ত্রোপচার করে সুড়ঙ্গের ছাদটা (Ligament) আলগা করে দেওয়া হয়।

🎯মীরা দেবী কিছুটা ভয়ে আর কিছুটা আক্ষেপে চেম্বার ছাড়ার সময় বললেন, "ডাক্তারবাবু, একটু লেটে এলাম বোধহয়। আরও আগে আসা উচিত ছিল। এত কিছু তো জানতামই না!"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "আশা করি ওষুধেই ঠিক হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন মীরা দেবী, ব্যথা হলো আমাদের শরীরের একটা 'সিগন্যাল'। শরীরের কোথাও কোনো অসুবিধে হলে সে ব্যথা দিয়ে আমাদের সাবধান করে। কোনো ব্যথা যদি ২-৩ মাসেও ঠিক না হয়, তবে সেটাকে অবহেলা না করে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন। কারণটা খুঁজে বের করা যে খুব জরুরি!" fans

Address

16, Hill Cart Road
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+917003996890

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Subhasish Pati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Subhasish Pati:

Shortcuts

Share

Category