Dr Subhasish Pati

Call Directions Website Contact the practice

Dr Subhasish Pati This page brings education on pain and movement health from Dr Subhasish Pati, Specialist in Interventional Pain Management and Rehabilitation Medicine.

Learn about early signs, proven treatments and daily habits that support pain free living.

কলেজ জীবন মানে সেই MBBS এর দিন  থেকেই মুগ্ধ হয়ে TEDx-এর স্পিকারদের দেখতাম—কত চমৎকার সব ভাবনা, কত নিখুঁত তাদের কথা বলার ভ...
25/09/2026

কলেজ জীবন মানে সেই MBBS এর দিন থেকেই মুগ্ধ হয়ে TEDx-এর স্পিকারদের দেখতাম—কত চমৎকার সব ভাবনা, কত নিখুঁত তাদের কথা বলার ভঙ্গি! মনের গভীরে একটা সুপ্ত ইচ্ছে হয়তো সবসময়ই ছিল, "যদি কখনো আমিও এমন একটা মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম..."

🔥সুযোগটা যে এভাবে সত্যি হয়ে সামনে আসবে, সত্যিই ভাবিনি। TEDx-এর মঞ্চে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাটা আসলেই অন্যরকম!

🤖মঞ্চে গিয়ে কথা বললাম এমন একটা বিষয় নিয়ে, যা এখন আমাদের প্রায় সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে—"AI তো আজকাল প্রায় সবকিছুই করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কি আর ডাক্তারদের কোনো প্রয়োজন থাকবে? আজকের ছেলেমেয়েদের NEET-এর প্রস্তুতি বা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখানোর কি কোনো ভবিষ্যৎ আছে?"

👉🏻এই প্রশ্নের গভীরে গিয়ে কিছু কথা শেয়ার করেছি। পুরো আলোচনাটা শুনতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন:
https://youtu.be/dXS8YQNO0Ns?si=DbAzOmcol3BWfURB

📝দেখার পর আপনার মতামত কী, অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন 🙏 fans

In an age where Artificial Intelligence can analyse data, recognise...

"চেয়ারে বসতেই মৌসুমীদেবী কাতর স্বরে বলে উঠলেন, 'ডাক্তারবাবু, ডান হাতটা যেন আর আমার নেই। বুড়ো আঙুলের গোড়ায় এমন টান ধর...
22/09/2026

"চেয়ারে বসতেই মৌসুমীদেবী কাতর স্বরে বলে উঠলেন, 'ডাক্তারবাবু, ডান হাতটা যেন আর আমার নেই। বুড়ো আঙুলের গোড়ায় এমন টান ধরে, মনে হয় কেউ সুচ ফুটিয়ে দিচ্ছে। বাচ্চার গলার ফাঁকে জামার বোতাম পরাতে পারছি না, জলের বোতলের ছিপি খুলতে পারছি না। আর ওকে কোলে তোলা? সে তো দুঃস্বপ্ন! পাড়ার লোক বলল বাতের ব্যথা, তেল মালিশ করলাম, গরম সেঁক দিলাম—ব্যথা কমার বদলে দ্বিগুণ হয়ে গেল।'"

👨🏻‍⚕️"একটু দেখি তো হাতটা," বলে আমি ওনার হাতটা আলতো করে ধরলাম। "বুড়ো আঙুলটা তালুর ভেতর ঢুকিয়ে বাকি চার আঙুল দিয়ে শক্ত করে মুঠো করুন তো? এবার কব্জিটা কড়ে আঙুলের দিকে একটু নিচু করার চেষ্টা করুন।"

👱🏼‍♀️চেষ্টা করতেই মৌসুমীদেবী চমকে হাত টেনে নিলেন—"উফ ডাক্তারবাবু! মরে গেলাম! ঠিক এই জায়গাটায় যেন চামড়া ছিঁড়ে রগটা ফেটে যাবে!"

👨🏻‍⚕️আমি শান্তভাবে ওনার হাতটা ছেড়ে দিয়ে বললাম, "ব্যথাটা যেখানে হলো, চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে আমরা বলি De Quervain’s Tenosynovitis (ডি কারভেইনস টেনোসাইনোভাইটিস), সংক্ষেপে DQ।"

👱🏼‍♀️মৌসুমীদেবী বললেন , "কী অদ্ভুত নাম! কিন্তু ভেতরে ঠিক কী হচ্ছে ডাক্তারবাবু? হাড় কি সরে গেছে?"

👨🏻‍⚕️"না, হাড়ের কিচ্ছু হয়নি," টেবিলের ওপর রাখা হাতের একটা প্লাস্টিক মডেল টেনে নিয়ে বুঝিয়ে বললাম, "খুব সহজ করে ভাবুন। আমাদের বুড়ো আঙুলটাকে বাইরের দিকে নিয়ে যেতে বা করতে গেলে আর ওপরের দিকে তোলার জন্য দুটো প্রধান রগ বা টেনডন কাজ করে—Abductor Pollicis Longus আর Extensor Pollicis Brevis। কব্জির ওপর দিয়ে এই দুটো রগ যখন যায়, তখন ওরা একটা সরু ফাইবারাস সুড়ঙ্গ বা পুলির ভেতর দিয়ে চলাচল করে। স্বাভাবিক অবস্থায় সুড়ঙ্গের ভেতরের আবরণ পিচ্ছিল থাকে, তাই রগগুলো মাখনের মতো মসৃণভাবে ওঠানামা করতে পারে।"

👱🏼‍♀️"তাহলে আমার ক্ষেত্রে কী হলো?"

👨🏻‍⚕️"যখন বারবার বুড়ো আঙুল ছড়িয়ে কোনো ভারী জিনিস তোলা হয়—যেমন বাচ্চার বগলের নিচে হাত দিয়ে 'L' শেপে বুড়ো আঙুলটা ফাঁক করে কোলে নেওয়া, বারবার একহাতে ফোন স্ক্রোল করা বা জামাকাপড় নিংড়ানো—তখন ওই সরু সুড়ঙ্গটায় রগগুলোর অনবরত ঘষা লাগে। ঘর্ষণের চোটে রগের ওপরের পাতলা আবরণে তীব্র ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয়। সহজ কথায়, সুড়ঙ্গটাও ফুলে ভেতরটা সরু হয়ে যায়, আর রগ দুটোও ফুলে মোটা হয়ে যায়। এখন একটা সরু পাইপের ভেতর মোটা তার টানলে যা হয়—রগ আটকে গিয়ে তীব্র ঘষা খায় আর বিদ্যুৎ চমকানোর মতো যন্ত্রণা হয়।"

👱🏼‍♀️মৌসুমীদেবী খানিকটা থমকে গিয়ে প্রশ্ন করলেন, "কিন্তু ডাক্তারবাবু, আমার এই বয়সেই এটা কেন হলো? পাড়ার সবাই তো বাচ্চাকে কোলে নেয়, আমার একারই এমন কপাল কেন?"

👨🏻‍⚕️আমি মৃদু হেসে বললাম, "আপনি একা নন মৌসুমীদেবী। ভারতের মতো দেশে এটা কিন্তু অত্যন্ত পরিচিত এক সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্ট্যাটিস্টিকস দেখলে বোঝা যায়, সারা বিশ্বেই প্রতি এক হাজার জনে প্রায় ৩ জন এই সমস্যায় পড়েন, কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় চার থেকে আট গুণ বেশি! বিশেষ করে ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবথেকে বেশি। আর আমাদের ভারতীয় সমাজে যেখানে গৃহস্থালির কাজ—মসলা বাটা, ভারী কড়াই বা বালতি তোলা, কাপড় নিংড়ানো—সবটাই মহিলারা একহাতে সামলান, সেখানে এই ঘটনা ঘরে ঘরে ঘটে। নতুন মায়েদের হরমোনের ওঠানামা আর স্তন্যদানের সময় ফ্লুইড রিটেনশনের কারণেও এই রগগুলো দ্রুত ফুলে ওঠে। তাই বিদেশে একে অনেক সময় 'মাদার্স রিস্ট' (Mother’s Wrist) বা 'বেবি রিস্ট' (Baby Wrist) ও বলা হয়।"

👱🏼‍♀️মৌসুমীদেবী খানিক ভেবে বললেন, "শুধু কি বাচ্চাকে তোলার জন্যই এটা হয়?"

👨🏻‍⚕️"সব সময় শুধু কাজের চাপই একমাত্র কারণ নয়," আমি যোগ করলাম, "জানেন তো, রক্তে সুগার বা ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে, কিংবা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও কিন্তু এই রগের সুড়ঙ্গে প্রদাহ বাঁধতে পারে!"

👱🏼‍♀️"সুগার থাকলে রগে ব্যথা?" উনি অবাক।

👨🏻‍⚕️"হ্যাঁ! সুগার বেশি থাকলে রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীরের বিভিন্ন পেশি ও রগের প্রোটিনের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে জুড়ে যায়—একে বায়োকেমিস্ট্রিতে বলে Advanced Glycation End-products বা AGEs। এর ফলে টেনডনের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে কোলাজেন শক্ত ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। তখন অল্প চাপেই রগ ঘষা খেয়ে প্রদাহ তৈরি করে। আর ইউরিক অ্যাসিডের ছোট ছোট ক্রিস্টাল ওই সুড়ঙ্গে জমলেও মারাত্মক যন্ত্রণা হতে পারে।"

👱🏼‍♀️সুমীদেবীর মুখে খানিকটা স্বস্তির রেখা দেখা গেল, "তাহলে তেল মালিশ করা ভুল হয়েছে?"

👨🏻‍⚕️"একদমই ভুল হয়েছে," বুঝিয়ে বললাম, "প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনের ওপর জোর করে মালিশ করলে ফোলা আরও বেড়ে যায়। গরম সেঁক নয়, এই অবস্থায় আইস প্যাক বা বরফের ঠান্ডা সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।"

👱🏼‍♀️মৌসুমীদেবী বেশ চিন্তিত মুখে জিজ্ঞেস করলেন, "তাহলে এখন কী করব? ওষুধ খেয়ে এটা সারবে?"

👨🏻‍⚕️"একদম ধাপে ধাপে এগোব আমরা," আমি প্যাডে লিখতে শুরু করলাম:

১. ⁠১. প্রথম ধাপ (বিশ্রাম ও সাপোর্ট): বুড়ো আঙুল আর কব্জিটাকে কিছুদিন স্থির রাখতে হবে। এর জন্য আপনাকে একটা বিশেষ বেল্ট দেব —Thumb Spica Splint। এটা পরলে রগ দুটো আর নড়াচড়া করে সুড়ঙ্গে ঘষা খাবে না।

২. বরফ সেঁক: ভুলেও গরম সেঁক বা তেল মালিশ করবেন না! দিনে তিনবার ১৫ মিনিট করে বরফের ঠান্ডা সেঁক দেবেন, যাতে ভেতরের প্রদাহ কমে।

৩. ⁠ওষুধ: ফোলা কমানোর জন্য কয়েক দিনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ চলবে। এবং এই এক্সারসাইজ যে গুলো দেখিয়ে দিচ্ছি করবেন কিন্তু I

👱🏼‍♀️সব শুনে মৌসুমীদেবী একটু ইতস্তত করে নিচু গলায় বললেন, "ডাক্তারবাবু... যদি এতে না কমে?"

👨🏻‍⚕️"না কমলে তখন আমাদের পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। সুড়ঙ্গের ঠিক যেখানে রগ আটকে যাচ্ছে, সেখানে খুব সূক্ষ্ম একটা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ইনজেকশন দেওয়া যায়—একে লোকাল টেনোসাইনোভিয়াল ইনজেকশন বলে।"

👱🏼‍♀️শুনেই ওনার চোখ বড় বড় হয়ে গেল—"ওরে বাবা! কব্জিতে ইনজেকশন? খুব লাগবে তো ডাক্তারবাবু! অসহ্য ব্যথা হবে?"

👨🏻‍⚕️আমি হেসে ওনাকে আশ্বস্ত করলাম, "আরে না না, ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই! এটা তো আর অন্ধের মতো দেওয়া হয় না। আমরা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনে স্পষ্ট চোখের সামনে মনিটরে দেখে নিই—রগটা ঠিক কোথায় ফুলে আছে, সুড়ঙ্গটা কতটুকু সরু। তারপর সেই জায়গাটা একদম অবশ করে, চুলের মতো পাতলা ছুঁচ দিয়ে ওষুধটা ঠিক কাঙ্ক্ষিত আবরণের ভেতর পৌঁছে দিই। পিঁপড়ে কামড়ানোর থেকেও কম লাগে! আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটা ইনজেকশনেই ম্যাজিকের মতো ভেতরের ফোলাটা চুপসে গিয়ে রগ একদম মুক্ত হয়ে যায়।"

👱🏼‍♀️মৌসুমীদেবী বুকভরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "যাক, শুনে অনেক ভরসা পেলাম ডাক্তারবাবু। আমি আজ থেকেই বরফ সেঁক আর স্প্লিন্ট পরা শুরু করছি।"

👨🏻‍⚕️"একদম। আর বাচ্চাকে কোলে তোলার টেকনিকটাও একটু বদলে নিন—বুড়ো আঙুল দিয়ে টেনে তুলবেন না, দুই হাতের তালু দিয়ে বাচ্চার পিঠ ও পাঁজরের নিচে সাপোর্ট দিয়ে শরীরের কাছাকাছি এনে তুলবেন। দেখবেন, ক'দিনের মধ্যেই আঙুল আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে!"
fans

"কী বলছেন ডাক্তারবাবু! কিছুদিন আগে পেট খারাপ হয়েছিল তার জন্য আজকে পায়ের হাঁটুতে এত ব্যথা? এতটা ফুলে গেছে?"🧔🏻রাহুল, বছর ৩...
15/09/2026

"কী বলছেন ডাক্তারবাবু! কিছুদিন আগে পেট খারাপ হয়েছিল তার জন্য আজকে পায়ের হাঁটুতে এত ব্যথা? এতটা ফুলে গেছে?"

🧔🏻রাহুল, বছর ৩০-এর ছেলে, আইটি-তে কাজ করে। কোনো চোট পায়নি, হঠাৎ দু'দিন ধরে পায়ে একটু একটু ব্যথা আর আজ তো পুরো হাঁটু ফুলে ঢোল! থাকতে না পেরে অফিস ছুটি নিয়ে সোজা চেম্বারে। কিছুক্ষণ কথা বলার পরেই বলল, এক মাস আগে পেট খারাপ ছিল দু-তিন দিনের জন্য।

👨🏻‍⚕️আমি ওকে বললাম, "একদম! একেই তো আমরা বলি রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস (Reactive Arthritis)।"

🧔🏻'আর্থ্রাইটিস' শব্দটা শুনেই রাহুল ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল, "আর্থ্রাইটিস? এই বয়সে?"

👨🏻‍⚕️আমি হাসিমুখে বললাম, "আর্থ্রাইটিস শব্দটা শুনেই ভয় পেয়ে যেও না। এটা বয়স্কদের বাতের ব্যথা বা রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস নয় যে সারাজীবন ভুগতে হবে। এটা একটা 'রিঅ্যাকশন' মাত্র। ঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে তুমি আবার আগের মতোই দৌড়ঝাঁপ করতে পারবে।"

🧔🏻রাহুল একটু ধাতস্থ হয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী হয় এটা? পেটের ইনফেকশনের সাথে হাঁটুর কী সম্পর্ক?"

👨🏻‍⚕️আমি বুঝিয়ে বললাম, "আমাদের শরীরের একটা নিজস্ব ডিফেন্স বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে, যাকে ইমিউন সিস্টেম (immune system)বলে। যখন তোমার পেট খারাপ হয়েছিল, তখন পেটে কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাসা বেঁধেছিল। ওই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মারার জন্য তোমার ইমিউন সিস্টেম অ্যান্টিবডি (Antibody) তৈরি করেছিল। কিন্তু মুশকিল হলো, ওই ব্যাকটেরিয়ার বাইরের গঠনের সাথে আমাদের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের কোষের অনেক মিল থাকে। তাই পেটের ব্যাকটেরিয়া শরীর থেকে দূর হয়ে যাওয়ার পরেও, আমাদের ইমিউন সিস্টেম কনফিউজড হয়ে যায় এবং ভুল করে নিজের জয়েন্টের (যেমন তোমার হাঁটুর) কোষগুলোকে আক্রমণ করে বসে।
বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে 'মলিকিউলার মিমিক্রি' (Molecular Mimicry) বা ক্রস-রিঅ্যাকশন। অর্থাৎ, তোমার ইমিউন সিস্টেম জয়েন্টের কোষগুলোকে বাইরের শত্রু ভেবে লড়াই শুরু করে দেয়। আর তার ফলেই জয়েন্টে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হয়, হাঁটু এতটা ফুলে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হয়। শুধু হাঁটু নয় রাহুল, এই অসুখে অনেক সময় পায়ের গোড়ালিতেও খুব ব্যথা হয়, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর। অথবা পায়ের কোনো একটা আঙুল ফুলে একদম ঢোল হয়ে যেতে পারে।"

👨🏻‍⚕️এরপর আমি রাহুলকে জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা, এই এক মাসের মধ্যে তোমার কি কখনো চোখ লাল হয়েছিল বা প্রস্রাবে কোনো জ্বালাভাব ছিল?"

🧔🏻রাহুল তো অবাক! চোখ বড় বড় করে বলল, "হ্যাঁ ডাক্তারবাবু! সপ্তাহ দুয়েক আগে চোখটা লাল হয়েছিল বটে, আমি ভেবেছিলাম আইটি-র কাজ, সারাদিন স্ক্রিন দেখি বলে হয়তো ড্রাই আইজ হয়েছে! কিন্তু আপনি কী করে জানলেন?"

👨🏻‍⚕️আমি হাসলাম, "কারণ রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস অনেক সময় একা আসে না। চোখ লাল হওয়া বা প্রস্রাবে ইনফেকশনও এর একটা সঙ্গী।"

🧔🏻রাহুল তখন একটু ভেবে বলল, "আরে, সেই দিন তো অফিসের বসেরও পেট খারাপ হলো! ওনার তো এমন হাঁটু ফুলল না, আমারই কেন হলো?"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "এটা নিয়ে কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনও রিসার্চ করছেন। কার হবে আর কার হবে না, সেটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে অনেক সময় দেখা যায়, যাদের শরীরে 'HLA-B27' নামের একটা বিশেষ জিন আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আর একটা কথা মনে রেখো, শুধু পেট খারাপ নয়, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো ইনফেকশনের পরেও কিন্তু এমনটা হতে পারে।"

🧔🏻"তাহলে এখন উপায়? ব্যথা কমবে কীভাবে?" রাহুলের গলায় স্পষ্ট চিন্তা।

👨🏻‍⚕️"একদম চিন্তা করো না," আমি আশ্বস্ত করলাম। "রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস সাময়িক। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে পুরোপুরি সেরে যায়। আপাতত শরীরে প্রদাহ কতটা আছে দেখার জন্য কিছু রক্ত পরীক্ষা লিখছি ওগুলো করিয়ে নিয়ো এবং আমরা তোমার এই হাঁটু ফোলা আর ব্যথা কমানোর জন্য কিছু অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAIDs) দেব। যদি এতেও না কমে DMARDS নামক কিছু ওষুধ আছে ওটা শুরু করা হবে , সাথে জয়েন্টকে একটু রেস্ট দিতে হবে আর বরফ সেঁক নিতে হবে। ব্যথা ও ফোলা একটু কমলেই আমরা হালকা ফিজিওথেরাপি শুরু করব। এই এক্সারসাইজ গুলো কিন্তু ব্যথা কমে গেলেও করতে থেকো I

🩼আর হ্যাঁ, ওষুধে যদি ব্যথা বা ফোলা না কমে, তাহলে ভয়ের কিছু নেই। তখন আল্ট্রাসাউন্ড (USG) মেশিনের সাহায্যে দেখে তোমার হাঁটুতে একটা ছোট্ট ইনজেকশন দিলে অনেকটা ভালো হয়ে যাবে এবং ফোলাটাও একদম কমে যাবে।"

🧔🏻রাহুল এইবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।

🚫তাই আমরা বলি, জ্বর, সর্দি-কাশি বা পেট খারাপ সেরে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর যদি হঠাৎ কোনো জয়েন্ট ফুলে যায় বা ব্যথা হয়, তবে তাকে অবহেলা করবেন না বা শুধু ব্যথার মলম লাগিয়ে ফেলে রাখবেন না। এটা সাধারণ কোনো চোট নয়, রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসায় এর থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। fans

"ডাক্তারবাবু, আঙুল ফোটালে তো আর্থ্রাইটিস হয়, তাই না? একটু বোঝান তো ছেলেটাকে… কিছুতেই বুঝবে না!"🤷‍♀️চেম্বারের পর্দা ঠেলে ...
04/09/2026

"ডাক্তারবাবু, আঙুল ফোটালে তো আর্থ্রাইটিস হয়, তাই না? একটু বোঝান তো ছেলেটাকে… কিছুতেই বুঝবে না!"

🤷‍♀️চেম্বারের পর্দা ঠেলে ঢুকেই সীমা বৌদি তাঁর দশ বছরের ছেলে রিককে একরকম টেনে এনে সামনের রিভলভিং চেয়ারটায় বসিয়ে দিলেন। রিকের মুখে বিরক্তি স্পষ্ট, আর দুই হাতের আঙুলগুলো অবচেতনভাবেই একে অপরের খাঁজে ঢুকে পটপট শব্দ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

👦রিক মায়ের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "লিখতে লিখতে হাত ভারি হয়ে যায়, ফোটালে বেশ আরাম লাগে।"

👨🏻‍⚕️আমি একটু হেসে রিকের হাতটা টেনে নিয়ে বললাম, "বৌদি, আসল সত্যিটা হলো, আঙুল ফোটালে বাত বা আর্থ্রাইটিস হয় না। এটা স্রেফ একটা অমূলক ভয়।"

🤷🏻‍♀️কথাটা শুনে রিকের মুখে বিশ্বজয়ের হাসি ফুটলেও সীমা বৌদি চোখ গোল গোল করে বললেন, "বলেন কী! হাড় ভেঙে যাবে না? ওই ফটফট আওয়াজটা তবে কিসের?"

👨🏻‍⚕️"খুব সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি," আমি টেবিলের ওপর রাখা জলভরা প্লাস্টিকের ছোট বোতলটা হাতে নিয়ে বললাম, "ভাবো এই বোতলটা হলো তোমার আঙুলের দুটো হাড়ের মাঝের জয়েন্ট। এর ভেতরে একটা পিচ্ছিল জেলির মতো তরল ভরা থাকে, যাকে বলে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড( synovial fluid)। এটা হাড়কে মসৃণভাবে নড়তে সাহায্য করে। এখন, তুমি যখন আঙুল টানো বা বাঁকাও, জয়েন্টের ভেতরের ফাঁকা জায়গাটা হঠাৎ বেড়ে যায় আর ভেতরের প্রেসার বা চাপ একদম কমে যায়। কোল্ড ড্রিংকসের ছিপি খুললে চাপ কমে গিয়ে যেমন হঠাৎ ঝাঁজালো গ্যাস বুদ্বুদ হয়ে ভেসে ওঠে, ঠিক তেমনি এখানেও সাইনোভিয়াল ফ্লুইডে গুলে থাকা নাইট্রোজেন গ্যাস তরল থেকে বেরিয়ে এসে নিমেষের মধ্যে ছোট ছোট নাইট্রোজেন বাবলস (Nitrogen bubbles) বা বুদ্বুদ তৈরি করে ফেলে। আর চাপ বদলাতেই সেই বুদ্বুদগুলো ফটাস করে ফেটে যায়—ঠিক যেমন একটা বাবল র‍্যাপের প্লাস্টিকের ফোসকা আঙুল দিয়ে টিপলে ফাটে! আওয়াজটা আসলে স্রেফ নাইট্রোজেনের সেই বুদ্বুদ ফাটার, হাড় ভাঙা বা ঘষা খাওয়ার নয়।"

🧬রিককে আরেকটু আশ্বস্ত করতে মনে পড়ে গেল এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক কৌতুকের কথা। সীমা বৌদির দিকে তাকিয়ে বললাম, "জানেন বৌদি, আমেরিকার ডোনাল্ড উঙ্গার নামের এক চিকিৎসক তো নিজের মায়ের এই ভুল ধারণা ভাঙাতে এক কাণ্ড করে বসেছিলেন। তিনি টানা ষাট বছর ধরে নিয়ম করে শুধু নিজের বাঁ হাতের আঙুল ফুটিয়ে গেছেন, আর ডান হাতটা ভুলেও ছোঁননি। ষাট বছর পর দু'হাতেরই এক্স-রে করে দেখা গেল—তাঁর কোনো হাতেই বিন্দুমাত্র আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নেই! এমনকি এই কাজের জন্য তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাসির ছলে দেওয়া নোবেল বা 'ইগ নোবেল' পুরস্কারও পেয়েছিলেন।"

👦🏻রিকের চোখ তো আনন্দে চকচক করে উঠল, আর সীমা বৌদি এবার একটু ধাতস্থ হয়ে বললেন, "ওরে বাবা! আচ্ছা ডাক্তারবাবু, তাহলে আমার যে মাঝে মাঝে হাঁটু খটখট করে, ওটাও ভয়ের কিছু নেই?"

👨🏻‍⚕️আমি একটু হেসে বললাম, "বৌদি, এটা নিয়ে আগেও বলেছি কিন্তু! হাঁটু থেকে শুধু খটখট শব্দ হওয়া মানেই কিন্তু কার্টিলেজ নষ্ট হওয়া নয়। অনেক সময় টেন্ডন বা লিগামেন্ট একটু সরে গিয়ে নিজের জায়গায় ফেরার সময় কিংবা এরকমই ছোটখাটো গ্যাসের বুদ্বুদের জন্য আওয়াজ হয়। যদি খটখট শব্দের সাথে হাঁটু ফুলে যায় বা ব্যথা হয়, তবেই কিন্তু ভয়ের—তখনই চিকিৎসার দরকার। আর যদি ব্যথা বা ফোলাভাব না থাকে, তবে ভয়ের কোনো কারণই নেই, রোজ নিয়ম করে হালকা একটু এক্সারসাইজ করলেই ওটা নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।"

🤷‍♀️সীমা বৌদির মুখে স্বস্তির হাসি ফিরে এলো। কিন্তু আমি এবার রিকের দিকে ফিরে একটু গম্ভীর মুখে তাকালাম।

👨🏻‍⚕️"রিক, বাতের ভয় না থাকলেও, সারাদিন ধরে জোর করে আঙুল টানলে কিন্তু নরম লিগামেন্ট আলগা হয়ে হাতের গ্রিপ বা মুঠোর জোর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই আরামের জন্য মাঝেমধ্যে হাত স্ট্রেচ করো, কিন্তু এটাকে বদভ্যাসে পরিণত করে পটপট ফোটানো একেবারেই চলবে না, বুঝলে?"

👦🏻রিক বাধ্য ছেলের মতো হাত দুটো কোলের ওপর গুটিয়ে নিয়ে ঘাড় নাড়ল। সীমা বৌদিও একটা লম্বা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। fans

“দেখুন ডাক্তারবাবু, কোথাও কোনো চোট নেই কিন্তু কেমন কালশিটে পড়ে গেছে এখানে সেখানে?… হাতটা দেখুন…” বলেই নিজের হাতটা বাড়িয়...
01/09/2026

“দেখুন ডাক্তারবাবু, কোথাও কোনো চোট নেই কিন্তু কেমন কালশিটে পড়ে গেছে এখানে সেখানে?… হাতটা দেখুন…” বলেই নিজের হাতটা বাড়িয়ে দেখালেন প্রবালবাবু।

🧓🏼প্রবালবাবু আমার বহুদিনকার পেশেন্ট। কিছুদিন আগে ওনার হাঁটুতে জেলির ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকে দিব্যি ভালো আছেন, হাঁটাচলাও বেশ স্বাভাবিক। কিন্তু আজ চেম্বারে ঢুকেছেন একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে, ঠিক এই সমস্যাটা দেখাতে।

👨🏻‍⚕️আমি ওনার হাতটা হাতে নিয়ে ভালো করে দেখে বললাম, “বসুন প্রবালবাবু… রিল্যাক্স করুন। এই সমস্যাটা কিন্তু আমার অনেক পেশেন্টই বলেন, বিশেষ করে যাঁদের বয়স একটু বেশি। এটা নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার একদম কিছু নেই।”

👨🏻‍⚕️ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “মেডিকেলের ভাষায় এটাকে আমরা বলি Senile Purpura (সিনাইল পারপুরা), আবার গোটা বিষয়টাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় Dermatoporosis।”

🧓🏼শুনেই প্রবালবাবু চোখ বড় বড় করে বলে উঠলেন, “বাপরে! কী সব কঠিন নাম! আর আপনি বলছেন ভয়ের কিছু নেই? কিন্তু ডাক্তারবাবু, আমার বাবার তো এই বয়সেও এমন দাগ হতো না! আমার বন্ধুদের কারও তো এমন দেখি না… তবে আমারই কেন?”

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, “ভয় পাবেন না প্রবালবাবু, আপনি একা নন। মেডিকেল সায়েন্সের পরিসংখ্যান বলছে, পঞ্চাশ পেরোনো মানুষদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। আর এটা কিন্তু পুরুষ ও মহিলা—উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে দেখা যায়। কারও একটু আগে হয়, কারও পরে।”

🧬ওনার কৌতূহল দেখে বিজ্ঞানের মেকানিজমটা সহজ করে বুঝিয়ে বললাম, “আমাদের ত্বকের ভেতরে কোলাজেন (collagen) আর ইলাস্টিন (Elastin) নামের ফাইবার থাকে, যা চামড়াকে জেলের মতো একটা নরম কুশন বা প্রতিরক্ষামূলক গদি তৈরি করে দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই কুশন পাতলা হয়ে যায়, ঠিক যেন পুরোনো তোশকের স্প্রিংয়ের জোর কমে যাওয়া। ফলে চামড়া হয়ে পড়ে ভেজা টিস্যু পেপারের মতো পাতলা।

🔬এই পাতলা চামড়ার ঠিক নিচেই থাকে খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রক্তনালী বা ক্যাপিলারি। নিচে কোনো শক্ত সাপোর্ট না থাকায় সামান্য একটু টান লাগলে বা হালকা ঘষা খেলেই সেই সূক্ষ্ম রক্তনালী ফেটে যায়। ভেতর থেকে সামান্য রক্ত চুইয়ে চামড়ার স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, যা বাইরে থেকে দেখতে লাগে কালশিটে বা গাঢ় বেগুনি ছোপের মতো।”

👨🏻‍⚕️আমি প্রবালবাবুর দিকে একটু ঝুঁকে বসে বললাম, “আসলে শরীর তো, কোনো আলাদা নিয়মে চলে না প্রবালবাবু, এর পেছনে কাজ করে স্পষ্ট কিছু কারণ।”

⛅️“প্রথমত, বয়স আর দীর্ঘদিনের রোদের লুকোচুরি। সারা জীবনে আমাদের হাত-পায়ের চামড়াই সবচেয়ে বেশি রোদের তাপ সহ্য করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে আমরা বলি ‘ফটো-এজিং’(Photo-aging)। রোদ বছরের পর বছর ধরে ত্বকের ভেতরের সেই মজবুত কোলাজেনের জালটাকেই আস্তে আস্তে দুর্বল করে দেয়।”

🧓🏼প্রবালবাবু মন দিয়ে শুনছিলেন। আমি ওনার প্রেসক্রিপশনের দিকে ইশারা করে বললাম, “দ্বিতীয় কারণটা কিন্তু আপনার রোজকার অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। হার্ট ভালো রাখতে যে রক্ত পাতলা করার ওষুধ—মানে ব্লাড থিনার বা অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্টস খাচ্ছেন, তার কাজই হলো রক্ত সহজে জমাট বাঁধতে না দেওয়া। ফলে কোনো ক্যাপিলারি সামান্য একটু চোট পেলেই সেখান থেকে রক্ত চুইয়ে একটু বেশি ছড়িয়ে পড়ে, আর দাগটাও আকারে বেশ বড় দেখায়।”

💊“তৃতীয়ত, অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথাবেদনা বা শ্বাসকষ্টের জন্য স্টেরয়েড জাতীয় মলম, ওষুধ বা ইনহেলার ব্যবহারের ইতিহাস থাকে, যা ত্বকের স্বাভাবিক পুরুত্ব আরও কমিয়ে দেয়। আর চতুর্থত, খাদ্যে ভিটামিন সি বা পুষ্টির ঘাটতি, যার অভাবে রক্তনালীর দেয়ালগুলো তাদের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে সহজে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।”

🧓🏼প্রবালবাবু এবার একটু চিন্তিত গলায় বললেন, “তাহলে তো মুশকিল! হার্টের ওষুধ তো বন্ধ করা যাবে না ডাক্তারবাবু, চামড়াটাকে বাঁচাব কীভাবে?”

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, “ওষুধ বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই নেই! সামান্য কিছু সহজ যত্নেই কিন্তু চামড়াকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।”

✅“প্রথম সমাধান, চামড়ার নিজস্ব আর্দ্রতা ধরে রাখা। দিনে অন্তত দু-তিনবার কোনো ভালো ময়েশ্চারাইজার বা সাধারণ পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে চামড়াটাকে নরম রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে চামড়া যেমন খসখসে হয়ে টানে ফেটে যায়, নরম রাখলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে।”

✅“দ্বিতীয়ত, রোদে বেরোলে বা বাইরে গেলে সুতির ফুলহাতা ঢিলেঢালা জামা পরার অভ্যাস করুন। এতে সরাসরি কড়া রোদও বাঁচবে, আবার অসাবধানে কোথাও ঠোক্কর বা ঘষা লাগলেও কাপড়টাই কুশন হিসেবে কাজ করবে।”

✅“তৃতীয়ত, ঘরের পরিবেশেও একটু সতর্ক থাকা—দরজার ফ্রেম, টেবিলের ধারাল কোণে হাত যাতে সরাসরি ধাক্কা না খায়। আর একটা খুব জরুরি কথা, এই পাতলা চামড়ায় ভুলেও কড়া আঠালো লিউকোপ্লাস্ট বা শক্ত ব্যান্ড-এইড টান মেরে খুলবেন না, চামড়া উঠে গিয়ে রক্ত বেরোতে পারে।

✅এর পাশাপাশি প্রতিদিনের পাতে একটা করে লেবু বা ভিটামিন সি যুক্ত ফল রাখবেন, যা ভেতরের রক্তনালীগুলোকে কিছুটা বাড়তি পুষ্টি জোগাবে।”

🧓🏼পুরো মেকানিজম আর সহজ সমাধানের পথটা শোনার পর প্রবালবাবুর মুখ থেকে দুশ্চিন্তার মেঘ নিমেষে কেটে গেল। একটা লম্বা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, মুখে চওড়া হাসি টেনে উনি বললেন, “বাপরে! আমি তো রক্তের কোনো মারাত্মক রোগ ধরে গেল ভেবে ভয়ে আধমরা হয়ে গেছিলাম ডাক্তারবাবু! এখন নিশ্চিন্ত হলাম।” fans

“কী বলছেন ডাক্তারবাবু? ইউরিক অ্যাসিডে সয়াবিন, ডিম, পালংশাক—এমনকি মুরগির মাংসও খাওয়া যাবে? সবরকমের ডালও চলবে?!”কথাটা শুনে...
27/08/2026

“কী বলছেন ডাক্তারবাবু? ইউরিক অ্যাসিডে সয়াবিন, ডিম, পালংশাক—এমনকি মুরগির মাংসও খাওয়া যাবে? সবরকমের ডালও চলবে?!”
কথাটা শুনে চেম্বারের চেয়ারে রীতিমতো আঁতকে উঠে বসলেন বিমানবাবু।

🧓🏻বিমানবাবু বহুদিনের ইউরিক অ্যাসিডজনিত বাতের সমস্যা, যাকে আমরা ডাক্তারি ভাষায় বলি ‘গাউট’ (Gout)—তার রোগী। খাবারের থালা থেকে তাঁর পছন্দের অর্ধেকের বেশি জিনিস বহুদিন আগেই বাদ হয়ে গেছে। তবে মানুষটা ডাক্তারবাবুর সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। সত্যি বলতে, ওপিডিতে এমন অনুগত রোগী পাওয়া যে কোনও চিকিৎসকের কাছেই পরম স্বস্তির।

🧓🏻গল্প টা শুরু যখন, সব রিপোর্ট আর জয়েন্ট পরীক্ষা করার পর প্রেসক্রিপশন লেখার সময় উনি একটু ইতস্তত করে বললেন, “ডাক্তারবাবু, মুসুর ডাল খাওয়া তো অনেক বছর আগে থেকেই বন্ধ করে দিয়েছি!”

👨🏻‍⚕️আমি প্রেসক্রিপশন থেকে চোখ তুলে জিজ্ঞেস করলাম, “কেন বিমানবাবু?”

🧓🏻বিমানবাবু একগাল হেসে বললেন, “কী যে বলেন ডাক্তারবাবু! ডালে তো প্রচুর প্রোটিন। খেলে ইউরিক অ্যাসিড আবার হু হু করে বেড়ে যাবে, তখন তো আপনার কাছেই বকুনি খেতে হবে!”

👨🏻‍⚕️আমি একটু হেসে বললাম, “বিমানবাবু, বিজ্ঞান কিন্তু প্রতিদিন এগোচ্ছে। বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞান পত্রিকা New England Journal of Medicine-এ প্রকাশিত সুবিশাল গবেষণা এবং American College of Rheumatology (ACR)-এর সাম্প্রতিক গাইডলাইন পরিষ্কার বলে দিয়েছে—উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (যেমন ডাল, সয়াবিন, পালংশাক, বিনস বা মাশরুম) রক্তে ক্ষতিকারক ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় না বললেই চলে। শরীরের জন্য আসল ভিলেন কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কিছু!”

🧓🏻বিমানবাবু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললেন, “বলেন কী! তা ছাড়া আর কী কী ভুল ধারণা আছে ডাক্তারবাবু?”

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, “আরও একটা বড় তথ্য দিই আপনাকে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড কিছুটা বেশি থাকা মানেই কিন্তু সাথে সাথে ওষুধ খাওয়া শুরু করা নয়! যতক্ষণ না শরীরে কোনও লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, বা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ১০ mg/dL-এর বেশি হচ্ছে, কিংবা কিডনির সমস্যা (CKD), কিডনিতে স্টোন, রক্তচাপের জটিলতা অথবা গাঁটে ক্রিস্টাল জমে শক্ত দলা অর্থাৎ ‘টফি’ (Tophi) তৈরি হচ্ছে—ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু রিপোর্টের সংখ্যা দেখে ওষুধ শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

🧓🏻শুনেই বিমানবাবু কপালে হাত দিয়ে বললেন, “কী সর্বনাশ! আমার পাশের বাড়ির পোল্টুর তো টেস্টে ইউরিক অ্যাসিড ৭ এসেছিল, ও তো ওষুধের দোকান থেকে নিজেই রোজ একটা করে অ্যালোপিউরিনল কিনে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে!”

👨🏻‍⚕️আমি মাথা নেড়ে বললাম, “ঠিক এই ভুলটাই বহু মানুষ করেন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকা (Asymptomatic Hyperuricemia) আর প্রকৃত গাউটের আক্রমণ—দুটো এক জিনিস নয়। অপ্রয়োজনে ওষুধ না খেয়ে যেটা আসল দরকার, সেটা হলো সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন।”

🧓🏻বিমানবাবু উৎসাহিত হয়ে জানতে চাইলেন, “তাহলে কোন খাবারগুলো আসলে বন্ধ করতে হবে ডাক্তারবাবু?”
আমি বুঝিয়ে বললাম, “বাদ দিতে হবে মাত্র কয়েকটি আসল কালপ্রিট:

❌রেড মিট ও অর্গান মিট: খাসি বা ছাগল মাংস মানে ওই Mutton টা রবিবার রবিবার বন্ধ রাখতে হবে।

❌নির্দিষ্ট কিছু সামুদ্রিক মাছ: যেমন পমফ্রেট, সার্ডিন, বা ক্র্যাব—এগুলোতে পিউরিনের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত থাকে।

❌অ্যালকোহল ও বিয়ার: বিশেষ করে বিয়ার ইউরিক অ্যাসিড বাড়ানোর এক নম্বর অনুঘটক।

❌মিষ্টি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত ফলের রস ও সোডা একদম মেপে বা না খাওয়াই সেরা।

✅আর যা যোগ করতে হবে—প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল, রোজ ৩০ মিনিটের ফ্রি-হ্যান্ড বা হাঁটাহাটি, এবং পরিমিত ও পুষ্টিকর সুষম আহার।”

🧓🏻বিমানবাবু এক অদ্ভুত স্বস্তির হাসি হেসে বললেন, “শুধু এই কটা নিয়মেই ভালো থাকা যাবে ডাক্তারবাবু?”

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, “একদম! আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, খাবারের থালা থেকে অহেতুক ডাল-ভাত আর শাকসবজি নির্বাসনে পাঠানোর কোনো দরকার নেই।”

🧓🏻চেম্বার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য দরজার হাতল ধরে বিমানবাবু হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালেন। চোখে-মুখে তখন এক অনাবিল আনন্দ। তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “উফ্! ডাক্তারবাবু, কত যুগ পরে যে আজ নিশ্চিন্ত মনে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতে একবাটি মুসুর ডাল ঢেলে, সঙ্গে একটা ডিমের অমলেট মেখে তৃপ্তি করে খাব! আপনি সত্যিই আজ আমার রসনাতৃপ্তির দরজাটা আবার খুলে দিলেন!” fans

"ডাক্তারবাবু, এই ডানদিকের থাইয়ের চামড়াটা উপর থেকে একেবারে হাঁটু পর্যন্ত কেমন যেন জ্বলে যাচ্ছে! প্যান্টের কাপড় ছোঁয়ালেও ম...
24/08/2026

"ডাক্তারবাবু, এই ডানদিকের থাইয়ের চামড়াটা উপর থেকে একেবারে হাঁটু পর্যন্ত কেমন যেন জ্বলে যাচ্ছে! প্যান্টের কাপড় ছোঁয়ালেও মনে হচ্ছে কেউ লঙ্কা ঘষে দিয়েছে, টেকা যাচ্ছে না। সায়াটিকা নাকি ডাক্তারবাবু?"চেম্বারে ঢুকেই এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললেন রামেন দা।

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, "আরে রামেন দা, আগের দিনই তো সায়াটিকা নিয়ে এত কথা হলো! সব পায়ের ব্যথাই সায়াটিকা নয়। একটু বসুন তো আগে, আপনার এই সমস্যাটার নাম হলো Meralgia Paraesthetica।"

👱🏼‍♂️নাম শুনেই রামেন দা চোখ কপালে তুললেন, "সে আবার কী বস্তু ডাক্তারবাবু? খটমট ল্যাটিন নাম মানেই তো বড়সড় কোনো বিপত্তি!"

👨🏻‍⚕️আমি ওনাকে আশ্বস্ত করে বললাম, "না, ঘাবড়াবেন না। আমাদের কুঁচকির (groin) পাশ দিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ যায়, যার নাম Lateral Femoral Cutaneous Nerve। এর কাজ কোনো পেশি চালানো নয়, কেবল থাইয়ের বাইরের অংশের চামড়ায় স্পর্শ ও অনুভূতির সংকেত পৌঁছে দেওয়া। কোনো কারণে যদি সেই নার্ভটা কুঁচকির লিগামেন্টের নিচে সংকুচিত বা চেপে যায়, তখনই এই কাণ্ড ঘটে।"

👱🏼‍♂️"লক্ষণ বুঝব কী করে ডাক্তারবাবু?"

✅"প্রথমত, এই জ্বালা, ঝিঁঝিঁ বা অবশ ভাবটা কেবল থাইয়ের সামনে ও বাইরের দিকের চামড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, হাঁটুর নিচে বা পায়ের পাতা পর্যন্ত কিন্তু নামবে না।

✅ দ্বিতীয়ত, সেখানে হাত দিলে বা কাপড়ের সামান্য ঘষা লাগলেও তীব্র চিনচিনে জ্বালা বা সুই ফোটার মতো অনুভূতি হবে।

✅তৃতীয়ত, হাঁটাচলা করলে বা দীর্ঘক্ষণ টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে কুঁচকির নার্ভটিতে টান পড়ে জ্বালা বাড়ে, আবার একটু বসে সামনের দিকে ঝুঁকলে খানিক আরাম মেলে।"

👱🏼‍♂️রামেন দা সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "কিন্তু এটা হঠাৎ চাপ খেতে গেল কেন? আমি তো এমন কিছু করিনি!"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "এর পেছনে নির্দিষ্ট কিছু মেকানিজম একসঙ্গে কাজ করে।

✅প্রথমত, আপনার পেটের ওই চওড়া চামড়ার টাইট বেল্ট কিংবা অতিরিক্ত আঁটোসাঁটো প্যান্ট—যা সরাসরি কুঁচকির লিগামেন্টের ওপর মেকানিক্যাল প্রেশার তৈরি করে। তার ওপর পেটের বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি মাধ্যাকর্ষণের টানে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে নার্ভটির ওপর বাড়তি টান সৃষ্টি করে।

✅ দ্বিতীয়ত, আপনার ওই সুগার। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে নার্ভের সূক্ষ্ম রক্ত সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নার্ভ নিজেই দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে সামান্য চাপেই সেখানে তীব্র প্রদাহ দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের এই সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় ৭ গুণেরও বেশি! ভারতে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস আর ওবেসিটির কারণে এই সমস্যা এখন খুবই পরিচিত, যদিও অনেকেই একে কোমর বা ডিস্কের সমস্যা ভেবে ভুল করেন।

✅এছাড়া আরও কিছু কারণ থাকে—যেমন পেটের ভেতরের চাপ বাড়ার ফলে গর্ভাবস্থায় অনেকের এটি সাময়িকভাবে দেখা দেয়, আবার কোনো অপারেশনের পর, যেমন হার্নিয়া সার্জারি, সিজারিয়ান সেকশন কিংবা পেটের ওপর ভর দিয়ে দীর্ঘক্ষণ স্পাইনাল সার্জারির পজিশনে শোয়ানোর ফলেও অনেক সময় এই নার্ভটি চেপে যেতে পারে।"

👱🏼‍♂️রামেন দা একটু ভেবে চিন্তিত মুখে বললেন, "ডাক্তারবাবু, কোমরের কোনো এমআরআই (MRI) করতে হবে নাকি?"

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, "না না, রামেন দা! এখনই কোনো এমআরআই করার একদমই দরকার নেই। এই রোগটি মূলত আপনার এই লক্ষণগুলো শুনে এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা যায়। তবে ওষুধে কাজ না হলে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড (USG) দিয়ে সরাসরি দেখে নিতে পারি যে চাপ খাওয়ার ফলে নার্ভটা ফুলে স্বাভাবিকের চেয়ে মোটা (Cross-sectional area বৃদ্ধি) বা প্রদাহগ্রস্ত হয়ে গেছে কি না।"

👱🏼‍♂️"তাহলে এখন চিকিৎসা কীভাবে শুরু করব ডাক্তারবাবু?"

👨🏻‍⚕️"প্রথমত, নার্ভের ওপর থেকে মেকানিক্যাল চাপ সরাতে হবে। আজ থেকেই ওই চওড়া টাইট বেল্ট পরা বন্ধ করে একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, প্যান্টের সামনের পকেটে ভারী ফোন বা চাবির গোছা রাখা ছাড়ুন, আর ওজন ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন।"

👱🏼‍♂️"শুধু পোশাকে কি এত তীব্র জ্বালা শান্ত হবে? কোনো ওষুধ দেবেন না?"

👨🏻‍⚕️"নিশ্চয়ই দেব। নার্ভের জ্বলুনি শান্ত করতে যেমন Pregabalin বা Gabapentin-এর মতো নিউরোপ্যাথিক ওষুধ দরকার , তেমনি সঙ্গে একটা নার্ভের মলম দিচ্ছি, চামড়ার ওপর লাগালে এটাও খুব চমৎকার আরাম দেয়।"

✅"আমি আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট পেলভিক ও হিপ স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ দেখিয়ে দিচ্ছি, এগুলো নিয়মিত করবেন। আর এতেও যদি পুরোপুরি না কমে, তবে ফিজিওথেরাপি তে কিছু আধুনিক মডালিটি রয়েছে—যেমন TENS (Transcutaneous Electrical Nerve Stimulation) থেরাপির সাহায্যে নার্ভের অতিরিক্ত সেনসিটিভিটি কমানোর চেষ্টা করবেন আমাদের ফিজিওথেরাপিস্ট ।"

👱🏼‍♂️রামেন দা একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করলেন, "আর ডাক্তারবাবু... এগুলোতেও যদি পুরোপুরি না কমে? তখন?"

👨🏻‍⚕️আমি হেসে অভয় দিয়ে বললাম, "তখনও ঘাবড়ানোর কিচ্ছু নেই! কোনো বড় অপারেশনের কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। যদি ওষুধ বা ফিজিওথেরাপিতে পুরোপুরি সমাধান না হয়, তবে আমাদের কাছে অত্যন্ত নিখুঁত সমাধান রয়েছে—USG-guided Nerve Injection। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের স্ক্রিনে সরাসরি দেখে নার্ভের ঠিক চারপাশে সুনির্দিষ্টভাবে সামান্য অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ পৌঁছে দিলে সেই নরকযন্ত্রণা ও জ্বলুনি দ্রুত শান্ত হয়ে যায়।"

👱🏼‍♂️রামেন দা এবার মুখে চওড়া হাসি টেনে বললেন, "যাক বাবা, বাঁচালেন! ভেবেছিলাম এমআরআই করিয়ে হয়তো ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হবে। আজ থেকেই বেল্ট আলগা করছি, এক্সারসাইজ শুরু করছি আর সুগার নিয়ন্ত্রণে মন দিচ্ছি!" fans

“ডাক্তারবাবু দেখুন, সকালে উঠে হাতের আঙুলগুলো একদম খুলতেই পারছি না, কেমন যেন স্টিফ হয়ে যাচ্ছে… খুব ব্যথা!”—রমেশবাবু কথাটা...
21/08/2026

“ডাক্তারবাবু দেখুন, সকালে উঠে হাতের আঙুলগুলো একদম খুলতেই পারছি না, কেমন যেন স্টিফ হয়ে যাচ্ছে… খুব ব্যথা!”—রমেশবাবু কথাটা বলেই একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্টের পুরো ফাইলটা আমার টেবিলে বাড়িয়ে দিলেন।

🩺এর আগেও দু-তিনজন ডাক্তার দেখিয়েছেন তিনি। সবাই নাকি বলেছেন রোগটা পুরোপুরি নির্মূল হবে না, ব্যস… সেই হতাশা থেকেই আবার ডাক্তার বদল।

🧓🏻একটু ইতস্তত করে তিনি বলেই ফেললেন, “সত্যিই ডাক্তারবাবু, এটা কি আর ভালো হবে না? ঐ যে মিতাদিদি, ওনারও তো ব্যথার সমস্যা ছিল, উনি তো দিব্যি ভালো আছেন আপনার চিকিৎসা পেয়ে! আমি কি তবে সুস্থ হব না?” রমেশবাবুর চোখে-মুখে একরাশ অনিশ্চয়তা।

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, “আগে শান্ত হয়ে বসুন।” ততক্ষণে ওনার সব রিপোর্ট আমার দেখা শেষ। রোগটা পরিষ্কার—রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis)। আমি ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম, “রোগটা সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে?”

🧓🏻রমেশবাবু মাথা চুলকে বললেন, “ঐ যে ইমিউন সিস্টেম… কী যেন একটা বলে… রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়ে গেছে না কমে গেছে, ঠিক মাথায় ঢোকে না!”
আমি ওনাকে সহজ করে বুঝিয়ে বললাম, “ব্যাপারটা খুব সহজ। আমাদের শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হলো দেশের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর মতো। তাদের কাজ হলো বাইরে থেকে আসা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াকে চিনে নিয়ে ধ্বংস করা। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সেনাবাহিনী নিজের আর শত্রুর মধ্যে তফাত ভুলে যায়। ভুলবশত তারা নিজের শরীরেরই সুস্থ কোষগুলোকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে বসে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলো তেমনই এক অটোইমিউন ডিজিজ, যেখানে আপনার নিজের সুরক্ষা রক্ষীরাই অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করছে।”

👨🏻‍⚕️একটু থেমে ওনার কাঁধে হাত রেখে যোগ করলাম, “আর একটা কথা মাথায় রাখবেন, এই লড়াইয়ে কিন্তু আপনি একা নন। আমাদের দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১ জন মানুষ এই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভোগেন। অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দারুণভাবে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন।”

🧓🏻শুনে রমেশবাবুর চোখের ভয়টা কিছুটা কাটল। তিনি জানতে চাইলেন, “আচ্ছা ডাক্তারবাবু, এটাতে ঠিক কী কী লক্ষণ দেখা যায়?”

👨🏻‍⚕️আমি ওনাকে পর পর বুঝিয়ে বললাম, “প্রথমত, হাতের আঙুল, কব্জি কিংবা পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোতে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত, সবচেয়ে চেনার মতো লক্ষণ হলো সকালের দিকে জয়েন্টগুলো শক্ত হয়ে থাকা, যেটাকে আমরা মর্নিং স্টিফনেস বলি—যা আধ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে চলে, হাত মুঠো করতেই কষ্ট হয়। তৃতীয়ত, সাধারণত শরীরের দু’দিকের একই জয়েন্টগুলো সমান্তরালভাবে আক্রান্ত হয়। তবে শুধু অস্থিসন্ধিতেই এর প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক সময় রোগী মারাত্মক ক্লান্তি অনুভব করেন, হালকা জ্বরজ্বর ভাব থাকে। রোগটা দীর্ঘমেয়াদি হলে চামড়ার নিচে ছোট ছোট নরম গুটি বা নডিউল দেখা যেতে পারে, এমনকি চোখ শুকিয়ে যাওয়ার বা লাল হওয়ার মতো উপসর্গও আসে।”

👨🏻‍⚕️একটু গম্ভীর হয়ে বললাম, “আর ঠিক এই কারণেই রোগটাকে ভয় পাওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়া বেশি দরকার। কারণ বাইরে থেকে আমরা শুধু জয়েন্টের ব্যথাটা বুঝতে পারছি, কিন্তু চিকিৎসা না করালে ভেতরে ভেতরে এটা নিঃশব্দে ফুসফুস কিংবা হৃৎপিণ্ডকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বন্ধ করে দেওয়ার ভুলটি কখনোই করবেন না।”

🧓🏻রমেশবাবু এবার জানতে চাইলেন, “তাহলে এর চিকিৎসা কীভাবে হবে ডাক্তারবাবু?”

👨🏻‍⚕️আমি হেসে বললাম, “চিকিৎসার প্রথম শর্ত হলো মনের জোর। নিজেকে অসুস্থ ভেবে গুটিয়ে নেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, এখন সারা বিশ্বজুড়েই এর চিকিৎসা অত্যন্ত প্রটোকল-মাফিক এবং আধুনিক। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সঠিক ওষুধ দিলে এই অতিরিক্ত সক্রিয় ইমিউন সিস্টেমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যাতে শরীরের আর কোনো ক্ষতি না হয়। আমাদের হাতে মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate), সালফাসালাজিন (Sulfasalazine), কিংবা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন (Hydroxychloroquine)-এর মতো দারুণ কার্যকরী ওষুধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, রোগ যদি কিছুটা জেদিও হয়, তবে এখন বিজ্ঞানের দৌলতে টোফাসিটিনিব (Tofacitinib)-এর মতো আধুনিক ওরাল বায়োলজিক্সও এসে গেছে। তাই একদম ভয় পাওয়ার কিছু নেই—একটায় কাজ না হলেও ডাক্তারবাবুদের তূণে অনেক শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে।”

👨🏻‍⚕️“তবে শুধু ওষুধ খেলেই কিন্তু চলবে না, পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। ব্যায়াম করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে, পেশি মজবুত হয় এবং সবচেয়ে বড় কথা—ভবিষ্যতে জয়েন্ট বেঁকে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা একদম ঠেকিয়ে রাখা যায়।

💪আর হ্যাঁ, চিকিৎসার মাঝে অনেক সময় দেখা যায় শরীরের সব জয়েন্টের ব্যথা কমে গেছে কিন্তু নির্দিষ্ট একটা জয়েন্টে প্রদাহ রয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে আমরা আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনে নিখুঁতভাবে দেখে সেই নির্দিষ্ট জয়েন্টে সরাসরি ইনজেকশন দিয়ে প্রদাহ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি।”

🧓🏻রমেশবাবু এবার অনেকটা আশ্বস্ত হলেন। মুখে হালকা স্বস্তির ছোঁয়া নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তার মানে কি প্রেসার বা সুগারের মতো ওষুধ খেয়ে যেতে হবে?”

👨🏻‍⚕️আমি বললাম, “রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলে ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে অনেকটাই কমানো যায়। তবে নিজের সিদ্ধান্তে কখনোই ডোজ মিস করবেন না বা ওষুধ বন্ধ করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই ডোজ ঠিক করতে হবে।”

🧓🏻চেম্বার ছাড়ার আগে রমেশবাবু বেশ হালকা মনে বললেন, “যাক… তার মানে সুগার বা প্রেশারের মতোই নিয়ম মেনে চললে আর সঠিক ওষুধ খেলে আমি একদম স্বাভাবিক, সুন্দর জীবন কাটাতে পারব!”

👨🏻‍⚕️আমি মাথা নেড়ে বললাম, “একদম তাই! তাছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত এগোচ্ছে, প্রচুর নতুন গবেষণা চলছে। আশা রাখি খুব শীঘ্রই এমন ওষুধও আমাদের হাতে আসবে যা এই রোগকে গোড়া থেকেই পুরোপুরি ঠিক করে দেবে।”

👨🏻‍⚕️দরজার দিকে পা বাড়াতেই একটু মৃদু হেসে ওনাকে মনে করিয়ে দিলাম, “আরেকটা ছোট জিনিস বলে দিই… বুকপকেট থেকে যে সিগারেটের প্যাকেটটা উঁকি মারছে, ওটা কিন্তু একদম বন্ধ করতে হবে! স্মোকিং নিয়ে আজ আর বিস্তারিত বলছি না, ওটা না হয় পরের দিনের আলোচনার জন্য তোলা থাক।” fans

Address

16, Hill Cart Road
Siliguri
734001

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+917003996890

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Subhasish Pati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr Subhasish Pati:

Shortcuts

Share

Category