20/08/2026
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কি , কখন, মানুষ জানুক।
★ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় একসময়ে একটি মাত্র ঔষধ দিতে হবে। যেখানে দেখবেন পাঁচটি ছয়টি ঔষধ মিশিয়ে দিচ্ছে, সে চিকিৎসা আসল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নয়। তারা বুঝতে পারে না কোন ওষুধটি রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাই দশ রকম মিশিয়ে দেয়, যেটা লাগে লাগুক। যদি কোন একটা লেগেও যায়, অন্যগুলি শরীরের অভ্যন্তরে ক্ষতি করবে, আর্টিফিসিয়াল মেডিসিনাল ডিজিজ অর্থাৎ কৃত্রিম ঔষধজ রোগ তৈরী করবে। এইভাবে চলতে থাকলে দিনের পর দিন আপনার শরীরের ক্ষতি হতে থাকবে।
২) রোগীর কাছ থেকে লক্ষণ ভালো করে না শুনলে সঠিক ঔষধ সিলেকশন সম্ভব নয়, তবে বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসক তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার জন্য রোগীর দিকে তাকিয়ে বা দু-চারটি কথা শুনে সঠিক ঔষধ সিলেকশন করতে পারে।
৩) শরীরের কোন অংশের বড় টিউমার, মহিলাদের জরায়ুর বড় টিউমার, ৪০/৪৫ বছরের পরে ব্রেস্টে হওয়া বড় টিউমার, পুরুষদের বড় হাইড্রোসিল, বড় হার্নিয়া, ইত্যাদি হোমিওপ্যাথিক ঔষধে আরোগ্য হয় না।
৪) গলব্লাডারের যে কোন পাথর, এবং কিডনির বড় পাথর হোমিওপ্যাথিক ঔষধে বের করা যায় না। কিডনির ছোট পাথর হোমিওপ্যাথিক ঔষধে বেরিয়ে যায়। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে এক ফর্মুলা চলে না। কারুর কারুর বড় পাথর বেরুতেও দেখা গেছে।
৫) একবারের ঔষধে আমার সেরে গেছে, আমার আমের মতন বা তালের মতন টিউমার একবারের ঔষধে ভ্যানিশ হয়েছে, মাত্র একবারের চিকিৎসায় আমি প্রেগন্যান্ট হয়েছি, ----- সামনে একজনকে দাঁড় করিয়ে বহু চিকিৎসক তাদের মুখ দিয়ে এমন বলাচ্ছে, --- এসব তাদের facebook এবং youtube এর অভিনব কায়দার বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনের প্রলোভিত হবেন না। এইসব রোগ কখনো একবারের ঔষধে সারানো যায় না, বহু ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে সারেই না, অপারেশন করতেই হয়। ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দিতে কোন টাকাপয়সা লাগে না, বিজ্ঞাপনের কোনো সেন্সারশিপ নেই, সেইসব সুযোগগুলি এইসব অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে।
অনেকেই বলতে পারেন আপনি যে অনেক কেস দেখান একবারের ঔষধে সেরেছে, বা কেস টেকিংএর সময় বলেন একবার বা দুইবারের ঔষধে সেরে যাবে!
তার উত্তরে জানাই ---রোগ সম্বন্ধে আমার বিশেষ পড়াশোনা থাকায় আমি বুঝতে পারি কোন রোগটি কোন ক্যাটিগরির। রোগ দুই রকমের হয় --১) স্ট্রাকচারাল বা অর্গানিক, বা রিয়েল প্যাথলজিক্যাল, ---অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আক্রমণ করেছে -- এসব রোগে কখনোই এমন কথা বলি না, কখনো বলবোও না, কারণ, এইসব রোগে সময় লাগবেই, বহু ক্ষেত্রে না সারতেও পারে। ২) ফাংশনাল বা সাইকো সোমাটিক রোগ ---রোগীর শরীরের অর্গান বা যন্ত্রপাতি আক্রমিত হয়নি, কোথাও সেইসব অর্গানের বা যন্ত্রপাতির কাজের ডিস্টার্ব হয়েছে, বা ছন্দপতন হয়েছে, বা মানসিক কারণ থেকেই শারীরিক রোগের উৎপত্তি হয়েছে, যে রোগ ফাংশনাল লেভেলে রয়েছে, কোন অর্গান বা যন্ত্রপাতির ক্ষতি করছে না ---সেইসব রোগ আমি ধরতে পেরে বা বুঝতে পেরে দ্রুত আরোগ্য হবে গ্যারান্টি দিই। বিশেষ করে মানসিক সমস্যা জনিত কারণে রোগী যখন মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন একজন চিকিৎসকের এই ভোকাল টনিক তাকে দ্রুত আরোগ্য করতে সাহায্য করে। ঠিক নিউটনের সেই সূত্রের মতন। স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকবে যদি তাকে বাইরে থেকে ঠেলা না হয়।
৬) ক্যান্সার কোন অবস্থাতেই হোমিওপ্যাথিক ঔষধে আরোগ্য করা যায় না। প্রথম অবস্থাতেই অপারেশন বা রেডিয়েশনের জন্য মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকদের কাছে পাঠাতে হবে। আমরা শুধু রোগের শেষ পর্যায়ে যখন রোগীর সার্জারি সম্ভব নয়, ক্যান্সার ছড়িয়ে গেছে, কেমোথেরাপিতেও আর কাজ হচ্ছে না, বা রোগী কেমোথেরাপি আর নিতে পারছে না, মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসায় আর কিছু হচ্ছে না, রোগী আসন্ন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন তার আয়ু বিলম্বিত করার জন্য, ব্যথাযন্ত্রনাহীনভাবে শান্তিতে রাখার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিতে পারি।
৭) তিনি ধন্বন্তরি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক , তিনি বিশ্ব বরেণ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, এমন কোন উপাধি হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বা বা হোমিওপ্যাথি পরিচালিত কাউন্সিল বা বোর্ড বা কমিশন থেকে দেওয়া হয় না, এগুলি কিছু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের স্বঘোষিত প্রচার।