Lose To Gain - লুজ টু গেইন

  • Home
  • Lose To Gain - লুজ টু গেইন

Lose To Gain - লুজ টু গেইন Lose To Gain is an online fitness & wellness platform. Where we provide free and also paid guided co

Your online Health & Fitness companion that offers free assistance on its Facebook Group and provides quality paid / guided personal training packages by and through website. We are the first ever, online manifesto in Bangladesh to make your lifestyle active, healthy and blissful. Lose to Gain is the place you will select when you think of getting fit.

হলি কাউ!! (পর্ব ৩)বাংলাদেশে গরুর চামড়া খাওয়ার প্রচলন তেমন একটা ছিল না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল...
13/06/2026

হলি কাউ!! (পর্ব ৩)

বাংলাদেশে গরুর চামড়া খাওয়ার প্রচলন তেমন একটা ছিল না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে খাবার হিসেবে গরুর চামড়ার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এবং সত্যি বলতে, ব্যপারটি বেশ ভালো।

গরুর চামড়ায় ভালো পরিমাণ প্রোটিন থাকে। এতে কোলাজেনও থাকে, যা প্রাণীর ত্বক ও কানেকটিভ টিস্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ১০০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা গরুর চামড়াতে প্রায় ২২৪.৬৫ ক্যালরি পাওয়া যায় যার মধ্যে, ৪৬.৯ গ্রাম প্রোটিন (প্রধানত কোলাজেন), ১.০৯ গ্রাম ফ্যাট, ৬.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ৪৩.৯ গ্রাম পানি। এছাড়াও পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম (৬১ মি.গ্রা.), আয়রন (৪.৩ মি.গ্রা.), জিঙ্ক (৬.৭৯ মি.গ্রা.), ম্যাগনেসিয়াম (১২ মি.গ্রা.) এবং পটাসিয়ামের (৩৬ মি.গ্রা.) মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল।

অনেকেই দাবি করছেন গরুর চামড়া খেলে স্তন টানটান হয়, ঝুলে যাওয়া কমে, কিংবা স্তনের আকৃতি উন্নত হয়। এই দাবির পেছনের যুক্তি হলো গরুর চামড়ায় কোলাজেন ও ইলাস্টিন থাকে, আর স্তনের দৃঢ়তা বজায় রাখতেও কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ভূমিকা আছে।

প্রশ্ন হলো, বিজ্ঞান কি এই ধারণাকে সমর্থন করে?

প্রথমে বুঝে নেওয়া যাক স্তন ঝুলে যায় কেন।

স্তনের আকৃতি ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে ত্বক, কানেকটিভ টিস্যু, ফ্যাট এবং কুপার'স লিগামেন্ট নামক একটি সাপোর্টিং স্ট্রাকচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বৃদ্ধি, গর্ভধারণ, স্তন্যদান, ওজনের বড় ওঠানামা, ধূমপান, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধীরে ধীরে কমে যায় এবং সাপোর্টিং টিস্যুগুলোও শিথিল হতে থাকে। এর ফলেই স্তন ঝুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

আমরা যখন গরুর চামড়া খাই, তখন তার কোলাজেন ও ইলাস্টিন হুবহু ওই অবস্থায়ই আমাদের শরীরে প্রবেশ করে না। হজমের সময় এগুলো ছোট ছোট অ্যামিনো অ্যাসিড ও পেপটাইডে ভেঙে যায়। এরপর শরীর সেই কাঁচামালকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে। অর্থাৎ গরুর চামড়ার ইলাস্টিন খেয়েছেন মানেই সেই ইলাস্টিন আপনার স্তনে গিয়ে জমা হবে এমন কোনো পরিচিত জৈবিক প্রক্রিয়া নেই। স্তনের ত্বক ও সংযোজক কলায় কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ভূমিকা থাকলেও গরুর চামড়ার কোলাজেন বা ইলাস্টিন খেয়ে সরাসরি সেই ঘাটতি পূরণ করা যায় না।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে কিছু গবেষণায় ত্বকের আর্দ্রতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং বলিরেখার ক্ষেত্রে সীমিত থেকে মাঝারি মাত্রার উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণা মূলত কোলাজেন পেপটাইড সাপ্লিমেন্ট নিয়ে, গরুর চামড়া নিয়ে নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্তনের আকৃতি, দৃঢ়তা বা ঝুলে যাওয়ার ওপর গরুর চামড়া খাওয়ার প্রভাব নিয়ে কোনো শক্তিশালী মানব গবেষণা বর্তমানে নেই। অতএব-

- "কোলাজেন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ" এটি সত্য।
- "গরুর চামড়ায় কোলাজেন আছে" এটিও সত্য।
- কিন্তু "গরুর চামড়া খেলে স্যাগি ব্রেস্ট ঠিক হয়ে যাবে"এই দাবির পক্ষে বর্তমানে গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

গরুর চামড়া একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ, কোলাজেনসমৃদ্ধ এবং অনেকের কাছে সুস্বাদু খাবার। কিন্তু এটিকে "ব্রেস্ট রি-শেপিং সুপারফুড" হিসেবে উপস্থাপন করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বর্তমানে নেই।

হলি কাউ সিরিজ এখানেই সমাপ্ত হলো, সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। এই সিরিজ থেকে আপনি কি কি শিখলেন তা অবশ্যই জানাবেন।

হলি কাউ (পর্ব-২)গরুর লেজ, পায়া, হাড়ের চারপাশের কানেকটিভ টিস্যু এবং কার্টিলেজে প্রচুর কোলাজেন থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব স...
09/06/2026

হলি কাউ (পর্ব-২)

গরুর লেজ, পায়া, হাড়ের চারপাশের কানেকটিভ টিস্যু এবং কার্টিলেজে প্রচুর কোলাজেন থাকে। পৃথিবীর প্রায় সব সংস্কৃতিতেই কোনো না কোনো নামে এই অংশগুলো দীর্ঘ সময় ধরে স্লো-কুক করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আমাদের অঞ্চলে যেমন নেহারি বা পায়া জনপ্রিয়, তেমনি ফিলিপাইনে বুলালো, ইরানে কালে পাচে, মেক্সিকোতে কালদো দে রেস, ভিয়েতনামে ফো বো, কোরিয়ায় সিওলংতাং এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে কাউফুট স্যুপ বহুকাল ধরে জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত মানুষ একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই প্রাণীর অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় অংশগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেদ্ধ করে সুস্বাদু খাবারে রূপান্তর করার লাভজনক কৌশল রপ্ত করেছে।

তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে।

নেহারি বা বোন ব্রথে কোলাজেন আছে, কিন্তু এসব খাবার খেলেই কি সেই কোলাজেন সরাসরি হাঁটু, কোমর বা জয়েন্টে গিয়ে বসে?

কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীর সেটিকে সরাসরি জয়েন্ট, ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পাঠিয়ে দেয় না। এসব খাবার হজমের পর শরীর এতে থাকা কোলাজেন বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড ও ক্ষুদ্র পেপটাইডে ভেঙে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো ব্যবহার করে।, আমাদের ইচ্ছামত নয়।

বর্তমানে "কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট" নিয়ে কিছু গবেষণায় জয়েন্ট পেইন ও ডিসকমফোর্টে সীমিত উপকারের প্রমাণ পাওয়া গেলেও নেহারি খেয়েও একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে এমন শক্ত হিউম্যান ট্রায়াল এবং এভিডেন্স এখনো নেই। তাই হাঁটুর ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা অন্যান্য জয়েন্ট সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে নেহারি বা বোন ব্রথকে দেখা বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়।

অনেকে মনে করেন নেহারি ক্যালসিয়ামের অসাধারণ উৎস!

বাস্তবে সাধারণভাবে রান্না করা নেহারি বা পায়াতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি নয় এবং এটি দুধ, দই বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত ক্যালসিয়াম উৎসের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই ক্যালসিয়ামের জন্য নেহারি খেয়ে আসলে লাভ নেই।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার।

নেহারি, পায়া বা এ ধরনের খাবার স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত হাই ক্যালরির খাবার। তাই যাদের এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি, হৃদরোগ আছে, হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি, ফ্যাটি লিভার আছে, অথবা চিকিৎসক স্যাচুরেটেড ফ্যাট সীমিত রাখতে বলেছেন, তাদের জন্য এসব খাবার নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঝূঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এর মানে এই নয় যে নেহারি বা বোন ব্রথ খারাপ খাবার। এগুলো সুস্বাদু, কালচারালি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেকের প্রিয় খাবার (আমারও)। তবে এগুলোকে "জয়েন্ট সারানোর খাবার", "ক্যালসিয়ামের ভাণ্ডার" বা "কোলাজেন থেরাপি" হিসেবে উপস্থাপন করার মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বর্তমানে নেই।

সহজ কথায়, নেহারি একটি খাবার। ওষুধ নয়।

হলি কাউ!! (পর্ব-১)কোরবানির ঈদ এলেই গরুর মাংস, চর্বি, লেজ, চামড়া এসব নিয়ে নানারকম তথ্যের ফুলঝুরি দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু...
07/06/2026

হলি কাউ!! (পর্ব-১)

কোরবানির ঈদ এলেই গরুর মাংস, চর্বি, লেজ, চামড়া এসব নিয়ে নানারকম তথ্যের ফুলঝুরি দেখা যায়। এর মধ্যে কিছু তথ্য সত্য, কিছু অর্ধসত্য, আর কিছু দাবির পেছনে এখনো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

গরুর চর্বি বা ট্যালোর কথা বলি।

অনেকেই মনে করেন গরুর চর্বি মানেই বিষ, আবার অনেকে মনে করেন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার; বাস্তবতা কিন্তু মাঝামাঝি।

গরুর চর্বি রান্নার জন্য বেশ ভালো, বিশেষত ট্রান্স-ফ্যাটের তুলনায় এটি অবশ্যই ভালো। তাই বলে গরুর চর্বিকে ওষুধের মত প্রচার করা কিংবা "সুপারফুড" বলা যায় না। কারণ এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে, যা হৃদরোগের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রিস্ক ফ্যাক্টর।

অনেকের ধারণা সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার তেল বা সরিষার তেলের তুলনায় গরুর চর্বি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই দাবিকে সমর্থন করে না। অধিকাংশ গবেষণায় দেখা যায়, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি অংশকে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট দিয়ে রিপ্লেস করলে রক্তের এলডিএল কোলেস্টেরল কমতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই বর্তমান প্রমাণের ভিত্তিতে গরুর চর্বি বা ট্যলো সয়াবিন, সূর্যমুখী বা সরিষার তেলের চেয়ে স্পষ্টভাবে ভালো এমন দাবি করা যায় না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, শুধুমাত্র "সিড অয়েল খারাপ" এই ধারণা থেকে সব রান্না গরুর চর্বি দিয়ে করা রিসার্চ এভিডেন্স অনুযায়ী সঠিক নয়‌।

গরুর চর্বি বিষও নয়, আবার ম্যাজিক-ফুডও নয়; যেকোনো খাবারের মতো এখানেও পরিমিতিবোধ গুরুত্বপূর্ণ।

হাতের লেখা, নাকি ব্রেইনের ব্যায়াম?আমার ক্লায়েন্টদের প্রতিদিন জার্নাল লিখতে হয়, ফোনে টাইপ করে নয় বরং সত্যিকারের কাগজে কল...
31/05/2026

হাতের লেখা, নাকি ব্রেইনের ব্যায়াম?

আমার ক্লায়েন্টদের প্রতিদিন জার্নাল লিখতে হয়, ফোনে টাইপ করে নয় বরং সত্যিকারের কাগজে কলম দিয়ে হাতে লিখতে হয়। অনেকে জিজ্ঞেস করেন, “টাইপ করলেই তো হয়, হাতে লেখার দরকার কী?” আসেন একটু বুঝিয়ে বলি দরকার কী।

মানুষ ফোনে যা টাইপ করে, সেটা খুব দ্রুত ভুলে যায়। কিন্তু মানুষ যখন নিজের হাতে কিছু লেখে, সেই কথাগুলো তার মাথায় একটু অন্যরকমভাবে বসে যায়। আপনি যখন হাতে লিখছেন, তখন আপনি অনেকগুলো কাজ একসাথে ধীরে ধীরে করছেন। ভাবছেন, শব্দ বেছে নিচ্ছেন, মস্তিষ্ক আর হাত একসাথে কাজ করছে।

সম্প্রতি ফ্রন্টিয়ার্স অফ হিউম্যান নিউরোসায়েন্সে পর্তুগালের একটা গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে গবেষকেরা ৬২-৯২ বছর বয়ষ্ক কিছু মানুষকে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়েছিলেন যেমন কলম দিয়ে কাগজে লাইন টানা, বাক্য কপি করা, আর শুনে শুনে বাক্য লেখা।

সাধারণ লেখার কাজগুলোতে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। কিন্তু যখন শুনে লিখতে বলা হলো, তখন যাদের কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট ছিল (অর্থাৎ চিন্তা, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক দক্ষতার সীমাবদ্ধতা বা দুর্বলতা), তারা সাধারণত লিখতে শুরু করতে একটু বেশি সময় নিয়েছেন। ধীরে লিখেছেন। তাদের লেখার স্ট্রোকও ছিল বেশি ভাঙা ভাঙা এবং কম সংগঠিত, বিশেষ করে বাক্য যত বড় ও জটিল হয়েছে।

গবেষকদের মতে, শুনে লেখা আসলে মস্তিষ্কের জন্য একধরনের মাল্টিটাস্কিং। একই সাথে শুনতে হয়, ভাষা বুঝতে হয়, শব্দকে মনে রাখতে হয়, সেটাকে লেখায় রূপ দিতে হয়, আবার হাতের নড়াচড়াও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অর্থাৎ, আমরা যখন কাগজে কলম ছুঁই, তখন শুধু হাত কাজ করে না। পুরো মস্তিষ্ক একসাথে কাজ করে।

এই কারণেই গবেষকদের একজন বলেছেন, “হাতের লেখা শুধু মোটর অ্যাক্টিভিটি নয়, এটা মস্তিষ্কের দিকে খোলা একটি জানালা।”

নিয়মিত একটু হলেও কাগজ কলমে লেখার সুযোগ হচ্ছে তো আপনার?

"সয়াবিন তেল" বা মোটাদাগে “সিড অয়েল মানেই বিষ” এই কথাটা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মনে হয় রান্নায় দুই চামচ সয়াবিন তেল ব্য...
26/05/2026

"সয়াবিন তেল" বা মোটাদাগে “সিড অয়েল মানেই বিষ” এই কথাটা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মনে হয় রান্নায় দুই চামচ সয়াবিন তেল ব্যবহার করলেই শরীরের ভেতরে সঙ্গে সঙ্গে চেরনোবিল চালু হয়ে যায়।

মজার ব্যাপার হলো, এসব কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় যত জোর গলায় প্রচার করা হয়, গবেষণায় ততটা নাটকীয় কিছু প্রমাণিত হয় না।

🔹২০১০ সালে হার্ভার্ডের গবেষক দারিউশ মোজাফারিয়ান ও তার সহকর্মীরা কয়েকটি বড় র‍্যান্ডোমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়াল একসাথে বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণাগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘসময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। একদল মানুষের ডায়েটে বাটার, প্রাণিজ চর্বি ও অন্যান্য স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে তার জায়গায় সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, কর্ন অয়েলের মতো পলি-আনস্যাচুরেটেড ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহার করা হয়। অন্যদল তুলনামূলক বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট খেতে থাকে। ফলাফল ছিল বেশ স্পষ্ট। যাদের ডায়েটে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বদলে এই ভেজিটেবল অয়েল ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি প্রায় ১৯% কম দেখা যায়।

🔹এরপর ২০১৭ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বহু বছরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল, পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা এবং মেটা-অ্যানালাইসিস বিশ্লেষণ করে একটি বড় সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করে। তারা বিশেষভাবে সেই গবেষণাগুলো বিশ্লেষণ করে যেখানে বাটার, লার্ড (গরুর চর্বি) ও অন্যান্য স্যাচুরেটেড ফ্যাটের জায়গায় স্যাফফ্লাওয়ার, সয়াবিন, কর্ন এবং ক্যানোলা অয়েলের মতো পলি-আনস্যাচুরেটেড তেল ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, এই ধরনের রিপ্লেসমেন্ট LDL কমাতে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কমাতে পারে।

🔹২০১৮ সালে আরেকটি বড় নেটওয়ার্ক মেটা-অ্যানালাইসিসে বিভিন্ন ধরনের তেল ও ফ্যাটকে একে অপরের সাথে তুলনা করা হয়। এখানে বাটার, লার্ড ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ চর্বির সঙ্গে সানফ্লাওয়ার, রেপসিড বা ক্যানোলা, সয়াবিন এবং অলিভ অয়েলের তুলনা করা হয়। গবেষকরা দেখেন, ভেজিটেবল অয়েল বিশেষ করে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ তেলগুলো সাধারণভাবে LDL ও টোটাল কোলেস্টেরল কমাতে বেশি কার্যকর। গবেষণায় কিন্তু “সিড অয়েল বনাম বিশুদ্ধ স্বাস্থ্যকর জীবন” তুলনা করা হয়নি। তুলনা করা হয়েছে মূলত স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ প্রাণিজ চর্বির সঙ্গে।

🔹২০২০ সালের "কোকরেন রিভিউ", যেটাকে সাধারণত সবচেয়ে কঠোর ও নির্ভরযোগ্য এভিডেন্স রিভিউগুলোর একটি ধরা হয়, সেখানেও একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। তারা বহু গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখেন, যখন মানুষ স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে তার জায়গায় পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ব্যবহার করেছে, তখন কার্ডিওভাসকুলার ইভেন্ট কিছুটা কমেছে। এখানে তুলনা করা হয়েছিল মূলত বাটার, প্রাণিজ চর্বি ও উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাদ্যের বিপরীতে ভেজিটেবল অয়েলভিত্তিক খাদ্যকে।

🔹২০২৪ সালের সাম্প্রতিক রিভিউগুলোতে আবারও দেখা গেছে, “ওমেগা-৬ মানেই ইনফ্লামেশন” এই ধারণার পক্ষে শক্ত মানবভিত্তিক প্রমাণ খুব দুর্বল। বরং বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটের জায়গায় আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ব্যবহার করলে LDL কমে এবং সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার প্রোফাইল খারাপ হয় না।

এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা বলি। গবেষণাগুলো কোথাও বলেনি যে “যত খুশি সিড অয়েল খান”। আবার এটাও বলেনি যে “সিড অয়েল মানেই বিষ”।

আপনি যদি প্রতিদিন ফাস্টফুড, চিপস, ডিপ ফ্রাই, অতিরিক্ত ক্যালরি আর প্রসেসড খাবার খান, তাহলে শুধু তেলের নাম বদলালেই জীবন বদলে যাবে না। অন্যদিকে রান্নায় পরিমিত পরিমাণে সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, সয়াবিন বা সরিষার তেল ব্যবহার করলেই শরীরে বিষ জমে যাচ্ছে, এমন কথার পক্ষেও শক্ত গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই।

হ্যাঁ অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল এর কিছু নিউট্রিশনাল বেনিফিট আছে যা অন্য তেলে নেই। কিন্তু সয়াবিন তেল ন্যাচারালি বিষাক্ত বা ক্ষতিকর এর শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে খাদ্যে ভেজাল, নিম্নমানের রিফাইনিং, ভুল সংরক্ষণ, বারবার অতিরিক্ত গরম করা বা অসৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া অবশ্যই আলাদা সমস্যা হতে পারে। সেটা ‘সিড অয়েল’ বিষয়ক সমস্যা না, বরং কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও অসৎ ব্যবসার সমস্যা। ভালো ব্র্যান্ড দেখে, পরিমিত পরিমাণে এবং সুবিবেচিত ব্যবহার নিশ্চিত করলেই আর ভাবনার কিছু নেই।

ভয় দেখিয়ে এটাসেটা বিক্রি করা খুব সহজ, কারণ ভয় খুব দ্রুত ছড়ায়। কিন্তু বাস্তব পুষ্টিবিজ্ঞান সাধারণত অনেক বেশি নিরস, অনেক বেশি ব্যালান্সড এবং অনেক কম নাটকীয়।

ফ্যাটি লিভার নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী জানেন?এই রোগ বিষয়ক ভুল ধারণা।কেউ ভাবেন ফ্যাটি লিভার মানেই লিভার শেষ।কেউ ভাবেন এটা...
25/05/2026

ফ্যাটি লিভার নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী জানেন?

এই রোগ বিষয়ক ভুল ধারণা।

কেউ ভাবেন ফ্যাটি লিভার মানেই লিভার শেষ।

কেউ ভাবেন এটা কোনো রোগই না।

কেউ ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন।

কেউ ১৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন।

কেউ আবার ইউটিউব দেখে “ডিটক্স ড্রিংক” খেতে শুরু করেন।

সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হলো, এর অনেকগুলোরই পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

ফ্যাটি লিভার সিরিজের শেষ পর্বে আজ আমরা কথা বলবো সবচেয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা নিয়ে।

⚠ “ফ্যাটি লিভার মানেই খুব ভয়ংকর কিছু”

প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভার অনেক ক্ষেত্রেই লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে রিভার্স করা সম্ভব। সমস্যা হলো, কেউ এটাকে অতিরিক্ত ভয় পান, আবার কেউ সম্পূর্ণ অবহেলা করেন। দুইটাই ভুল।

⚠ “শুধু মোটা মানুষদেরই ফ্যাটি লিভার হয়”

বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় লিন ফ্যাটি লিভার খুবই কমন। বাইরে থেকে রোগা দেখালেও শরীরের ভেতরে ভিসেরাল ফ্যাট এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স অনেক বেশি থাকতে পারে।

⚠ “ফল খাওয়া বন্ধ করতে হবে”

ফ্রুকটোজ শুনলেই ফল খাওয়া বন্ধ করতে হবে না।ফল আর প্রসেসড ফ্রুট জুস, ড্রিংক এক জিনিস না।

আস্ত ফলে ফাইবার, পানি এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। সমস্যা সাধারণত অতিরিক্ত লিকুইড সুগার, সফট ড্রিংকস, ফলের জুস এবং আল্ট্রাপ্রসেসড খাবার থেকে বেশি হয়।

⚠ “চটপটি, ফুচকা খেলে ফ্যাটি লিভার হয়”

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি চটপটি বা ফুচকা খেলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস A বা E হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিন্তু সরাসরি “চটপটি-ফুচকা খেলে ফ্যাটি লিভার হয়” এমন শক্ত এভিডেন্স নেই।

নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যালোরি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, ট্রান্সফ্যাট এবং চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

⚠ “ফ্যাট খেলেই ফ্যাটি লিভার হয়”

সব ফ্যাট এক না। সাম্প্রতিক গবেষণায় বারবার দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, ট্রান্সফ্যাট, চিনি এবং আল্ট্রাপ্রসেসড খাবার ফ্যাটি লিভারের বড় কারণগুলোর একটি, ফ্যাট নয়।

⚠ “ডিটক্স ড্রিংক খেলেই লিভার পরিষ্কার হয়ে যাবে”

এই দাবির পেছনে শক্ত ক্লিনিক্যাল এভিডেন্স নেই। বাস্তবে লিভার নিজেই শরীরের সবচেয়ে বড় ডিটক্সিফিকেশন অর্গান। “৩০ দিনে লিভার পরিষ্কার”, “ডিটক্স জুস”, “হারবাল ক্লিনজ” টাইপ কথাগুলোর বেশিরভাগই মার্কেটিং।

⚠ “দীর্ঘ ফাস্টিং করলেই ফ্যাটি লিভার গলে যাবে”

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যদি এর মাধ্যমে ক্যালরিক ডেফিসিট তৈরি হয়। কিন্তু প্রলংড ফাস্টিং ফ্যাটি লিভারের জন্য ইউনিভার্সালি সুপিরিয়র ট্রিটমেন্ট, এমন শক্ত এভিডেন্স এখনো নেই।

⚠ “ওষুধ খেলেই ফ্যাটি লিভার ভালো হয়ে যাবে”

বর্তমানে এমন কোনো ম্যাজিক ওষুধ নেই যা সবার ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি ঠিক করে দেয়।

সবচেয়ে শক্ত এভিডেন্স এখনো লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পক্ষেই অর্থাৎ-

• ক্যালরিক ডেফিসিট

• নিয়মিত এক্সারসাইজ

• পর্যাপ্ত ঘুম

• ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো

• সাস্টেইনেবল লাইফস্টাইল মেইনটেইন করা

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ফ্যাটি লিভার সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। তাই একদিনে “ডিটক্স” হয়েও যায় না। এটা মূলত বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া একটি মেটাবলিক সমস্যা। তাই এর সমাধানও সাধারণত ধীরে ধীরে লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমেই আসে।

এই সিরিজের কোন তথ্যটা আপনার সবচেয়ে কাজে লেগেছে, কমেন্টে জানাবেন অবশ্যই!

ধন্যবাদ!

Khan Ehsan Xeon

CPT, CNC, CSCS (ISSA) FNC (NESTA)

Mentor: Lose To Gain

ফ্যাটি লিভার কমছে না?ডায়েট করছেন, হাঁটছেন, জিমও করছেন। তারপরও রিপোর্টে ফ্যাটি লিভার ঠিক আগের মতো?সমস্যা হয়তো শুধু খাবারে...
24/05/2026

ফ্যাটি লিভার কমছে না?

ডায়েট করছেন, হাঁটছেন, জিমও করছেন। তারপরও রিপোর্টে ফ্যাটি লিভার ঠিক আগের মতো?

সমস্যা হয়তো শুধু খাবারে না।

সমস্যা হতে পারে আপনার ঘুমে।

ফ্যাটি লিভার সিরিজের ৫ম পর্বে আজ আমরা কথা বলবো ঘুম এবং স্ট্রেস নিয়ে।

গবেষণায় বারবার দেখা গিয়েছে, দীর্ঘদিন কম ঘুমানো, রাত জাগা এবং ক্রনিক স্ট্রেস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি এবং তীব্রতা বাড়ার সাথে সম্পর্কিত (Miyake et al, 2015; Kim et al, 2018)।

⚠ কম ঘুমালে কী হয়?

কম ঘুম বা রাত জাগার ফলেঃ

• কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন বাড়ে

• ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে

• অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে

• চিনি এবং জাঙ্কফুডের ক্রেভিং বাড়ে

• পেটের মেদ বাড়তে থাকে

• লিভারে নতুন করে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে

অর্থাৎ আপনি হয়তো ভাবছেন “আমি তো খুব বেশি খাই না”, কিন্তু আপনার শরীরের হরমোনাল এনভায়রনমেন্টই এমন হয়ে যাচ্ছে যেখানে ফ্যাট জমা অনেক সহজ হয়ে যায়।

⚠ রাত জাগা কেন খারাপ?

আমাদের শরীর একটি নিজস্ব ছন্দে (সার্কাডিয়ান রিদম) কাজ করে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অনিয়মিত ঘুম এবং রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার এই পুরো সিস্টেমকে বিঘ্নিত করতে পারে। এর ফলেঃ

• ইনসুলিন সেনসিটিভিটি খারাপ হতে পারে

• লেট নাইট ওভারইটিং বাড়তে পারে

• মেটাবলিজম বিঘ্নিত হতে পারে

• লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়তে পারে

⚠ স্ট্রেস কীভাবে লিভারের ক্ষতি করে?

দীর্ঘদিন স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোন দীর্ঘসময় হাই হয়ে থাকে। এর ফলেঃ

• ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়তে পারে

• পেটের মেদ বাড়তে পারে

• ইমোশনাল ইটিং বাড়তে পারে

• ঘুমের মান নষ্ট হতে পারে

• লিভারে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়তে পারে

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অনেক মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের “লাইফস্টাইল” ধীরে ধীরে প্রতিদিন লিভারের ক্ষতি করছে।

⚠ তাহলে এখন কী করতে পারি?

• প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন

• রাত ১০-১১টার মধ্যে ঘুমাতে যান

• রাত জাগা কমান

• বিকেলের পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমান

• দিনে কিছু সময় উন্মুক্ত পরিবেশে হাঁটা বা রোদে থাকার চেষ্টা করুন

• দীর্ঘদিনের স্ট্রেস থাকলে মেডিটেশন বা ব্রিদিং এক্সারসাইজের সাহায্য নিতে পারেন

• মানসিক অস্থিরতা বা সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ফ্যাটি লিভার শুধু খাবারের সমস্যা না। এটি পুরো লাইফস্টাইলের সাথে জড়িত একটি মেটাবলিক কন্ডিশন।

অনেক মানুষ ডায়েট ঠিক করেন, জিম শুরু করেন, কিন্তু প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে এবং সারাক্ষণ স্ট্রেসে থেকে যান। তখন শরীরের ভেতরের মেটাবলিক বিশৃঙ্খলা পুরোপুরি ঠিক হতে চায় না।

ফ্যাটি লিভার সিরিজের আগামী পর্বে থাকছে এই বিষয়ক প্রচলিত ভুল ধারণা এবং বিভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা।

ফ্যাটি লিভারে এক্সারসাইজ পর্বের সামারি :
24/05/2026

ফ্যাটি লিভারে এক্সারসাইজ পর্বের সামারি :

ফ্যাটি লিভারের এক্সারসাইজ!ফ্যাটি লিভার সিরিজের ৪র্থ পর্বে আজ আমরা জানবো ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে কী ধরনের এক্সারসাই...
23/05/2026

ফ্যাটি লিভারের এক্সারসাইজ!

ফ্যাটি লিভার সিরিজের ৪র্থ পর্বে আজ আমরা জানবো ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে কী ধরনের এক্সারসাইজ সবচেয়ে কার্যকর। তার আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি।

গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, শুধু ডায়েটের চেয়ে “ডায়েট + এক্সারসাইজ” লিভারের চর্বি অনেক বেশি কমায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক্সারসাইজ শরীরের ওজন যেমন না কমিয়েও লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত একাধিক বড় রিসার্চ অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, নিয়মিত এক্সারসাইজ লিভার ফ্যাট কমাতে কার্যকর, এমনকি ডায়েট বদলানো ছাড়াই।

🔸কি ধরণের এক্সারসাইজ করবো?

🔹কার্ডিও এক্সারসাইজঃ গবেষণায় দেখা গেছে (Zhang et al, 2016; Hashida et al, 2023), সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট এবং বিশেষ করে ২০০-২৫০ মিনিট মডারেট টু হাই ইন্টেনসিটি কার্ডিও নিয়মিতভাবে করলে লিভারের ফ্যাট উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরের মোট ওজন খুব বেশি না কমলেও MRI স্ক্যানে লিভারের ফ্যাট প্রায় ৩০-৪০% পর্যন্ত কমতে দেখা গেছে।

মডারেট-টু-হাই ইনটেনসিটি কার্ডিও করার সময় স্কেলেটাল মাসলগুলো রক্ত থেকে দ্রুত গ্লুকোজ এবং ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে, ভিসেরাল ফ্যাট কমে এবং লিভারের ওপর জমে থাকা অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

🔹রেজিস্ট্যান্স এক্সারসাইজঃ গবেষণায় দেখা গেছে (Shamsoddini et al, 2015; Keating et al, 2012), সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিং করলে লিভারের ফ্যাট, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ভিসেরাল ফ্যাট উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, এমনকি বড় ধরনের ওজন হ্রাস ছাড়াও।

এর কারণ হলো, আমাদের স্কেলেটাল মাসল শরীরের সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে। রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে মাসলের পরিমাণ এবং কার্যক্ষমতা বাড়লে শরীর রক্ত থেকে আরও বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে। ফলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত হয় এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও ফ্যাট জমার চাপ কমতে শুরু করে।

🔹HIIT এক্সারসাইজঃ গবেষণায় দেখা গেছে (Hallsworth et al, 2015; Winn et al, 2018), এধরণের এক্সারসাইজ লিভারের ফ্যাট, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ভিসেরাল ফ্যাট কমাতে কার্যকর হতে পারে।

HIIT এর সময় শরীর অল্প সময়ের জন্য খুব উচ্চ এনার্জি ডিমান্ডে চলে যায়, ফলে ফ্যাট অক্সিডেশন এবং ক্যালোরি বার্ন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া এই ধরনের এক্সারসাইজের পরেও কয়েক ঘণ্টা শরীরের ক্যালোরি খরচ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, HIIT সবার জন্য উপযুক্ত না। যাদের অতিরিক্ত ওজন, জয়েন্টের সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত হাই ব্লাড প্রেশার বা এক্সারসাইজের অভ্যস্ততা নেই তাদের এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

🔸🔹তাহলে বেস্ট এপ্রোচ কী?🔹🔸

বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী কার্ডিও এবং রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিং দুটোই ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে কার্যকর। তবে এই দুই ধরনের এক্সারসাইজ ভিন্ন ভিন্ন মেকানিজমে কাজ করে এবং একসাথে করলে আরও ভালো কার্যকর ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। কার্ডিও মূলত এনার্জি এক্সপেন্ডিচার এবং ফ্যাট অক্সিডেশন বাড়ায়, অন্যদিকে রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিং পেশীর মেটাবলিক ক্যাপাসিটি এবং গ্লুকোজ গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত করে। অতএব, ফ্যাটি লিভারের জন্য কার্ডিও এবং রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিংয়ের কম্বিনেশনই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর অ্যাপ্রোচ।

💥তাহলে এখন কি করতে পারি?💥

- কার্ডিও হিসেবে সপ্তাহে ২০০-২৫০ মিনিট অর্থাৎ গড়ে রোজ ৩০-৩৫ মিনিট জোরে হাঁটা, জগিং, সাঁতার, সাইক্লিং, এলিপটিক্যাল/ক্রসট্রেইনার, স্কিপিং কিংবা রানিং।

- কার্ডিওর পাশাপাশি সপ্তাহে কমপক্ষে ৩দিন ফুল বডি রেজিস্ট্যান্স ট্রেইনিং বা ওয়েট লিফটিং; এই সেকশনে ৮-১২ রিপিটিশনের ২-৪ সেট করে স্কোয়াট, লাঞ্জ, ডেডলিফট, রোইং, চেস্ট প্রেস, লেগ প্রেস, ল্যাট পুলডাউন, কাফ রেইজ, পুশআপ এবং শোল্ডার প্রেস করা।

আগমী পর্বে আমরা জানবো ফ্যাটি লিভার কন্ডিশনে ঘুম, স্ট্রেস, রাত জাগা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।

ডায়েট ঠিক আছে, তবুও ওজন কেন উঠানামা করছে?আপনি প্রতিদিন ডায়েট মেনে চলছেন, সপ্তাহে ৬ দিন ওয়েট লিফটিং করছেন এবং প্রতিদিন ...
21/05/2026

ডায়েট ঠিক আছে, তবুও ওজন কেন উঠানামা করছে?

আপনি প্রতিদিন ডায়েট মেনে চলছেন, সপ্তাহে ৬ দিন ওয়েট লিফটিং করছেন এবং প্রতিদিন ১০ হাজার স্টেপ হাটছেন। কিন্তু প্রোগ্রেস নিয়ে খুশি নন, কারণ ওয়েট স্কেল প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন ওজন দেখাচ্ছে। আপনি হতাশ হয়ে পড়ছেন এবং রুটিনটি ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন।

⁉️১. ওজনের এই ওঠানামা কি স্বাভাবিক?

- হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। শরীরের ওজন প্রতিদিন একই থাকে না। খাবার, পানি, ঘুম, হরমোনসহ বিভিন্ন কারণে ওজন সাময়িকভাবে কম-বেশি হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ওজন দেখে হতাশ না হয়ে পুরো সপ্তাহের গড় ওজন দেখাই সবচেয়ে ভালো।

✅ওজন ওঠানামার সাধারণ কারণগুলো হলোঃ

• কনস্টিপেশন বা পেট পরিষ্কার না হওয়া

• পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

• আগের দিন অতিরিক্ত লবণ বা কার্ব ইন্টেক

• শরীরে পানির পরিমাণ কম-বেশি হওয়া

• মানসিক চাপ ও হরমোনাল পরিবর্তন

• পিরিয়ডের সময় শরীরে পানি ধরে রাখা

✅ তাই প্রতিদিনের সংখ্যা নয়, বরং সাপ্তাহিক প্রোগ্রেস দেখুন।

⁉️২.ওয়েট স্কেল কি একাই প্রোগ্রেসের মাপকাঠি? না। ফিটনেস প্রোগ্রেস বোঝার আরও অনেক উপায় আছে-

ফিটনেস জার্নিতে অনেক বিষয় ভূমিকা রাখে এবং সময়ের সাথে সাথে ওয়েট স্কেলের সংখ্যাটি কেবল একটি সংখ্যায় পরিণত হয়। আপনার প্রোগ্রেস মূল্যায়ন করতে ফিটনেসের সব দিকে মনোযোগ দিন:

▪️বডি মেজারমেন্ট (কোমর ও পেট ) চেক করুন। ওজন না কমলেও ইঞ্চি কমা মানেই আপনি ফ্যাটলস করছেন।

▪️শারীরিক গঠনে পরিবর্তন -প্রোগ্রেস দেখার জন্য ছবি তুলুন, কাপড়ের ফিটিং কেমন হচ্ছে তা খেয়াল করুন।

▪️বডি ফ্যাট পার্সেন্টেজ মাপা-সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্কিনফোল্ড ক্যালিপার ব্যবহার করা।

▪️আগের চেয়ে বেশি ওজন তুলতে পারছেন কি না (Strength) বা দীর্ঘক্ষণ এক্সারসাইজ করতে পারছেন কি না (Endurance) তা দেখুন।

▪️শরীরের নমনীয়তা (Flexibility)-শরীর আগের চেয়ে সহজভাবে মুভ করতে পারছে কি না তা খেয়াল করুন।

✅মনে রাখবেন ফিটনেস কোনো রাতারাতি পরিবর্তনের বিষয় নয়। ধৈর্য ধরুন এবং আপনার প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমের ছোট ছোট প্রোগ্রেস এঞ্জয় করুন!

রেফারেন্স-
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5506524/⁠
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5409798/

Address


Opening Hours

Monday 09:30 - 20:00
Tuesday 09:30 - 20:00
Wednesday 09:30 - 20:00
Thursday 09:30 - 20:00
Saturday 09:30 - 20:00
Sunday 09:30 - 20:00

Telephone

+8801786929256

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lose To Gain - লুজ টু গেইন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Lose To Gain - লুজ টু গেইন:

Shortcuts

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share