19/10/2025
নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলী-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবেন না, তারাই সফলকামঃ
❏ ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত।
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺯُﻫَﻴْﺮُ ﺑْﻦُ ﺣَﺮْﺏٍ، ﻭَﻋُﺜْﻤَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺷَﻴْﺒَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺎ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﺮِﻳﺮٌ، ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺎﺭَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻘَﻌْﻘَﺎﻉِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺯُﺭْﻋَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺟَﺮِﻳﺮٍ، ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦَ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺄُﻧَﺎﺳًﺎ ﻣَﺎ ﻫُﻢْ ﺑِﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀَ، ﻭَﻟَﺎ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀَ ﻳَﻐْﺒِﻄُﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ، ﺑِﻤَﻜَﺎﻧِﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺗُﺨْﺒِﺮُﻧَﺎ ﻣَﻦْ ﻫُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : ﻫُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﺗَﺤَﺎﺑُّﻮﺍ ﺑِﺮُﻭﺡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﺭْﺣَﺎﻡٍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ، ﻭَﻟَﺎ ﺃَﻣْﻮَﺍﻝٍ ﻳَﺘَﻌَﺎﻃَﻮْﻧَﻬَﺎ، ﻓَﻮَﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﻭُﺟُﻮﻫَﻬُﻢْ ﻟَﻨُﻮﺭٌ، ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻧُﻮﺭٍ ﻟَﺎ ﻳَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺧَﺎﻑَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺰِﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻭَﻗَﺮَﺃَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺂﻳَﺔَ } ﺃَﻟَﺎ ﺇِﻥَّ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ { [ ﻳﻮﻧﺲ : ٦٢ ]
ﺻﺤﻴﺢ ﺑَﺎﺏٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮَّﻫْﻦِ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’ (সূরা ইউনুসঃ ৬২)
➠[সুনানে আবু দাউদ,কিতাবুল ইজারা, হাদীস নং-৩৫২৭]
❏ ‘হজরতে ইবনে উমর (رضي الله عنه) হতে বর্নিত,
- حدثنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الزاهد الأصبهاني ، ثنا أحمد بن يونس الضبي ، بأصبهان ، ثنا أبو بدر شجاع بن الوليد ، قال : سمعت زياد بن خيثمة ، يحدث عن أبيه ، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم : " إن لله عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الشهداء والنبيون يوم القيامة لقربهم من الله تعالى ومجلسهم منه " فجثا أعرابي على ركبتيه ، فقال : يا رسول الله ، صفهم لنا وحلهم لنا . قال : " قوم من أقناء الناس من نزاع القبائل تصادقوا في الله وتحابوا فيه ، يضع الله عز وجل لهم يوم القيامة منابر من نور يخاف الناس ولا يخافون ، هم أولياء الله عز وجل الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون
নবীজী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যদার ও সেখানে তাদের মজলিশের কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অতঃপর একজন বেদুইন আদবের সহিত হাটুগেড়ে বসলেন এবং বললেন ইয়া রসুলুল্লাহ (ﷺ)! আমাদেরকে তাদের কিছু বর্ণনা দিন এবং আমাদেরকে তাদের পরিচয় দান করুন। ইরশাদ করেন, সংগ্রামী গোষ্ঠী গুলির ভরসা প্রাপ্ত জনগনের মধ্যে থেকে এক দল আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতা স্থাপন করে ও তাঁর সাথে মুহাব্বত করে। আল্লাহ আযযাওয়াজাল কিয়ামতের দিনের তাদের জন্য নূরের মিম্বার স্থাপন করবেন। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। আল্লাহর অলীদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নন।"
➠[হাকিম আল মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৩৯৮,ইমাম হাকিম বলেন, هذا حديث صحيح الإسناد](বর্ণনাটি সত্য)
অলীগণের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভঃ
❏ যখন মু'মিন (ওলীগণ) এই দৃশ্যটি অবলোকন করবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই নাজাত পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করত, রোযা পালন করত, নেক কাজ করত। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে বলবেনঃ তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দীনার বরাবর ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ তাআলা তাদের মুখমন্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু'পা ও দু'পায়ের গোরালীর অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে (আবার সুপারিশ করবেন)।
আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) বলেনঃ তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বানীটি পড়ঃ
"আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। এবং অণু পরিমান পূণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন (সূরা ৪ : আয়াত ৪০)।
❏ সাহল ইবনু সা‘দ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيَدْخُلَنَّ مِنْ أُمَّتِيْ سَبْعُوْنَ أَلْفًا أَوْ سَبْعُ مِائَةِ أَلْفٍ لَا يَدْخُلُ أَوَّلُهُمْ حَتَّى يَدْخُلَ آخِرُهُمْ وُجُوْهُهُمْ عَلَى صُوْرَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ
নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক অথবা সাত লক্ষ লোক একই সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কেউ আগে কেউ পরে এভাবে নয়, আর তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল থাকবে।
➠[সহিহ মুসলিম, কিতাব বাদআল খালক, হাদীস নং-৬৫৪৩,৬৫৫৪]