সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার ভেদ

সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার ভেদ নিজ স্বরুপে আমি মুহিত

নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলী-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবেন না, তারাই সফলকামঃ❏ ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) স...
19/10/2025

নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলী-আউলিয়াদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত ও হবেন না, তারাই সফলকামঃ

❏ ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত।

ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺯُﻫَﻴْﺮُ ﺑْﻦُ ﺣَﺮْﺏٍ، ﻭَﻋُﺜْﻤَﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺷَﻴْﺒَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺎ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﺮِﻳﺮٌ، ﻋَﻦْ ﻋُﻤَﺎﺭَﺓَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﻘَﻌْﻘَﺎﻉِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺯُﺭْﻋَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺟَﺮِﻳﺮٍ، ﺃَﻥَّ ﻋُﻤَﺮَ ﺑْﻦَ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺄُﻧَﺎﺳًﺎ ﻣَﺎ ﻫُﻢْ ﺑِﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀَ، ﻭَﻟَﺎ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀَ ﻳَﻐْﺒِﻄُﻬُﻢُ ﺍﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀُ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ، ﺑِﻤَﻜَﺎﻧِﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺗُﺨْﺒِﺮُﻧَﺎ ﻣَﻦْ ﻫُﻢْ، ﻗَﺎﻝَ : ﻫُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﺗَﺤَﺎﺑُّﻮﺍ ﺑِﺮُﻭﺡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻠَﻰ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﺭْﺣَﺎﻡٍ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ، ﻭَﻟَﺎ ﺃَﻣْﻮَﺍﻝٍ ﻳَﺘَﻌَﺎﻃَﻮْﻧَﻬَﺎ، ﻓَﻮَﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﻭُﺟُﻮﻫَﻬُﻢْ ﻟَﻨُﻮﺭٌ، ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻧُﻮﺭٍ ﻟَﺎ ﻳَﺨَﺎﻓُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺧَﺎﻑَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺰِﻥَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻭَﻗَﺮَﺃَ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺂﻳَﺔَ } ﺃَﻟَﺎ ﺇِﻥَّ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﺎ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﻫُﻢْ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَ { ‏[ ﻳﻮﻧﺲ : ٦٢ ‏]

ﺻﺤﻴﺢ ﺑَﺎﺏٌ ﻓِﻲ ﺍﻟﺮَّﻫْﻦِ

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদার কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর আমাদের অবহিত করুন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা ঐ সব লোক যারা আল্লাহর মহানুভবতায় পরস্পরকে ভালোবাসে, অথচ তারা পরস্পর আত্মীয়ও নয় এবং পরস্পরকে সম্পদও দেয়নি। আল্লাহর শপথ! তাদের মুখমন্ডল যেমন নূর এবং তারা নূরের আসনে উপবেশন করবে। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। তারা দুশ্চিন্তায় পড়বে না, যখন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকবে। তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ ‘‘জেনে রাখো! আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’’ (সূরা ইউনুসঃ ৬২)

➠[সুনানে আবু দাউদ,কিতাবুল ইজারা, হাদীস নং-৩৫২৭]

❏ ‘হজরতে ইবনে উমর (رضي الله عنه) হতে বর্নিত,

- حدثنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الزاهد الأصبهاني ، ثنا أحمد بن يونس الضبي ، بأصبهان ، ثنا أبو بدر شجاع بن الوليد ، قال : سمعت زياد بن خيثمة ، يحدث عن أبيه ، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم : " إن لله عبادا ليسوا بأنبياء ولا شهداء يغبطهم الشهداء والنبيون يوم القيامة لقربهم من الله تعالى ومجلسهم منه " فجثا أعرابي على ركبتيه ، فقال : يا رسول الله ، صفهم لنا وحلهم لنا . قال : " قوم من أقناء الناس من نزاع القبائل تصادقوا في الله وتحابوا فيه ، يضع الله عز وجل لهم يوم القيامة منابر من نور يخاف الناس ولا يخافون ، هم أولياء الله عز وجل الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون

নবীজী (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মাঝে এমন কিছু লোক আছে যারা নবী নন এবং শহীদও নয়। কিয়ামাতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যদার ও সেখানে তাদের মজলিশের কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অতঃপর একজন বেদুইন আদবের সহিত হাটুগেড়ে বসলেন এবং বললেন ইয়া রসুলুল্লাহ (ﷺ)! আমাদেরকে তাদের কিছু বর্ণনা দিন এবং আমাদেরকে তাদের পরিচয় দান করুন। ইরশাদ করেন, সংগ্রামী গোষ্ঠী গুলির ভরসা প্রাপ্ত জনগনের মধ্যে থেকে এক দল আল্লাহর সাথে ঘনিষ্টতা স্থাপন করে ও তাঁর সাথে মুহাব্বত করে। আল্লাহ আযযাওয়াজাল কিয়ামতের দিনের তাদের জন্য নূরের মিম্বার স্থাপন করবেন। তারা ভীত হবে না, যখন মানুষ ভীত থাকবে। আল্লাহর অলীদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নন।"

➠[হাকিম আল মুস্তাদরাক, হাদীস নং-৭৩৯৮,ইমাম হাকিম বলেন, هذا حديث صحيح الإسناد](বর্ণনাটি সত্য)

অলীগণের সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভঃ

❏ যখন মু'মিন (ওলীগণ) এই দৃশ্যটি অবলোকন করবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই নাজাত পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করত, রোযা পালন করত, নেক কাজ করত। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে বলবেনঃ তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দীনার বরাবর ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ তাআলা তাদের মুখমন্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দু'পা ও দু'পায়ের গোরালীর অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করবে (আবার সুপারিশ করবেন)।

আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার প্রত্যাবর্তন করবে। আল্লাহ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পাবে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) বলেনঃ তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহর এ বানীটি পড়ঃ

"আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। এবং অণু পরিমান পূণ্য কাজ হলেও আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন (সূরা ৪ : আয়াত ৪০)।

❏ সাহল ইবনু সা‘দ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِيْ بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِيْ حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيَدْخُلَنَّ مِنْ أُمَّتِيْ سَبْعُوْنَ أَلْفًا أَوْ سَبْعُ مِائَةِ أَلْفٍ لَا يَدْخُلُ أَوَّلُهُمْ حَتَّى يَدْخُلَ آخِرُهُمْ وُجُوْهُهُمْ عَلَى صُوْرَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ

নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক অথবা সাত লক্ষ লোক একই সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের কেউ আগে কেউ পরে এভাবে নয়, আর তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল থাকবে।

➠[সহিহ মুসলিম, কিতাব বাদআল খালক, হাদীস নং-৬৫৪৩,৬৫৫৪]

একজন শিষ্যের কর্তব্য কি গুরুর প্রতি।দায়িত্ব পালনে সবাইকে ফাঁকি দেয়া যায়, কিন্তু গুরুকে ফাঁকি দেয়া যায় না। তিনি সব কিছুই ...
28/09/2025

একজন শিষ্যের কর্তব্য কি গুরুর প্রতি।

দায়িত্ব পালনে সবাইকে ফাঁকি দেয়া যায়, কিন্তু গুরুকে ফাঁকি দেয়া যায় না। তিনি সব কিছুই জানেন। সবই তাঁর নখদর্পণে, কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই। তিনি গোপন-প্রকাশ্য সর্ববিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। কি করছি, শুধু তা-ই যে দেখছেন তা নয়, কি চিন্তা করছি তাও তিনি দেখছেন। শিষ্য কোন অবসস্থাতেই গুরুর দৃষ্টির বাইরে নয়। কখনোই এমন হয় না যে, গুরু শিষ্যকে দেখেন না কিংবা তার চিন্তা প্রবাহে কি চলছে তা জানেন না। এমনকি আমি যতটুকু আমাকে দেখি তার থেকে আমাকে তিনি বেশি দেখেন। আমি আমাকে যতটুকু চিনি গুরু তা থেকে বেশি আমাকে চিনেন। তাই তিনি গুরু। তাই তাঁর বিচার সঠিক ও তাৎপর্যমন্ডিত।
দায়িত্ব পালন করতে কিছু কষ্ট ও ক্ষতি স্বীকার করতেই হয়। কষ্ট ও ক্ষতির পরই মানুষ বিনয়ী ও জ্ঞানী হয়। কষ্ট ব্যতীত কোন সফলতাই মানুষ অর্জন করতে পারে না। পার্থিব জীবনে মানুষের যেসব আশা-আকাঙ্খা ও চাওয়া পাওয়া রয়েছে তা পূরণ করতে হলেও কষ্ট করতে হয়। খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মানুষকে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তা যে সব সময় করতে ভালো লাগে তাও নয়। তবু বাধ্য হয়েই মানুষকে কাজ করতে হয়। গুরু দায়িত্ব পালনে যত কষ্টই হোক না কেন শিষ্যের কাছে তা অতি ক্ষুদ্র। বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট ও ক্ষতি সবই আনন্দের। শিষ্য কোন প্রতিকূলতায় মুষড়ে পড়ে না, হতাশ হয় না। শিষ্য গুরু দায়িত্ব পালনে হোঁচট খায় কিন্তু আবার উঠে দাঁড়ায় দৃঢ প্রত্যয়ে। সাধনার পথে প্রতিবন্ধকতা আসবেই, সবাই আঘাত করবে, ধাক্কা দেবে কিন্তু হেরে গেলে চলবে না! আবার উঠে দাঁড়াতে হবে, কষ্ট ও ক্ষতিকে সঙ্গী করেই দৌড়াতে হবে।
ছোট এক ডাঁশপোকা ষাঁড়ের শিংয়ের গোড়ায় বসে কষে রক্ত চুষে খেলো। অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকতে কি আর ভালো লাগে? চঞ্চল হয়ে উঠলো ডাঁশ পোকা। যাবার আগে ষাঁড়কে ঠাট্টা করে সে বলল, ‘তুমি কি চাও আমি এখন চলে যাই?’ ষাঁড় অবজ্ঞা ভরে জবাব দিল -‘তুমি কখন এসে বসেছ তা আমি লক্ষ্যই করি নি। সুতরাং, তুমি গেলেও সেটা আমার লক্ষ্য করার কথা না।’ যাদের থাকা না থাকায় কারোর কিছু যায় আসে না তাদের থেকেই বা কি? গেলেই বা কি?
পৃথিবী ডাঁশপোকার মতো মানুষ চায় না। পৃথিবী সামনের সারিতে বসে থাকা বিড়ালদের পছন্দ করে না। পৃথিবী চায় পেছনের সারি থেকে কেউ একজন ওঠে আসুক বাঘের মতো হুঙ্কার দিয়ে। জাগ্রত করুক কামনার ঘোরে তন্দ্রাচ্ছন্ন মানুষকে। এই কাজটি যারা করে তাদেরকে কষ্ট ও ক্ষতি তো স্বীকার করতেই হয়। গুরু দায়িত্ব পালনে পরিশ্রম করতেই হবে। জীবন কোন ফুলেল শয্যা নয়। - এটি জানা থাকলে পরিশ্রমের কষ্ট অর্ধেক কমে যায়। তবে দায়িত্ব পালনে সঙ্ঘের যে বিষ্ময়কর প্রভাব রয়েছে তা অনস্বীকার্য। মানুষ খুব সহজেই সঙ্ঘ দ্বারা প্রভাবিত হয়। যারা গুরু আদিষ্ট কর্মে রত এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত তারা সত্যসঙ্ঘে থাকলে কষ্ট ও ক্ষতি স্বীকারে উদ্বুদ্ধ হবেই।
গুরুর প্রতি সার্বক্ষণিক কৃতজ্ঞ থাকা শিষ্যের কর্তব্য। প্রতিটি কর্ম শুরু করার আগেই গুরুর স্মরণ নিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলার আগেই আমরা কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি কারণ বেঁচে আছি। ঘুমানোর আগে কৃতজ্ঞতা জানাতে পারি আমার জন্য বিগত দিনটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো বলে। যে সব শক্তি আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে সেগুলোর দিকে সতর্ক হলেই আমরা কৃতজ্ঞতা জানাতে পারবো। আমি সুস' আছি, এখনো বেঁচে আছি, খেতে পারছি, ঘুমোতে পারছি, দেখতে পারছি, শুনতে পারছি, শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছি, আমার হৃদপি- দেহের প্রতি শিরায় শিরায় পৌঁছে দিচ্ছে রক্ত, শরীর রক্ত উৎপাদন করছে, দূষিত রক্ত বের করে দিচ্ছে, মস্তিষ্ক কাজ করছে, আমি চিন্তা করতে পারছি, চিন্তার সাগরে ডুবে থাকতে পারছি, আর কি চাই জীবনে? গুরুর কোন্ করুণাকে আমি অস্বীকার করবো? আর কি পেলে আমি কৃতজ্ঞ হবো?
যে কৃতকে জানে সে কৃতজ্ঞ। যা করা হয়েছে তাকে যে জানে সেই কৃতজ্ঞ হতে পারে। কিন্তু সামাজিক ব্যবহারে শব্দটির অর্থ দাঁড়িয়েছে উপকারীর উপকার স্বীকার করা। জীবনে যা ইতোমধ্যে পেয়েছি তার জন্য কৃতজ্ঞ না হলে যা পাবো তার জন্যে আমরা কৃতজ্ঞ হতে পারবো না। কৃতজ্ঞতা সে-ই জানাতে পারে যা পায়নি তার জন্য যে হা-হুতাশ করে না কিন্তু যা পেয়েছে তার জন্য আনন্দ করে। অন্যদিকে, আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত কারণ আমরা জীবনে যা যা চেয়েছি তার অধিকাংশই পাইনি। কারণ, আমরা তো চাইতে জানি না। গুরু আমাকে যা দিয়েছেন তাই ছিল আমার প্রাপ্য। গুরুর কাছে কি চাইবো? কেন চাইবো? গুরুই তো জানেন আমার কি প্রয়োজন। দুঃখ যেমন গুরুর কাছ থেকে আসে তেমনি আনন্দও আসে তাঁরই কাছ থেকে। ব্যাধি তাঁর কাছ থেকেই আসে আবার তিনিই পথ্য, তিনিই ওষুধ। তিনিই সর্প হয়ে দংশন করেন আবার তিনিই ওঝা হয়ে বিষ মুক্ত করেন। কোন আপত্তি না করে যেন গ্রহণ করতে পারি গুরুর সব দান এই তো চাওয়া। সবই তাঁর এই চেতনায় যেন অটল থাকতে পারি। সুখে-দুঃখে, আনন্দে, মিলনে, বিরহে, আবেগে, উচ্ছ্বাসে, উত্তেজনায় যেন তাঁকে দেখতে পাই। পথ হারিয়ে ফেললে যেন শুনতে পাই তাঁর পদধ্বনি। তাঁকে অনুসরণ করে যেন হাঁটতে পারি জীবন চলার অজানা অচেনা বন্ধুর পথে, নিশ্চিন্তে।
বস্তু জগতের চাওয়া পাওয়ার আবর্তে চিন্তার জগতটি দূষিত হয়ে গেলে আর কৃতজ্ঞ থাকা যায় না। তখন কেবল ভোগ্য বস্তুর চিন্তা আবৃত করে কৃতজ্ঞতার মানস। ভালো-মন্দের জ্ঞান থাকে না। শুধু চাই আর চাই। এ অবসস্থা চলতে দিলে চিন্তা আরো বেশি দূষিত হতে থাকে। অবশেষে চাওয়া-পাওয়াই ঘিরে ফেলে চিন্তার জগতটিকে। চিন্তাকে শুদ্ধ করতে হলে তাই গুরুর স্মরণ আবশ্যক। গুরুর স্মরণ হলে চাওয়া-পাওয়ার বৃত্তের দিকে ঝোঁক কমে যাবে, দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমে যাবে। তখন গুরুর কর্মবৃত্তে প্রবেশে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। চিন্তাকে পরিচ্ছন্ন করার যন্ত্র হলো গুরুর স্মরণ। যে কোন অবসস্থায় গুরুর স্মরণ নেয়া যায়। স্মরণের জন্য কোন বিশেষ সময় বা বিশেষ আসন বেছে নিতে হয় না। স্মরণের কোন সীমা পরিসীমা নেই। যতক্ষণ জ্ঞানকেন্দ্র কাজ করে ততক্ষণ স্মরণ নিতে কোন অসুবিধা নেই। ভ্রমনে বা বিশ্রামে, ঘরে কিংবা বাহিরে, জলে কিংবা স'লে, রাতে কিংবা দিনে সর্বাবসস্থায় গুরুর স্মরণ চাই। শিষ্য যখন গুরুকে স্মরণ করে তখন গুরুও শিষ্যকে স্মরণ করেন। গুরুর স্মরণ ব্যতীত কোন সৎ কাজই সৎ নয়। যে কাজে গুরুর স্মরণ থাকে না তা ভালো হলেও তাতে আত্মস্বার্থ কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থ জড়িত থাকে। গুরুর স্মরণের জন্য কোন কায়িক পরিশ্রম করতে হয় না। যে কোন কাজে রত থেকেও তাঁকে স্মরণে রাখা যায়। কর্মে স্মরণের প্রভাব এতো ব্যাপক যে, স্মরণের মাধ্যমে সকল কর্মের গুণগত মান পরিবর্তন করা যায়। গুরুর স্মরণে যে কোন পার্থিব কাজ করলেও তা গুরুরই কাজ। সর্বক্ষণ গুরুর স্মরণে থাকলে সকল কর্মই শুদ্ধ হবে। যে কাজে গুরুর অনুমোদন নেই বা যা তিনি পছন্দ করেন না সেই সব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আন্তরিক তাগিদ সৃষ্টি হবে। আহার গ্রহণ করা, ঘরে প্রবেশ করা, ঘর থেকে বাহির হওয়া, যে কোন কাজের শুরু ও শেষে গুরুর স্মরণ নেওয়া চাই। শিষ্য কখনো গুরুর স্মরণে অমনোযোগী হয় না। কোন বিশেষ সময়ে নয় বরং সর্বক্ষণই শিষ্য গুরুর প্রতি আকৃষ্ট, গুরুর স্মরণে সিক্ত ও স্নাত। গুরুর স্মরণে যে জ্ঞান লাভ হয় তা-ই গুরু জ্ঞান বা আত্মিক জ্ঞান। এই জ্ঞান কোন শাস্ত্রে পাওয়া যায় না। গ্রন্তু পাঠে মানুষ বিদ্যান হয় কিন্তু জ্ঞানী হয় না। আত্মিক জ্ঞানে মানুষ জ্ঞানবান হয়। কিন্তু জ্ঞানী কেবল গুরু। জ্ঞান আসে কেবল গুরুর কাছ থেকে। কিন্তু বিদ্যা মানুষ অর্জন করতে পারে নানা তথ্যের সংগ্রহে।শিষ্যের সবই গুরুর সেখান থেকে গুরু কিছু নিলে সেটা গুরুর বস্তুতো গুরুই নিলো।(সংগ্রহ)

তার আসল নাম ছিল সোলেমান এবং তিনি বগদাদ থেকে এসেছিলেন। শাহ জালাল বগদাদ শহরের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায়, যেটি হুলা...
28/09/2025

তার আসল নাম ছিল সোলেমান এবং তিনি বগদাদ থেকে এসেছিলেন। শাহ জালাল বগদাদ শহরের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানা যায়, যেটি হুলাগু খান শাসিত মঙ্গোল সাম্রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ইলখানাতের দখলে ছিল। [৫][৬]

১৩০৩ খ্রীষ্টাব্দে, শাহ সোলেমান বগদাদী সাহেব শাহ জালালের অধীনে শ্রীহট্ট বিজয়ে অংশগ্রহণ করেন। [৭][৮] বিজয়ের পরপরই, সুলতান শমসুদ্দিন ফিরুজ শাহের সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্দিনের নেতৃত্বে তুঙ্গাচল দখল করতে যে ১২ আউলিয়াকে পাঠানো হয়েছিল তাদের মধ্যে শাহ সোলেমান বগদাদী ওরফে ফতেহ গাজী একজন ছিলেন। রাজা আচক নারায়ণ তার পরিবার নিয়ে মথুরায় পালিয়ে যান। তার পরাজয়ের পর তুঙ্গাচলের নাম বদলিয়ে তরফ রাখা হয় এবং মুসলিম বাংলায় যুক্ত করা হয়।[৯]

শাহ সোলেমান বগদাদী ওরফে ফতেহ গাজী বেজোড়া পরিদর্শন করার পর,[১০] রঘুনন্দন পাহাড়ের কাছাকাছি একটি গাঁয়ে বসতি স্থাপন করেন,[১১] যেখানে তিনি তার নিজস্ব চিল্লাখানা কায়েম করেন।[১২][১৩] তাঁর নামানুসারে গাঁয়ের নামকরণ করা হয় ফতেপুর (বর্তমানে শাহজীবাজার, মাধবপুর)।[১৪] তিনি তার দুই ভাগ্নে দ্বারা বসতি স্থাপন করেছিলেন; আহমদ গাজী ও মসুদ গাজী। [১৫] এই তিনজন আউলিয়াকে শাহজীবাজার রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি দরগাহে একে অপরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। [১৬][১৭] তার উরুস ডিসেম্বর মাসে লাখ ইনসানের দ্বারা পালিত হয়,[১৮] আজও,[১৯] দরগাহ-ই-হযরত শাহ সোলেমান ফতেহ গাজী বাগদাদীতে

প্রেমই মুক্তি, প্রেমই শক্তি! প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্ত শক্তি; প্রেমই দিব্য সৌন্দর্যের দর্পন সরুপ।""আমাদের অন্তরের কোমলতা, ...
26/09/2025

প্রেমই মুক্তি, প্রেমই শক্তি! প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্ত শক্তি; প্রেমই দিব্য সৌন্দর্যের দর্পন সরুপ।"
"আমাদের অন্তরের কোমলতা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি।"
"আমাদের অন্তরের যা কিছু সুন্দর, তা আমাদের ভেতর থেকেই আসছে।"
"আবেগকে ভালোবাসো, কারণ প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্ত শক্তি।

মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি রাঃ

26/09/2025

তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও, তুমি এক বিন্দু পানিতে সমগ্র সাগর", "যাকে তুমি খুঁজছো, সে তোমাতেই রয়েছে", এবং "আবেগকে ভালোবাসো, কারণ প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্ত শক্তি"।

মাওলানা জালাল উদ্দীন রুমি রাঃ

Address

Penjuru
Singapore River

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার ভেদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share