24/08/2026
২০২৪–২৬: আমরা কি রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর একটি বিরল সুযোগ হারিয়েছি?
আসলে গত কয়েকমাস ধরে ভেবেছি লিখবো কিন্তু তৈরী করে উঠতে পারিনি। অবশেষে বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে সময় হয়েছে বলার। ধারাবাহিকভাবে ৩ টি মূল স্তম্ভ নিয়ে আমি বলবো। কস্ট করে বড় লেখনী হলেও পড়বেন।
পর্ব–১: পুলিশ প্রশাসন
২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল—এবার হয়তো শুধু ক্ষমতার মানুষগুলো বদলাবে না, রাষ্ট্রের কিছু পুরোনো System-ও বদলাবে।
আমি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের কথা বলছি না। বরং ২০২৪ থেকে ২০২৬-এর অন্তর্বর্তী সময়টার কথাই বলছি। কারণ নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অনেক রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকে—ভোট, দল, সংসদ, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর চাপ। অন্তর্বর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল, এসব হিসাবের বাইরে গিয়ে কিছু কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় Institutional Reform শুরু করা। সাধারন জনগণও চাচ্ছিলো আমূল পরিবর্তন আসুক
একটা উদাহরণ দিই—পুলিশ।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৯টি থানা ছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটা সময় দেশের অধিকাংশ থানার স্বাভাবিক কার্যক্রমই ভেঙে পড়েছিল। পুরোনো ব্যবস্থার অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিষ্ক্রিয়, আত্মগোপনে বা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
আমার কাছে সেটাই ছিল Police System-কে নতুনভাবে দাঁড় করানোর সবচেয়ে বড় সুযোগ।
আমি প্রায়ই ভাবি—সেনাবাহিনীর disciplined management system থেকে আমরা কি কিছু নিতে পারতাম না?
আমি পুলিশকে সেনাবাহিনীর অধীনে দেওয়ার কথা বলছি না। Police অবশ্যই civilian institution হিসেবেই থাকবে। OC-ই থানা চালাবেন।
কিন্তু ৪–৫টি থানার জন্য যদি একটি স্বাধীন Quality & Integrity Team থাকত?
তাদের কাজ পুলিশকে command করা নয়; বরং audit করা—
থানায় GD/FIR নিতে হয়রানি হচ্ছে কি না,
অভিযোগ কতদিন পড়ে থাকছে,
কোন কর্মকর্তা বারবার অভিযুক্ত হচ্ছেন,
আটক ব্যক্তির অধিকার মানা হচ্ছে কি না,
তদন্তের অগ্রগতি কী,
এবং সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে কেমন সেবা পাচ্ছে।
এই টিমে retired military officer-এর disciplined inspection experience থাকতে পারত; সঙ্গে retired magistrate/judge, experienced police professional এবং civilian representative।
৬৩৯টি থানার জন্য ৬৩৯ জন নতুন কর্মকর্তা লাগত না। ৪–৫টি থানার জন্য একটি টিম করলেও প্রায় ১৩০–১৬০টি টিম দিয়ে পুরো দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এমন ব্যবস্থা শুরু করা সম্ভব ছিল।
আর প্রতিটি থানার performance যদি মাসে মাসে digital dashboard-এ প্রকাশ হতো—কত অভিযোগ এসেছে, কতটির নিষ্পত্তি হয়েছে, average response time কত, কতটি অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধেই এসেছে—তাহলে একজন OC-ও জানতেন, তাঁর থানার কাজের একটি measurable record তৈরি হচ্ছে।
আমার কাছে সংস্কার মানে শুধু একজন OC সরিয়ে আরেকজন OC বসানো নয়।
সংস্কার হলো এমন System তৈরি করা, যেখানে ভালো কর্মকর্তা ভালো কাজের স্বীকৃতি পাবেন, আর খারাপ কর্মকর্তা জানবেন—তাঁর কাজের একটি Digital Footprint আছে, Accountability আছে।
২০২৪-এর সেই অস্বাভাবিক সময়ে মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিল, প্রশাসনও নতুন করে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিল।
আমার প্রশ্ন শুধু এটুকুই—
আমরা কি তখন পুলিশ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি, নাকি Police System পরিবর্তনের সেই বিরল সুযোগটাই হারিয়েছি?
আশা করি আপনাদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করবেন তাহলে পূর্ণাঙ্গ নথি তৈরী করে সরকারের কাছে আবেদন জানাবো করা যায় কিনা।
পর্ব–২ তে থাকবে——আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা—ডাক্তার নয়, System-এর কোথায় পরিবর্তন দরকার ছিল?
দয়া করে লাইক শেয়ার দিবেন। কালকের মাঝে পর্ব ২ পাব্লিশ দিবো। কাজ চলছে। সবার রেসপন্স প্রয়োজন। দেশ কে নিজেদের স্বার্থেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিশুদ্ধ করে যেতে হবে।
www.drmamunofficial.com