07/26/2026
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চিকিৎসা-বর্জ্য তৈরি হয় বাংলাদেশে। তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ৮৩% হাসপাতালে ইটিপি নেই। যেসব হাসপাতালে (১৭ শতাংশ) ইটিপি আছে, তাদের ১৬ শতাংশ হাসপাতালে আবার এই ব্যবস্থা সচল নেই।
দেশের ৪৯% হাসপাতালে সিরিঞ্জের সূচ ধ্বংসকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হয় না। এর ফলে বিভিন্ন ধরণের সংক্রামক রোগ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
টিআইবি ১৮৮টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ৩৮টি সিটি করপোরেশন-পৌরসভা ও ১২টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করেছে। এছাড়া তারা চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন স্তরের ৯৩ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। গবেষণার সময়কাল ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
টিআইবি বলছে, একটি চক্র কাচের বোতল, সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ ও প্লাস্টিকের নল, ব্লেড, কাঁচি ধ্বংস না করে পুনঃব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহকারী সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে। এর ফলে এইচআইভি এইডসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।
চিকিৎসা বর্জ্য বিধিমালা ২০০৮-এর তফসিল ১ অনুযায়ী চিকিৎসা বর্জ্য পুনঃব্যবহার রোধে রাবার, প্লাস্টিক নল ও বিভিন্ন ব্যাগ টুকরো করে কাটার নির্দেশনা থাকলেও তা পালনে ঘাটতি রয়েছে। সার্বিকভাবে ২৮% হাসপাতালে রাবার ও প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং ৩১% হাসপাতালে রাবার, প্লাস্টিকের নল কাটা হয় না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলা হয়েছে, বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট রঙের পাত্রের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ৬টি নির্দিষ্ট রঙের পাত্র রাখার নির্দেশনা থাকলেও জরিপকৃত ৬০% হাসপাতালে তা নেই। এসব হাসপাতালের অভ্যন্তরে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে বর্জ্যকর্মী সব ধরনের বর্জ্য একত্রে বালতি বা গামলায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে।