13/07/2026
বাবা মা হিসেবে আপনি লক্ষ করছেন আপনার সন্তান বিপথে যাচ্ছে, করনীয় কি?
আমাদের অনেক মা-বাবা আছেন যারা সন্তানকে নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন। সন্তান একসময় পড়াশোনায় ভালো ছিল কিন্তু হঠাৎ করে সে বদলে গেছে। এখন বই খুললেই মাথাব্যথা করে, স্কুলে যেতে চায় না, পরিবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ইত্যাদি। তারপর ডাক্তার দেখিয়েছেন, কিন্তু কোন সমস্যা খুঁজে পাননি। তখন মনে হয় এটা কি শুধুই বয়সের সমস্যা? নাকি অন্য কিছু?
একজন রাক্বি হিসেবে আজকে এই বিষয়টি নিয়ে কোরআন ও হাদীসের আলোকে খোলামেলাভাবে বলতে চাই।
বদনজর ও জাদুর প্রভাব কি সন্তানের উপরে পড়তে পারে?
অনেকে এটাকে কুসংস্কার মনে করেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা নিজেই পবিত্র কোরআনে এই বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন। সূরা ফালাকের শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেন, "এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।" (সূরা ফালাক: ৫) এই আয়াতে আল্লাহ নিজে হাসাদ বা হিংসার ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন এবং এ থেকে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। হাসাদ শুধু বড়দের হয় না বরং যেকোনো মানুষের উপর হতে পারে, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার উপর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আইন অর্থাৎ বদনজর সত্য। যদি কোনো কিছু তাকদীরকে অতিক্রম করতে পারত, তাহলে বদনজরই পারত।" (সহীহ মুসলিম: ২১৮৮) এই হাদীস থেকে বোঝা যায় বদনজরের ভয়াবহতা কতটা বাস্তব।
শুধু তাই নয়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে সন্তানদের বিষয়ে বলেছেন। ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য এই দু'আ পড়তেন, “আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।" অর্থাৎ আমি তোমাদের আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয়ে দিচ্ছি, প্রতিটি শয়তান থেকে, ক্ষতিকর প্রাণী থেকে এবং প্রতিটি কুদৃষ্টি থেকে। (সহীহ বুখারি: ৩৩৭১) খোদ নবীজি (সঃ) যখন নিজের নাতিদের জন্য এই দু'আ পড়েন, তখন বোঝাই যাচ্ছে শিশুদের উপর এই প্রভাব কতটা বাস্তব।
সন্তানের মেধা ও চরিত্রের উপর কীভাবে প্রভাব পড়ে?
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "যাদুল মায়াদ"-এ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে জাদু ও বদনজর মানুষের বিভিন্ন দিকে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মরণশক্তি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই কারণেই দেখা যায়, আক্রান্ত সন্তান পড়তে বসলে কিছুই মনে থাকে না। পরীক্ষার হলে গিয়ে সব ভুলে যায় অথচ বাড়িতে পারত। মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ভালো ছেলেমেয়ের সঙ্গ ছেড়ে বাজে সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের প্রতি হঠাৎ বিরাগ তৈরি হয়। ইবাদতে মন বসে না। কোরআন খুললে অস্বস্তি লাগে, ইত্যাদি।
কোরআনে আল্লাহ সূরা বাকারাহর ১০২ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলেছেন যে জাদুকররা মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। যদি জাদু দিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করা সম্ভব হয়, তাহলে একটি শিশুর মন ও মেধাকে প্রভাবিত করা কি অসম্ভব?
কেন সন্তানকে টার্গেট করা হয়?
সাধারণত তিনটি কারণে এটা হয়। ১) পারিবারিক বা প্রতিবেশীদের ঈর্ষা। সন্তান মেধাবী, সুন্দর বা সফল হওয়ায় কেউ সহ্য করতে পারেনি। ২) বাবা-মায়ের সাথে শত্রুতার কারণে সন্তানকে কষ্ট দিয়ে পরিবার ধ্বংস করার চেষ্টা। ৩) অনেক সময় পরিচিত মানুষ অজান্তেই বদনজর দিয়ে দেন, কারণ বদনজর সবসময় ইচ্ছাকৃত হয় না।
কোরআন-হাদীসের আলোকে সমাধানঃ
মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি কোরআনে এমন কিছু নাজিল করেছি যা মুমিনদের জন্য শিফা এবং রহমত।" (সূরা বনি ইসরাইল: ৮২) তার মানে এই সমস্যার সমাধানও কোরআনেই আছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ যে রোগ নাজিল করেছেন তার শিফাও নাজিল করেছেন।" (সহীহ বুখারি: ৫৬৭৮) তার মানে কোনো সমস্যাই সমাধানহীন নয়।
ঘরে বাবা-মা প্রতিরাতে সন্তানের মাথায় হাত রেখে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার করে পড়ে ফুঁ দিন। এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরাসরি সুন্নাহ। এছাড়া এক গ্লাস পানিতে এই সূরাগুলো পড়ে ফুঁ দিয়ে সন্তানকে পান করান। ঘরে নিয়মিত সূরা বাকারাহ তেলাওয়াত করুন, কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায় যেখানে সূরা বাকারাহ পড়া হয়। (সহীহ মুসলিম: ১৮৫৮)
তবে যদি সমস্যা গভীর হয় এবং ঘরোয়া আমলে কাজ না হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ রাকীর কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। একজন দক্ষ রাকী কোরআনের আয়াত পাঠের মাধ্যমে প্রথমে নির্ণয় করেন কোনো প্রভাব আছে কিনা, তারপর সম্পূর্ণ হালাল ও শিরকমুক্ত পদ্ধতিতে চিকিৎসা করেন।
কেন কবিরাজের কাছে যাবেন নাঃ
অনেকে হতাশ হয়ে কবিরাজ বা তাবিজের কাছে যান। এটা মারাত্মক ভুল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদের উপর নাজিলকৃত দ্বীনকে অস্বীকার করল।" (আবু দাউদ: ৩৯০৪) কবিরাজ সমস্যা দূর করতে আরেক শয়তানের সাহায্য নেয়। এতে সাময়িক সুবিধা মিললেও শেষ পরিণতি আরও ভয়াবহ হয়। একমাত্র হালাল সমাধান হলো কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক রুকইয়াহ।
আপনার সন্তান হয়তো বুঝতেই পারছে না কী হচ্ছে তার সাথে। সে আপনার কাছে সাহায্য চাইতে পারছে না। কিন্তু আপনি পারেন সময় থাকতে তার জন্য কিছু করতে। আজই পদক্ষেপ নিন। দেরি হলে সমস্যা আরও গভীর হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
শিফা আল কোরআন এর Children Solution রুকইয়াহ। সন্তানকে সুপথে ফিরিয়ে আনার কোরআনী সমাধান দিবে, ইন শা আল্লাহ্।
আপনার এধরণের সমস্যাসহ যেকোন সমস্যার কথা আমাদের লিখে জানাতে পারেন-
WhatsApp: 01840601484
হটলাইনঃ 880 9639-000999
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ www.shifaalquran.com
পরিচয় ও কথোপকথন সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।